জাতিসংঘে জাইমা রহমানের পেশাগত যাত্রা, দায়িত্ব পেলেন ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত দলে জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল কাজ হবে সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো দেখা।
প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকাতেও ‘Ms. Zaima Rahman — Legal Officer — Bangladesh’ হিসেবে তার নাম রয়েছে। একই দলে বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন।
বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাফিজুল ইসলাম ডিজিটাল উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়।
জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ হন।
জাইমা রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি। এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পেশাগত দায়িত্বে যুক্ত হলেন তিনি।
ড. খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার কার্যালয়ের প্রকাশিত টিমে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক বিষয়, মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কার, যোগাযোগ ও আইনি বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজে জাতিসংঘের নিয়মিত কর্মী নন এবং সংস্থাটি থেকে নিয়মিত বেতন পান না। সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্ট দেশ, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নির্বাহ হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
জাতিসংঘ
View moreজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত দলে জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল কাজ হবে সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো দেখা। প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকাতেও ‘Ms. Zaima Rahman — Legal Officer — Bangladesh’ হিসেবে তার নাম রয়েছে। একই দলে বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন। বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাফিজুল ইসলাম ডিজিটাল উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়। জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ হন। জাইমা রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি। এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পেশাগত দায়িত্বে যুক্ত হলেন তিনি। ড. খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার কার্যালয়ের প্রকাশিত টিমে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক বিষয়, মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কার, যোগাযোগ ও আইনি বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজে জাতিসংঘের নিয়মিত কর্মী নন এবং সংস্থাটি থেকে নিয়মিত বেতন পান না। সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্ট দেশ, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নির্বাহ হতে পারে।
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে আজ বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ দফা আহ্বান, জলবায়ু অর্থায়নে জোর
ইসরায়েলকে গোলান মালভূমি দেওয়ার বদলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন, ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গাজা ও ইরানে নিহত বেসামরিক মানুষের ছবি তুলে ধরেছেন। বুধবারের ভাষণে তিনি গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর হামলার প্রসঙ্গও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জাতিসংঘের এবারের সাধারণ পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। ভাষণে পেজেশকিয়ান গাজার বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, হামলায় প্রাণহানির পাশাপাশি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ গুরুতর সংকটে রয়েছে। গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা নিয়ে তিনি যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন, সেটি তাঁর বক্তব্যে দেওয়া হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে গাজার মানবিক পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা উঠে এসেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের ২২ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধের ফলে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পৌঁছাচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং মানবিক সহায়তা অবাধে প্রবেশের আহ্বান জানান। পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে ইরানের ওপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন স্কুলশিশু ছিল। এই সংখ্যা ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাব। জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের পেছনে আরও বড় একটি কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কে এসেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের খবরও এসেছে। ফলে পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফর শুধু গাজা ইস্যু নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থানও ভিন্ন। ইসরায়েল বলে আসছে, তাদের সামরিক অভিযান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে হামাসকে বেসামরিক এলাকায় সামরিক কার্যক্রম চালানোর জন্য দায়ী করে ইসরায়েলের যে অভিযোগ, তা হামাস অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে গাজা, ইরান, ইউক্রেনসহ একাধিক যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের আলোচনা চলছে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য সেই আলোচনায় ইরানের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে গাজায় বেসামরিক মানুষের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির সম্ভাবনাও নিউইয়র্কে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই: তারেক রহমান
রোহিঙ্গা সংকট গুরুতর মানবিক বিপর্যয়, বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কারা, থাকছেন মন্ত্রী-রাজনীতিকসহ ৩৫ জন
বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সদ্য সমাপ্ত ৮০তম অধিবেশনের বিদায়ী সভাপতি আন্নালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৯টায় এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে আগামী এক বছর বৈশ্বিক এই ফোরামে নিজের কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। বিগত চার দশক পর এটি বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় কূটনৈতিক অর্জন। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। দীর্ঘ সময় পর বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ফোরামে বাংলাদেশের এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও দৃশ্যমানতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২ জুন অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে পরাজিত করে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। চার দশকের বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. রহমান এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, জলবায়ু সংকট, মানবাধিকার ইস্যু এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের তীব্র প্রয়োজন। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক এই ফোরামের নেতৃত্ব দেবেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় স ন্ত্রাসবাদের হুমকি বাড়ছে, বাংলাদেশে আস্তানা গড়তে চায় আ ল-কা য়েদা
জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প