- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষমূলক হামলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফ্লোরিডায় নতুন বসতি গড়ছেন অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের বহু পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে ফ্লোরিডার একটি নতুন আবাসিক এলাকায় বসবাস শুরু করেছে। আরও শতাধিক পরিবার সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাড়ির উচ্চমূল্য, করের বোঝা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও তাঁদের এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ফ্লোরিডার গ্লেডস কাউন্টিতে গড়ে তোলা হয়েছে লেকফ্রন্ট এস্টেটস নামের নতুন আবাসিক প্রকল্প। প্রায় ৫৫০ একর জমিতে নির্মিত এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি ডলার। চলতি অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এলাকাটিতে ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক থেকে আসা ইহুদি পরিবারগুলো বসতি স্থাপন শুরু করেছে। তাঁদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনযাপনের প্রয়োজন বিবেচনায় সেখানে সিনাগগ, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোশের খাবারের সুপারমার্কেটের ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে অর্থডক্স ইহুদিদের আগ্রহ বেশি থাকলেও এখানে বাড়ি কেনার সুযোগ অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত। নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। ব্রুকলিনের সাবেক বাসিন্দা মরিস নামের এক ব্যক্তি জানান, নিউইয়র্কে ইহুদিবিদ্বেষের উপস্থিতি তাঁরা দৈনন্দিন জীবনেই অনুভব করছিলেন। তাঁর দাবি, মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ এলাকা বরো পার্কেও পরিস্থিতির পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি নিজের পুরো পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের কারণে ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে, এমন কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক পুলিশের পরিসংখ্যানে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। চার সন্তানের এক মা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে বাড়ির উচ্চমূল্য এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ তাঁদের পরিবারকে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ফ্লোরিডায় বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফি পরিশোধে সরকারি স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অর্থডক্স ইহুদি পরিবারগুলোর অনেকেই সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াতে আগ্রহী। ফলে আবাসন ও শিক্ষার খরচ তুলনামূলকভাবে সামাল দেওয়ার সুযোগ তাঁদের নতুন বসতি নির্বাচনে প্রভাব ফেলছে। লেকফ্রন্ট এস্টেটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়িদেল পার্লস্টেইন জানিয়েছেন, নতুন আবাসিক প্রকল্পে চার বেডরুমের বাড়ির দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে। সাত বেডরুমের বাড়ির দাম প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। বড় পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাসহ বাড়ি পাওয়া নিউইয়র্কের অনেক এলাকায় ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের যেসব পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি, তাঁদের জন্য বড় বাড়ির প্রয়োজন হয়। ফ্লোরিডায় তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত বাড়ি এবং ব্যক্তিগত আয়করের অনুপস্থিতিও নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য অ্যারন উইডার জানিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্তত ২০টি পরিবার ইতোমধ্যে লেকফ্রন্ট এস্টেটসে চলে গেছে। এলাকাটিতে অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের বসবাস। উইডারের মতে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অনেক পরিবারকে নিউইয়র্কের বাইরে নতুন বাড়ি খুঁজতে উৎসাহিত করছে। তাঁর নিজের পরিবারের পূর্বপুরুষেরা নাৎসি গণহত্যা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বর্তমান সময়ে ইহুদি পরিবারগুলোর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নিউইয়র্ক পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে ৪৬৩টি নিশ্চিত ঘৃণাজনিত অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪১০। অর্থাৎ মোট ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। এসব ঘটনার মধ্যে ২৪৫টি ছিল ইহুদিবিরোধী, যা মোট অপরাধের প্রায় ৫৩ শতাংশ। তবে ইহুদিবিরোধী অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের ২৪২টি থেকে বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধ মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তার আশায় ফ্লোরিডায় গিয়ে নতুন ধরনের উদ্বেগের মুখেও পড়ছেন কিছু বাসিন্দা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্র ডানপন্থী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি নতুন এই ইহুদি আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জেক ল্যাং এবং জেফ্রি ওয়ালস্টেইনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এতে নতুন বসতি স্থাপনকারী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অবশ্য প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী ইয়িদেল পার্লস্টেইনের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ নতুন প্রতিবেশীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। নতুন আবাসন প্রকল্পের কারণে এলাকায় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে সেখানে বসবাস শুরু করা কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী ও প্রতিবেশীদের অনেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলেও কিছু মানুষের বিরূপ মনোভাব এখনো তাঁদের উদ্বিগ্ন রাখছে। এদিকে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলায় নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এতে সিনাগগের নিরাপত্তায় সহায়তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্য প্রতিরোধ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহযোগিতার উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মধ্যেও কিছু ইহুদি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তাঁদের কাছে এখন প্রধান বিবেচনার বিষয় সন্তানদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় জীবনযাপনের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা। তথ্য যাচাই: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পরিসংখ্যান এবং লেকফ্রন্ট এস্টেটসের প্রকাশিত তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কেন্দ্রস্থল ম্যানহাটনে অবিশ্বাস্য কম দামে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপার ম্যানহাটনের ইনউড এলাকায় অবস্থিত 'ইনউড গার্ডেনস' নামক ২৩ তলাবিশিষ্ট একটি সমবায় আবাসন প্রকল্পে এক থেকে তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য লটারির মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্যাচের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ কুপার স্ট্রিটে অবস্থিত এই প্রকল্পটি মূলত নিউইয়র্কের সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি 'মিচেল-লামা'-এর আওতাভুক্ত। এসব অ্যাপার্টমেন্টের প্রাথমিক ক্রয়মূল্য শুরু হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে এটি কোনো মাসিক ভাড়া নয়, বরং অ্যাপার্টমেন্ট কেনার প্রাথমিক মূল্য। এর পাশাপাশি বাসিন্দাদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহন করতে হবে, যার মধ্যে হিটিং সিস্টেম, গরম পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অ্যাপার্টমেন্টের আকার, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং বার্ষিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে ক্রয়মূল্য ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ক্রয়মূল্য ১ হাজার ৮২০ ডলার এবং মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭.১৫ থেকে ৯০৯.৭১ ডলার, যার জন্য এক বা দুই সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ২৮ হাজার ৮৮১.৬০ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একইভাবে, দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ২ হাজার ৬৩০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার এবং তিন শয়নকক্ষের দাম ৩ হাজার ৬৩০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ যথাক্রমে ৯২২.০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪.৫২ ডলার এবং ১ হাজার ১৯১.৭৫ থেকে ১ হাজার ৪০৫.২০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের জন্য দুই থেকে চার সদস্যের পরিবারের আয়সীমা ৩৪ হাজার ৪৭১.৩০ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৩০ ডলার এবং তিন শয়নকক্ষের ক্ষেত্রে চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবারের আয়সীমা ৪৭ হাজার ৯০২.৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলার হতে হবে। প্রকল্পটিতে বাসিন্দাদের জন্য ব্যক্তিগত খোলা বারান্দা, গাড়ি পার্কিং, কমিউনিটি কক্ষ, কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা ও লন্ড্রিসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আগ্রহীরা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল (HCR) বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে 'HCR000211' প্রকল্প নম্বর ব্যবহার করে বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের নিয়ম জানতে পারবেন। এছাড়া কাগজে মুদ্রিত আবেদনপত্রের জন্য সরাসরি ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের (২১২) ৯৪১-৫২৪০ নম্বরে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনা রয়েছে যে, একই পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক আবেদন করা যাবে না। মিচেল-লামা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী আবাসন দেওয়া হলেও, লটারিতে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়। লটারির মাধ্যমে মূলত একটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে অ্যাপার্টমেন্ট খালি হওয়া সাপেক্ষে যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনকারীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস ধর্মযাজকদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনের মামলা নিষ্পত্তিতে ৮০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও দর-কষাকষির পর এই ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক ভুক্তভোগী কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাবেন এবং নিপীড়নের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। আর্চবিশপ রোনাল্ড হিকস জানিয়েছেন, অভিযোগকারী ও তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে সমঝোতা শেষে আগামী ৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হবে। যাজকদের উদ্দেশে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের মানসিক নিরাময় ও পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে এবং গির্জা তার সুসমাচার প্রচার, দরিদ্রদের সাহায্য ও শিশুদের শিক্ষাদানের মতো মূল সেবামূলক কাজগুলোতে পুনরায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীদের আইনজীবী জেফ অ্যান্ডারসন এই সমঝোতাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের অপরিসীম সাহস, ত্যাগ ও দৃঢ়তার ফলেই আজ জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক গির্জায় হওয়া বৃহত্তম সমঝোতাগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয়। এর আগে ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের আর্চডায়োসিস ভুক্তভোগীদের ৮৮ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকেই দেশটিতে ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং গির্জার ঊর্ধ্বতন নেতাদের দ্বারা সেসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসতে থাকে। নিউইয়র্কের এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের চুক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার আরেকটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) এক ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে তার অধস্তন এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্রমাগত যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মারিয়া ডেলাক্রুজ (৩৩) নামের ওই ভুক্তভোগী নারী কর্মকর্তা সম্প্রতি ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আপার ওয়েস্ট সাইডের ট্রানজিট ডিস্ট্রিক্ট ১-এর তৎকালীন কমান্ডার ক্যাপ্টেন আমানজিৎ সান্ধু তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করে কর্মপরিবেশকে চরম বিষাক্ত করে তুলেছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কমান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সান্ধু নিয়মিত ডেলাক্রুজকে তার ব্যক্তিগত চালক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেন। এরপর থেকেই তিনি ওই নারী কর্মকর্তার শরীর, চেহারা ও পোশাক নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ এবং যৌন ইঙ্গিতমূলক মন্তব্য করতে থাকেন। এমনকি সান্ধু তাকে নিজের স্ত্রী ছেড়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং নিজের অফিসে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে ডেকে পাঠান। ডেলাক্রুজ বারবার এসব প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানালেও সান্ধু তার হয়রানি অব্যাহত রাখেন। ২০২৩ সালের বড়দিনের পার্টিতেও সান্ধু তাকে জোরপূর্বক নিজের সাথে রাত কাটানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সহকর্মীদের মধ্যে নানা আপত্তিকর গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং ডেলাক্রুজকে নারী লকার রুমেও চরম বৈরী আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ম্যানহাটন ট্রানজিট ব্যুরোর ডেপুটি চিফ স্টিভেন মাউরেলোর কাছে অভিযোগ জানালে, উল্টো তাকে যৌন হয়রানির মূল ঘটনাটি ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর (IAB) কাছে গোপন রাখার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে অন্য স্থানে বদলির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ডেলাক্রুজ বদলি নিয়ে চলে গেলেও সান্ধুর হয়রানি থামেনি। ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ডেলাক্রুজকে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও, অশ্লীল ছবি এবং অত্যন্ত আপত্তিকর বার্তা পাঠাতে থাকেন। বর্তমানে হারলেমের ম্যানহাটন নর্থ প্যাট্রোল বরোতে কর্মরত ডেলাক্রুজ জানিয়েছেন, অন্য নারী পুলিশ কর্মকর্তারা যেন কর্মক্ষেত্রে মুখ খুলতে সাহস পান এবং নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন। উল্লেখ্য, এই মামলাটি এনওয়াইপিডি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ধারাবাহিক যৌন কেলেঙ্কারির সর্বশেষ সংযোজন।
ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্কে ‘ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ’ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৩৮৬টি স্থায়ী সাশ্রয়ী বাসা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র যুক্ত করার কাজ এগিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পটি খ্রিষ্টান কালচারাল সেন্টারের প্রায় ১০.৫ একর জমিতে গড়ে উঠছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা থাকবে। আবাসনের পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, কমিউনিটি সেবা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, দোকানপাট, পারফর্মিং আর্টস সেন্টার এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য খোলা জায়গাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব সুবিধা এখনই চালু হয়নি। পরবর্তী ধাপে আরও ৪৫৩টি সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের কাজ এগিয়েছে। এ ধাপে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, খেলার মাঠ এবং বাণিজ্যিক জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের ওয়েবসাইটে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের জুলাই উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ ধাপগুলোও বাস্তবায়িত হলে আবাসনের সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের বাসাগুলো এলাকার মধ্যম আয়ের নির্দিষ্ট অংশের ভিত্তিতে বরাদ্দের জন্য পরিকল্পিত। প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রথম ধাপের আবাসনের আয়ের যোগ্যতার সীমা এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ থেকে ৮০ শতাংশ। যোগ্যতা নির্ভর করে পরিবারের মোট আয়, সদস্যসংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট বাসার নির্ধারিত শর্তের ওপর। তাই শুধু কম আয় হলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রকল্পের প্রথম ধাপের জন্য আগে একটি আবেদন-লটারি চালু হয়েছিল, যার সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৮ জুন। সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ওয়েবসাইটে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য থাকলেও নতুন আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না, তা সরাসরি নিশ্চিত না হয়ে আবেদন খোলা আছে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদনের জন্য সাধারণত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পরিচয়পত্র, বর্তমান আয়ের প্রমাণ, কর জমার নথি এবং বর্তমান বাসস্থানের তথ্য চাওয়া হতে পারে। চূড়ান্ত নথির তালিকা সংশ্লিষ্ট আবেদনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মাউন্ট মরিস শহরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক এক রেস্তোরাঁ মালিকের পরিবারকে সহায়তা করতে একত্র হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা ওই ব্যক্তি স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর আটক হওয়ার ঘটনা পরিবারটির জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রেস্তোরাঁ মালিকের পরিস্থিতি নিয়ে শহরের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থন দেখিয়েছে, ছোট শহরগুলোতে একটি ব্যবসা শুধু আয়ের উৎস নয়; সেটি সামাজিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার কেন্দ্রও হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও কারও অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থার সমাধান সব সময় সহজ হয় না। এ ঘটনায় পরিবারের ভবিষ্যৎ, ব্যবসার স্থায়িত্ব এবং কমিউনিটির সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও ঘটনাটি একটি প্রাসঙ্গিক বার্তা বহন করে: পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ, নিজের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি অবস্থার বিষয়ে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মাইকেল সুইনি নামের ১৪ বছর বয়সী এক জিনিয়াস কিশোরের আগাম হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনের আবেদন বাতিল করেছে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ফুল-টাইম কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও কেবল বয়সের বাধায় স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে বসেছে এই কিশোর। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন থাকলেও, বেথলেহেম সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তার সিনিয়র ইয়ারে (দ্বাদশ শ্রেণি) পদার্পণের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের বাধ্যতামূলক শিক্ষা আইন অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের পূর্ণকালীন নির্দেশনার অধীনে থাকতে হয়, যার ফলে মাইকেলকে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মাইকেলের মা নিকোল সুইনি জানান, তার ছেলে ইতোমধ্যে হাইস্কুলের সব ধাপ নিজ যোগ্যতায় পার করে গেছে। গত দুই বছর ধরে সে স্থানীয় কলেজে ক্যালকুলাস থ্রি এবং ফিজিক্স টু-এর মতো অ্যাডভান্সড কোর্স করছে। হোমস্কুল শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাচিভমেন্ট টেস্টে (CAT) মাইকেল ১৩.৫ স্কোর করেছে, যা একজন কলেজ সোফোমোরের (দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী) সমতুল্য। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, মাইকেলের হোমস্কুল পরিকল্পনাটি প্রয়োজনীয় ক্রেডিটের শর্ত পূরণ করেনি, কারণ সে হাইস্কুলের বদলে কেবল কলেজের কোর্সগুলোই করছিল। অথচ অষ্টম গ্রেডে থাকার সময়েই মাইকেল ২৬টি কলেজ ক্রেডিট অর্জনের পাশাপাশি নবম থেকে একাদশ গ্রেডের প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করেছিল। বর্তমানে মাইকেল এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তার ৩০০-লেভেলের কোর্স করা প্রয়োজন, আর তা চালিয়ে যেতে তাকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতেই হবে। এই জটিলতা নিরসনে স্কুল বোর্ড এবং আইনজীবীদের মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এদিকে, একই রাজ্যে লং আইল্যান্ডের ১৩ বছর বয়সী আরেক বিস্ময়-বালক জো পেত্রারো-হিপোলাইট সম্প্রতি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আইনস্টাইনের সমকক্ষ ১৬৮ আইকিউ সম্পন্ন এই কিশোর ক্যানসার ও টুরেট সিনড্রোম জয় করে আগামী বছর থেকে স্পোর্টস মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে জরুরি চিকিৎসাসেবা পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল। ২০২৭ সালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ইএমটি) বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় ১০ জনকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। হাসপাতালের প্রশিক্ষণ অংশীদার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইমার্জেন্সিজ অ্যান্ড রেসকিউয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের ক্লাস শুরু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কারা আবেদন করতে পারবেন? প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। জরুরি চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জনসেবামূলক পেশায় আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এ কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। তবে বয়স ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্ত রয়েছে কি না, তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে মূল আবেদনপত্রের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে: আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর, উচ্চবিদ্যালয়ের নম্বরপত্র, একটি সুপারিশপত্র এবং একটি প্রচ্ছদপত্র। সুপারিশপত্রে সুপারিশকারীর নাম, ফোন নম্বর ও আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে। প্রচ্ছদপত্রে ‘আপনি কেন একজন ইএমটি হতে চান?’—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রচ্ছদপত্র পিডিএফ আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। আবেদনের শেষ তারিখ সোমবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৭। আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নিচের লিংকে প্রবেশ করা যাবে: প্রশিক্ষণে কী শেখানো হবে? ইএমটি বা জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদরা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর প্রাথমিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণে রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন, দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের প্রাথমিক চিকিৎসা, রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, সিপিআর, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার মতো দক্ষতা শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে কী সনদ পাওয়া যাবে?প্রশিক্ষণ শেষ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইএমটি সনদ পাওয়া যায় না। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রার্থীদের অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ব্যবহারিক দক্ষতা মূল্যায়ন ও সনদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তাঁরা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইএমটি-বেসিক সনদ অর্জন করতে পারবেন। এই সনদ অর্জনের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসাসেবা খাতে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় একটি পেশাগত যোগ্যতা অর্জিত হয়। তবে প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি পাওয়া নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শর্ত, যাচাইপ্রক্রিয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হতে পারে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে সহায়তা করলেও চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না।
নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিন কমিউনিটি মেডিকেল গ্রুপের ইস্ট এন্ড সার্জিক্যালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডা. নাদিয়া হামিদ। পায়ের ও গোড়ালির বিভিন্ন রোগ ও জটিলতার চিকিৎসায় বিশেষায়িত সেবা দেবেন তিনি। তাঁর এই যোগদানের ফলে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ইস্ট এন্ড অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। ডা. নাদিয়া হামিদ একজন বোর্ড-সার্টিফায়েড পডিয়াট্রিস্ট। পায়ের বিভিন্ন সমস্যা, গোড়ালির রোগ এবং সংশ্লিষ্ট জটিলতার চিকিৎসায় তিনি রোগীদের সেবা দেবেন। তাঁর কর্মস্থল ইস্ট এন্ড সার্জিক্যাল থেকে গ্রিনপোর্ট, ম্যাটিটাক, রিভারহেড ও আশপাশের এলাকার রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। স্টোনি ব্রুক মেডিসিনের সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. অ্যাপোস্টোলোস তাসিওপোলোস ডা. নাদিয়া হামিদের যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইস্ট এন্ড সার্জিক্যাল ও স্টোনি ব্রুক মেডিসিন কমিউনিটি মেডিকেল গ্রুপে ডা. হামিদকে পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মাধ্যমে রোগীকেন্দ্রিক ও ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবায় নতুন গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ বৃহত্তর ইস্ট এন্ড অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার চাহিদা পূরণেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পায়ের ও গোড়ালির বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে পায়ের ব্যথা, গোড়ালির জটিলতা এবং চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে এমন বিভিন্ন রোগ। ডা. নাদিয়া হামিদের নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রোগীরা এসব সমস্যার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং একসময়ের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠক এনামুল হক ইনাম বর্তমানে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইস) হাতে আটক রয়েছেন। একসময় যিনি প্রবাসীদের বিপদে-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসতেন, আজ তার এই দুঃসময়ে কমিউনিটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা মুক্তির দাবি চোখে পড়ছে না। প্রকাশ্য কোনো সমাবেশ বা মানববন্ধন তো দূরের কথা, ঘনিষ্ঠজনরাও এখন নিশ্চুপ। গত ১৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের বাফেলো এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা নিউইয়র্কের বাংলাদেশি সমাজের এক অস্বস্তিকর ও ভীতিজনক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রায় ৪২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এনামুল হক দীর্ঘদিন নিউইয়র্কের জামাইকায় বসবাস করেছেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি বাংলাদেশ থেকে ফেরদৌস ওয়াহিদ, কুমার বিশ্বজিতের মতো জনপ্রিয় তারকাদের নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জমজমাট সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। কয়েক বছর আগে তিনি ভার্জিনিয়া হয়ে বাফেলোতে স্থায়ী হন। পরিচিতজনদের ধারণা, দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও তার অভিবাসন নথিপত্রে হয়তো কোনো জটিলতা ছিল। তবে এই আটকের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে বাংলাদেশি কমিউনিটির অভূতপূর্ব নীরবতা। অতীতে কোনো বাংলাদেশি আটক হলে আইনি সহায়তা, অর্থ সংগ্রহ বা মানববন্ধনের মতো উদ্যোগ দেখা গেলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং আইসের ক্রমবর্ধমান অভিযানের কারণে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন, প্রকাশ্যে কারও পাশে দাঁড়ালে নিজেদের বা পরিবারের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে। কেবল এনামুল হকই নন, সম্প্রতি বাফেলো এলাকায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আইসের হাতে আটক হয়েছেন। এদের মধ্যে ক্যানমোর অ্যাভিনিউয়ের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী বাবু এবং গ্রিন কার্ডধারী জাকির হোসেনের নামও উঠে এসেছে, যদিও জাকিরকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই আপস্টেট নিউইয়র্কে ৬০০-এর বেশি এবং পুরো অঙ্গরাজ্যে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে আইস। উদ্বেগের বিষয় হলো, গ্রেপ্তার হওয়া এসব মানুষের বড় অংশেরই কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই। আইসের অভিযান এখন শুধু আগে থেকে বহিষ্কারাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং যাদের আইনি প্রক্রিয়া চলমান, তারাও গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য আজ অস্তিত্ব সংকটে। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিরায়ত সংস্কৃতি এখন অভিবাসন আতঙ্কের কাছে অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব নবরাত্রি উদ্যাপনে গরবা নৃত্যে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একটি মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের আশীর্বাদ নেওয়ার দৃশ্যও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে ও মানিকন্ট্রোলের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবরাত্রি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মামদানিকে ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি গরবা নৃত্যে অংশ নিতে দেখা যায়। কালো পোশাকের সঙ্গে গলায় ওড়নার মতো কাপড় পরে তিনি অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নাচে যোগ দেন। অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শুধু নৃত্যে অংশ নেওয়াই নয়, উৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তাও দিয়েছেন মামদানি। ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি নবরাত্রির বিভিন্ন আঞ্চলিক রীতি ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন। দুর্গাপূজা, নবরাত্রি, দশেরা ও দশাইনের মতো উৎসবের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রকাশ পায় বলে তাঁর বার্তায় উঠে আসে। মামদানি তাঁর বার্তায় বলেন, নবরাত্রি উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেবী দুর্গার আরাধনা করেন, গরবা নাচে অংশ নেন, সিঁদুর খেলা পালন করেন এবং বড়দের কাছ থেকে টিকা গ্রহণ করেন। বিভিন্ন পরিবার ও অঞ্চলে উৎসব পালনের রীতিতে পার্থক্য থাকলেও এসব আয়োজন মানুষের জন্য আত্মপর্যালোচনা ও নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি শুভেচ্ছাবার্তায় উল্লেখ করেন। মামদানির অংশগ্রহণের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁর নাচের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে তাঁর অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াগুলো সব ব্যবহারকারীর মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। নবরাত্রি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। সাধারণত দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়। ভারতের গুজরাটে গরবা ও ডান্ডিয়া নৃত্য নবরাত্রি উদ্যাপনের বিশেষ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষও প্রতিবছর নাচ, সংগীত, প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবটি উদ্যাপন করেন। নিউইয়র্কে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগত পরিচয়ের মানুষের বসবাস। শহরটির সাংস্কৃতিক জীবনে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। নবরাত্রি ও দুর্গাপূজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসী পরিবারগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগও তৈরি করে। মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়র হওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর সাম্প্রতিক উৎসবে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা মূলত সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগের বিষয়গুলোকে সামনে এনেছে।
নিউইয়র্কের রাজনীতি, নীতিনির্ধারণ ও জনপরিসরে কাজ করা উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন জেমি কাজী। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের ‘২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কুইন্সে বেড়ে ওঠা কাজী বর্তমানে শ্রমিক সংগঠন থার্টি টু বিজে এসইআইইউর স্টেট অ্যান্ড ফেডারেল পলিটিক্যাল কোঅর্ডিনেটর। সংগঠনটির নির্বাচনী প্রার্থী সমর্থন ও রাজনৈতিক কৌশল তদারক করেন তিনি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভবন রক্ষণাবেক্ষণকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে সংগঠনটি। সিটি অ্যান্ড স্টেটের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, অভিবাসী কমিউনিটির সংগঠিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে কমিউনিটির দাবি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেন তিনি। শ্রমিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার আগে কাজী নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামসের প্রথম মেয়াদে এবং স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিন ও ক্যাটালিনা ক্রুজের দপ্তরে কাজ করেছেন। ক্রুজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং আইন ও বাজেটবিষয়ক পরিচালক হিসেবে ক্লিন স্লেট অ্যাক্ট ও ওয়েজ থেফট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট এগিয়ে নিতে জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন। কুইন্সের অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর ডেমোক্র্যাটিক স্টেট কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন কাজী। তাঁর কাজের মূল ভাবনা হলো, কমিউনিটির সম্মিলিত কণ্ঠকে আইন ও নীতির মাধ্যমে মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তনে রূপ দেওয়া। সূত্র: সিটি অ্যান্ড স্টেট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মিডটাউন ম্যানহাটনের একটি পাতালরেল স্টেশনে গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজনকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। শনিবার, ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ২১ মিনিটে সপ্তম অ্যাভিনিউ ও পশ্চিম ৫৩তম স্ট্রিটের পাতালরেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি ব্রডওয়ের কয়েকটি থিয়েটার ও কার্নেগি হলের কাছাকাছি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে গুলি চালানো হয়। সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি ট্রেনে গড়ায় এবং পরে আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। তবে গুলিগুলো ঠিক ট্রেনের ভেতরে নাকি প্ল্যাটফর্মে ছোড়া হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। গুলিতে আহত ব্যক্তির বুকে আঘাত লাগে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে তাঁকে লাল রঙের ট্র্যাকস্যুট, কালো ভেস্ট ও কালো মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যান এবং সপ্তম অ্যাভিনিউ ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে যান। ঘটনার পরপরই কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তের কারণে নিউইয়র্কের গণপরিবহনেও বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি জানিয়েছিল, পুলিশি তদন্ত চলাকালে সি, ডি ও ই লাইনের ট্রেনগুলো সপ্তম অ্যাভিনিউ স্টেশন এড়িয়ে চলছিল। ই লাইনের কিছু ট্রেনকে বিকল্প পথে পরিচালনা করা হয় এবং এ, সি, ডি, ই ও এফ লাইনে বিলম্ব দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে। কারও কাছে এ ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য থাকলে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের নম্বর ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭)-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্প্যানিশ ভাষায় তথ্য দেওয়ার জন্যও আলাদা নম্বর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে আবাসনসংকট মোকাবিলায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট নিউইয়র্কের ইনোভেটিভ আরবান ভিলেজ আবাসন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৩৮৬টি স্থায়ী সাশ্রয়ী বাসা চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটির পরবর্তী পর্যায়ে আরও ৪৫৩টি বাসা এবং একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র যুক্ত করার কাজ এগিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পে ১০টি ভবনে প্রায় ২ হাজার সাশ্রয়ী বাসা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি কমিউনিটি কার্যক্রম, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ, খুচরা দোকান এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খোলা জায়গা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয়ের চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী বাসার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্পের বাসাগুলো কারা পাবেন, আয়ের যোগ্যতা কী এবং আবেদন কখন শুরু হবে—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে প্রকাশ করা উচিত।
নিউইয়র্কের বাফেলো অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী নাজমুল হোসেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিক সাফল্য এবং সংগঠিত টিমওয়ার্কের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭০০ এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করেছেন তিনি ও তাঁর টিম। নিউইয়র্কের বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন নাজমুল হোসেন। HUNT Real Estate ERA-এর সঙ্গে যুক্ত এই রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে Nazmul Real Estate Team। বাড়ি কেনা, বিক্রি ও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই ক্রেতা, বিক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের পেশাদার সেবা দিয়ে আসছে দলটি। ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা: পেশাগত যাত্রায় নাজমুল হোসেন ও তাঁর টিম ইতোমধ্যে ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করেছেন। বাফেলোর পাশাপাশি Amherst, Cheektowaga, Williamsville, Depew, Lancaster, West Seneca, Tonawanda, Niagara Fallsসহ পশ্চিম নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে তাঁদের কার্যক্রম। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কেনা পরিবার ও অভিবাসী কমিউনিটির কাছে রিয়েল এস্টেটের পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সময় জটিল মনে হয়। Mortgage ও financing থেকে শুরু করে down payment, home inspection, negotiation, appraisal এবং closing—প্রতিটি ধাপে সঠিক তথ্য ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব রয়েছে। এসব বিষয়ে ক্লায়েন্টদের প্রক্রিয়াটি বুঝতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করাকে নিজের পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন নাজমুল। কমিউনিটির আস্থা ও টিমওয়ার্কই মূল শক্তি: নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা টিমটিতে একাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী কাজ করছেন। প্রত্যেক সদস্যের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আরও কার্যকর সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বাফেলো অঞ্চলে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য একটি শক্তিশালী দলভিত্তিক কর্মপরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। নাজমুলের মতে, রিয়েল এস্টেট কেবল একটি বাড়ি কেনা বা বিক্রির লেনদেন নয়, এটি একটি পরিবারের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই প্রতিটি লেনদেনে অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছতা, সততা এবং ক্লায়েন্টের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর টিমের কাজের মূলনীতি। প্রবাসে নিজের পেশাগত অবস্থান তৈরির পাশাপাশি একটি শক্তিশালী টিম গড়ে তোলা এবং ৭০০-এর বেশি বাড়ি কেনাবেচায় সহায়তা করার অভিজ্ঞতা নাজমুল হোসেনের রিয়েল এস্টেট যাত্রাকে বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বর্তমানে এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে মোটরচালিত বাইক বা স্কুটারে ঘুরে বেড়ানো ছিনতাইকারী চক্র। অবৈধ অভিবাসী গ্যাং সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই চক্রটি সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে খোদ পুলিশ সদস্যদের গলা থেকেও হাজার হাজার ডলার মূল্যের অলংকার ছিনিয়ে নিচ্ছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত ২০টির বেশি চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অন্তত ১০টি রূপ নিয়েছিল সহিংসতায়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তার মতে, শহরের আনাচে-কানাচে এ ধরনের শত শত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, যা রেকর্ডের বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এই ছিনতাইয়ের পেছনে মূলত নব্বইয়ের দশকে রাইকার্স আইল্যান্ডে ডোমিনিকান বন্দীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কুখ্যাত 'ট্রিনিটারিওস' (Trinitarios) গ্যাং জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রঙ্কস এবং আপার ম্যানহাটনে এদের ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুটারে দুজন মিলে চেইন ছিনতাই করা এদের অন্যতম প্রধান কৌশল। তারা প্রায়ই নিজেদের মুখ পুরোপুরি ঢেকে রাখে, ফলে নজরদারি ক্যামেরাতেও তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এই গ্যাংয়ের দুই অবৈধ অভিবাসী সদস্য এক এনওয়াইপিডি গোয়েন্দার মায়ের দেওয়া চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাকে ১০ বার ছুরিকাঘাত করে। এর আগে ব্রুকলিনে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার গলা থেকেও ৮০০ ডলার মূল্যের একটি চেইন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া গত জুলাইয়ে ম্যানহাটনে এক অফ-ডিউটি বর্ডার পেট্রোল এজেন্টকে গুলি করার ঘটনায় ‘অপারেশন সালভো’ চালিয়ে এই গ্যাংয়ের ৫৪ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ছিনতাইকারীদের এই বেপরোয়া আচরণের বড় শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি হোর্হে বেলত্রে নামের এক ব্যক্তি তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে স্কুল থেকে আনার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। নিজের ১৪ ক্যারেট সোনার চেইন বাঁচাতে গিয়ে তিনি পায়ে ছুরিকাঘাতের শিকার হন, তবে পথচারীদের সহায়তায় ১৭ বছর বয়সী এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, ওই কিশোর মাত্র ৯০০ ডলার জামিনে দ্রুতই মুক্তি পেয়ে যায়। পুলিশের মতে, নিউইয়র্ক একটি 'স্যাংচুয়ারি সিটি' হওয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) হাতে তুলে দেওয়া যায় না। বিচারকরাও অনেক সময় দ্রুত জামিন মঞ্জুর করায় অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। সমালোচকরা এই পরিস্থিতির জন্য নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির নীতিকে আংশিক দায়ী করছেন। ডেলিভারি অ্যাপ কর্মীদের সুবিধার্থে ই-বাইক চালকদের ওপর কড়াকড়ি কমানোর যে নীতি তিনি গ্রহণ করেছেন, তার সুযোগ নিচ্ছে এই অপরাধীরা। জন জে কলেজ অফ ক্রিমিনাল জাস্টিসের অধ্যাপক ও সাবেক এনওয়াইপিডি গোয়েন্দা মাইকেল আলকাজার মনে করেন, এই মহামারি ঠেকাতে পুলিশের 'ব্রোকেন-উইন্ডো' থিওরি এবং সাধারণ পোশাকের অ্যান্টি-ক্রাইম ইউনিটগুলোকে পুনরায় মাঠে নামানো প্রয়োজন। তবে এনওয়াইপিডির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতের পর সম্প্রতি ব্রঙ্কস এলাকায় চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা কিছুটা কমেছে। এছাড়া চলতি বছর শহরজুড়ে বড় ধরনের অপরাধ ৭ শতাংশ এবং ব্রঙ্কসে ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর সংগঠন অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (আসাল)—এর ১৯তম বার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭ মেইন হলে এ সম্মেলনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবেশ বিনামূল্যে হলেও অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতে হবে। সম্মেলনের প্রচারপত্রে ‘আমাদের ভোট, আমাদের কণ্ঠ, আমাদের শক্তি—আমরাই পরিবর্তন আনব’ স্লোগান তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টারে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের পতাকা স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর ঐক্য, অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইব্রাহিম বারভুইয়া। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ফারুক হোসেন ও গোলাম ফারুক শাহিন। সম্মেলন আয়োজনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার অধ্যায়ের প্রতিনিধিরাও যুক্ত রয়েছেন। আয়োজক কমিটির তালিকায় কুইন্স অধ্যায়ের কাজী ফরিদ আহমেদ ও ড. মারিয়াম সিং, ব্রঙ্কস অধ্যায়ের এমডি আলাউদ্দিন ও মাশুদ রহমান এবং ব্রুকলিন অধ্যায়ের নাজমুল হাসান মানিক ও মাসবাহ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যাটেন আইল্যান্ড অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এমডি আলম হোসেন ও বাশেদ ভূঁইয়া এবং জ্যাকসন হাইটস অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সোমনাথ চিমিরে ও ছিরিং রাপকে লামার নাম রয়েছে। এ ছাড়া হেলথকেয়ার প্রফেশনাল অধ্যায়ে ড. মোহাম্মদ ইসলাম ও ড. চৌধুরী শাহরিয়ার, ওজোন পার্ক অধ্যায়ে মাশুদ রানা টোপন ও এমডি সন্তনু বারুয়া, নিউ জার্সি অধ্যায়ে কেতন পারমার এবং লং আইল্যান্ড অধ্যায়ে মেজবা কাজী নাসেরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক ক্যাপিটাল রিজিয়ন অধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন মিজানুর রহমান ও রাশতাব মাহমুদ। জাতীয় পর্যায়ের অংশে মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, মিসবাহ উদ্দিন ও হরজিৎ সিংয়ের নামও পোস্টারে রয়েছে। আসালের বিভিন্ন অধ্যায়ে যুক্ত হওয়ার জন্য নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কানসাস ও ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টারে সম্মেলনের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭ মেইন হল, ১২৫ বার্কলে স্ট্রিট, নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ১০০০৭। আগ্রহীরা সংগঠনটির ওয়েবসাইট www.asaal.org, ইমেইল asaalNational@asaal.org অথবা +১ (৯১৭) ২০৯-৯৭৭২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য, সম্মেলনের সময়সূচি, স্থান ও আয়োজক কমিটির তথ্য সংগঠনটির প্রকাশিত পোস্টারের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে কারা উপস্থিত হয়েছেন এবং কী কী সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়েছে, তা জানতে অনুষ্ঠান-পরবর্তী তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
আমেরিকায় চার সদস্যের পরিবারের সংসার চালাতে মাসে কত আয় প্রয়োজন, তার একক উত্তর নেই। নিউইয়র্কের কুইন্সে যে বাজেট প্রয়োজন, মিশিগানের ডেট্রয়েটে তা ভিন্ন। আবার একই এলাকায় স্বামী-স্ত্রী দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারের ব্যয় যোগ হয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়তে পারে। এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন উপার্জনকারী থাকলে আলোচ্য পাঁচ এলাকায় ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ থেকে ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার। দুজনই কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ সেই হিসাব প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ থেকে ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার। এগুলো পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মডেলভিত্তিক হিসাব। আরামদায়ক মধ্যবিত্ত জীবন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা নয়। তুলনায় নিউইয়র্কের জন্য কুইন্স, ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাকের জন্য ওয়েইন কাউন্টি, ডালাসের জন্য ডালাস কাউন্টি, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি এবং আটলান্টার জন্য ফুলটন কাউন্টি নেওয়া হয়েছে। পুরো শহর বা মহানগরের সব এলাকার ব্যয় এক নয়। তথ্যগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ করা। নিউইয়র্কের কুইন্সে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুর পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর বছরে প্রয়োজন প্রায় ৯৫ হাজার ৫৭৮ ডলার। বার্ষিক অঙ্ককে ১২ দিয়ে ভাগ করলে মাসে প্রায় ৭ হাজার ৯৬৫ ডলার হয়। এই প্রয়োজন মেটাতে ট্যাক্সের আগে পরিবারের মাসিক আয় দরকার প্রায় ৯ হাজার ১৫৯ ডলার। একই পরিবারে দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৬৩৪ ডলার। ট্যাক্সের আগে দুজনের সম্মিলিত আয় প্রয়োজন প্রায় ১৩ হাজার ৩৭ ডলার। অর্থাৎ মাসে সাত হাজার ডলার আয় হলেই নিউইয়র্কে চারজনের পরিবারের খরচ ও সঞ্চয় নিশ্চিত হবে, এমন সিদ্ধান্ত এই হিসাব সমর্থন করে না। মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ একই ধরনের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার ৯৯০ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৬ হাজার ৬৫৭ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ প্রয়োজন হয় ট্যাক্সের পর প্রায় ৭ হাজার ৬৯২ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৮৯২ ডলার। টেক্সাসের ডালাস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারী থাকলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ২৫১ ডলার। ট্যাক্সের আগে আয় প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৭৩৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ১৯ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৮ ডলার। হিউস্টনের ব্যয়কে ডালাসের একই অঙ্ক ধরে নেওয়া যথাযথ নয়। টেক্সাসে ব্যক্তিগত স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। তবে এর অর্থ আয়ের পুরোটা হাতে থাকা নয়। প্রযোজ্য ফেডারেল ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর্তন থাকে। তাই চাকরির বেতনের অঙ্ক ও হাতে পাওয়া অর্থ আলাদা করে হিসাব করতে হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে একজন উপার্জনকারীসহ চার সদস্যের পরিবারের ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৭৪৬ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ৮ হাজার ৬৭২ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার ৯৬৫ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ১১ হাজার ৭২৮ ডলার। আটলান্টার ফুলটন কাউন্টিতে একই পরিবারে একজন কাজ করলে ট্যাক্সের পর মাসিক প্রয়োজন প্রায় ৬ হাজার ৫৯৯ ডলার। ট্যাক্সের আগে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ৪৫৯ ডলার। দুজন কাজ করলে চাইল্ড কেয়ারসহ ট্যাক্সের পর প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ৪২৬ ডলার এবং ট্যাক্সের আগে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ ডলার। এই মডেলে একজন প্রাপ্তবয়স্ক কাজ না করলে তাঁর পরিবারের জন্য আলাদা চাইল্ড কেয়ার ব্যয় ধরা হয়নি। দুজন কাজ করলে তা যুক্ত হয়েছে। বাস্তবে শিশুর বয়স, স্কুলের সময়সূচি ও আত্মীয়ের সহায়তা অনুযায়ী এই খরচ বদলাতে পারে। আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, যাতায়াত, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও হিসাবের অংশ। তাই হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেই চিকিৎসার খরচ শূন্য ধরে নেওয়া যাবে না। আবার কারও কম ভাড়ার বাসা বা পরিবারের সহায়তা থাকলে তাঁর প্রকৃত ব্যয় মডেলের চেয়ে কমও হতে পারে। এই অঙ্কগুলো বাজেট তৈরির ভিত্তি, প্রত্যেক পরিবারের জন্য নির্ধারিত খরচ নয়।
নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর ২২টি ফুড প্যান্ট্রিতে আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যে পোষা কুকুর ও বিড়ালের খাবার দেওয়া হবে। আর্থিক চাপে থাকা পরিবারগুলো যেন পোষা প্রাণী ছেড়ে দিতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবর মেয়রের কার্যালয় জানায়, সিটির অর্থায়নে পরিচালিত এসব প্যান্ট্রিতে বাসিন্দারা নিজেদের খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর খাবারও নিতে পারবেন। কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত পাঁচ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি, সিটি কাউন্সিল, মেয়রের প্রাণিকল্যাণবিষয়ক দপ্তর এবং ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সার্ভিসেস যৌথভাবে উদ্যোগটির ঘোষণা দিয়েছে। ব্রুকলিন ও ম্যানহাটানে ছয়টি করে, ব্রঙ্কস ও কুইন্সে চারটি করে এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে দুটি প্যান্ট্রি এতে অংশ নিচ্ছে। কুইন্সে খাবার পাওয়া যাবে জ্যামাইকার ফার্স্ট ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চে, ঠিকানা ১৬২-১০ হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউ; রিচমন্ড হিলের রিভার ফান্ডে, ৮৯-১১ লেফার্টস বুলেভার্ড; ইয়েশুয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড মিনিস্ট্রিজ ফুড প্যান্ট্রিতে, ৭৯-১১ ক্যাল্ডওয়েল অ্যাভিনিউ; এবং আওয়ার চিলড্রেন কমিউনিটি আউটরিচে, ৩৬-৪৯ ইলেভেন্থ স্ট্রিট। ব্রুকলিনের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি হেল্প ইন পার্ক স্লোপ, সেন্ট জনস ব্রেড অ্যান্ড লাইফ, দ্য ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার এবং ওয়াইএমসিএ কমিউনিটি মার্কেট। সিটি প্রশাসনের ভাষ্য, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে পোষা প্রাণীর খাবার কেনাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। পরিচিত ফুড প্যান্ট্রিতেই এই সহায়তা যুক্ত করে মানুষ ও তাদের পোষা প্রাণীকে একই পরিবারে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের সাবওয়ে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম ভোগান্তি। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (MTA) জানিয়েছে, মার্সি অ্যাভিনিউয়ের কাছে ট্র্যাকে সংস্কারকাজের জন্য জে (J) এবং এম (M) ট্রেনের ম্যানহাটনগামী সরাসরি সংযোগ টানা পাঁচ সপ্তাহান্ত বন্ধ থাকবে। সংস্কারকাজ চলাকালীন ব্রুকলিনের মার্টল অ্যাভিনিউ-ব্রডওয়ে এবং ম্যানহাটনের এসেক্স স্ট্রিটের মধ্যে ট্রেন পরিষেবার বদলে শাটল বাস চলবে। এছাড়া, ট্র্যাকের সুইচ পরিবর্তনের সময় জে ট্রেনগুলো কেবল জ্যামাইকা সেন্টার এবং মার্টল অ্যাভিনিউ-ব্রডওয়ের মধ্যে চলাচল করবে। এমটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই এলাকার ট্র্যাক সুইচগুলো সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে পরিবর্তন করা হয়েছিল। ব্রুকলিন ও কুইন্সের উইলিয়ামসবার্গ, বুশউইক, বেডফোর্ড-স্টাইভাসেন্ট, ইস্ট নিউইয়র্ক, ওজোন পার্ক এবং জ্যামাইকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে লোয়ার ম্যানহাটনের সাথে যুক্ত করতে এই সুইচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সংস্কারকাজের ফলে ১৭-১৮ অক্টোবর, ২৪-২৫ অক্টোবর, ৭-৯ নভেম্বর, ১৩-১৬ নভেম্বর এবং ২০-২৩ নভেম্বর সপ্তাহান্তে যাত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে। এই পাঁচ সপ্তাহান্তে ব্রুকলিনের চারটি স্টেশন—ফ্লাশিং অ্যাভিনিউ, লরিমার স্ট্রিট, হিউস স্ট্রিট এবং মার্সি অ্যাভিনিউয়ে কোনো ট্রেন পরিষেবা থাকবে না। এম ট্রেন কুইন্স এবং ব্রুকলিনের কিছু অংশে চলাচল করলেও তা ম্যানহাটনে প্রবেশ করবে না। বাকি এম ট্রেনগুলো প্রতি ২০ মিনিট অন্তর চলবে এবং দুটি ভাগে বিভক্ত থাকবে, যার ফলে যাত্রীদের মার্টল-উইকফ স্টেশনে ট্রেন বদল করতে হবে। যাতায়াতের এই অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এমটিএ যাত্রীদের বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। ম্যানহাটনে পৌঁছাতে যাত্রীদের মার্টল-উইকফ থেকে এল (L) ট্রেন এবং ব্রডওয়ে জাংশন থেকে এ (A), সি (C) বা এল (L) ট্রেন ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া, জ্যামাইকা থেকে আগত যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে ই (E) ট্রেন ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের উপস্থিতি নিয়ে কখনো কখনো কমিউনিটির মধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি বাফেলো শহরের ইস্ট সাইডে অবস্থিত রেসপন্স টু লাভ সেন্টারের খাদ্যসহায়তা কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সারির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ছবিটি ঘিরে কেউ কেউ বাংলাদেশি কমিউনিটির আত্মসম্মান ও সামাজিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মানুষ, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বসবাস রয়েছে। বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করে। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন পটভূমির মানুষ অংশ নেন। তবে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি অন্যদের তুলনায় বেশি এমন দাবি করেন কমিউনিটির কেউ কেউ। ছবিটি ঘিরে কমিউনিটির একাংশের প্রশ্ন, যাঁদের খাবার কেনার সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরাও কি শুধু বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন? তাঁদের মতে, প্রকৃত প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কেউ খাদ্যসহায়তা নিলে অভাবী মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকা সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, এমন দৃশ্যের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্পর্কে অন্যদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। তবে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ বিল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। বাইরে থেকে স্বচ্ছল মনে হলেও তাদের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই বিনামূল্যে খাবার নিতে লাইনে দাঁড়ানো মানেই কেউ অপ্রয়োজনীয় সুবিধা নিচ্ছেন এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রকৃত প্রয়োজনের সময় খাদ্যসহায়তা গ্রহণ লজ্জার বিষয়ও নয়। বাফেলোর রেসপন্স টু লাভ সেন্টার স্থানীয় মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা ও রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে খাবার সংগ্রহ করে এবং স্থানীয় ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অনুদান পায়। তবে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়, আর্থিক অবস্থা কিংবা বিতরণ করা খাবারের নির্দিষ্ট উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কমিউনিটির সদস্যদের মতে, যাঁদের সত্যিই সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি যাঁদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁদের উচিত অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সম্ভব হলে এসব প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া। একই সঙ্গে কয়েকজন মানুষের উপস্থিতি বা আচরণের ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি কিংবা মুসলিম কমিউনিটিকে বিচার করাও অন্যায়। বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি তাই আত্মসম্মান, আর্থিক বাস্তবতা ও সামাজিক দায়িত্ব এই তিনটি দিক থেকেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।