- প্রচ্ছদ
- Topic
নোবেলজয়ী
নোবেল পুরস্কার জয়ের সুখবর পেয়েই তা সবার আগে সন্তানদের জানালেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল ডেইসেরথ। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের মধ্যেও বাবার দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি। সন্তানদের সুখবর জানানোর পর তাদের জন্য নিজ হাতেই বানিয়েছেন স্যান্ডউইচ। ২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কার্ল ডেইসেরথ। অপটোজেনেটিকস নিয়ে পথপ্রদর্শক গবেষণার জন্য জার্মানির দুই বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নোবেল জয়ের খবর ডেইসেরথ জানতে পারেন গভীর রাতে একটি ফোনকলে। এমন একটি মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দে ভেসে যাওয়ার কথা। কিন্তু খবরটি পাওয়ার পর তার কাছে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াটাই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্যানফোর্ডের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডেইসেরথ প্রথমে তার দুই মেয়ে সোফি ও এমাকে নোবেল জয়ের খবর দেন। ১০ বছর বয়সী সোফি ও ১৩ বছর বয়সী এমা খবরটি শুনে বিস্মিত হয়ে যায়। এরপর তারা বাবাকে জড়িয়ে ধরে। সোফি উচ্ছ্বসিত হয়ে বাবাকে বলে, ‘বাবা, তুমি তো সব পুরস্কারই জিতে ফেলেছ!’ এরপর ছেলে হাডসনকেও সুখবরটি জানান ডেইসেরথ। ১৬ বছর বয়সী হাডসন প্রথমে অবাক হয়ে বলে ওঠে, ‘কী? ওহ মাই গড, কী?’ এরপরই আনন্দ প্রকাশ করে বলে, ‘দারুণ!’ বাবার নোবেল জয়ের খবর সন্তানদের কাছে যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি মুহূর্তটি হয়ে ওঠে পরিবারের জন্য বিশেষ স্মৃতি। তবে এই আনন্দের মধ্যেও ডেইসেরথের জীবনের আরেকটি সাধারণ দৃশ্য সামনে এসেছে—সন্তানদের জন্য খাবার তৈরি করা। স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছে, ব্যস্ত গবেষণা ও পেশাগত জীবনের মধ্যেও ডেইসেরথ প্রতিদিন তার তিন ছোট সন্তানের জন্য স্যান্ডউইচ তৈরি করার সময় বের করেন। নোবেল জয়ের দিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তার ছেলে হাডসনের জন্য সাধারণত র্যাঞ্চ ড্রেসিং, চেডার চিজ, সালামি ও টার্কি দিয়ে স্যান্ডউইচ তৈরি করেন তিনি। মেয়ে সোফির পছন্দ র্যাঞ্চ, চেডার ও মাংসের স্যান্ডউইচ। আর এমার জন্য কিশমিশের পাউরুটিতে আমন্ড বাটার, মধু ও দারুচিনি দিয়ে স্যান্ডউইচ বানান। নোবেল জয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিনেও সন্তানদের জন্য খাবার তৈরির এই ছোট্ট অভ্যাসটিই ডেইসেরথের পারিবারিক জীবনের অন্য একটি দিক সামনে এনেছে। একদিকে তিনি বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, অন্যদিকে সন্তানদের জন্য প্রতিদিনের দায়িত্ব পালন করা একজন বাবা। ডেইসেরথ স্ট্যানফোর্ডের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবেও কাজ করেন। স্ট্যানফোর্ডেই তিনি এমডি ও পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানেই রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর মূল গবেষণার বিষয় অপটোজেনেটিকস। সহজভাবে বললে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ডেইসেরথ নিজেই অপটোজেনেটিকস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, আলো ব্যবহার করে কোষকে চালু বা বন্ধ করা যায়। মস্তিষ্কে অসংখ্য জটিল ও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত কোষ রয়েছে। নির্দিষ্ট কোষকে চালু বা বন্ধ করে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধারণা পরীক্ষা করতে পারেন। এ বছর ডেইসেরথের সঙ্গে নোবেল পাওয়া পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলও আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকসের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের কাজের ফলে স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় নির্দিষ্ট কোষের কার্যক্রম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড জানিয়েছে, ডেইসেরথ বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৭তম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তার এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও গর্ব প্রকাশ করেছে। স্ট্যানফোর্ডের প্রেসিডেন্ট জনাথন লেভিন বলেন, ডেইসেরথ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নন, তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরই সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি স্ট্যানফোর্ড থেকে এমডি ও পিএইচডি করেছেন এবং এখানেই রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন। বিজ্ঞানের জগতে বড় সাফল্য অর্জনের পরও সন্তানদের জন্য স্যান্ডউইচ বানানোর মতো সাধারণ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি ডেইসেরথ। নোবেল জয়ের সুখবর সন্তানদের জানানো এবং এরপর তাদের জন্য খাবার তৈরি করার এই দুই দৃশ্যই যেন তার জীবনের দুই পরিচয়কে একসঙ্গে সামনে এনেছে—বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী এবং সন্তানদের যত্ন নেওয়া একজন বাবা।
সাধারণ চাকরির আবেদনে এক বা দুই পৃষ্ঠার সিভিই যথেষ্ট। দীর্ঘ কর্মজীবন থাকলে সেটি কয়েক পৃষ্ঠা হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম ভিটা বা সিভি এতটাই দীর্ঘ যে সেটি দুই শতাধিক পৃষ্ঠায় বিস্তৃত। এর বড় অংশজুড়ে রয়েছে কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকাশনা, কনফারেন্স পেপার, পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তালিকা। বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যান্টার্কটিকায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি গড়ে তোলা এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনের ভিলাস রিসার্চ প্রফেসর এবং গ্রেগরি ব্রেইট প্রফেসর। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে তিনি আইসকিউব প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং কো স্পোকসপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইসকিউবের সঙ্গে তার গবেষণার সম্পর্ক আরও পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। হ্যালজেনের দীর্ঘ সিভির বড় অংশ গড়ে উঠেছে তার অসংখ্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা দিয়ে। পার্টিকেল ফিজিক্স, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, কসমোলজি এবং নিউট্রিনো গবেষণায় কয়েক দশক ধরে তিনি কাজ করেছেন। বিশেষ করে আইসকিউবের মতো বড় আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতায় প্রকাশিত বহু গবেষণাপত্রে তার নাম রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় বড় কোলাবোরেশনের প্রকাশনা তালিকা সাধারণ গবেষকের তুলনায় অনেক দীর্ঘ হতে পারে। আইসকিউব কোলাবোরেশনে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বিজ্ঞানী যুক্ত। ফলে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকাশিত গবেষণাপত্র, কনফারেন্স প্রসিডিংস এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কাজের দীর্ঘ তালিকা হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ সিভিকেও অস্বাভাবিকভাবে বড় করেছে। তার সিভিতে শুধু গবেষণাপত্র নয়, শিক্ষাজীবন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদ, গবেষণা নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কমিটিতে দায়িত্ব এবং কয়েক দশকে পাওয়া পুরস্কারের তথ্যও রয়েছে। হ্যালজেন ১৯৬৯ সালে বেলজিয়ামের কে ইউ লুভেন থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭১ সালে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর হন। কয়েক দশক ধরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতায় যুক্ত রয়েছেন তিনি। তার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। দক্ষিণ মেরুর প্রায় এক ঘনকিলোমিটার স্বচ্ছ বরফকে বিশাল কণা ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে এই অবজারভেটরি। বরফের গভীরে হাজার হাজার আলোকসংবেদনশীল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো বিরলভাবে পদার্থের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করলে যে ক্ষীণ আলোর সংকেত তৈরি হয়, তা শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা কণাটির উৎস সম্পর্কে ধারণা পান। নিউট্রিনো পদার্থের সঙ্গে খুব কম প্রতিক্রিয়া করে বলে এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই অনেক সময় এগুলোকে “ঘোস্ট পার্টিকল” বা ভুতুড়ে কণা বলা হয়। আইসকিউবের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হওয়ায় মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের নতুন একটি পথ তৈরি হয়েছে। হ্যালজেন প্রথম ১৯৮৮ সালের দিকে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে এই ধরনের বিশাল নিউট্রিনো ডিটেক্টরের ধারণা সামনে আনেন। দীর্ঘ গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পর ২০১১ সালে আইসকিউবের নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালে অবজারভেটরিটি উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ প্রকাশ করে, যা আধুনিক অ্যাস্ট্রোপার্টিকেল ফিজিক্সে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দীর্ঘ গবেষণাজীবনে হ্যালজেন বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্মিথসোনিয়ান আমেরিকান ইনজেনুইটি অ্যাওয়ার্ড, বালজান প্রাইজ, ইউরোপিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটির পুরস্কার, পন্টেকোরভো প্রাইজ এবং ব্রুনো রসি প্রাইজ। ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তার আইসকিউব গবেষণা এবং মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তকরণে নেতৃত্বকে পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “২৩০ পৃষ্ঠার সিভি” দাবিটিকে কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। হ্যালজেনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সত্যিই একটি অত্যন্ত দীর্ঘ পূর্ণাঙ্গ সিভি রয়েছে, পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণও রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ নিয়মিত আপডেট হওয়ায় সংস্করণভেদে এর পৃষ্ঠাসংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্টভাবে ২৩০ পৃষ্ঠা স্থায়ী সংখ্যা নয়। তারপরও হ্যালজেনের সিভির অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্য একটি বিষয় স্পষ্ট করে। এটি চাকরির জন্য তৈরি সাধারণ সিভি নয়, বরং অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়ের গবেষণা, প্রকাশনা এবং বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড। কয়েক পৃষ্ঠার কর্মজীবনের পরিচয়ের বদলে এটি যেন একজন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণাজীবনেরই লিখিত ইতিহাস।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এক বিশাল ধাক্কা দিয়ে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নোবেলজয়ী প্রখ্যাত রসায়নবিদ ওমার ইয়াঘি। মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOFs) নিয়ে যুগান্তকারী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জেতেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (ইউসি বার্কলে) ছেড়ে এই শীর্ষ বিজ্ঞানী চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত মর্যাদাপূর্ণ সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা খাতে সরকারি তহবিল ব্যাপকভাবে হ্রাস এবং বিজ্ঞানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই শীর্ষস্থানীয় মেধাবীরা ধীরে ধীরে বিদেশমুখী হচ্ছেন। চীনে গিয়ে সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নবগঠিত 'এআই কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (AIMATRY)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ওমার ইয়াঘি। তার এই নতুন যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বস্তুবিজ্ঞানের (ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স) সমন্বয় ঘটিয়ে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের গতিকে অভাবনীয় মাত্রায় ত্বরান্বিত করা। এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থেকে তিনি অত্যাধুনিক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন নতুন উপকরণের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে অন্তত দশগুণ দ্রুততর করার পরিকল্পনা করেছেন। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন ক্যাপচার (বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ) এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের মতো গুরুতর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই হবে তার এই গবেষণার প্রধান লক্ষ্য। শীর্ষস্থানীয় এই বিজ্ঞানীর এমন হাই-প্রোফাইল দলবদল বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক প্রতিভা আকর্ষণের এক তীব্র প্রতিযোগিতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি সময়, কারণ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের সাথে বিভিন্ন যৌথ গবেষণা উদ্যোগে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করছে, ঠিক তখনই চীন বিদেশি অভিজাত স্কলারদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে। বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীরা গবেষণার জন্য সবসময় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বেছে নেবেন—দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ধারণাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে ইয়াঘির এই সিদ্ধান্ত। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন খাত এবং গবেষণায় অর্থায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশটিতে নতুন করে গভীর ও জরুরি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।