- প্রচ্ছদ
- Topic
মানবিকতা
ছয় বছর বয়সী ওয়াইটের জন্য চুল কাটানো বরাবরই বেশ কঠিন একটি অভিজ্ঞতা। নাপিতের দোকানের শব্দ, শরীরে অন্য কারও স্পর্শ এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকা—এই বিষয়গুলো তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনেক সময় আরও বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও চুল কাটার সময় স্বাভাবিকভাবে চেয়ারে বসে থাকা সহজ নয়। কানাডার কুইবেকে নাপিত ফ্রান্সিস ‘ফ্রাঞ্জ’ জ্যাকবের কাছে গত দুই বছর ধরে ওয়াইটের চুল কাটাচ্ছেন তার মা ফভি লাফ্রেনিয়ের। এই সময়ের মধ্যে ফ্রাঞ্জ বুঝে গেছেন, ওয়াইটকে অন্য শিশুদের মতো চেয়ারে বসিয়ে রেখে চুল কাটা সম্ভব নয়। তাই শিশুটিকে নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে চুল কাটার কাজটি করা যায়, সেই পথই বেছে নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সময় ওয়াইট অনেক সময় নাপিতের চেয়ারে বসে থাকতে পারে না। সে বারবার উঠে দোকানের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে। কখনো কোথাও দাঁড়িয়ে থাকে, আবার কখনো মেঝেতে শুয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি ফ্রাঞ্জ। বরং ওয়াইট যেখানে যায়, সেখানেই তাকে অনুসরণ করে চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই কাজটি সহজ করার জন্য ফ্রাঞ্জ কর্ডলেস ক্লিপার কিনেছেন। ফলে বৈদ্যুতিক তার বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। ওয়াইট দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলেও ফ্রাঞ্জ তার সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেন। কখনো ওয়াইট মেঝেতে শুয়ে পড়লে ফ্রাঞ্জও মেঝেতে বসে বা শুয়ে চুল কাটার কাজ চালিয়ে যান। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটিকে অস্বস্তিতে না ফেলে প্রয়োজনীয় কাজটি শেষ করা। সম্প্রতি ওয়াইটের চুল কাটার সময় ফ্রাঞ্জের মেঝেতে শুয়ে কাজ করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, প্রচলিত নিয়মে চেয়ারে বসিয়ে চুল কাটার পরিবর্তে নাপিত শিশুটির অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করছেন। ছবিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে যে বিষয়টি অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে, ফ্রাঞ্জের কাছে সেটি তার কাজেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তিনি নিয়মিত অটিজমে আক্রান্ত শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটেন। তাই এসব শিশুর আচরণ, অস্বস্তি এবং প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটার ক্ষেত্রে সময়ও তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে। ফ্রাঞ্জের ক্ষেত্রে কোনো কোনো চুল কাটার জন্য ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ সেখানে শুধু দ্রুত চুল কেটে দেওয়া নয়, শিশুটির স্বস্তি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও ফ্রাঞ্জ ধৈর্য ধরে কাজ করেন। শিশু হাঁটতে চাইলে তাকে হাঁটার সুযোগ দেন। কোথাও থেমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপেক্ষা করেন। মেঝেতে শুয়ে পড়লে প্রয়োজনে সেখানেই চুল কাটেন। অর্থাৎ শিশুটিকে নিজের কাজের নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বদলে তিনি নিজের কাজের পদ্ধতিটিই শিশুটির প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিয়েছেন। ফ্রাঞ্জের এই আচরণ শুধু ওয়াইটের পরিবারের জন্যই স্বস্তির কারণ হয়নি, বরং অন্য অনেক পরিবারের কাছেও তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার মানবিক ও ধৈর্যশীল আচরণের কথা ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ তার কাছে শিশুদের চুল কাটাতে আসেন। কেউ কেউ তার কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথও পাড়ি দেন। একটি শিশুর আচরণকে বিরক্তিকর বা সমস্যাজনক হিসেবে না দেখে তার প্রয়োজন বুঝে কাজ করার এই পদ্ধতিই ফ্রাঞ্জকে আলাদা করে তুলেছে। চুল কাটার মতো সাধারণ একটি কাজও অটিজমে আক্রান্ত কোনো শিশুর জন্য কতটা কঠিন হতে পারে, ওয়াইটের ঘটনাটি সেটিই সামনে এনেছে। ওয়াইটের চুল কাটার সেই ভাইরাল ছবিটি তাই শুধু একজন নাপিতের ভিন্নভাবে কাজ করার দৃশ্য নয়। এটি একজন শিশুর প্রয়োজনের প্রতি ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ফ্রাঞ্জের জন্য বিষয়টি হয়তো তার প্রতিদিনের কাজেরই অংশ, কিন্তু তার এই ছোট্ট উদ্যোগই অনেক মানুষের কাছে বড় মানবিকতার বার্তা হয়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কুড়িয়ে পেয়েও তা নিজের কাছে না রেখে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সততার নজির গড়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এক নাপিত। ব্যাংক অব আমেরিয়ার একটি এটিএমের ওপর পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ ডলার নগদ অর্থ এবং ১৯টি চেক পান। পরে পুরো অর্থই নিরাপদে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে গত ৩ আগস্ট ডেন্টন কাউন্টির লুইসভিল শহরের ওয়েস্ট মেইন স্ট্রিটে ব্যাংক অব আমেরিয়ার একটি এটিএমে। ওই ব্যক্তি পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তিনি ৪২ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা মেশিনের ওপর কয়েকটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগ খুলে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ দেখতে পান ওই নাপিত। একটি ছোট ব্যাগে ছিল ১৯টি চেক। এত বিপুল অর্থ পাওয়ার পরও তিনি তা নিজের কাছে রাখার পরিবর্তে ব্যাগের মালিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাগগুলোর একটিতে ‘চিক-ফিল-এ’-এর লেবেল ছিল। তাই প্রথমে তার ধারণা হয়, হয়তো জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠানটির অর্থ হতে পারে। তিনি কাছের একটি চিক-ফিল-এ রেস্তোরাঁয় গিয়ে ব্যাগগুলো হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। তবে রেস্তোরাঁর ম্যানেজার জানান, অর্থগুলো তাদের নয়। এরপর তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অর্থের পরিমাণ যাচাই করে। একজন কর্মকর্তা নগদ অর্থ দুইবার গুনে দেখেন। পরে ডিজিটাল কারেন্সি কাউন্টার দিয়েও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়। ব্যাগের ভেতরে থাকা ব্যাংকের একটি রসিদেও ঠিক একই পরিমাণ অর্থের উল্লেখ ছিল—১ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ ডলার। এরপর পুরো অর্থ সিল করে লুইসভিল পুলিশ বিভাগের নিরাপদ সংরক্ষণাগারে রাখা হয়। লুইসভিল পুলিশের গোয়েন্দা জিনা মিলার বলেন, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি। সাধারণত মানুষ হারানো মানিব্যাগ, পরিচয়পত্র বা ছোটখাটো সম্পদ পুলিশের কাছে জমা দেয়। কিন্তু ১ লাখ ২৮ হাজার ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কেউ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন—এমন ঘটনা তার কাছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। পুলিশের তদন্তে পরে জানা যায়, অর্থগুলো কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। টাকা ছিল ব্যাংক অব আমেরিয়ার এবং ব্যাংকের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ব্রিঙ্কসের মাধ্যমে এটিএমে সরবরাহ করা হচ্ছিল। একজন ব্রিঙ্কস কর্মী এটিএমে কাজ শেষ করার পর অর্থের ব্যাগগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ভুল করে সেগুলো মেশিনের ওপর রেখে চলে যান। লুইসভিল পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো চু রি বা অন্য কোনো অ প রা ধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সবকিছু দেখে তদন্তকারীদের কাছে এটি পরিষ্কার হয় যে অর্থগুলো ভুলবশত সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। লুইসভিল পুলিশের প্রধান ব্রুক রলিন্স ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিরল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেমন অস্বাভাবিক, তেমনি সেটি কোনো অ প রা ধের সঙ্গে যুক্ত না থাকা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মাধ্যমে পুরো অর্থ অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে ফিরে আসাও ব্যতিক্রমী ঘটনা। রলিন্স আরও বলেন, এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে। পুলিশের ভাষায়, পুলিশ সমাজের একটি অংশ; অন্য অংশ হলো সেই কমিউনিটি, যাদের সহযোগিতা ছাড়া অনেক ঘটনা সমাধান করা কঠিন। পরে ব্যাংক অব আমেরিয়া হারিয়ে যাওয়া পুরো অর্থ ও চেকগুলো ফেরত পায়। অর্থের একটি ডলারও কম পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন ওই নাপিতকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি সিবিএস নিউজ টেক্সাসকে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, পুলিশ বিভাগ তাকে সম্মান জানালে তিনি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে রাজি আছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুধু বিপুল অর্থ ফেরত পাওয়ার গল্প নয়; বরং এমন একটি উদাহরণ, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অন্যের সম্পদ নিজের করে নেওয়ার পরিবর্তে সেটি সঠিক মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
জাপানে বৃষ্টির মধ্যে কাজে যাওয়ার পথে সাইকেল থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন ভারতীয় নারী সোনম মিধা। কাঁধে আঘাতের পাশাপাশি বেঁকে যায় সাইকেলের হ্যান্ডেল, ভেঙে যায় আইফোনের স্ক্রিনও। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার পর এক অপরিচিত জাপানি দোকানির কাছ থেকে পাওয়া মানবিক আচরণই শেষ পর্যন্ত তার কাছে দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে ওঠে। সোনম জানান, বৃষ্টির মধ্যে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়ার সময় সেটি পিছলে যায়। পড়ে গিয়ে কাঁধে আঘাত পান তিনি। কোনোভাবে অফিসে পৌঁছানোর পর সহকর্মী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করেন। দুপুরের বিরতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাইকেলটি নিয়ে কাছের একটি মেরামতের দোকানে যান সোনম। তার ধারণা ছিল, সাইকেল ঠিক করতে ভালো অঙ্কের অর্থ খরচ হবে। কারণ এর আগে শুধু সাইকেলের সিটের অবস্থান ঠিক করতেই তাকে ৫০০ ইয়েন দিতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু দোকানে পৌঁছানোর পর ঘটে অন্য ঘটনা।সাইকেল দেখার আগে দোকানি সোনমের আঘাতের দিকে নজর দেন। প্রথমেই জানতে চান, তিনি ঠিক আছেন কি না। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত হ্যান্ডেল ঠিক করে দেন। কাজ শেষে সোনম জাপানি ভাষায় জানতে চান, ‘ইকুরা দেশু কা?’ অর্থাৎ কত টাকা দিতে হবে? দোকানির উত্তর ছিল মাত্র দুটি শব্দ - ‘নো প্রাইস।’ অর্থাৎ কোনো টাকা লাগবে না। বিনা পয়সাতেই সাইকেলটি ঠিক করে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে আরও নিরাপদে সাইকেল চালাতে হবে, সে বিষয়েও সোনমকে পরামর্শ দেন ওই দোকানি। অপরিচিত একজন মানুষের এমন আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোনম। তবে শুধু ধন্যবাদ জানিয়ে চলে যেতে চাননি তিনি। কাছের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় গিয়ে দোকানির জন্য খাবার প্যাকেট করেন। এরপর আবার বৃষ্টির মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ফিরে যান সেই দোকানে। সোনমকে আবার দোকানে ঢুকতে দেখে প্রথমে চিন্তিত হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। সোনমের ধারণা, দোকানি হয়তো ভেবেছিলেন তিনি আবার পড়ে গেছেন কিংবা সাইকেলে নতুন কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সোনম যখন জানান, তার জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন, তখন দোকানির প্রতিক্রিয়াও বদলে যায়। সোনমের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার পেয়ে আবেগাপ্লুত ও দৃশ্যত আনন্দিত হয়ে ওঠেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দুই অপরিচিত মানুষের পারস্পরিক এই আচরণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একজন বিনা পয়সায় সাইকেল ঠিক করে দিয়েছিলেন, অন্যজন সেই আন্তরিকতার জবাব দিয়েছেন নিজের দেশের খাবার দিয়ে। সোনম জানিয়েছেন, দিনটি তার মনে থাকবে সাইকেল দুর্ঘটনা, আহত কাঁধ কিংবা ভাঙা ফোনের জন্য নয় - বরং অপরিচিত একজন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া মানবিকতার জন্য। মজার বিষয় হলো, জাপানে সোনমের এমন অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে তিনি একটি ব্যাগ হারিয়েছিলেন, যেখানে নগদ অর্থ, বাড়ির চাবি ও দামি মাইক্রোফোনসহ প্রায় এক লাখ রুপির জিনিস ছিল। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ব্যাগটি খুঁজে পেয়ে সবকিছু অক্ষত অবস্থায় পুলিশের কাছে জমা দিয়ে গেছেন। সূত্র: সোনম মিধার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস
শৈশবের ক্ষুধার কষ্ট হয়তো ভুলে যাননি তারা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে এগিয়ে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের প্রায় ৩০ জন বন্দি। নিজেদের সীমিত অর্থ থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন ৩ হাজার ৮১০ ডলার। কানসাসের নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির বন্দিদের এই উদ্যোগের সঙ্গে পরে যুক্ত হন কানসাস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন্সের কর্মীরাও। তারা আরও ৪৫৭ ডলার যোগ করায় মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলার। এই অর্থ দেওয়া হয়েছে নর্টন কমিউনিটি স্কুলস, ইউএসডি ২১১-এর শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষে স্কুল ডিস্ট্রিক্টটির শিক্ষার্থীদের খাবারের হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ডলার বকেয়া ছিল। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সন্তানদের স্কুলে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হলেও অনেক পরিবারের পক্ষে সেই খরচ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে পারেন নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির ‘রিচিং আউট ফ্রম উইদিন’ বা আরওএফডব্লিউ কর্মসূচির সদস্যরা। এরপর নিজেদের মধ্যে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তারা। বন্দিদের নিজেদের অর্থ থেকেই আসে ৩ হাজার ৮১০ ডলার। পরে কারেকশনস বিভাগের কর্মীদের দেওয়া অর্থ যোগ হয়ে মোট অনুদান দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলারে। অর্থাৎ স্কুলের মোট বকেয়ার প্রায় ৭১ শতাংশই এই অনুদানের মাধ্যমে পরিশোধে সহায়তা করা সম্ভব হবে। গত ৩ আগস্ট নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন বন্দি স্কুলটির সুপারিনটেনডেন্ট কোরি রয়-এর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। কোরি রয় জানান, বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় শিশুদের জন্য ইতিবাচক কিছু করার তাদের আগ্রহে তিনি অভিভূত হয়েছেন। অন্যদের জন্য কিছু করার সুযোগ তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচকভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি। এই উদ্যোগের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক হলো, সাহায্যের অর্থ এসেছে এমন মানুষদের কাছ থেকে যাদের নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত। তারপরও স্থানীয় শিশুদের খাবারের বকেয়া মেটাতে নিজেদের হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ তারা তুলে দিয়েছেন। নর্টনের এই ঘটনা শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের খরচ নিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টিই সামনে আনেনি, বরং কারাগারের পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দিরাও কীভাবে সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লাকোটা ইস্ট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রব বার্নসাইড জানতে পারেন, তার শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস ‘ডিডি’ হেইস অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মায়ের সঙ্গে থাকা সম্ভব ছিল না, আর বাবার মোবাইল হোমে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়লে কখনো গাড়িতে হিটার চালিয়ে রাত কাটাত ডিডি। তবুও সে স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। ডিডির জুনিয়র বছরে স্কুলে একটি চিঠি আসে। সেখানে জানানো হয়, তার মা নতুন ঠিকানায় চলে গেছেন এবং সেই ঠিকানা স্কুল জেলার বাইরে। জেলা কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, ডিডি আর লাকোটা ইস্টে পড়তে পারবে না। কিন্তু বার্নসাইড শুধু কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাকে স্কুল থেকে বাদ দিতে রাজি হননি। তিনি ডিডিকে স্কুলে আসতে দেন। এরপর বার্নসাইডকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং তার সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১ বছরের শিক্ষাজীবনের পর তিনি প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে চাকরি হারানোর পরও নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। তিনি বলেন, একজন তরুণের জীবনের মূল্য দিয়ে কোনো কিছু পরিমাপ করা যায় না। এর মধ্যেই বার্নসাইড তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেলকে ডিডির পরিস্থিতির কথা জানান। অ্যাঞ্জেল তাকে তাদের সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। ডিডির মায়ের সম্মতিতে সে বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করে। পরে রব ও অ্যাঞ্জেল তার আইনি অভিভাবক হন। ডিডি পরে নতুন একটি স্কুল থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে। সেই অনুষ্ঠানে দর্শকসারিতে ছিলেন রব ও অ্যাঞ্জেল - যাদের ডিডি এখন ‘পপস’ ও ‘মা’ বলে ডাকে। বার্নসাইড পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও এখন অনেকটা নিজের পরিবারের মতো; বার্নসাইড দম্পতির অন্য সন্তানরাও তাকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করেছে। ডিডির সামনে এখন নতুন লক্ষ্য - এভিয়েশন মেকানিক হওয়া। অন্যদিকে, বার্নসাইডের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ অধ্যায়টি চাকরি হারানোর মধ্য দিয়ে হলেও, তার একটি সিদ্ধান্ত একজন গৃহহীন তরুণকে দিয়েছে নিরাপদ একটি পরিবার, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং নতুন ভবিষ্যতের সুযোগ।
ইউরোমিলিয়ন্স লটারিতে ১১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড জিতে রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন ফ্রান্সেস কনলি। কিন্তু সেই অর্থ নিজের বিলাসী জীবনযাপনে খরচ না করে সম্পদের প্রায় অর্ধেকই দান করে দিয়েছেন তিনি ও তার স্বামী। স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নীরবে এই অর্থ ব্যয় করছেন তারা। ২০১৯ সালে সাবেক সমাজকর্মী ও শিক্ষিকা ফ্রান্সেস কনলি এবং তার স্বামী প্যাডি ইউরোমিলিয়ন্সের বিশাল জ্যাকপট জেতেন। ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের সেই অর্থ তৎকালীন ও বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকার সমান। লটারি জেতার পর প্রথমেই সন্তান ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি। এরপর বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করতে শুরু করেন তারা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা দান করেছেন ফ্রান্সেস ও প্যাডি। মানবসেবার কাজ আরও সংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য তারা একটি দাতব্য ট্রাস্টও গঠন করেছেন। ফ্রান্সেস জানান, সমাজসেবায় অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রে খ্যাতনামা মার্কিন সংগীতশিল্পী ও সমাজসেবক ডলি পার্টনের কাজ তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। অবিশ্বাস্য পরিমাণ অর্থের মালিক হওয়ার পরও জীবনযাপনে খুব একটা পরিবর্তন আনেননি ফ্রান্সেস ও তার স্বামী। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডে নিজেদের বাড়িতে সাদামাটাভাবেই থাকেন তারা। প্রশস্ত বাড়ি ও আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করলেও অপ্রয়োজনীয় খরচ বা অর্থের অপচয় এড়িয়ে চলেন। এমনকি নতুন করে দামি গাড়ি বা ঘড়ি কেনার পরিবর্তে ভালো মানের ব্যবহৃত বিলাসবহুল সামগ্রী কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা। কেন এত বড় অঙ্কের অর্থ দান করছেন—এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ফ্রান্সেস। তার মতে, মানুষ জীবনে কী চায়, তার ওপর অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করে। কেউ যদি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হওয়া কিংবা ক্ষমতাবানদের প্রভাবিত করাকে লক্ষ্য হিসেবে নেন, তাহলে অর্থ নিজের কাছেই জমিয়ে রাখতে পারেন। তবে ফ্রান্সেসের বিশ্বাস, নিজের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকলে তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি। লটারি জেতার সময় তার বয়স ছিল ৫০-এর কোঠায়। সন্তানদের সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পর এত বিপুল অর্থ নিজের কাছে জমিয়ে রাখার কোনো অর্থ দেখেননি তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ডে বেড়ে ওঠা ফ্রান্সেস ১৯৯০ সালে কাজের সূত্রে ইংল্যান্ডের হার্টলপুলে চলে যান। এরপর ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। ফ্রান্সেসের ভাষায়, নিজের অর্জিত বা পাওয়া সম্পদ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তার জন্য ‘পরম সৌভাগ্যের’ বিষয়।
সমাজের নানা প্রতিকূলতা আর পারিবারিক দায়িত্ব সামলে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক জনাব আব্দুর রহমান রাহাদ। নির্ধারিত 'ক্লাস টেস্ট' চলাকালীন এক ছাত্রীর সন্তানকে নিজের কোলে সামলে রেখে তাকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দেয়। ঘটনার দিন সকালে নির্ধারিত কুইজ পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে এক ছাত্রী তার কোলের সন্তানকে নিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে আসেন। ছাত্রীটি জানান, পরীক্ষার সময়টুকুতে তার বাচ্চাকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং তার স্বামীও অফিসের কাজ থেকে ছুটি পাননি। তাই তিনি পরীক্ষাটি নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পরে দিতে চান, যাতে বন্ধুদের পরীক্ষা শেষ হলে তাদের কাছে সন্তানকে রেখে তিনি পরীক্ষায় বসতে পারেন। ছাত্রীর এমন অসহায়ত্ব দেখে শিক্ষক উপলব্ধি করেন, আমাদের সমাজে একজন নারীকে সফল হতে গেলে সংসার, সন্তান ও পারিপার্শ্বিক কত শত বাধা অতিক্রম করতে হয়। তিনি চাইলে ছাত্রীকে পরে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিতে পারতেন। কিন্তু শিক্ষকের মনে হয়, এতে ওই ছাত্রীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হবে। কেবল সন্তানের কারণে তিনি তার সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন বা আলাদা হয়ে যাবেন—এমনটা হতে দিতে চাননি তিনি। তাই তিনি ছাত্রীকে জানান, বাচ্চাটি যদি তার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তবে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি নিজেই তাকে সামলাবেন। শিক্ষক হয়ে পরীক্ষার হলে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়ে ছাত্রীটি কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও, শিক্ষক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, মানুষ হিসেবে এটি তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। পুরো পরীক্ষা চলাকালীন শিশুটি শিক্ষকের কোলেই ছিল এবং ওই ছাত্রী তার সহপাঠীদের সঙ্গে একই সময়ে বসে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষা শেষে কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হৃদয়ে ওই ছাত্রী শিক্ষককে ধন্যবাদ জানালে তিনি এক অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তা দেন। তিনি বলেন, "মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এটি জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিজের মেধার প্রমাণ দিয়ে আপনি সফলভাবে এগিয়ে যাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি 'ভুল বার্তা' ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবন বাঁচিয়েছে। ভাঙা পা নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাদায় আটকে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ভুল বার্তার সূত্র ধরেই সেখানে পৌঁছান বিদ্যুৎকর্মীরা এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। আইওয়ার বুন কাউন্টির একটি নির্জন গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন পেনি লামার। গত ১০ জুন রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে তিনি তার পোষা কুকুরগুলোকে বাইরে বের করতে এবং ঝড়ে বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা দেখতে বাইরে যান। ডায়াবেটিসের রোগী পেনি বাইরে যাওয়ার ঠিক আগেই ইনসুলিন নিয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিসিআই এবং সিএনএন নিউজসোর্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনি লামার বলেন, বাড়ির সামনের রাস্তায় বা ড্রাইভওয়েতে বিশাল এক কাদার স্তূপ ছিল। সেখানে পা পিছলে তিনি মারাত্মকভাবে পড়ে যান। পতন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তার পা শরীরের নিচে বেঁকে যায় এবং তিনি আর উঠতে পারেননি। পেনি লামারের স্বামী সে সময় কানাডায় ভ্রমণ করছিলেন। আর যেহেতু তারা একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, তাই আশেপাশে এমন কোনো প্রতিবেশীও ছিলেন না, যিনি তাকে দেখতে পাবেন বা তার আর্তনাদ শুনতে পাবেন। উঠে দাঁড়াতে বা একটু নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না তিনি। এভাবেই কাদায় শুয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়। পেনি বলেন, "সত্যি বলতে কী, আমি তখন ভাবছিলাম যে এভাবেই এখানে পড়ে থেকে আমাকে মরতে হবে।" কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভের একটি ট্রাক অপ্রত্যাশিতভাবে তার বাড়ির ড্রাইভওয়েতে এসে থামে। মূলত, কোম্পানির সিস্টেম থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং ড্রাইভওয়েতে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধা। পেনি লামারের উরুর হাড় (ফিমার) মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল। ইনসুলিন নেওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় তার রক্তে শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছিলেন। বিদ্যুৎকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেন এবং উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত তার পাশেই অবস্থান করেন। বর্তমানে পেনি লামার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ক্ষতিগ্রস্ত পায়ে স্ক্রু ও রড বসিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি ওই বিদ্যুৎকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নিজের বেঁচে যাওয়াকে এক অলৌকিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে পেনি বলেন, "আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় উপায়ে কাজ করেন। এটি ছিল তার তেমনই এক রহস্যময় উপায় তিনিই মূলত বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে ওই ভুল বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন।" এদিকে, মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কর্মীরা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছেন, তাদের এই মহান কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তীব্র দাবদাহের মধ্যে বাড়ি থেকে বহুদূরে পথ হারিয়ে ফেলা এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছে ১৪ বছরের এক কিশোর। রয়্যাল ক্যাথরান নামের ওই কিশোরের সময়োচিত পদক্ষেপ ও মানবিকতার কারণে ৭৫ বছর বয়সী ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) রোগে আক্রান্ত থেরেসা মরগান নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা কিশোরের এই দায়িত্বশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অ্যারিজোনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৫ (ABC 15) এবং দ্য গার্ডিয়ান এ খবর নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ঘটে অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে। গত মাসে ১৪ বছরের কিশোর রয়্যাল বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ৭৫ বছর বয়সী থেরেসা মরগানকে একাকী হেঁটে যেতে দেখে। বৃদ্ধার হাতে একটি শপিং ব্যাগ ও পার্স ছিল এবং তিনি ভীষণ ঘামছিলেন। তীব্র রোদে তাকে বেশ দিশেহারা ও বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। রয়্যাল তার পরিহিত স্মার্ট চশমায় (Smart Glasses) পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে এবিসি ১৫-এ প্রকাশিত হয়। ফুটেজে দেখা যায়, কিশোরটি বাইক থামিয়ে বৃদ্ধার কাছে গিয়ে জানতে চায় তিনি কোথায় যাচ্ছেন এবং তাকে সতর্ক করে বলে, "আমার মনে হয় না আশেপাশে কোনো অ্যাপার্টমেন্ট আছে।" পরে রয়্যাল গণমাধ্যমকে জানায়, "উনাকে দেখে মনে হয়েছিল কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ছিল এবং উনি খুব ঘামছিলেন। তা দেখে আমি বুঝতে পারি উনার সাহায্যের প্রয়োজন।" পরিস্থিতি অনুধাবন করে কিশোরটি আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। সে বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে বসায় এবং তার শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করে। এরপর অত্যন্ত ধৈর্য ধরে বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে তার ছেলে জেফের ফোন নম্বর মনে করানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বৃদ্ধা তার ছেলের নম্বরটি স্মরণ করতে সক্ষম হলে রয়্যাল দ্রুত যোগাযোগ করে এবং জেফ ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত বৃদ্ধার পাশেই অবস্থান করে। খবর পেয়ে গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ টিমের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বৃদ্ধার ছেলে জেফ জানান, তার মা সম্প্রতি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সেদিন তিনি কেনাকাটার জন্য মুদি দোকানে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ঘুরতে ঘুরতে বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে আসেন। জেফের মতে, রয়্যাল যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে তার মায়ের প্রাণহানিও ঘটতে পারত। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "কিশোরটি যা করেছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ভাগ্য ভালো যে সে আমার মায়ের সামনে পড়েছিল এবং মা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তার যত্ন নিয়েছে।" ছেলের এই মহানুভবতায় একটুও অবাক হননি রয়্যাল ক্যাথরানের মা। তিনি বলেন, "রয়্যাল সবসময়ই অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসে। ঘটনার সময় সে অত্যন্ত শান্ত ও সমবেদনশীল ছিল। একজন মা হিসেবে আমি তার জন্য ভীষণ গর্বিত।" গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের ব্যাটালিয়ন চিফ রায়ান ম্যাকহিউ জানান, অ্যারিজোনার তীব্র গরমের মধ্যে এমন ঘটনা প্রাণঘাতী হতে পারত। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "রয়্যাল সময়মতো না দাঁড়ালে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।" তিনি আরও জানান, রয়্যালের এই দ্রুত বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ১১ আগস্ট গিলবার্ট টাউন কাউন্সিলের একটি বিশেষ সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হবে। অ্যারিজোনার ৫ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরটির প্রশংসা করে লিখেছেন, "বিপদের মুখে একজন বৃদ্ধাকে সাহায্য করার জন্য রয়্যাল ক্যাথরানকে অশেষ ধন্যবাদ। সমাজের অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, রয়্যালের এই দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।" অ্যারিজোনায় গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষের হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক কিশোরের এমন সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা পুরো কমিউনিটির কাছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কয়েক শতাব্দীর পুরনো আত্মিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন যেন নতুন করে জেগে উঠেছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের কবলে পড়া ইরানের সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন কাশ্মীরি জনগণ। কেউ দিচ্ছেন নিজের প্রিয় স্বর্ণালংকার, কেউ ভেঙে ফেলছেন বছরের পর বছর জমানো মাটির ব্যাংক, আবার কেউ দান করছেন ঘরের তামা-কাসার তৈজসপত্র। গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন যখন পুরো দক্ষিণ এশিয়া উৎসবে মেতেছিল, তখন কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার ৫৫ বছর বয়সী মাসরাত মুখতার তার বাবার দেওয়া জন্মদিনের উপহার—এক জোড়া সোনার দুল তুলে দেন ত্রাণ তহবিলে। মাসরাত বলেন, “আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা-ই দান করি। এটি আমাদের তাদের (ইরানিদের) আরও কাছে নিয়ে যায়।” কাশ্মীরকে ঐতিহাসিকভাবে ‘ইরান-ই-সাগীর’ বা ‘ক্ষুদ্র ইরান’ বলা হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইরানি সুফি সাধক মির সাইয়্যেদ আলি হামাদানির আগমনের মাধ্যমে কাশ্মীরে যে পারস্য সংস্কৃতির ছোঁয়া লেগেছিল, বর্তমান সংকটে সেই টান আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। কী কী দান করছেন কাশ্মীরিরা? স্বর্ণ ও নগদ অর্থ: এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের সহায়তা সংগৃহীত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ব্যক্তিগত সম্পদ: শ্রীনগরের মিনি ট্রাক চালক সাদাকাত আলি মির তার আয়ের উৎস দুটি ট্রাকের একটি দান করে দিয়েছেন। শিশুরা তাদের জমানো মাটির ব্যাংক বা ‘পিগি ব্যাংক’ তুলে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে। গৃহস্থালি সামগ্রী: কাশ্মীরি ঐতিহ্যে মেয়ের বিয়ের জন্য তামা ও কাসার তৈজসপত্র জমিয়ে রাখা হয়। অনেক মা সেই তামা-কাসার পাত্রগুলো ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত মা-বোনদের জন্য দিয়ে দিচ্ছেন। অন্যান্য: গবাদি পশু, সাইকেল এবং রিকশাও দান করা হচ্ছে এই ত্রাণ কার্যক্রমে। উল্লেখ্য যে, শিয়া প্রধান এলাকাগুলোতে এই আবেগ বেশি দেখা গেলেও ত্রাণ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষও। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের এক মাসের বেতন দান করেছেন। ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই মানবিক সহায়তার জন্য কাশ্মীরিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, ২৮ বছর আগে মৃত স্বামীর স্মৃতি হিসেবে রাখা স্বর্ণের অলংকারও এক বৃদ্ধা ইরানের জন্য দান করে দিয়েছেন। তবে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো (SIA) এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, অনিবন্ধিত ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে টাকা দিলে তা ভুল পথে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সরাসরি দূতাবাসের মাধ্যমে সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির সময় দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ‘মেঘনা হল’-এ এই সাক্ষাৎ হয়। অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গ্যালারিতে গিয়ে উপস্থিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা ভেঙে এক আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান এবং চিকিৎসা ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ নেন। কারও পরিবারের সদস্য হারানোর বেদনা, কারও চলমান চিকিৎসা—সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তাঁদের সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৬০ জন জুলাই গণ-আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্য এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়লে তিনি তাঁদের সান্ত্বনা দেন। সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎ সংসদের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থিতদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।
রাষ্ট্রীয় পদের মোহ আর প্রটোকলের বেড়াজাল ছিন্ন করে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় এক সাধারণ নাগরিকের দাফন কাজে সরাসরি কবরে নেমে অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন শেষে ফিরছিলেন প্রতিমন্ত্রী। ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি দাফন কাজ চলতে দেখে তিনি তাৎক্ষণিক নিজের গাড়ি বহর থামানোর নির্দেশ দেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি কবরস্থানে চলে যান তিনি। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কবরে নেমে মরদেহ শায়িত করার দৃশ্য দেখে বিষ্মিত হন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ জানান, একজন উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধির এমন নিরহংকার আচরণ সচরাচর দেখা যায় না। দাফন শেষে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পদের দাপট ভুলে মাটির মানুষের প্রতি এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা বর্তমানে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।