সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিমা

২০২৭ সালে কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় বিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড হেলথ ও হিউমানার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বন্ধ, প্রভাব পড়বে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা ২০২৭ সালের জন্য তাদের কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহক প্রভাবিত হতে পারেন। এর মধ্যে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং হিউমানার প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। আগামী বছর থেকে তাঁদের বর্তমান বিমা পরিকল্পনা আর কার্যকর থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সরকারি মেডিকেয়ার সুবিধা হারাবেন। তাঁদের নতুন বিমা পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে অথবা প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিকল্প বিবেচনা করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিমা সুবিধা ব্যবহারের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করছে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে বিমা কার্যক্রম টেকসই রাখার লক্ষ্যেই ২০২৭ সালের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হিউমানা জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত অধিকাংশ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির অন্য কোনো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।   এই পরিবর্তনের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার বিমার বার্ষিক নিবন্ধন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় চলছে। ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সময়সীমা শেষ হবে ৭ ডিসেম্বর। এ সময় গ্রাহকেরা নিজেদের বর্তমান বিমার সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে পারবেন। বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তাই যাঁদের বিমা পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।   মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির অধীনে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্ক, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের খরচ এবং কখনো কখনো দাঁত ও চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে পরিকল্পনাভেদে এসব সুবিধা ও খরচের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় গেলে গ্রাহকদের চিকিৎসক বা হাসপাতাল বদলাতে হতে পারে, ওষুধের আওতা পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা নিজের পকেট থেকে খরচ বাড়তে পারে।   ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের পরিবর্তন মূলত পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও চিকিৎসা নেওয়ার তুলনামূলক বেশি সুযোগ দেওয়া পিপিও পরিকল্পনাগুলোকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে, হিউমানা কম লাভজনক কিছু পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান সেলেস্তে মেলেট আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন, যা তাদের মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ গ্রাহকের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রভাবিত গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে নিজেদের অন্য পরিকল্পনায় ধরে রাখার চেষ্টা করবে।   স্বাস্থ্যবিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় ও ওষুধের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার সংখ্যা কমাচ্ছে, কিছু অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত করছে এবং গ্রাহকদের নিজস্ব খরচের অংশ বাড়াচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালেও দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি মেডিকেয়ার গ্রাহকের অন্তত একটি মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় প্রবেশের সুযোগ থাকবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় গড় মাসিক প্রিমিয়াম ২০২৬ সালের ১৪ দশমিক ৩৭ ডলার থেকে ২০২৭ সালে ১২ ডলারে নেমে আসতে পারে।   যাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসক, হাসপাতাল, ওষুধের আওতা, মাসিক প্রিমিয়াম এবং চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে দিতে হবে এমন অর্থের পরিমাণ তুলনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ নতুন মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যেতে পারেন, আবার কেউ প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের বিমা নিতে পারেন। কোন বিকল্পটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর।   সূত্র: নিউজউইক, সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের ২০২৭ সালের নিবন্ধন ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে, চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারের ওষুধের খরচ বাড়তে পারে, পরিবর্তন আসছে প্রিমিয়ামেও

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ ও যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিমা পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার এই সময়ে ওষুধের খরচ, মাসিক প্রিমিয়াম এবং নিজস্ব পকেট থেকে দেওয়া অর্থের সীমায় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচির আওতায় ওষুধ কেনা ব্যক্তিদের কারও কারও ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সব গ্রাহকের খরচ বাড়বে না। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়ামে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। তাই নিবন্ধনের সময় নিজের ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক এবং পরিকল্পনার খরচ তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।   মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে গ্রাহকেরা প্রচলিত মেডিকেয়ার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের বিমা পরিকল্পনার মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এ সময়ে নির্বাচিত নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে বর্তমান পরিকল্পনায় থাকা ব্যক্তিদেরও পরবর্তী বছরের প্রিমিয়াম, ওষুধের আওতা এবং অন্যান্য খরচ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচিতে ওষুধের জন্য নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয়ের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ২০২৬ সালের ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ২ হাজার ৪০০ ডলার হচ্ছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির সাধারণ বাৎসরিক কর্তনযোগ্য অর্থের পরিমাণ ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলার হবে। কর্তনযোগ্য অর্থ হলো সেই পরিমাণ, যা বিমা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সুবিধা কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাহককে নিজের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়। ফলে যাঁদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের জন্য পরিকল্পনার শর্তগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি।   ২০২৭ সালে কিছু জনপ্রিয় ওষুধের বিমা পরিকল্পনায় মাসিক প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এএআরপি ব্র্যান্ডের ইউনাইটেডের পার্ট ডি পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকেরা পরিকল্পনা পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই মাসে অন্তত ৫০ ডলার অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের মুখে পড়তে পারেন। এর মধ্যে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক বৃদ্ধি ৭৫ ডলারের বেশি হতে পারে এবং চারটি অঙ্গরাজ্যে তা ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এএআরপি মেডিকেয়ার আরএক্স সেভার পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ ডলার বাড়তে পারে। দুটি পরিকল্পনা মিলিয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২০ লাখের বেশি।   তবে কেএফএফ জানিয়েছে, পার্ট ডির অধিকাংশ গ্রাহক প্রিমিয়ামের পরিবর্তনে একই মাত্রায় প্রভাবিত হবেন না এবং অনেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নাও ঘটতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প পরিকল্পনা থাকলেও অনেক গ্রাহক নিবন্ধনের সময় অন্য পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করেন না বা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন না। এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা ন্যান্সি লিমন্ড বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় বয়স্ক মার্কিনিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, খরচ ও বিমার আওতা প্রতিবছর বদলানোর কারণে বিকল্পগুলো যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নেওয়া আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ারের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন দামে ১৫টি ওষুধ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওজেম্পিক, রাইবেলসাস ও ওয়েগোভির পাশাপাশি ট্রেলেজি এলিপ্টা, এক্সটান্ডি, পোমালিস্ট, আইব্র্যান্স, ওফেভ, লিনজেস, ক্যালকুয়েন্স, অস্টেডো, ব্রিও এলিপ্টা, ট্রাডজেন্টা, জিফ্যাক্সান, ভ্রেলার, জানুমেট ও ওটেজলার মতো ওষুধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মূল্যব্যবস্থার ফলে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ব্যয় প্রায় ৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমতে পারে।   প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচে পরিবর্তন আসায় নিবন্ধনের সময় শুধু মাসিক কিস্তি দেখে পরিকল্পনা বেছে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞরা। কোন ওষুধ বিমার আওতায় রয়েছে, ওষুধের জন্য কত টাকা দিতে হবে, বার্ষিক ব্যয়ের সীমা কত এবং চিকিৎসক বা ফার্মেসি পরিকল্পনার নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা গেলে নতুন সুবিধা বা খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব। নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কেএফএফ ও ফক্সের স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের বিপরীতে সরকারি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ারের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধ করলেন ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসের ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের বিপরীতে সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব নিবন্ধনের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাঁরা একই সঙ্গে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা নিবন্ধনও এই পদক্ষেপের আওতায় এসেছে। সরকারের দাবি, এর ফলে আগামী এক বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে।   এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে একই ব্যক্তির জন্য একাধিক সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা। ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় যোগ্য ব্যক্তিরা বেসরকারি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিকল্পনা কেনার সময় সরকারি আর্থিক সহায়তা পান। এই সহায়তা তাঁদের মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কমাতে সাহায্য করে। তবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই সময়ে মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, দ্বৈত নিবন্ধন এবং মৃত ব্যক্তিদের নামে ভর্তুকি দেওয়ার মতো ঘটনা শনাক্ত করে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করা হচ্ছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ ধরনের যাচাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।   তবে এই ঘোষণার অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে সব ওবামাকেয়ার গ্রাহকের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। একইভাবে মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডে থাকা সব ব্যক্তির স্বাস্থ্যবিমাও বাতিল করা হচ্ছে না। পদক্ষেপটি মূলত ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পাওয়া ওবামাকেয়ার ভর্তুকিকে কেন্দ্র করে। যাঁদের নথিতে দ্বৈত স্বাস্থ্যবিমার তথ্য পাওয়া যায়, তাঁদের বিষয়টি যাচাই করার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আপত্তি জানানো বা তথ্য সংশোধন না হলে তাঁদের মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি বন্ধ করা হতে পারে।   সরকারি নথিতে কাউকে মৃত হিসেবে দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্যটি ভুল প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে কারও মেডিকেইড বা মেডিকেয়ার কভারেজ শেষ হয়ে আসছে কিংবা দ্বৈত নিবন্ধনের তথ্য ভুল হলে, প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যবিমা গ্রাহকদের কাছে সরকারি নোটিশ এলে সেটি উপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যেও অনেকেই আয়ের ভিত্তিতে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ভর্তুকি নিয়ে হেলথ ইন্স্যুরেন্স করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ভর্তুকির যোগ্যতা নির্ভর করে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমার আওতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর। তাই মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নোটিশ পেলে নিজের স্বাস্থ্যবিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে বলে ধরে না নিয়ে নোটিশের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে শনাক্ত করা এই ১ লাখ ৮৯ হাজার নিবন্ধনের ভর্তুকি বন্ধের ফলে চলতি বছরে প্রায় ৭৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আগামী এক বছরের হিসাবে সম্ভাব্য সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। তবে এই অঙ্কগুলো সরকারের হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য সাশ্রয়, চূড়ান্ত নিরীক্ষিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
৩০ অঙ্গরাজ্যের ১০ লাখ ওবামাকেয়ার গ্রাহককে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, আগের প্রশাসনের সময়ে স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থার অতিরিক্ত ফি গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ এখন ফেরত দেওয়া হবে।   বৃহস্পতিবার ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য গ্রাহকদের কাছে ৫০০ ডলারের ফেরত অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর থেকে। তবে এই অর্থ সব ওবামাকেয়ার গ্রাহক পাবেন না। প্রাথমিকভাবে তাদের জন্যই ফেরতের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে, যারা ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার, অর্থাৎ Healthcare.gov ব্যবহার করেন এবং স্বাস্থ্যবিমার মাসিক প্রিমিয়াম পরিশোধে সরকারি ভর্তুকি পান না। এই সুবিধা ৩০টি অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।   হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ‘ইউজার ফি’ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি নেওয়া হয়েছিল। এসব ফি শেষ পর্যন্ত বিমার প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর পড়েছিল। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বড় একটি তহবিল উদ্বৃত্ত থেকে যায়, যা গ্রাহকদের সুবিধায় ব্যবহার করা হয়নি।   ট্রাম্প তার ভিডিও বার্তায় বলেন, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়াই তার প্রশাসনের লক্ষ্য এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। হোয়াইট হাউস এই অর্থকে আগের প্রশাসনের সময়ে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।   যেসব অঙ্গরাজ্যের গ্রাহক এই ফেরত পাওয়ার আওতায় থাকবেন, সেগুলো হলো আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং।   এই ৩০টি অঙ্গরাজ্য ফেডারেল স্বাস্থ্যবিমা বাজার ব্যবহার করে তাদের ওবামাকেয়ার বাজার পরিচালনা করে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের মতো যেসব অঙ্গরাজ্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা বিনিময় ব্যবস্থা পরিচালনা করে, সেগুলো এই তালিকায় নেই। তবে এই ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার অর্থ ঠিক কোন উৎস থেকে আসবে এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিষ্কার করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ৫০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করেছিলেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।   স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ফেরতের অর্থের সঙ্গে আগের সময়ে সংগৃহীত অব্যবহৃত ইউজার ফি তহবিলের সম্পর্ক থাকতে পারে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পুরো দায় কেবল বাইডেন প্রশাসনের ওপর দেওয়ার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বর্তমানে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেওয়া অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা শেষ হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপরও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা তার আরেকটি বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতির পরপরই এসেছে। এর একদিন আগে তিনি রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলেন। তবে সেই প্রস্তাব আলাদা এবং এর বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় জড়িত।   অন্যদিকে ৫০০ ডলারের ওবামাকেয়ার ফেরতকে প্রশাসন অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে অর্থ পাঠানো শুরু হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০