সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#রিয়েলএস্টেট

তালিতে সংস্কারের পর মার্কিন দম্পতির বাড়ি
মাত্র ১৩ হাজার ডলারে ইতালিতে বাড়ি কিনে ১৮ হাজার ডলারে সংস্কার করলেন মার্কিন দম্পতি

তাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিম্যান। শেষ পর্যন্ত ইতালিতে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে ১৩ হাজার ১৫০ ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করেন তাঁরা। কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করতে আরও প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার ডলার খরচ করেন এই মার্কিন দম্পতি। এখন ইতালিতেই মেয়েকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তাঁরা।   ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া ক্যাসান্দ্রার বয়স ৩৩ বছর, আর তাঁর স্বামী অ্যালেক্সের বয়স ৩৪। ২০২০ সালে তাঁদের মেয়ের জন্মের সময় তাঁরা চেক প্রজাতন্ত্রে ক্যাসান্দ্রার দাদার সঙ্গে থাকছিলেন। এর আগে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সময় দাদার বাড়িকে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তাঁরা। সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—বন্ধুদের কাছে এমন কথাই বলেছিলেন ক্যাসান্দ্রা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে বাড়ি কেনা এবং সন্তানের দেখাশোনার জন্য কতটা ব্যয় করতে হবে, তা হিসাব করে তাঁদের পরিকল্পনা বদলে যায়। ক্যাসান্দ্রার উপলব্ধি হয়, দেশে ফিরে গেলে জীবনযাপনের খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই ইউরোপেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। ক্যাসান্দ্রা বলেন, সন্তান হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—এমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু বাড়ি কেনা ও শিশুর যত্নের খরচ সম্পর্কে জানার পর সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি। ইতালির বিভিন্ন শহরে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাত্র এক ইউরোতে বাড়ি বিক্রির উদ্যোগের খবর তাঁদের নজরে আসে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া শহর ও গ্রামগুলোতে নতুন বাসিন্দা আনা, পরিত্যক্ত বাড়ি সংস্কার করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এক ইউরোর বাড়ি কেনার বিজ্ঞাপন দেখলেই যে সত্যিকার অর্থে এত কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়া যাবে, তা নয়। কোনো কোনো এলাকায় এক ইউরো কেবল প্রতীকী মূল্য। আবার কোথাও নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। বাড়ি কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করার শর্তও থাকতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে প্রকৃত ব্যয় কত হতে পারে, তা যাচাই করতে চেয়েছিলেন ক্যাসান্দ্রা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বাড়ি কিনতে ২০ হাজার ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ৬২৭ ডলারের বেশি খরচ না করা। অনলাইনে বাড়ি খোঁজার পাশাপাশি নিজের চোখে সম্পত্তি দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইতালিতে বাড়ির সন্ধান   ২০২১ সালে ইতালির আব্রুজ্জো ও তুসকানি অঞ্চলে বাড়ি দেখতে যান এই দম্পতি। সব মিলিয়ে ১৫টি বাড়ি ঘুরে দেখেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলে দুই তলা, দুই শয়নকক্ষের একটি বাড়ি পছন্দ হয় তাঁদের। বাড়িটির আয়তন এক হাজার ৭৬ বর্গফুটের সামান্য কম। নিচতলার নিচে থাকা বেসমেন্টে আরেকটি শয়নকক্ষ এবং ওপরে একটি চিলেকোঠাও ছিল। বাড়ি সংস্কারে যে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হবে, তা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা। তাই বাড়ি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাড়ির টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় কি না, সেটিও ছিল ক্যাসান্দ্রার কাছে অপরিহার্য শর্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা এবং দাম তুলনা করতে তিনি তালিকা তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মনে হয়। তখন এলাকার জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর বিশেষ ধারণা ছিল না; মূল বিবেচনা ছিল ভালো দামে বাড়ি কেনা এবং টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য পাওয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটির কেনাকাটা সম্পন্ন করেন তাঁরা। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করায় কোনো বাড়ি কেনার ঋণ নিতে হয়নি। কয়েক দশক ধরে খালি পড়ে থাকা বাড়িটি তখন বসবাসের উপযোগী ছিল না। দেয়াল নতুন করে মেরামত করা, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ, জানালা-দরজা পরিবর্তন এবং রান্নাঘর ও বাথরুম পুরোপুরি সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। নিজেরাই করলেন বেশির ভাগ সংস্কার   বাড়ির সংস্কার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যালেক্স নিজেই বেশির ভাগ কাজ করেন। তবে পানির সংযোগ ও পাইপলাইনের মতো কিছু কাজের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করতে হয়। দম্পতির হিসাব অনুযায়ী, বাড়িটি সংস্কারে তাঁদের মোট ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো খরচ হয়, যা প্রায় ১৪ হাজার ২০৭ থেকে ১৭ হাজার ৭৫৮ ডলারের সমান। সংস্কারের সময় টেরেসের আকার বাড়ানো হয়। নিচতলায় নতুন একটি বাথরুম তৈরি করা হয় এবং বেসমেন্টকে অতিথিদের থাকার উপযোগী করে সাজানো হয়। ২০২২ সালের শরৎকালে সংস্কারের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়। পরে ২০২৩ সালে বেসমেন্ট ও চিলেকোঠার কাজও নতুন করে করা হয়। বাড়ির অন্দরসজ্জায় প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ না করে নানা রকম নকশা ও রঙের সমন্বয় করেন ক্যাসান্দ্রা। পুরোনো আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী খুঁজতে বিভিন্ন ব্যবহৃত পণ্যের দোকান এবং খোলা বাজারে ঘুরেছেন তিনি। বাড়িতে প্রাকৃতিক উপকরণ, উষ্ণ ও শীতল রঙের মিশ্রণ এবং নানা রঙের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন। ক্যাসান্দ্রার মতে, বাড়িটি আকারে ছোট হওয়ায় তিনি একে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে চেয়েছিলেন। ঘরের প্রতিটি জিনিসের পেছনে তাঁর নিজস্ব ভাবনা রয়েছে। কোনো জিনিস কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সেটির সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে থাকুক—এমনটাই ছিল তাঁর ইচ্ছা। ঋণ নেই, তবে রয়েছে নিয়মিত খরচ   বাড়ির জন্য কোনো বন্ধকী ঋণ না থাকায় দম্পতির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে। ক্যাসান্দ্রার মতে, আয় কমে গেলে বা অর্থের টান পড়লেও অন্তত বাড়ির ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পরিবারের মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা থাকায় তিনি আর্থিক স্বাধীনতা অনুভব করেন। তবে বাড়ির মালিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে বসবাসের জন্য আর কোনো খরচ নেই। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ইন্টারনেটের জন্য মাসে ১২ ইউরো বা প্রায় ১৪ ডলার দিতে হয়। বছরে সম্পত্তি কর ৬১ ইউরো এবং আবর্জনা অপসারণের জন্য ২৮৬ ইউরো খরচ হয়। এ ছাড়া প্রতি দুই মাসে পানির বিল প্রায় ৯১ ইউরো এবং বিদ্যুতের বিল ২১৭ ইউরো। শীতকালে ঘর গরম রাখতে তাঁরা কাঠের গুঁড়া থেকে তৈরি জ্বালানির পেলেট ব্যবহার করেন। এ জন্য সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ ইউরো পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, যা মাসে প্রায় ২০০ ডলারের সমান। ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পর ক্যাসান্দ্রা প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে ভ্রমণবিষয়ক ব্লগ ও নিউজলেটারের জন্য কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। পাশাপাশি অন্য একজন ভ্রমণবিষয়ক ব্লগারের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন। অ্যালেক্স আগে কসাই হিসেবে কাজ করতেন। এখন তাঁদের দ্বিতীয় বাড়িটি পরিচালনা করেন, যেটি পর্যটকদের কাছে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বাড়িও কিনেছেন তাঁরা   ২০২৪ সালে ইতালিতে আরেকটি বাড়ি কেনেন এই দম্পতি। শহরের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত একতলা বাড়িটিতে দুটি শয়নকক্ষ ও একটি বাথরুম রয়েছে। বাড়িটির সঙ্গে নিজস্ব জমি ও ব্যক্তিগত বাগানও আছে। এর দাম ছিল ১৭ হাজার ইউরো, যা প্রায় ২০ হাজার ৮৩ ডলারের সমান। এই দ্বিতীয় বাড়িটি তাঁরা পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেন। সেখানে প্রতি রাতের ভাড়া সর্বোচ্চ ৮৫ ইউরো বা প্রায় ১০১ ডলার হতে পারে। তবে দ্বিতীয় বাড়িটি থাকার জন্য ব্যবহার না করে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। কারণ, ক্যাসান্দ্রার কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা বেশি পছন্দের। সেখান থেকে হেঁটেই দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়। এখনই ইতালি ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁদের। মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পর হয়তো অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাববেন। তবে সেটি অন্তত আগামী ১০ বছরের মধ্যে ঘটবে বলে মনে করেন না ক্যাসান্দ্রা। তিনি চান, মেয়ে স্থিতিশীল পরিবেশে বেড়ে উঠুক। দম্পতি সাধারণত বছরে একবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। দেশটিকে তাঁরা নিজেদের বাড়ি হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু প্রতিবার ফিরে গেলে আগের পরিচিত পরিবেশ যেন আরও অপরিচিত মনে হয় বলে জানান ক্যাসান্দ্রা। তাঁর শৈশবের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনকার অভিজ্ঞতা

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে মর্টগেজের সুদ বাড়ার গতিতে বড় পার্থক্য দেখা গেছে
বাড়ি কিনতে খরচ বাড়ছে কোথায়, কমছে কোন রাজ্যে- দেখুন তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ কমার বদলে আবারও বাড়ছে ঋণের চাপ। বাড়ির দাম, সীমিত আবাসন সরবরাহ এবং উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে অনেক ক্রেতাই এখনো বাজারে প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যেই রাজ্যভেদে মর্টগেজ সুদের হারে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কোনো কোনো রাজ্যে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে, আবার কয়েকটি রাজ্যে উল্টো কমেছে।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের ৩৭টিতে গড় মর্টগেজ সুদের হার বেড়েছে। বিশ্লেষণটি ওয়ালেটহাবের নিজস্ব ব্যবহারকারী-তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।   সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে মিসিসিপিতে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজ্যটির গড় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, এই বৃদ্ধি দেশের অন্য সব রাজ্যের তুলনায় বেশি। মিসিসিপিতে সুদের হার বাড়ার পাশাপাশি আবাসন ঋণ পরিশোধের চাপও একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কলোরাডো। সেখানে গড় মর্টগেজ সুদের হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে। টেনেসিতে বেড়েছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে উইসকনসিন, যেখানে বৃদ্ধি ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, এবং মিসৌরি, যেখানে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।   তবে যেসব রাজ্যে সুদের হার বেড়েছে, সেখানেই সবচেয়ে বেশি সুদের হার রয়েছে—এমন নয়। উদাহরণ হিসেবে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউ জার্সিতে গড় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা ওয়ালেটহাবের তালিকায় সর্বোচ্চ। কানেকটিকাটে ছিল ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। নিউইয়র্কে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, আর টেক্সাসে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।   অন্যদিকে, কয়েকটি রাজ্যে প্রথম থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে সুদের হার কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে নর্থ ডাকোটায়—৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। সাউথ ডাকোটায় কমেছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ, ওয়াইওমিংয়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মন্টানায় ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। টেক্সাসেও গড় হার ০ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে।   জাতীয় পর্যায়ের সাম্প্রতিক চিত্রও ক্রেতাদের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হার বেড়ে ৭ দশমিক ১২ শতাংশে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে বাড়ি কেনার মর্টগেজ আবেদনও কমেছে।   ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি মাসিক হিসাবে ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে নেমেছে। তবে বাড়ির মজুত ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৬ লাখ ২০ হাজার ইউনিট হয়েছে, যা ৪ দশমিক ৯ মাসের সরবরাহের সমান। একই সময়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।   রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, উচ্চ মর্টগেজ সুদ আবাসন বাজারের পুনরুদ্ধারকে ধীর করে দিচ্ছে। বাজারে বাড়ির দাম গত কয়েক বছরে আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক দ্রুত বেড়েছে এবং আবাসন ঘাটতিও রয়ে গেছে। ফলে সুদের হার কিছুটা কমলেও অনেক ক্রেতার জন্য বাড়ি কেনা এখনো ব্যয়বহুল হয়ে আছে।   আবাসন বাজারের এই চাপের মধ্যে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সবার জন্য সাশ্রয়ী বাড়ির সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চে বছরে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার আয় করা পরিবারগুলোর নাগালের মধ্যে ছিল বাজারের মাত্র ২১ দশমিক ২ শতাংশ তালিকাভুক্ত বাড়ি। ৫০ হাজার ডলার আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে শুধু মর্টগেজের সুদের হার নয়, বাড়ির দাম ও পর্যাপ্ত সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতিও ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে। রাজ্যভেদে সুদের হারের পার্থক্য এই চাপের মাত্রাকে আরও ভিন্ন করে তুলছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট বেড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে
বাড়ি কিনতে ঋণের খরচ আরও বাড়ল, ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭.১৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণের সুদের হার দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ২২ সেপ্টেম্বরের হিসাবে সুদের হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নের্ডওয়ালেটের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর ফলে নতুন করে বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষের মাসিক ঋণের কিস্তি আগের তুলনায় বাড়তে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুর সময়ের পর এই প্রথম ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭ শতাংশের ওপরে উঠল। মর্টগেজ রেট বাড়ার কারণে বাড়ি কেনার সামগ্রিক খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে যারা বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনতে চান, তাদের মাসিক পেমেন্টে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।   মর্টগেজ রেটের সঙ্গে ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি নোটের সুদের হারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১০ বছরের ট্রেজারি নোটের ইয়েল্ড গত দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।   গত কয়েক মাসে মর্টগেজের সুদের হার এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে হিসাব করছেন। বাড়তি ঋণ খরচ এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ হাউজিং মার্কেটের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে বাড়ি কেনার আগ্রহ পুরোপুরি কমে যায়নি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার এর আগে ফক্স বিজনেসকে জানিয়েছিলেন, মর্টগেজ রেট বাড়লেও বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, ক্রেতারা পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।   অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান জিলোরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাড়ি বিক্রি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। একই সময়ে বাজারে বাড়ির সরবরাহ বা ইনভেন্টরি বাড়ছে। জিলোরের হিসাবে, এক বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি ১০ শতাংশের কিছু বেশি বেড়েছে, যা বছরের প্রথম প্রান্তিকের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি।   বাড়ির সরবরাহ বাড়ার ফলে ক্রেতাদের সামনে তুলনামূলক বেশি বিকল্প তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু বিক্রেতাকে দাম কমানোর দিকে যেতে হতে পারে। এতে ক্রেতাদের দরদাম করার সুযোগও বাড়তে পারে বলে জিলোরের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ টনি জিওর্দানো বলেছেন, সুদের হার বাড়লেও কিছু ক্রেতা বাড়ি কেনার দিকে এগোচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমার অপেক্ষায় থাকা কেউ কেউ এখন আর অপেক্ষা না করে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও মাসিক পেমেন্ট বহনের সামর্থ্য বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যারা এখনই বাড়ি কেনার জন্য প্রস্তুত নন, তাদের জন্য ভাড়া বাসায় থেকে সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জিলোর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২০২৫ সালের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে, যদিও বছরের শেষ দিকে বাজারে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, জিলোর, ফক্স নিউজ, ফক্স বিজনেস

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গৃহঋণের সুদ ও ফি তুলনা না করায় বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ
একটু খোঁজ নিলেই বাঁচত হাজার হাজার ডলার, গৃহঋণে বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির মালিক গৃহঋণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করছেন। ব্যাংরেটের নতুন এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ঋণদাতার সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ বাড়ির মালিক বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ করতে পারেন। এই বাড়তি ব্যয়কে বিশ্লেষণে ‘লুকানো বাড়ির মালিকানা কর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   ব্যাংরেটের অ্যালেক্স গেইলি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন বাড়ির মালিক তাদের গৃহঋণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছেন। এর কারণ সবসময় ভালো সুযোগ না থাকা নয়; বরং অনেকেই বিভিন্ন ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও অন্যান্য খরচের হিসাব নিয়ে তুলনা করেন না। ফলে একই ধরনের ঋণের জন্যও তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।   গেইলির মতে, সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ মার্কিন বাড়ির ক্রেতার বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। এই অর্থ পরিবারগুলো অবসর সঞ্চয়, সন্তানের পড়াশোনার খরচ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করতে পারত। দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি খরচ পরিবারের সম্পদ গড়ে তোলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের হারের গৃহঋণের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও বড় হয়ে উঠতে পারে। ব্যাংরেটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পুরো ঋণের মেয়াদে এড়ানো সম্ভব এমন বাড়তি খরচ ৭৮ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতে কয়েক হাজার ডলারের পার্থক্য মনে হলেও দীর্ঘ সময়ের হিসাবে সেটি বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।   এ কারণে বাড়ি কেনার সময় একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গেইলি। তার মতে, একই দিনে একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব নেওয়া ভালো। এতে একই সময়ের বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলনা করা সহজ হয় এবং কোন ঋণদাতা তুলনামূলক ভালো শর্ত দিচ্ছে, তা বোঝা যায়।   তবে শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না, ঋণের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ফি ও অতিরিক্ত খরচও হিসাব করতে হবে। ডিসকাউন্ট পয়েন্ট, ঋণ প্রক্রিয়াকরণের ফি এবং অন্যান্য প্রাথমিক খরচ যোগ করলে একটি গৃহঋণের প্রকৃত ব্যয় কত হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। তাই প্রতিটি ঋণদাতার কাছ থেকে খরচের বিস্তারিত, লাইন-বাই-লাইন হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ঋণ নেওয়ার আগে নিজের জন্য একটি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সুদের হার ঠিক করে রাখাও কাজে আসতে পারে। কোনো ঋণদাতার প্রস্তাব সেই সীমার বাইরে গেলে অন্য বিকল্প খোঁজা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গৃহঋণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নিজের ক্রেডিট স্কোর, ডাউন পেমেন্ট ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সুদের হার এবং মাসিক কিস্তির ধারণাও নেওয়া যায়।   বিশ্লেষণটি মূলত দেখিয়েছে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, গৃহঋণের শর্তও দীর্ঘমেয়াদি খরচের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ঋণ নেওয়ার আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুদের হার, ফি ও অন্যান্য শর্ত তুলনা করলে সম্ভাব্য বাড়তি খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
সুদের হার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি বিক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা
সুদের হার বাড়তেই চাপে আমেরিকার বাড়ির মালিকরা, কমতে পারে বাড়ির দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বাড়ির ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য ক্রেতার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে বছরের শেষ নাগাদ বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী অনেক মালিককে দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।   রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বাড়ির মালিক এখনো কয়েক বছর আগের বাজারমূল্যকে ভিত্তি করে বেশি দাম প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমতে পারে। একই সময়ে ঋণের সুদ বেশি হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   ডাগ্রোসা ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জো ডাগ্রোসা বলেন, বিক্রেতাদের অনেকেরই বাড়ির দাম নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে বিক্রির সুযোগও কমবে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।   কম্পাসের বাওয়ার্স গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেট রুবিন বলেন, ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে বাড়ি বিক্রির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও দুর্বল হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক বাড়ি বাজারে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে এবং দাম কমানোর ঘটনাও বাড়ছে।   ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা বুধবার ১২-০ ভোটে ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের সীমা থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।   সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ঋণের খরচও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ১৫ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।   ডাগ্রোসার মতে, গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক বাড়ির মূল্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এখন যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের কেউ কেউ আগের তুলনায় কিছুটা কম দাম মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ খাতেও চাপ বাড়ছে, কারণ নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিকের কাছে এখনো ৩ থেকে ৪ শতাংশের মতো কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ রয়েছে। নতুন বাড়ি কিনলে বেশি সুদের হারে বড় ঋণ নিতে হবে—এই কারণে অনেকেই বাড়ি পরিবর্তন করতে চাইছেন না। আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতিকে ‘মর্টগেজ রেট লক-ইন’ প্রভাব বলা হচ্ছে।   রুবিন বলেন, কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজন না হলে নতুন বাড়ি কেনার দিকে আগ্রহী নাও হতে পারেন। তবে চাকরির কারণে স্থানান্তর বা পারিবারিক প্রয়োজনের মতো কারণে যাদের বাড়ি কিনতে বা বিক্রি করতে হচ্ছে, তাদের উচ্চ সুদের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   ডাগ্রোসা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে আবাসন বাজার ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, বিক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে বাড়ির মজুত বাড়া এবং মৌসুমি ধীরগতির সঙ্গে উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় বিক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। যারা দাম কমাতে দেরি করবেন, তাদের সীমিতসংখ্যক ক্রেতার জন্য অন্য বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে। ফলে সামনে ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হার বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দাম কমে যাবে—এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বাড়তে থাকলে এর প্রভাব আবাসন বাজারে আরও স্পষ্ট হতে পারে। আগামী বসন্তের বাজার পরিস্থিতি এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যেখানে কেটেছিল ট্রাম্পের শৈশব, সেই বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে
যেখানে কেটেছিল ট্রাম্পের শৈশব, সেই বাড়ি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে

শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সেই বাড়ি এখন আর ট্রাম্প পরিবারের নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনের প্রথম চার বছর কেটেছিল নিউইয়র্কের কুইন্সের যে বাড়িতে, সেটি এবার বিক্রি হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। কুইন্সের জামাইকা এস্টেটস এলাকায় টিউডর ধাঁচের এই বাড়িটি ১৯৪০ সালে নির্মাণ করেছিলেন ট্রাম্পের বাবা ও আবাসন ব্যবসায়ী ফ্রেড ট্রাম্প। একসময় যে বাড়িতে ছোট্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেড়ে ওঠার শুরু, বহু বছর পর সেটিই হয়ে উঠেছিল অবহেলায় পড়ে থাকা একটি পুরোনো বাড়ি। পাঁচ শয়নকক্ষ ও তিন বাথরুমের বাড়িটি দীর্ঘদিন খালি ছিল। একটি পাইপ ফেটে যাওয়ায় বাড়ির ভেতরে পানির ক্ষতি হয়, দেখা দেয় ছত্রাকের সমস্যাও। এমনকি একসময় সেখানে বন্য বিড়ালের একটি দলও আশ্রয় নিয়েছিল। গত বছর বাড়িটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে কিনেছিলেন ডেভেলপার টমি লিন। এরপর প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ করে আট মাস ধরে সংস্কার করেন তিনি। পুরোনো বাড়িটি বদলে যায় আধুনিক আবাসনে। যুক্ত হয় আধুনিক রান্নাঘর, হেরিংবোন কাঠের মেঝে এবং স্পা-ধাঁচের বাথরুমসহ নানা সুবিধা। সংস্কারের পর বাড়িটির দামও বেড়ে যায়। জুলাইয়ে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতার সঙ্গে বিক্রির চুক্তি হয় এবং শুক্রবার রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইটগুলোতে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়। তবে বাড়িটির গল্প শুধু পুরোনো দেয়াল আর নতুন সাজসজ্জার নয়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালেও বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল বলে জিলোর তথ্য থেকে জানা যায়। এরপর বাড়িটি ‘ট্রাম্প বার্থ হোম এলএলসি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় যায়। একসময় এটি এয়ারবিএনবিতেও ভাড়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পের জীবন-আকারের কার্ডবোর্ড কাটআউট, তার বই ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’-এর কপি এবং ট্রাম্পের ছবি থাকা ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের একটি প্রচ্ছদও রাখা হয়েছিল। ২০১৯ সালে বাড়িটি আবার বিক্রির জন্য তোলা হয়। তখন দাম চাওয়া হয়েছিল ২৯ লাখ ডলার। শেষ পর্যন্ত কয়েক বছর পর টমি লিন বাড়িটি কিনে সংস্কার করেন এবং এবার সেটি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। আজ ট্রাম্পের সেই শৈশবের বাড়ির চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে। কিন্তু বাড়িটির দেয়ালজুড়ে রয়ে গেছে এক ভিন্ন সময়ের গল্প—যে সময় নিউইয়র্কের কুইন্সের এই বাড়িতেই জীবনের প্রথম বছরগুলো কাটিয়েছিলেন ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে আবাসন ব্যবসায় নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ট্রাম্প। ম্যানহাটনে নির্মাণ করেন ট্রাম্প টাওয়ার, আর একসময় ব্যবসার জগত থেকে পা রাখেন রাজনীতিতে। শৈশবের সেই পুরোনো ঠিকানা এখন নতুন মালিকের। সময় বদলেছে, বদলেছে বাড়িটির চেহারাও। তবে ট্রাম্পের জীবনের শুরুর গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি তার অতীতের একটি স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
অবসর জীবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ছোট শহরের তালিকায় এগিয়ে পেনসিলভানিয়া, শীর্ষে ক্যাম্প হিল
অবসরের জন্য সেরা ছোট শহরের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া নেই, এগিয়ে পেনসিলভানিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে অবসর জীবন কাটানোর জন্য সেরা ছোট শহরগুলোর নতুন তালিকায় পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ার শহরগুলো তালিকায় বড় জায়গা দখল করেছে। MoneyLion-এর ২০২৬ সালের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো শহর সেরা ৫০-এ জায়গা পায়নি।  তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ক্যাম্প হিল, পেনসিলভানিয়া। হ্যারিসবার্গের কাছে অবস্থিত ছোট এই শহরের জনসংখ্যা ৮ হাজারের কিছু বেশি। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ ডলার, আর বছরে জীবনযাত্রার গড় খরচ প্রায় ৪৩ হাজার ৭৯৪ ডলার। এর জীবনযাত্রার মানের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯২।  পেনসিলভানিয়ার আধিপত্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সেরা ৫০টি ছোট শহরের মধ্যে ১৫টিই পেনসিলভানিয়ার। ক্যাম্প হিলের পর জেনকিনটাউন দ্বিতীয় এবং অ্যাসপিনওয়াল অষ্টম স্থানে রয়েছে। রাজ্যটির আরও কয়েকটি শহরও শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে।  সামগ্রিকভাবে পূর্বাঞ্চলের ২২টি ছোট শহর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাইরে মেইন, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের শহরও রয়েছে।  পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে কলেজ প্লেস, ওয়াশিংটন, যা তালিকায় নবম। এরপর ওয়াশিংটনের স্টেইলাকুম ২০তম এবং ওরেগনের ফিলোমাথ ২১তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ পশ্চিম উপকূল পুরোপুরি বাদ পড়েনি, তবে তালিকার শীর্ষে পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট।  MoneyLion-এর বিশ্লেষণে ছোট শহরগুলোর গড় বাড়ির মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, সম্পত্তি অপরাধের হার, সহিংস অপরাধের হার এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর স্কোর তৈরি করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।  তবে অবসর জীবনের জন্য ভালো জায়গা নির্ধারণে একটি তালিকাই শেষ কথা নয়। অন্য সাম্প্রতিক গবেষণায় পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকেও অবসর জীবনের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়াসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের শহর রয়েছে। সেখানে বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।  এদিকে অবসর জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেক ইনভেস্টোপিডিয়া বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরের জন্য জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, চিকিৎসা সুবিধা, কর, জীবনযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ। 

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০