অবসরের জন্য সেরা ছোট শহরের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া নেই, এগিয়ে পেনসিলভানিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে অবসর জীবন কাটানোর জন্য সেরা ছোট শহরগুলোর নতুন তালিকায় পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ার শহরগুলো তালিকায় বড় জায়গা দখল করেছে। MoneyLion-এর ২০২৬ সালের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো শহর সেরা ৫০-এ জায়গা পায়নি।
তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ক্যাম্প হিল, পেনসিলভানিয়া। হ্যারিসবার্গের কাছে অবস্থিত ছোট এই শহরের জনসংখ্যা ৮ হাজারের কিছু বেশি। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ ডলার, আর বছরে জীবনযাত্রার গড় খরচ প্রায় ৪৩ হাজার ৭৯৪ ডলার। এর জীবনযাত্রার মানের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯২।
পেনসিলভানিয়ার আধিপত্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সেরা ৫০টি ছোট শহরের মধ্যে ১৫টিই পেনসিলভানিয়ার। ক্যাম্প হিলের পর জেনকিনটাউন দ্বিতীয় এবং অ্যাসপিনওয়াল অষ্টম স্থানে রয়েছে। রাজ্যটির আরও কয়েকটি শহরও শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে।
সামগ্রিকভাবে পূর্বাঞ্চলের ২২টি ছোট শহর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাইরে মেইন, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের শহরও রয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে কলেজ প্লেস, ওয়াশিংটন, যা তালিকায় নবম। এরপর ওয়াশিংটনের স্টেইলাকুম ২০তম এবং ওরেগনের ফিলোমাথ ২১তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ পশ্চিম উপকূল পুরোপুরি বাদ পড়েনি, তবে তালিকার শীর্ষে পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট।
MoneyLion-এর বিশ্লেষণে ছোট শহরগুলোর গড় বাড়ির মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, সম্পত্তি অপরাধের হার, সহিংস অপরাধের হার এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর স্কোর তৈরি করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।
তবে অবসর জীবনের জন্য ভালো জায়গা নির্ধারণে একটি তালিকাই শেষ কথা নয়। অন্য সাম্প্রতিক গবেষণায় পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকেও অবসর জীবনের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়াসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের শহর রয়েছে। সেখানে বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে অবসর জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেক ইনভেস্টোপিডিয়া বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরের জন্য জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, চিকিৎসা সুবিধা, কর, জীবনযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এমন পর্যায়ে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে - এমন আশঙ্কা জানিয়ে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিয়েছেন। ২৭ বছর বয়সী জ্যাকব কক্সন বলেছেন, এআই শিল্পের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কক্সন আগে অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক - দুই প্রতিষ্ঠানেই এআই মডেলের প্রশিক্ষণ বা প্রি-ট্রেনিং নিয়ে কাজ করেছেন। অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ২০২৩ সাল থেকে অপেনএআইয়ের প্রযুক্তিগত কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কক্সন অভিযোগ করেন, অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক কেউই যথেষ্ট দায়িত্বশীলভাবে এগোচ্ছে না। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির প্রতিযোগিতায় এমনভাবে ছুটছে, যা শেষ পর্যন্ত মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কক্সনের মতে, এআই নিয়ে কাজ করা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আশঙ্কা করছেন, আগামী দশকের মধ্যেই এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, এই আশঙ্কা কোনো প্রচারণার কৌশল নয় - বরং এআই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অ্যানথ্রপিকের ভেতর থেকেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইভান হুবিঙ্গার, যিনি প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের নেতৃত্ব দেন। কক্সনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি নিজেও মনে করেন এআই সব মানুষকে হত্যা করার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আগামী দশকে এমন ঘটনার সম্ভাবনা তাঁর হিসাবে ১০ শতাংশের বেশি। তবে হুবিঙ্গার একই সঙ্গে বলেন, অ্যানথ্রপিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে। তাঁর উদ্বেগ মূলত আরও শক্তিশালী এআই বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরি হওয়ার পর সেটিকে মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রযুক্তিগত সমাধান এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। কক্সনের এই পদত্যাগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই মডেলের পরীক্ষামূলক পরিবেশের বাইরে যাওয়ার এবং অনুমতি ছাড়া অন্য সিস্টেমে প্রবেশের ঘটনাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে কক্সন বলেছেন, শিল্পের প্রতিযোগিতা যদি বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তাহলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিছু সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে কক্সনের বক্তব্য এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবেই - এমন কোনো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। এটি একজন এআই গবেষকের ব্যক্তিগত ঝুঁকি-আশঙ্কা। তাঁর পদত্যাগ এবং অ্যানথ্রপিকের আরেক জ্যেষ্ঠ গবেষকের মন্তব্য মূলত অত্যন্ত শক্তিশালী ভবিষ্যৎ এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে।
‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’! বিদেশির চেয়ে দেশের উগ্রপন্থীদের বেশি ভয় মার্কিনদের
এক দশক অপহৃত ছিলেন, পালিয়ে বেঁচে ফেরা আমান্ডার সহায়তায় নিখোঁজ ৭৯ শিশু উদ্ধার
এবার চাঁদের মালিকানাও দাবি ট্রাম্পের, ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রে অবসর জীবন কাটানোর জন্য সেরা ছোট শহরগুলোর নতুন তালিকায় পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ার শহরগুলো তালিকায় বড় জায়গা দখল করেছে। MoneyLion-এর ২০২৬ সালের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো শহর সেরা ৫০-এ জায়গা পায়নি। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ক্যাম্প হিল, পেনসিলভানিয়া। হ্যারিসবার্গের কাছে অবস্থিত ছোট এই শহরের জনসংখ্যা ৮ হাজারের কিছু বেশি। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ ডলার, আর বছরে জীবনযাত্রার গড় খরচ প্রায় ৪৩ হাজার ৭৯৪ ডলার। এর জীবনযাত্রার মানের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯২। পেনসিলভানিয়ার আধিপত্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সেরা ৫০টি ছোট শহরের মধ্যে ১৫টিই পেনসিলভানিয়ার। ক্যাম্প হিলের পর জেনকিনটাউন দ্বিতীয় এবং অ্যাসপিনওয়াল অষ্টম স্থানে রয়েছে। রাজ্যটির আরও কয়েকটি শহরও শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে পূর্বাঞ্চলের ২২টি ছোট শহর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাইরে মেইন, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের শহরও রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে কলেজ প্লেস, ওয়াশিংটন, যা তালিকায় নবম। এরপর ওয়াশিংটনের স্টেইলাকুম ২০তম এবং ওরেগনের ফিলোমাথ ২১তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ পশ্চিম উপকূল পুরোপুরি বাদ পড়েনি, তবে তালিকার শীর্ষে পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। MoneyLion-এর বিশ্লেষণে ছোট শহরগুলোর গড় বাড়ির মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, সম্পত্তি অপরাধের হার, সহিংস অপরাধের হার এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর স্কোর তৈরি করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। তবে অবসর জীবনের জন্য ভালো জায়গা নির্ধারণে একটি তালিকাই শেষ কথা নয়। অন্য সাম্প্রতিক গবেষণায় পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকেও অবসর জীবনের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়াসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের শহর রয়েছে। সেখানে বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এদিকে অবসর জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেক ইনভেস্টোপিডিয়া বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরের জন্য জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, চিকিৎসা সুবিধা, কর, জীবনযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল
ট্রাম্পের ৪৫ হাজার ডলারের উপহার নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য কারচুপি ও প্রমাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের দায়ে সাবেক এক ফরেনসিক বিশ্লেষককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কলোরাডো ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) সাবেক বিশ্লেষক ইয়vonne “মিসি” উডসের কর্মকাণ্ডে শত শত ফৌজদারি মামলার ডিএনএ প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, যৌন হামলা ও ডাকাতির ঘটনাও রয়েছে। ৬৬ বছর বয়সী উডস ৮ সেপ্টেম্বর কলোরাডোর জেফারসন কাউন্টি জেলা আদালতে চারটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর সাজা পান। তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, প্রথম-ডিগ্রি মিথ্যা সাক্ষ্য, সরকারি কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। চুক্তির আওতায় আরও অনেক অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উডস ডিএনএ পরীক্ষার তথ্য পরিবর্তন, কিছু তথ্য মুছে ফেলা এবং পরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে নথিভুক্ত না করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, কোনো কোনো নমুনা থেকে ডিএনএর পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হতো অথবা কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। সিবিআই জানিয়েছে, উডসের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক হাজারের বেশি মামলা পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৪০০টির বেশি মামলা ছিল যৌন হামলার। তদন্তকারীরা জানান, উডসের কর্মকাণ্ডের কারণে বহু মামলার প্রমাণ নতুন করে যাচাই করতে হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। সিবিআইয়ের এক শিক্ষানবিশ ২০১৮ সালের একটি মামলার নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত দেখতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, উডসের কাজ নিয়ে ২০১৪ সাল থেকেই উদ্বেগ ছিল। ২০১৮ সালে তাকে সাময়িকভাবে ডিএনএ-সংক্রান্ত কাজ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। উডসের অনিয়মের প্রভাব ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় পড়েছে। মাইকেল ক্লার্ক নামে এক ব্যক্তির হত্যার সাজা বাতিল হওয়ার পর তিনি ২০২৫ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই মামলায় উডসের ব্যবস্থাপনা করা ডিএনএ প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রসিকিউটররা পরে মামলাটি পুনরায় চালানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। আরও দুটি হত্যা মামলায় উডসের সংশ্লিষ্টতার কারণে আসামিদের সঙ্গে তুলনামূলক কম সাজায় সমঝোতা করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উডসের বিরুদ্ধে তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ডিএনএ শনাক্তকরণ, মিথ্যা তুলনা বা মিথ্যা পজিটিভ ফল তৈরি করেছিলেন। বরং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল বিষয় ছিল পরীক্ষার তথ্য পরিবর্তন, বাদ দেওয়া এবং প্রমাণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম। আদালতে উডস নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন, তার দায়িত্ব ছিল এমন প্রমাণ নিয়ে কাজ করা যার ওপর আসামি, ভুক্তভোগী, পরিবার ও আদালতের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে। তবে তার ক্ষমা চাওয়া ক্ষতির পুরোপুরি সমাধান করতে পারবে না বলেও তিনি স্বীকার করেন। উডস ২০২৩ সালে সিবিআই থেকে অবসর নেন। তার কর্মকাণ্ডের কারণে কলোরাডোতে বিপুলসংখ্যক ফৌজদারি মামলা পুনরায় যাচাই করতে হচ্ছে। রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়ার ব্যয় কয়েক মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিবিআই একই সঙ্গে পরীক্ষাগারের কার্যক্রমে সংস্কার এনে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
বেশি ছুটি নেওয়ায় গর্ভবতী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করল অ্যামাজন, দেয়নি বাথরুমের বিরতিও
ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা, খুনিকে খুঁজছে পুলিশ