রাশিয়া

সদ্য বিবাহিত পালক ছেলে ড্যানিয়েলের সাথে আইসিলু। ছবি: সংগৃহীত
১৪ বছর বয়সে দত্তক নেওয়া পালক ছেলেকেই বিয়ে করলেন মা, কেড়ে নেওয়া হলো অন্য ৫ সন্তান

রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে নিজের দত্তক ছেলেকে বিয়ে করার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন ৫৩ বছর বয়সী এক নারী। এই বিয়ের পর দেশটির শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষ তার হেফাজতে থাকা আরও পাঁচ দত্তক সন্তানকে সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে রাশিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাতারস্তানের বাসিন্দা আইসিলু চিঝেভস্কায়া মিনগালিম নামের ওই নারী ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল চিঝেভস্কিকে বিয়ে করেছেন। ড্যানিয়েলের সঙ্গে তার পরিচয় হয় যখন ছেলেটির বয়স ছিল ১৩ বছর। সে সময় তিনি একটি এতিমখানায় সংগীত শেখাতেন এবং সেখানেই ড্যানিয়েলের সঙ্গে পরিচয় হয়।   পরবর্তীতে ড্যানিয়েল ১৪ বছর বয়সে পৌঁছালে আইসিলু তাকে আইনগতভাবে দত্তক নেন এবং নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করতে শুরু করেন। প্রায় আট বছর পর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এই সিদ্ধান্ত শিশু অধিকার ও পরিবার কল্যাণ সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে আইসিলু বলেন, "আমাদের সম্পর্ক খুবই সুন্দর। আমরা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারি না। আমরা একই মানসিকতার মানুষ।" গত সপ্তাহে তাতারস্তানের রাজধানী কাজানের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।   বিয়ের পরপরই শিশু কল্যাণ কর্মকর্তারা আইসিলুর হেফাজতে থাকা আরও পাঁচ দত্তক সন্তানকে সরিয়ে নেন। তাদের মধ্যে একজন ছেলে ও চারজন মেয়ে রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের কেউ সরকারি পরিচর্যা কেন্দ্রে, আবার কেউ তাদের জৈবিক আত্মীয়দের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আইসিলু। তিনি দাবি করেছেন, সন্তানদের আবারও নিজের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। তার ইচ্ছা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে মস্কোতে চলে যাওয়া, যেখানে তারা আরও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইসিলুর আগের একটি বিয়ে থেকে একজন জৈবিক সন্তান রয়েছে। তবে তাকে নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। জানা যায়, একটি টেলিভিশন প্রকল্পের কাজে এতিম শিশুদের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই আইসিলু একে একে একাধিক শিশুকে দত্তক নেওয়া শুরু করেন।   রাশিয়ায় এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২২ সালে দেশটির আরেক নারী মেরিনা বালমাশেভা নিজের সাবেক সৎছেলেকে বিয়ে করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হন। তিনি আগে ওই তরুণের বাবার স্ত্রী ছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সাবেক সৎছেলের সঙ্গে সংসার শুরু করেন এবং তাদের সন্তানও রয়েছে। সেই ঘটনাও সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।   আইসিলু ও ড্যানিয়েলের বিয়ে আইনগত, নৈতিক ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দত্তক সম্পর্কের সীমা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।   সূত্র: ডেইলি মেইল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা
রাশিয়ায় বন্দি অবস্থায় মৃ ত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন, অবশেষে দেশে ফিরলেন সাবেক মার্কিন সেনা

রাশিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা মার্কিন মেরিন কর্পসের সাবেক সেনা রবার্ট গিলম্যান অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। তবে দেশে ফেরার আগে তিনি প্রায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মুক্তির জন্য কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রাখা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁকে দীর্ঘ চিকিৎসাপর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তাঁকে মুক্ত করার কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থা 'গ্লোবাল রিচ'-এর প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা কিরন রামসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক গিলম্যানকে ২০২২ সালে রাশিয়ায় আটক করা হয়। গত সপ্তাহে তাঁর চরম স্বাস্থ্যগত অবনতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গ্লোবাল রিচের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা এরিক লেবসনের মতে, রাশিয়ার একটি হাসপাতালে গিলম্যানকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় অচেতন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' দশায় আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি সে সময় তাঁকে টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। এ প্রসঙ্গে কিরন রামসে সিবিএস নিউজকে জানান, সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করতে তাঁদের প্রায় গিলম্যানের মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে তিনি যে এখন নিরাপদে নিজ দেশের মাটিতে ফিরেছেন, তাতেই তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তাঁকে সান আন্তোনিওর ব্রুক আর্মি মেডিকেল সেন্টারে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।   রাশিয়ায় গিলম্যানকে মারাত্মক অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন এরিক লেবসন। তিনি জানান, রুশ কর্তৃপক্ষ গিলম্যানকে মানসিক হয়রানির পাশাপাশি টানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ব্যায়াম করতে বাধ্য করেছে। এমনকি তাঁকে মানসিক রোগের ওষুধও প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সিবিএস নিউজ স্বাধীনভাবে এই দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং রুশ কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে এর কোনো জবাব দেননি।   তবে গিলম্যানের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন রুশ সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়েছিল বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। লেবসন উল্লেখ করেন, রাশিয়ায় বন্দি থাকা অন্য যেকোনো মার্কিন নাগরিকের তুলনায় রবার্টের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ায় বন্দি থাকা বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে রাশিয়ায় ১০ জন, ইরানে ২ জন এবং চীনে ১ জন মার্কিন নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রামসে। খুব শিগগিরই তাঁদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
চার বছর রাশিয়ার কারাগারে বন্দী মার্কিন নৌসেনা, মুক্ত হয়ে ট্রাম্পের কাছে চাইলেন চিজবার্গার
চার বছর রাশিয়ার কারাগারে বন্দী মার্কিন নৌসেনা, মুক্ত হয়ে ট্রাম্পের কাছে চাইলেন চিজবার্গার

  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কারাগারে বন্দী থাকা এক সাবেক মার্কিন নৌসেনাকে (মেরিন ভেটেরান) মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রবার্ট গিলম্যান নামের এই মার্কিন নাগরিকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল বলে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত একটি অধিকার গোষ্ঠী।   ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন 'মানবিক কারণে' গিলম্যানকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছেন এবং এর বিনিময়ে রাশিয়া কোনো বন্দী বিনিময় বা অন্য কোনো শর্ত দাবি করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লেখেন, "কোনো বন্দী বিনিময় হয়নি"। তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার পর গিলম্যান কেবল একটি ভালো মানের 'চিজবার্গার' খেতে চেয়েছেন এবং তিনি সেটির ব্যবস্থা করবেন।   গ্লোবাল রিচ নামের একটি সংস্থার চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার এরিক লেবসন জানিয়েছেন, ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে টেক্সাসের একটি মার্কিন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গিলম্যান মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছাবেন এবং সেখানে তার দলের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানাবেন। গিলম্যানের সাথে তার মা-ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন, যিনি অসুস্থ ছেলেকে দেখতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। গিলম্যানের বোন লেক্সি হাডসন তার ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক রবার্ট গিলম্যান ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ায় বন্দী ছিলেন। ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে নামিয়ে দেওয়ার পর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের দালায় প্রাথমিকভাবে তাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারাগারে পরিদর্শক ও প্রহরীদের ওপর হামলার অভিযোগে তার সাজার মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। লেবসন জানান, রাশিয়ায় বন্দিদশায় গিলম্যানকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে; যার মধ্যে দৈনিক ১৬ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক ব্যায়াম এবং মানসিক ভারসাম্য নষ্টকারী সাইকোট্রপিক ওষুধ প্রয়োগের মতো ঘটনাও রয়েছে। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতেও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল।   দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অমানবিক নির্যাতনের কারণে গিলম্যান গত ৪৭ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' অবস্থায় ছিলেন। সম্প্রতি তাকে কারাগার থেকে একটি বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিছানার সাথে হাতকড়া পরিয়ে ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। তার এই মুমূর্ষু অবস্থার কথা জানতে পেরেই মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার সাথে বারবার যোগাযোগ করে মানবিক কারণে তার দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে প্রতি মাসে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ার সমঝোতার কথা জানান জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাসে মাসে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাবে ইউক্রেন

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এই সরবরাহ যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ ও ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি জানান, প্রতি মাসে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সমঝোতা রয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার হামলার মাত্রা বিবেচনায় ইউক্রেনের আরও বেশি সরঞ্জাম প্রয়োজন।   রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলার কারণে কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর চেয়ে আসছে।   বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতার কারণে কিয়েভ বারবার আরও প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও এর ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।   জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত সরবরাহের সমঝোতা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি করলেও বর্তমান চাহিদা পূরণে তা যথেষ্ট নয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিয়েভ।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট
রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট

রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটির আওতায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। তবে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। বিলটি আইনে পরিণত হলে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।   বিলটির নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর এই উদ্যোগের পক্ষে কাজ করেছিলেন।   বিলটির মূল লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আসা আয় কমানো। এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। বর্তমানে ওই তালিকায় চীন ও ভারতের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার নাম রয়েছে।   বিশেষ করে ভারত ও চীনের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশই রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   সিনেটে অনুমোদনের পর বিলটি এখন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যাবে। গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে হাউসের অধিবেশন ৩১ আগস্ট পুনরায় শুরু হওয়ার কথা। সেখানে বিলটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।   তবে হাউসে বিলটির ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও কিছু আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টকে নতুন ও বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদেরও বাড়তি খরচ বহন করতে হতে পারে।   বিলে শুধু রাশিয়ার জ্বালানির ক্রেতাদের লক্ষ্য করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতে নির্দিষ্ট ধরনের বিনিয়োগ ও লেনদনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম বেঁচে থাকলে এই অগ্রগতিতে গর্বিত হতেন। তার মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে এমন পক্ষগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো।   তবে বিলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারত বা চীনের ওপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়ে যায়নি। সিনেটের অনুমোদন আইন প্রণয়নের একটি ধাপ মাত্র। হাউসের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি দ্বিদলীয় বিল। ছবি: কোলাজ, আমেরিকা বাংলা
রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতকে দিতে হতে পারে ১০০% শুল্ক, মার্কিন সিনেটে বিল পাস

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর আরও চাপ তৈরির পথে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার একটি দ্বিদলীয় বিল শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস করেছে মার্কিন সিনেট।   বিলে রাশিয়ার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের ওপরও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রুশ তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    এই উদ্যোগে ভারতের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে ভারতের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে আলোচনা চলছে। একই তালিকায় চীনের মতো বড় ক্রেতারাও রয়েছে।    বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তার মৃত্যুর পরও উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়ানোই বিলটির অন্যতম লক্ষ্য।    সিনেটে বিলটি পাসের আগে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে দুই দলের কিছু সিনেটরের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়। রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি সংশোধনী আনলেও তা ৩২-৬৪ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়।   একই বিলের মাধ্যমে ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। বিলটি পরবর্তী ধাপে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর হলে তা আইনে পরিণত হবে।   আইনটি কার্যকর হলে ভারতের মতো বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে—এখন নজর প্রতিনিধি পরিষদ ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া!
এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া! সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দারা

রাশিয়া এ বছরের শরৎকাল থেকেই ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশকে সীমিত সামরিক বা বড় ধরনের হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন, যার লক্ষ্য হবে ন্যাটোর ঐক্য এবং বিশেষ করে জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় রাশিয়া সরাসরি কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে বড় ঝুঁকি নেবে না। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে সেই ধারণা বদলেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ বছরের শরৎ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বড় আকারের হাইব্রিড হামলা, নাশকতা কিংবা সীমিত স্থল অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   বিশেষভাবে নজরে রয়েছে বাল্টিক অঞ্চল ও পোল্যান্ড। লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে ভুয়া পতাকা হামলা চালাতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করতে পারে। তার মতে, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর ভেতরে বিভক্তি তৈরি করা এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করা।   গত কয়েক মাসে বাল্টিক অঞ্চলের আকাশসীমা এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা ঘটনার পর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার ঘটনাও ইউরোপে হাইব্রিড হামলার আশঙ্কাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জার্মান কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে, যদিও প্রকাশ্যে রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।   মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া পুতিনকে নতুন কোনো কৌশলগত সাফল্য দেখানোর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সীমিত উসকানি দিয়ে জোটের প্রতিক্রিয়া যাচাই করার ঝুঁকি বাড়তে পারে।   এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫। এই ধারায় বলা হয়েছে, জোটের একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে রাশিয়ার কোনো সীমিত হামলাও দ্রুত বড় আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।   এরই মধ্যে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে একাধিকবার সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও সামরিক ব্যয় বাড়ানো, পূর্ব সীমান্তে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।   তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। রাশিয়া সত্যিই ন্যাটো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। মস্কোও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমাদের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং উল্টো ন্যাটোকেই রাশিয়ার সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য দায়ী করে।   তারপরও নতুন সতর্কবার্তাটি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় ন্যাটো সীমান্তে যেকোনো সামরিক বা হাইব্রিড ঘটনা এখন শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং পুরো জোটকে সরাসরি সংঘাতের মুখে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া, বাড়ছে উদ্বেগ

ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে এবার রাশিয়ায় একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া। কিয়েভের দেওয়া তথ্যমতে, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে অবস্থিত ১১২তম মিসাইল ব্রিগেডের অধীনে প্রায় ৯০ জন উত্তর কোরিয়ান কর্মীকে নিয়ে এই বিশেষ ইউনিটটি গঠন করা হচ্ছে। আগামী মাসে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সামরিক মোতায়েনের চূড়ান্ত রূপরেখা এবং মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কিয়েভ ধারণা করছে, এই ইউনিটে অন্তত ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি লঞ্চার যুক্ত থাকতে পারে।   উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের জন্য নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে কিয়েভ উচ্চমানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, কারণ এ ধরনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভূপাতিত করা অত্যন্ত কঠিন।   বিদেশি থিঙ্ক ট্যাংকের সামরিক বিশ্লেষক রব লি উল্লেখ করেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই অভাবই বর্তমানে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা। বিশেষ করে আসন্ন শীতকালে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিড বা জ্বালানি অবকাঠামোতে ভারী হামলার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা কিয়েভের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।   এর আগে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকেই রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি প্রায় ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের রাদুশনে গ্রামে উত্তর কোরীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে।   ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে কোটি কোটি আর্টিলারি শেল বা গোলা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের খবরও সামনে এসেছে। তবে নতুন করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট গঠনের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবি:সংগৃহীত
ট্রাম্পের নজরদারির মধ্যেই রাশিয়ার প্রভাব কমছে পুতিনের? নতুন বিশ্লেষণ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলেও, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কোর দীর্ঘদিনের প্রভাববলয় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে—এমন দাবি উঠে এসেছে মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে। তবে এটি সংবাদ প্রতিবেদন নয়; লেখকের বিশ্লেষণ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি *Opinion* নিবন্ধ।    নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার কয়েকটি ঐতিহ্যগত মিত্র ও প্রভাবাধীন অঞ্চলে মস্কোর অবস্থান আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক চাপ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে লেখকের দাবি।    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদকালে এসব পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবু বাস্তবে মস্কোর দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া, ককেশাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে আগের মতো প্রভাব বজায় রাখাও মস্কোর জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে লেখকের মূল্যায়ন।    তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, রাশিয়ার বৈশ্বিক প্রভাব কমছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক জোটগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থানের ওপর এ বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে।   নিউজউইকে প্রকাশিত নিবন্ধটি মূলত লেখকের বিশ্লেষণ ও মতামত। তাই এতে উত্থাপিত মূল্যায়নকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা সরকারি অবস্থান হিসেবে নয়, বরং চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক রাতভর হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪ জন আহত। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত অন্তত ১৭, আকাশ প্রতিরক্ষার সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলায় ব্যবহৃত কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি, কারণ দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট রয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। ড্রোনগুলোর বেশিরভাগই ভূপাতিত করা গেলেও কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো যায়নি। হামলায় কিয়েভ, ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্টিভ এলাকায় গুদামঘর, রেলওয়ে স্থাপনা, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, দ্রুত পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হলে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো। তিনি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি দ্রুত সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান এবং বিলম্বের কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সতর্ক করেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু এলাকায় রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে।  অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে ইউক্রেনের সরকার বলছে, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল বেসামরিক অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।  সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এতে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহর আগের তুলনায় আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নি হত ৫
রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নি হত ৫

রাশিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর গুদামসহ একাধিক বাণিজ্যিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাতভর চালানো এই হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজ ছাড়াও রুশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'লেন্তা'-এর একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে কিয়েভ।   মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ নিশ্চিত করেছেন যে, মস্কো অঞ্চলের চেখভ শহরে একটি গুদামে ড্রোনের আঘাতে ওই পাঁচজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লেনিনগ্রাদ এবং মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত তেভের অঞ্চলেও ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামে ড্রোনের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি।   অপরদিকে লেনিনগ্রাদে লেন্টা-এর একটি লজিস্টিক সেন্টারে হামলায় একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া ও ক্রিমিয়া অঞ্চল মিলিয়ে মোট ৩২০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন তারা প্রতিহত করেছে।   গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে ইউক্রেন ওয়াইল্ডবেরিজের প্রায় দুই ডজন লজিস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের অভিযোগ, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোনের যন্ত্রাংশসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে। ফোর্বস রাশিয়ার তথ্যমতে, টানা এই হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম সক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং থার্ড-পার্টি বিক্রেতারা শত শত বিলিয়ন রুবলের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্রমাগত হামলার মুখে পড়ে ওয়াইল্ডবেরিজ এখন কাজাখস্তানে ২ লাখ ৬০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের বিশাল গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্পন্ন হতে পারে। এদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে যখন ইউক্রেনের এই জোরালো আক্রমণ চলছে, তখন ইউক্রেনেও রুশ আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় দুই শিশু ও এক বৃদ্ধা মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
কৃষ্ণসাগরে নৌ চলাচলে ড্রোন হামলা ছবি: সংগৃহীত
ড্রোন হামলার পর কৃষ্ণসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে রাশিয়া-ইউক্রেনের প্রতি তুরস্কের আহ্বান

কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। আঙ্কারা বলেছে, বেসামরিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে উভয় দেশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।   তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় একটি তুর্কি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে তিনজন নাবিক গুরুতর আহত হন। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি তুরস্ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে।    আঙ্কারা আরও বলেছে, কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই এমন ঘটনা এড়াতে এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।    এটি প্রথমবার নয়। চলতি বছর কৃষ্ণসাগরে তুর্কি মালিকানাধীন একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পর তুরস্ক বারবার মস্কো ও কিয়েভের কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে বেসামরিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগর আন্তর্জাতিক শিপিং ও শস্য রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়া এখনো শান্তি চায় না, যুদ্ধ দীর্ঘায়িতের পথেই পুতিন

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানালেও ইউক্রেনের বিশ্লেষকদের দাবি, ক্রেমলিন এখনো যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয়।   ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Kyiv Post-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত মিলছে।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনকে স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য ও ক্ষমতার কাঠামো ধরে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবেও উপস্থাপন করছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।   অন্যদিকে, সের্গেই লাভরভ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বন্ধ, রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোর দাবিকে স্বীকৃতি এবং মস্কোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর জোর দেন। এসব অবস্থানকে শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে Kyiv Post।   তবে রাশিয়া বরাবরের মতোই বলছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে তাদের নিরাপত্তা স্বার্থ ও ঘোষিত শর্তের ভিত্তিতে। মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তাকেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছে।   এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা ফের শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে এবং সেগুলোর ব্যবধান কমানো না গেলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে না।   রুবিও বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহে আমরা দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে এনে এই যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। তবে আমরা এটাও বুঝি যে উভয় পক্ষেরই কিছু দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। সেই অবস্থানগুলোর ব্যবধান কিছুটা কমানো না গেলে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব হবে না।”   তার এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন

রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।   দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি।    সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।   ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি
কিয়েভে রুশ ২৭ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি, মাত্র একটি ভূপাতিত করতে পারল ইউক্রেন

রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।   দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি।    সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।   ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইন কনটেন্ট সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রুশ মডেল সোফিয়া ভারশিনিনা। ছবি: সংগৃহীত
পুতিনের পর্নবিরোধী অভিযানে কারাদণ্ড এড়ালেও ৩ বছর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না রুশ মডেল

রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ২১ বছর বয়সী এক মডেল কারাদণ্ড এড়িয়েছেন। তবে আদালত তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা এবং তিন বছরের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার ও অনলাইনে উপস্থিত থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মস্কোর একটি আদালত সোফিয়া ভারশিনিনা নামের ওই মডেলকে অনলাইনে যৌনস্পষ্ট কনটেন্ট তৈরি ও বিতরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। রুশ আইনে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার নিষিদ্ধ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ রক্ষার নীতির অংশ হিসেবে অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে এই মামলার বিচার হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন।   তবে আদালতে অভিযোগ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করায় সোফিয়া ভারশিনিনাকে তিন বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাচ্ছেন না। তবে আদালতের নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে এই স্থগিত দণ্ড কার্যকর হতে পারে। রায়ের অংশ হিসেবে তাকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছর তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না এবং অনলাইনে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা বা উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ফলে তার অনলাইনভিত্তিক আয়ের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে।   রুশ প্রসিকিউটরদের দাবি, সোফিয়া ভারশিনিনা অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট বিক্রি করে চার লাখ ডলারের বেশি আয় করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি জনপ্রিয় সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি টেলিগ্রামেও অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগত কনটেন্ট সরবরাহ করতেন। তদন্তের সময় জব্দ করা তার আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স এখনো তদন্ত সংস্থার হেফাজতে রয়েছে। তবে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর কিছু অংশ পরে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোফিয়া ভারশিনিনা একমাত্র নন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ায় অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও কয়েকজন মডেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী ডায়ানা শুরিগিনার বিচারও চলছে। একই অভিযোগে আনাস্তাসিয়া ওভসিয়ানিকোভা নামের আরেক কনটেন্ট নির্মাতাকেও আটক করা হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ায় অবৈধ পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইন বহুদিন ধরেই কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তথাকথিত ‘ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ’ বাস্তবায়নের নীতির অংশ হিসেবে অনলাইন কনটেন্টের ওপর নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, আগুনে পুড়ল রুশ ই-কমার্স জায়ান্টের গুদাম, নি হত ১

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার চালানো এই হামলায় রুশ ই-কমার্স জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিক সেন্টার ও একটি জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভলগোগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই বোচারভ শুরুতে ৫ জন আহতের কথা জানালেও পরবর্তীতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি হামলার শিকার জ্বালানি স্থাপনাটির নাম প্রকাশ করেননি।   হামলার পর নাসার ফায়ার মনিটরিং সিস্টেম (এফআইআরএমএস) ভলগোগ্রাদ শহরের ঠিক দক্ষিণে লুকোয়েল পরিচালিত একটি বড় তেল শোধনাগারে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ছবি ধারণ করেছে। লুকোয়েল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থাপনায় হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক বিবৃতিতে ওয়াইল্ডবেরিজ কর্তৃপক্ষ ড্রোন হামলার পর তাদের একটি লজিস্টিক হাব-এ আগুন লাগার কথা নিশ্চিত করেছে এবং সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে। শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে শহরের আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।   শুধু ভলগোগ্রাদেই নয়, পার্শ্ববর্তী রোস্তভ অঞ্চলের গুকাভো শহরেও আলাদা এক ড্রোন হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর ইউরি স্লিইসার। অন্যদিকে, তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে বিমান হামলার সতর্কতার কারণে ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান ওজোন তাদের একটি গুদাম খালি করতে বাধ্য হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দূরে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তে কর্মীরা আতঙ্কে ভবন ছেড়ে পালাচ্ছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তারা রাশিয়া এবং অধিকৃত ক্রিমিয়া জুড়ে ৩৭১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আটকে দিয়েছে বা ভূপাতিত করেছে।   উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহে ড্রোন হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের এক ডজনেরও বেশি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কোম্পানিটির স্টোরেজ ক্ষমতার একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইউক্রেনের অভিযোগ, ওয়াইল্ডবেরিজ রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে সহায়তা করছে। তবে কোম্পানিটি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার পাল্টা হামলায় দেশজুড়ে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে কিয়েভে অবস্থিত একটি আমেরিকান কোম্পানির ড্রোন কারখানায় রুশ সামরিক বাহিনীর হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’
মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’

রাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম।   সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।   ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়।   এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
কাশ প্যাটেল
‘রাশিয়ার এজেন্ট’ বলায় ১ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করেছিলেন কাশ প্যাটেল, খারিজ করল আদালত

নিজেকে ‘রাশিয়ার এজেন্ট’সহ একাধিক মানহানিকর মন্তব্যের শিকার দাবি করে এক ব্লগারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ডলারের মানহানি মামলা করেছিলেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। তবে নেভাদার একটি ফেডারেল আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এ মামলার শুনানি করার জন্য নেভাদা আদালতের ব্যক্তিগত এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কাশ প্যাটেল ব্লগার ও সাবস্ট্যাক লেখক জিম স্টুয়ার্টসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, স্টুয়ার্টসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এবং সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে প্যাটেলকে ‘রাশিয়ার এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, প্যাটেল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টায় ভূমিকা রেখেছিলেন। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে মামলায় দাবি করেন প্যাটেল।   মামলায় কাশ প্যাটেল ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক অ্যান্ড্রু গর্ডন রায়ে বলেন, স্টুয়ার্টসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে কাশ প্যাটেলকে ট্যাগ করা হলেও, তা নেভাদার জনগণ বা নেভাদা অঙ্গরাজ্যকে লক্ষ্য করে প্রকাশ করা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে নেভাদা আদালতের ব্যক্তিগত এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং এ কারণে মামলাটি খারিজ করা হয়।   বিচারক আরও উল্লেখ করেন, এই রায়ে স্টুয়ার্টসনের মন্তব্য সত্য না মিথ্যা, সে বিষয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি খারিজের কারণ ছিল সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়াগত, অর্থাৎ কোন আদালতে মামলাটি বিচারযোগ্য—সেই প্রশ্ন।   রায়ের পর জিম স্টুয়ার্টসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিজয়ের দাবি জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। অন্যদিকে কাশ প্যাটেলের পক্ষ থেকে রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।   কাশ প্যাটেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়ের করা এই মানহানি মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য এবং আদালতের এখতিয়ার সংক্রান্ত আইনি আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
গলার বিশেষ কলার খুলে বিড়ালটির তল্লাশি চালাচ্ছেন কারা কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার কারাগারে ধরা পড়ল মাদক পাচারকারী বিড়াল, তদন্ত শুরু

রাশিয়ার একটি কারাগারে বন্দিদের কাছে নিষিদ্ধ মাদক পৌঁছে দেওয়ার কাজে একটি বিড়ালকে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গলায় বিশেষভাবে তৈরি কলারের ভেতরে মাদক বহন করার সময় প্রাণীটিকে আটক করে কারা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   ইউরোনিউজের তথ্যের বরাত দিয়ে রাশিয়ার ফেডারেল পেনিটেনশিয়ারি সার্ভিস (এফএসআইএন) জানিয়েছে, কারাগারের একটি সংশোধনাগারের বাইরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে বিড়ালটিকে আটক করেন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। পরে প্রাণীটির গলায় বাঁধা দুটি কাপড়ের তৈরি বিশেষ কলার খুলে তল্লাশি চালানো হলে সেখান থেকে নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কারা কর্মকর্তারা বিড়ালটির গলায় থাকা কালো রঙের চওড়া কলার খুলে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছেন। তল্লাশির সময় কলারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা মাদক উদ্ধার করা হয়। জব্দ প্রক্রিয়া শেষে বিড়ালটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এফএসআইএনের ভাষ্য, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নাকি পরিকল্পিত পাচারচক্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারা বন্দিদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, কীভাবে বিড়ালটিকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার কৌশল কী ছিল। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা অভিযুক্ত করার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতীতেও কারাগারে মোবাইল ফোন, মাদক কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রাণী ব্যবহারের বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। রাশিয়ার সর্বশেষ এই ঘটনাও কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পাচারচক্রের নতুন কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০