- প্রচ্ছদ
- Topic
আব্রাহাম লিংকন
পাঁচ দিনের বন্দর সফর শেষে থাইল্যান্ড ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’। দীর্ঘ সময়ের সামরিক মোতায়েন ও মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান শেষে কিছুটা বিরতির পর আবারও সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী এই যুদ্ধজাহাজ। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, রবিবার থাইল্যান্ডের বন্দর ত্যাগ করে রণতরিটি। এর আগে বুধবার ভোরে ‘আব্রাহাম লিংকন’সহ কয়েকটি মার্কিন নৌযান থাইল্যান্ডে পৌঁছায়। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এই সফর পাঁচ দিন স্থায়ী হবে। থাইল্যান্ড ছাড়ার আগে এক বিবৃতিতে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ড্যান কিলার বলেন, থাইল্যান্ডের জনগণের অসাধারণ আতিথেয়তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোকে ছয় থেকে নয় মাসের জন্য বিদেশে মোতায়েন রাখা হয়। তবে যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে। ‘আব্রাহাম লিংকন’ও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করেছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে চলা এই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার দাবি, টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ক্ষেত্রে রণতরিটি আধুনিক সময়ে একটি রেকর্ড গড়েছে। থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে রণতরিটির নাবিক ও মেরিন সদস্যদের কিছুটা অবসর কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয়। জাহাজগুলো বন্দরে ভেড়ার পরপরই বাসভর্তি মার্কিন নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বেসামরিক পোশাকে থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ার একটি হোটেলের দিকে যেতে দেখা যায়। তাদের অনেককেই হাসিমুখে স্থানীয়দের দিকে হাত নাড়তে দেখা গেছে। ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পাতায়া থাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর। সেখানে অবস্থানকালে মার্কিন সেনাসদস্যরা অবসর ও বিনোদনের সময় কাটান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চুক্তিভিত্তিক মিত্র থাইল্যান্ড। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবেই মার্কিন নৌযানগুলোর থাইল্যান্ড সফর হয়ে থাকে। পাঁচ দিনের বিরতির পর আবার সমুদ্রে যাত্রা শুরু করায় এখন রণতরিটির পরবর্তী গন্তব্য ও সামরিক কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন শেষে ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর এই নতুন যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ড সফরের সময় মদ্যপ অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্যকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রণতরীটি থাইল্যান্ডের একটি বন্দরে অবস্থান করছে। প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর অবকাশ কাটাতে থাইল্যান্ডে আসা সেনাসদস্যদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ওই দুই সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের থাইল্যান্ডের পাতায়ায় রণতরীটির পাঁচ দিনের অবস্থানের বাকি সময় জাহাজেই থাকতে হবে। পাতায়া থাইল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী একটি জনপ্রিয় পর্যটননগরী এবং রাতের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১টার দিকে একজন থাই নাগরিক জরুরি নম্বরে ফোন করে জানান, শহরের একটি বারের কাছে দুই মার্কিন সেনাসদস্যের মধ্যে হাতাহাতি চলছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই সেনাসদস্যকে পাতায়ার হার্ড রক ক্যাফেতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের যৌথ পরিচালনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের রণতরীতে ফেরত পাঠানো হয়। থাই পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, কারণ তারা থাইল্যান্ডের কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। এক থাই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ছোটখাটো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সেনাসদস্যই মদ্যপ ছিলেন এবং তারা মারামারির পাশাপাশি উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন। জরুরি নম্বরে ফোন করা ব্যক্তি আশঙ্কা করেছিলেন, হাতাহাতির ঘটনা আরও বড় আকার নিতে পারে। সে কারণেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার পর দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানো হলেও থাই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। রণতরীতে ফেরার পর তাদের পাতায়ায় অবস্থানের বাকি সময় জাহাজের মধ্যেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের জন্য এটি ছিল দীর্ঘ সময় পর তীরে নামার সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে রণতরীটি মোট ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল এবং এর আগে টানা ২৬৪ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছিল। রণতরীটির থাইল্যান্ড সফরটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর নাবিক ও মেরিন সদস্যদের বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে এসেছে। তারা পাতায়াসহ আশপাশের এলাকায় অবকাশ কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যেই দুই সেনাসদস্যের মদ্যপ অবস্থায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং তাদের আবার রণতরীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। থাই পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হয়নি। তবে স্থানীয় একজন বাসিন্দার জরুরি ফোনের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই তা থামানো সম্ভব হয়। পরে দুই সেনাসদস্যকে রণতরীতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৯ মাসের সামরিক অভিযান শেষে অবশেষে দেশের পথে রওনা হয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই দীর্ঘ সময়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এটি। বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে অপর মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার রণতরিটির বিদায়বেলায় এক বার্তায় নাবিকদের শুভযাত্রা কামনা করে শিগগিরই তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ ২৭২ দিনের এই মিশনে রণতরিটি মাত্র দুবার সমুদ্রে বিরতি নেয়। এর মধ্যে ডিসেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামে স্বল্প সময়ের জন্য এবং পরবর্তীতে রসদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওমানে নোঙর করেছিল এটি। টানা সমুদ্রযাত্রায় থাকা নাবিকদের জন্য বিশ্রামের কোনো নির্ধারিত ছুটির দিন ছিল না। এখন প্রায় ১৩ হাজার মাইল দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে তাদের আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকনকে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে মিশন চলাকালে রণতরিতে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান এবং আনুষঙ্গিক নানা সংকট নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মিশন চালিয়ে নিতে হয়েছে রণতরিটির হাজারো ক্রুকে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট এবং নাবিকদের মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে থাকা এক নাবিকের পরিবারের কাছে পাঠানো বার্তায় দাবি করা হয়েছে, তিন মাস ধরে তারা দুধ পাননি, তাজা খাবারের সরবরাহও অত্যন্ত সীমিত। কখনো কখনো জাহাজে পৌঁছানো মাংসও নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নাবিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া থেকে তাকে রক্ষা করতেই পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে তার পাঠানো বার্তাগুলো সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছায়। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও সামরিক সদস্য নিয়ে মোতায়েন হয়। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে সেটি কয়েক দফা দীর্ঘ হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম পোর্ট কলের কারণে জাহাজের নাবিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবারের কাছে পাঠানো একটি বার্তায় ওই নাবিক জানান, সরবরাহকারী জাহাজ থেকে তাজা ফল ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার নিয়মিত পৌঁছানো যাচ্ছে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসব খাবার পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে মূলত হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আরেকটি বার্তার সঙ্গে একটি পাত্রে রাখা সিরিয়ালের ছবি পাঠান তিনি। সেখানে দুধ ছাড়াই সিরিয়াল খাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, তিন মাস ধরে দুধ পাননি। শুধু খাবারের সংকট নয়, দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে নাবিকদের হতাশার কথাও উঠে এসেছে ওই বার্তাগুলোতে। নাবিকের দাবি, আগে বহুবার মোতায়েন হওয়া সহকর্মীদের কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতিকে তাদের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিবার থেকে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় দূরে থাকতে হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ অবশ্য শুধু এসব ব্যক্তিগত বার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মিলিটারি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে খাবার ও পানির সরবরাহ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মেইল পৌঁছাতে বিলম্ব এবং মানসিক চাপের বিষয়ে পরিবারের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কয়েকজন নাবিকের ওভারবোর্ডে যাওয়ার ঘটনার অভিযোগ ঘিরে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ মোতায়েনের মধ্যে একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মার্কিন নৌবাহিনী নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার রিপোর্ট বেড়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে নেভাল এয়ার স্টেশন নর্থ আইল্যান্ডে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি টাউন হল বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে খাবার, পানি, মেইল, জাহাজের পরিবেশ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ জানান তারা। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারাও জাহাজে কিছু লজিস্টিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে টয়লেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে শাওয়ার এলাকায় ছত্রাক তৈরি হওয়া এবং তাজা ফল ও মেইল পৌঁছাতে বিলম্বের মতো সমস্যা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। জাহাজে কাউন্সেলর, চ্যাপলেইন, মেডিক্যাল কর্মী এবং অন্যান্য সহায়তাও রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। পানামা সফরের সময় তিনি বলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতিকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে তা পুরো পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়। তার ভাষ্য, মোতায়েন থাকা প্রতিটি জাহাজ ও ক্রুকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে প্রতিরক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু মোতায়েন অন্যগুলোর তুলনায় দীর্ঘ হয় এবং কম পোর্ট কলের মধ্যে নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এদিকে দীর্ঘ মোতায়েন শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স জানিয়েছে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটি আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন আগে থেকেই পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে সমুদ্রে রয়েছে এবং এর মোতায়েন ইতিমধ্যে আট মাস ছাড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় পোর্ট কল ছাড়া সমুদ্রে অবস্থান, সরবরাহ সংকটের অভিযোগ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ এখন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের নজরেও এসেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের কাছে জাহাজটির পরিস্থিতি এবং নাবিকদের জন্য কী ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নৌবাহিনী বলছে, নাবিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে জাহাজ থেকে আসা অভিযোগ, পরিবারের উদ্বেগ এবং দীর্ঘায়িত মোতায়েনের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে চাপ ও প্রশ্ন দুটিই বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।