সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডিজেল

রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র, নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাধ্য ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে একটি তেলবাহী জাহাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো প্রথম ডিজেলের চালান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু বিধানও শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে রয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল, যা প্রায় তিন লাখ ব্যারেলের সমপরিমাণ। এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটির গন্তব্য নিউইয়র্ক। আগামী ৭ নভেম্বর এটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চালানটির ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এই চালান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানির পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে কয়েক বছর পর আবার রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জাহাজটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি।   গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমপরিমাণ। তবে ঘোষিত মোট সরবরাহের সবটুকু শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।   চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কয়েকটি বিধান প্রয়োগ সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে রুশ ডিজেল বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ডিজেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল মস্কো। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি।   রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। প্রথম চালানের পর আরও জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে নিতে পারবে। এটি দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানি সক্ষমতার কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনের হামলায় কিছু রুশ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে ইউরোপের দেশগুলো আরও তেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং ইউরোপের ওপর চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জ্বালানি ও নিষেধাজ্ঞানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে এসব খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন চালানটি নির্বাচনের চার দিন পর, ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি জাহাজে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জ্বালানি বাজারের তুলনায় সীমিত। ফলে শুধু এই চালান দিয়ে দেশজুড়ে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, শোধনাগারের উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির চাহিদাসহ একাধিক বিষয় ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নতুন চুক্তির পর আরও কত চালান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, তার ওপরও সম্ভাব্য বাজারপ্রভাব নির্ভর করবে।   ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কয়েক বছর ধরে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এরপর রাশিয়া প্রধানত ব্রাজিল, তুরস্ক এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে রুশ জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সাধারণ ভোক্তা, ট্রাকচালক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজেলের দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। তবে রাশিয়া থেকে নতুন চালান আসার অর্থ এই নয় যে পাম্পে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাবে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো, সরবরাহ সম্পন্ন হওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রবেশের পর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।   SOURCE - রয়টার্স

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেল ৮ ডলার ছাড়িয়েছে, কিছু পাম্পে ছুঁয়েছিল প্রায় ১০ ডলার

ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের দাম রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আজ রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর AAA-এর হিসাবে রাজ্যটিতে এক গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৪২ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে দাম ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১৬ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গ্যালনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২৫ ডলার।   মাত্র এক মাস আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল ৭ দশমিক ২১ ডলারের কাছাকাছি। ২২ সেপ্টেম্বর তা ৮ দশমিক ৪৩৮৭ ডলারে উঠে সর্বকালের সর্বোচ্চ গড়ের রেকর্ড করে। এরপর সামান্য কমলেও আজকের ৮ দশমিক ৪১৬ ডলারের গড় এখনো সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি।   বে এরিয়াতেও পরিস্থিতি আরও ব্যয়বহুল। আজ সান হোসেতে ডিজেলের গড় দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার। এক মাস আগে সেখানে ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৩০ ডলার এবং এক বছর আগে ৫ দশমিক ১৯ ডলারের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্পে ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে প্রায় ১০ ডলারের ওই দামটি ছিল কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনের, রাজ্যজুড়ে গড় দাম নয়।   শুধু ডিজেল নয়, সাধারণ গ্যাসোলিনের দামও আবার বাড়ছে। আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গ্যালন রেগুলার গ্যাসের গড় ৬ দশমিক ৩৫ ডলার। গতকাল ছিল ৬ দশমিক ৩৪ ডলার, এক সপ্তাহ আগে ৬ দশমিক ১৫ ডলার এবং এক মাস আগে ৫ দশমিক ৬৪ ডলার। জাতীয় পর্যায়ে আজ রেগুলার গ্যাসের গড় ৪ দশমিক ৪৮ ডলার। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার চালকেরা জাতীয় গড়ের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ দশমিক ৮৭ ডলার বেশি দিচ্ছেন।   জাতীয় পর্যায়েও ডিজেলের দাম অস্বাভাবিক উঁচু। আজ যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন ডিজেলের গড় ৬ দশমিক ৪৭ ডলার, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ৬৯ ডলার। ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গড় ৬ দশমিক ৫৩ ডলারের কাছাকাছি উঠে রেকর্ড করেছিল।   মূল সমস্যার একটি হলো ডিজেলের সরবরাহ। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ সাপ্তাহিক হিসাবে ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে অন-হাইওয়ে ডিজেলের গড় ছিল ৬ দশমিক ৫২৯ ডলার। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি সাপ্তাহিক গড় ছিল ৮ দশমিক ২৫ ডলারের কাছাকাছি।   রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বছরের এই সময়ের হিসাবে ডিজেলের মজুত রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। EIA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত দেশের ডিস্টিলেট মজুত ১০ কোটি ব্যারেলের নিচে থাকতে পারে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও আন্তর্জাতিক ডিজেল সরবরাহে চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক ডিজেল সংকট ২০২৭ সালেও গড়াতে পারে।   উচ্চ ডিজেলের প্রভাব শুধু ট্রাক বা ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। NBC Bay Area-কে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ট্রাকিং ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়তে পারে। মুদি পণ্য থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে এর প্রভাবকে তারা ‘সাপ্লাই চেইন ইনফ্লেশন’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।   পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনেও আলোচনা চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সম্প্রতি বড় কয়েকটি রিফাইনারির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি স্বেচ্ছায় সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উল্টো আন্তর্জাতিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে পরিস্থিতি খারাপ করতে পারে।   এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার কম দামের বিকল্প হিসেবে ইথানল মিশ্রিত ই১৫ গ্যাসোলিন বাজারে দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ১৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্ধৃত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো তৈরি হলে ই১৫ গ্যালনপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ২০ সেন্ট পর্যন্ত কমাতে পারে। তবে এটি ডিজেলের বর্তমান সংকটের সরাসরি সমাধান নয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাম্প থেকে তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ভারত

ভারতের অভ্যন্তরে শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য খুচরা পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। এখন থেকে সমস্ত বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাম্পের পরিবর্তে নির্ধারিত সরকারি পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র বা বাল্ক সাপ্লাইয়ারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপন ও আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের জারি করা এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে কার্যকর থাকবে। মূলত সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খুচরা বাজার ও পাম্পগুলোতে ডিজেলের অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় প্রশাসন দ্রুত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।   ভারতে সাধারণত বাল্ক বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় ব্যবহারকারীদের আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে মিল রেখে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হয়। কিন্তু দেশটির সাধারণ ব্যবহারকারী বা সাধারণ যানবাহন চালকেরা সরকারের ভর্তুকির কারণে খুবই অল্প দামে পাম্প থেকে ডিজেল কিনতে পারেন। মূল্যের এই বিশাল ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে বড় বড় বাল্ক ব্যবহারকারীরা পাইকারি বাজার বাদ দিয়ে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে কম দামে দেদারসে জ্বালানি নিতে শুরু করেছিলেন। দেশটিতে বর্তমানে সাধারণ পেট্রোল পাম্পে ডিজেলের খুচরা দাম লিটারপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ রুপি হলেও বাল্ক বা পাইকারি বিক্রয়ে এর প্রকৃত দাম ১৩৪ দশমিক ৫০ রুপি।   গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এরপর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো সাধারণ ভোক্তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে খুচরা বাজারে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু টেলিকম টাওয়ার, বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারখানার ব্যবহারকারীদের সবসময় প্রকৃত উৎপাদন বা বাজারদর অনুসারেই জ্বালানি কিনতে হয়। ফলে খুচরা পাম্পের নির্ধারিত দাম বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলোর প্রকৃত উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম রয়েছে।   এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় বিশেষ 'মোটর স্পিরিট ও হাই-স্পিড ডিজেল আদেশ' জারি করেছে। এতে সমস্ত খুচরা জ্বালানি বিক্রেতা ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বাল্ক ক্রয় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯০ দিন এই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বলবৎ থাকবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।   নতুন এই সরকারি আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এখন থেকে কেবল নিয়মিত যানবাহনের ফুয়েল ট্যাংক এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে অনুমোদিত পাত্রেই পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রি করা যাবে। পাশাপাশি কোনো একক সাধারণ গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল পাম্প থেকে নিতে পারবেন না। এ ছাড়া মজুতদারি, কালোবাজারি, অবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ এবং সরবরাহের যেকোনো অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারগুলোকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লিটারে ১৫–২০ টাকা বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, কার্যকর রাত ১২টা থেকে

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দামে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নতুন মূল্য শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে।   বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা করা হয়েছে।   সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতে আমদানি খরচ ও সরবরাহ সংকট থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।   জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারিত ছিল।   এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে ডিজেলের গড় দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং অকটেনের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে ডিজেলে ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং অকটেনে ৬৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার জন্য একই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।    জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে।

Unknown এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান: ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকাতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি গোপন স্থাপনা থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা ৩০টি ড্রামে সংরক্ষিত ছিল।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।   অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা জ্বালানি তেল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।   ঘটনাটির বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর আওতায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় অবৈধভাবে জ্বালানি সরিয়ে নিয়ে তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছিল। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যেই আমদানিকৃত এই ডিজেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান ৮টি জেলায় সেচ কাজ এবং যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই বিশেষ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চ দুটি আলাদা চালানে মোট ১০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি চালানে ৫ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে। চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী চার মাসে পাইপলাইনের সাহায্যে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০