- প্রচ্ছদ
- Topic
#ডিজেলচুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধে জেলেনস্কি একাধিক সুযোগ কাজে লাগাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর দুই নেতার মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যু দ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি বহুবার চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি চাইলে বহুবার যু দ্ধের সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর দাবি, এ যু দ্ধ শুরু হওয়ারই কথা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে যু দ্ধ শুরুর সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে সংঘাতটি ঘটত না। জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনার অন্যতম কঠোর উদাহরণ। তবে ইউক্রেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি। দেশটির নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি ইউক্রেনের নিজস্ব সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিজেল চুক্তি ঘিরে নতুন বিরোধ শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এরপর আরও ১০ লাখ টন সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর হা মলা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ভোক্তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেন হা মলা চালাতে পারলেও তেল পরিশোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে তিনি জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা চালিয়েছে। চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হা মলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সব তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির শর্ত মেনে হা মলা বন্ধে সম্মত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই। ইউক্রেনের আপত্তি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির অবস্থান, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে দেশটি আরও বেশি অর্থ পাবে, যা চলমান যু দ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো হলে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা দেশটির যু দ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উপায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প মনে করছেন এসব হা মলা ডিজেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানই নতুন বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ মার্গারিটা বালমাসেদার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় রাশিয়াকে বেশি সুবিধা দিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া কম দামে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রুশ তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হা মলা অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার পক্ষে প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হতে পারে। ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে আগের টানাপোড়েন ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে এর আগেও প্রকাশ্য বিরোধ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জেলেনস্কির তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আচরণের সমালোচনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, তিনি তৃতীয় বিশ্বযু দ্ধের ঝুঁকি নিয়ে খেলছেন। বৈঠকে পরিকল্পিত খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। পরে দুই নেতার সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেখা গেলেও রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধের শর্ত এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে বৈঠকের পর দুই পক্ষই যু দ্ধের সমাধানের দিকে অগ্রগতির কথা বলেছিল। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে দুই নেতার বৈঠক এবং ২০২৫ সালে তাঁদের একাধিক যোগাযোগের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধান আসেনি। ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্প এবারও যু দ্ধ অব্যাহত থাকার দায় জেলেনস্কির ওপর চাপিয়েছেন। তবে যু দ্ধ বন্ধের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি সম্ভব, কিংবা নতুন নেতৃত্ব এ ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনতে পারে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতিতে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ কতটা কার্যকর হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।