ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের পাঁচটি ভিডিও পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডেনিস কিরান নামের ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাসংক্রান্ত চারটি অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ স্মিরনা বিচ হাইস্কুলে কর্মরত কিরানকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয় বুধবার। ওই দিন স্কুলের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা তাঁকে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাতে থাকা ফোনটি উরুর ওপরের অংশের কাছে রাখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর কিরানের কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তদন্ত চলাকালে তাঁকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তাঁর ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ। ওই ফোনে শিক্ষার্থীদের কোনো অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘোড়ার সঙ্গে যৌ ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাঁচটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ভিডিওগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কিরানের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। আদালত তাঁকে শিশু ও প্রাণীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তের শুরুতে স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলার অভিযোগ সামনে এলেও ফোনে শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথক অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কিরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
ফ্লোরিডায় স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল গার্ডিয়ান কর্মসূচি। ২০১৮ সালে পার্কল্যান্ডের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় স্কুল জেলার নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা কর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো কাউকে গ্রে প্তার করার ক্ষমতা পান না। তাঁদের মূল দায়িত্ব স্কুলের নিরাপত্তায় সহায়তা করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা।
স্কুলের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদী রিও গ্র্যান্ডে ভয়াবহ পানিসংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিনের খরা, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। নদীটির পানির ওপর নির্ভরশীল প্রায় দেড় কোটি মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৯০০ মাইল দীর্ঘ রিও গ্র্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম নদীগুলোর একটি। কলোরাডো অঙ্গরাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে নদীটি নিউ মেক্সিকো ও টেক্সাসের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো সীমান্তবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করে মেক্সিকো উপসাগরে গিয়ে মিশেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর বিভিন্ন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ এবং অন্যান্য পানির চাহিদা মেটাতে নদীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, নদীটির ঐতিহাসিক স্বাভাবিক প্রবাহের প্রায় ৮৫ শতাংশই হারিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানি উত্তোলন ও কয়েক বছর ধরে চলা তীব্র খরাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নদীটির সংকট নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কলোরাডো নদীর পানির ঘাটতি বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে রিও গ্র্যান্ডের পরিস্থিতিও সমানভাবে গুরুতর হয়ে উঠছে। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের বড় নদীগুলোর মধ্যে রিও গ্র্যান্ডের পানিপ্রবাহ কমার হার অন্যতম বেশি। চলতি গ্রীষ্মেই নদীটির ১১২ মাইলের বেশি অংশ শুকিয়ে গেছে। এতে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষিকাজ এবং মানুষের পানির চাহিদা পূরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগামী কয়েক বছর এবং পরবর্তী কয়েক দশকে নদীটির পানির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। চলতি পানি বছরে নিউ মেক্সিকো অংশে নদীর প্রবাহ ছিল মধ্যম বা স্বাভাবিক হিসাবে ব্যবহৃত দীর্ঘমেয়াদি মাত্রার মাত্র ৩১ শতাংশ। আগস্টে তা আরও কমে ওই মাত্রার প্রায় ১৪ শতাংশে নেমে আসে। নদীর পানির ঘাটতির আরেকটি বড় চিত্র পাওয়া গেছে এলিফ্যান্ট বাট জলাধারে। নিউ মেক্সিকোর এই গুরুত্বপূর্ণ জলাধারে গত ৩১ আগস্ট পানির পরিমাণ ছিল ধারণক্ষমতার দেড় শতাংশেরও কম। ওই তারিখের হিসাবে এটি ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তর। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়া এবং জলাধারে পানির পরিমাণ নেমে আসা খরা মোকাবিলা ও ভবিষ্যতের পানির চাহিদা পূরণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অঙ্গরাজ্য কাজ করছে। রিও গ্র্যান্ডে ও কলোরাডো—দুটি নদীই নিউ মেক্সিকোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির উৎস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে অন্য অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। সংকটের প্রভাব শুধু নিউ মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। টেক্সাসেও ভবিষ্যতের পানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অঙ্গরাজ্যটির ২০২৭ সালের পানি পরিকল্পনা অনুযায়ী, খরার সময় নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত বর্তমান পানির সরবরাহ ২০৩০ থেকে ২০৮০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সময়ে জনসংখ্যা ও পানির চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নতুন পানির উৎস তৈরি করা এবং পানি ব্যবস্থাপনার কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা না হলে টেক্সাসে পানির ঘাটতি ২০৩০ সালে বছরে প্রায় ৩৬ লাখ একর-ফুটে পৌঁছাতে পারে। ২০৮০ সালে এই ঘাটতি বেড়ে বছরে প্রায় ৫৮ লাখ একর-ফুট হতে পারে। এই হিসাব এমন পরিস্থিতির ভিত্তিতে করা হয়েছে, যখন অতীতের সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মতো পরিস্থিতি আবার ফিরে আসে। একর-ফুট পানির পরিমাণ মাপার একটি একক, যা এক একর জমিতে এক ফুট গভীরতায় জমে থাকা পানির সমান। রিও গ্র্যান্ডের সংকটের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি খরার পাশাপাশি পানির অতিরিক্ত ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ কমে গেলে মানুষ, কৃষি ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ে। নদীর পানি ও জলাধারের ওপর নির্ভরশীল এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু বৃষ্টির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। পানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো, বিদ্যমান উৎস সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিও গ্র্যান্ডের প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের পানির চাহিদা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বাড়ছে বিকল্প পাসপোর্টের চাহিদা
বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়
ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও, ফ্লোরিডায় স্কুল নিরাপত্তাকর্মী গ্রে প্তার
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ফেডারেল নিয়মের কারণে কিছু শ্রেণির বৈধ অভিবাসী সরকারি স্বাস্থ্যবিমা মেডিকেইডের পূর্ণ সুবিধা হারিয়েছেন। এতে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু মানুষের চিকিৎসার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও যাঁদের নিয়মিত ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন, তাঁদের পরিবারগুলো বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু অ-মার্কিন নাগরিকের জন্য মেডিকেইড এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব বৈধ অভিবাসী কিংবা বাংলাদেশি প্রবাসীর স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণাও সঠিক নয়। কারা সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করে তাঁদের অভিবাসন-অবস্থা, বয়স, গর্ভাবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ২০২৫ সালের কর ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের আওতায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল অঙ্গরাজ্যগুলোকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়। এরপর ১ অক্টোবর থেকে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে চিকিৎসার খরচ মেটাতে সহায়তা করে। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে এই কর্মসূচির অর্থায়ন করে। চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহনে অনেক পরিবার এই সুবিধার ওপর নির্ভর করে। ফলে যোগ্যতা হারালে তাঁদের নিজস্ব আয় থেকে চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। নতুন নিয়মে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, মানবপাচারের শিকার এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার কিছু ব্যক্তি সুবিধা হারিয়েছেন। তবে প্রত্যেকের অভিবাসন-অবস্থা আলাদা হওয়ায় সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দিষ্ট পরিবর্তন একইভাবে প্রযোজ্য নয়। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নির্ধারণে অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। কত মানুষ এই পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারিয়েছেন, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, অ্যারিজোনায় ১ অক্টোবর প্রায় ২৯ হাজার বৈধ অভিবাসী মেডিকেইডের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফ্লোরিডায় সম্ভাব্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার। এ ছাড়া নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী সুবিধা হারাতে পারেন বলে অনুমান করা হয়েছে। এসব সংখ্যা অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তথ্য ও হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাবিত মানুষের চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে এগুলোকে দেখা ঠিক হবে না। নতুন নিয়মের প্রভাব বোঝাতে অ্যারিজোনার টাকসনের একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা সামনে এসেছে। মারিয়া চাকনের ছেলে যিশু ১৭ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে নিজে শ্বাস নিতে পারেন না। তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র, খাবার দেওয়ার নল এবং প্রতিদিনের ওষুধ প্রয়োজন। পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য মাসে প্রায় ২৫ হাজার ডলার ব্যয় হতো, যার বড় অংশ বহনে মেডিকেইড সহায়তা করত। তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলের একটি ওষুধের দামই মাসে প্রায় সাত হাজার ডলার হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারানোর পর ছেলের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এটি একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা; অন্যদের চিকিৎসার প্রয়োজন ও ব্যয় ভিন্ন হতে পারে। স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা হারালে কিছু মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা পিছিয়ে দিতে পারেন। এতে রোগের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার পর জরুরি বিভাগে যেতে হতে পারে। রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ওপরও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের ২০২৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বাস্থ্যবিমা নীতির পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে আরও ৭৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমার বাইরে চলে যেতে পারেন। তবে এই পূর্বাভাস শুধু অভিবাসীদের নিয়ে করা হয়নি। তাই পুরো সংখ্যাটিকে মেডিকেইড হারানো অভিবাসীর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নতুন নিয়মের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মেডিকেইডের কেন্দ্রীয় অর্থায়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট শর্তে বৈধভাবে বসবাসরত শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য মেডিকেইড অথবা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা চালু রাখতে পারে। যাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব সবার ওপর এক নয়। তবে যাঁরা সুবিধা হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে
. অপরাধে ভাড়ার ই-বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর নিয়মের দাবি ওয়াশিংটনে
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ২ জনের মৃ ত্যু, বিদ্যুৎহীন ৮ লাখ গ্রাহক
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেশটির পারিবারিক সম্পদে বড় ধরনের বৈষম্য ও পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। ফেডের ত্রিবার্ষিক ‘সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেস’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের নেতৃত্বাধীন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ (১৮ মিলিয়ন) পরিবার বর্তমানে যে কোনো বয়সগোষ্ঠীর তুলনায় সর্বোচ্চ মধ্যক বা মিডিয়ান সম্পদের (নেট ওয়ার্থ) মালিক। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বয়সের পরিবারগুলোর গড় মিডিয়ান সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ডলারে। মূলত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, অবসরকালীন তহবিলের বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারের অভাবনীয় চাঙ্গাভাবই তাদের সবচেয়ে ধনী বয়সগোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবীণ আমেরিকানদের আর্থিক তহবিল ব্যাপকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে। তবে সমাজের সবচেয়ে ধনী এবং প্রবীণ অংশের এই আর্থিক সমৃদ্ধির ঠিক উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে তরুণ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সীদের নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলোর মিডিয়ান সম্পদ ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এক ধাক্কায় ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার ডলারে। ব্যবসায়িক ইক্যুইটি থেকে প্রাপ্ত আয় কমে যাওয়াই তরুণদের সম্পদ হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মহামারীর পর থেকে কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ফলে দেশটিতে ঋণ সংকটও তীব্র রূপ নিয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ আমেরিকান পরিবার বর্তমানে হোম লোন, ক্রেডিট কার্ড বা অন্যান্য ঋণের কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি এবং ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ১২টি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবার তাদের মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ব্যয় করছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে। এমনকি প্রবীণদের মধ্যেও এই অর্থনৈতিক বৈষম্য স্পষ্ট; সেখানে ৬৫ বা তার বেশি বয়সীদের প্রায় ১০ শতাংশ বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। সামগ্রিকভাবে প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট পরিবারের মাত্র ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী প্রবীণরা শেয়ার বাজার ও আবাসন খাতের সুবাদে শীর্ষে পৌঁছালেও, উচ্চ ঋণ ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দেশটির তরুণ প্রজন্ম তাদের সম্পদ গড়ার লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
সাবেক কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৬০০ ডলার পাঠিয়ে বিপাকে নিয়োগকর্তা, ফেরত নিয়ে জটিলতা