সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নিহত

দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ
সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ নিহত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মো. আলমগীর ও মো. ফরহাদ। তাদের দুজনের বাড়িই গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ এলাকায়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ঠিক কোন স্থানে, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং এতে অন্য কেউ আহত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   দুর্ঘটনার পর আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ রিয়াদের সুমাইসি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে তাদের স্বজনদের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় প্রবাসীদের বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।   তাদের মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের আব্দুল করিম (করিম উদ্দিন নামেও উল্লেখ করা হয়েছে) ও খালিদ আহমদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারা দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।   সর্বশেষ রিয়াদের দুর্ঘটনায় নিহত আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া বা জানাজার বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার কারণ ও মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, পদদলিত হয়ে নিহত ২৪ শিশু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর বুকাভুতে দুটি স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট পদদলনে অন্তত ২৪ শিশু নিহত হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটে বের হওয়ার সময় এ পদদলনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ৩০০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের সৃষ্টি হয়। এতে বহু শিশু হতাহত হয়। পূর্ব ডিআর কঙ্গোর এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত ও অস্থিরতায় রয়েছে। বুকাভু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ধর্মীয় উৎসবের মাঝেই মধ্য মেক্সিকোয় আতশবাজির ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মুহূর্তে আকাশ ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়
ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজির বিস্ফোরণ, মধ্য মেক্সিকোয় নিহত ১০, আহত ৬৪

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে একটি ধর্মীয় উৎসব চলাকালে আতশবাজির বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর একটি দেয়ালও ধসে পড়ে। শনিবার রাতে মেক্সিকো স্টেটের তেমাসকালসিঙ্গো এলাকায় নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে লা লুস গির্জার পাশে এ বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে পৃষ্ঠপোষক সন্তের সম্মানে আয়োজিত ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজছেন। আহতদের মধ্যে স্থানীয় দুই ধর্মযাজকও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার এক বিশপ। বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্তে মেক্সিকো স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। মেক্সিকোয় আতশবাজি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে ব্যাপকভাবে আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার বছর আগে দেশটির হিদালগো রাজ্যের হুয়েহুতলা এলাকায় আতশবাজির একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
সিয়াটলের বেলটাউনে গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা
বেলটাউনে একদিনে তিন গুলির ঘটনা, কিশোরসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বেলটাউন এলাকায় একদিনের মধ্যে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। রোববার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের পর এলিয়ট অ্যাভিনিউ ও বেল স্ট্রিট এলাকায় গুলির খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিশোরটিকে উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবকও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলির কিছুক্ষণ আগে সেখানে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। তবে কী নিয়ে ওই সংঘর্ষ এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনা বা হামলার উদ্দেশ্যও জানায়নি। এর আগে রোববার ভোরে বেলটাউনের ডেনি ওয়ে ও ক্লে স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজন পরে মারা যান। একই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক পুরুষ ও এক নারী পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এতে ওই ঘটনায় মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাস্তায় তিনজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। একই এলাকায় এর আগে স্ট্রিট রেসিং হলেও পুলিশের দাবি, এর সঙ্গে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থার্ড অ্যাভিনিউ ও ব্ল্যানচার্ড স্ট্রিট এলাকায় আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর এক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি গাড়িটিতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ বলছে, ভোরের দুটি গুলির ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাতের শেষের কিশোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনটি ঘটনায় মোট তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাগুলো প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই এলাকায় ঘটলেও পুলিশ এগুলোকে পৃথক ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তথ্য থাকলে পুলিশকে ২০৬-২৩৩-৫০০০ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৬২৬
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৬২৬, আন্তর্জাতিক উদ্ধার সহায়তা ফিরিয়ে দিল সরকার

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার পর্যন্ত দুই দেশে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের চতুর্থ দিনে উদ্ধার অভিযান চললেও বৈরী আবহাওয়ায় তা ব্যাহত হচ্ছে।    নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৬২৬ জনে পৌঁছেছে এবং ২ হাজার ৪২৬ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ সাতজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে এবং আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক, পর্যটক, শ্রমিক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন।    গত বুধবার হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে হিমবাহ, বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্তর ধসে নদীপথে নেমে আসার পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত ও কাদামাটির ঢল নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    নেপালের উদ্ধারকারীরা এখনো দুর্গত এলাকাগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন। বিশেষ করে রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কাদায় ভরা টানেলে শতাধিক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত কাদার স্তর ও হেলিকপ্টার অবতরণের উপযোগী জায়গার সংকটে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলছে।    দুর্যোগের পর পাহাড়ি এলাকায় নতুন একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। এ কারণে একপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে পানির উচ্চতা কমতে থাকায় ঝুঁকি কিছুটা কমেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। তবে পাহাড়ি হ্রদ ও নদীগুলোর পরিস্থিতি এখনো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।    নেপাল সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি দল পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল জানিয়েছেন, প্লাবিত টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধার, মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা এবং মরদেহ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা প্রয়োজন।    ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ভারত ও চীনের কাছে অস্থায়ী সেতু সরবরাহের অনুরোধ করেছে নেপাল।    এদিকে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে বিপুল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারপর্ব শেষ হওয়ার পরও নেপালের সামনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।  

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি
হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি, নিহত ৭৮ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি এসইউভি বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী চালক উইলি এইচ. স্মিথ জুনিয়র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু আগে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ ও উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।    বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, স্মিথ একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স এসইউভি নিয়ে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ দিয়ে পূর্বদিকে যাচ্ছিলেন। উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এসে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ১৯০০ ব্লক উডল্যান্ড ড্রাইভের একটি বাড়ির ছাদে গিয়ে আঘাত করে।    দুর্ঘটনার পর প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলেই স্মিথকে চিকিৎসা দেন। পরে তাকে স্থানীয় একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটিতে নেওয়া হলে কাউন্টি করনার লিওন জোনস তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।    দুর্ঘটনার পর বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়া এসইউভিটি সরাতে উদ্ধারকারী দলকে ক্রেন ব্যবহার করতে হয়। ঘটনাস্থলের ছবিতে বাড়ির ছাদে গাড়িটির অবস্থান এবং উদ্ধার তৎপরতার দৃশ্য দেখা যায়।   তবে ঠিক কী কারণে স্মিথ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার আগে তার কোনো মেডিকেল জরুরি অবস্থা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা এখনো জানাতে পারেননি। দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তারা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেননি।    বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসইউভিটি কীভাবে রাস্তা থেকে ছিটকে বাড়ির ছাদে উঠে গেল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো কারণ জানানো হয়নি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত অন্তত ২০

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতার কারণে কম্পনটি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।   ভূমিকম্পে ফ্লোরেস অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি এলাকায় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।   প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ দুইজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।   ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরে বিভিন্ন এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ শনাক্ত হলেও বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।   প্রবল কম্পনের সময় আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। নাজেওকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।   ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফ্লোরেস ও আশপাশের অঞ্চলও অতীতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চলছে। ফলে নিহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ায় ভবন ধস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ছবি:সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ভবন ধসে নিহত অন্তত ১১১, আহত বহু মানুষ

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত এবং আরও ৮৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন শহরে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং শত শত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।    ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়। রাজধানী বোগোতা থেকে এলাকাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। শক্তিশালী কম্পন দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয় এবং প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও এর প্রভাব পড়ে।    পেরেইরা, কালি, কুইবদো ও মানিজালেসসহ ২০টির বেশি পৌর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্থানে ভবন ধসে মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। দুর্গম ও দরিদ্র চোকো অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।    ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা থাকতে পারেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।    দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষ সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।    ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। কয়েকটি বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির কারণে বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণ চিত্র এখনও পরিষ্কার নয়। 

Unknown আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা
‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’ সৌদিতে আগুনে দুই ভাই নিহত

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দুই ভাই সুমন ও মোহন প্রামাণিক নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে শিফা থানা এলাকার ওই কারখানায় আগুন লাগার পর আটকা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই এলাকার আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।   সোমবার সকালে আত্রাইয়ের গন্ডগোহালী গ্রামে সুমন ও মোহনের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সন্তানদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের মা ময়না খাতুন।   কান্নাজড়িত কণ্ঠে ময়না খাতুন বলেন, তার বড় ছেলে সুমন প্রায় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। মেজো ছেলে মোহনও প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে কাজ করছিলেন। পরিবারের জন্য কষ্ট করে উপার্জন করলেও তারা কেউ ছুটিতে বাড়ি ফিরতে পারেননি।   ময়না খাতুন জানান, আগুন লাগার আগের দিন সকালে মেজো ছেলে মোহনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন মোহন তাকে বলেছিলেন, তিনি ভালো আছেন এবং মাকে খাওয়া-দাওয়া করে সুস্থ থাকতে বলেছিলেন।   কিন্তু আগুন লাগার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মায়ের কাছে পাঠানো শেষ ভয়েস মেসেজে মোহন জানান, তিনি আর কথা বলতে পারবেন না। আগুনে পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মায়ের কাছে শেষবারের মতো কথা বলেন তিনি।   সন্তানদের হারিয়ে ময়না খাতুন এখন তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, দুই ছেলেকে শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরে দেখতে চান। মোহন দেশে ফিরে বিয়ে করার পরিকল্পনার কথাও মাকে বলেছিলেন।   ময়না খাতুন বলেন, মোহন তাকে বলতেন দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। পছন্দের পাত্রী দেখে বিয়ের পর সংসার শুরু করার স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সৌদি আরবের কারখানার আগুনে প্রাণ হারালেন তিনি।   নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।   স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সুমন, একই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, একই গ্রামের রুবেল হোসেন ও কলি প্রামাণিক, পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল, বিশা গ্রামের সাগর ও মজিদুল এবং উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ রয়েছেন।   রিয়াদের শিফা থানা এলাকার সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লাগার পর সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আগুনের কারণ এবং অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।   প্রবাসে পরিবারের জন্য বছরের পর বছর পরিশ্রম করা এই শ্রমিকদের আকস্মিক মৃত্যুতে নওগাঁর আত্রাইয়ের একাধিক গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনরা এখন অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফেরার।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের
বিএসএফের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তের ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিজিবি।   নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুড়াইছড়া বস্তি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।   বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে তারা মিয়াসহ চার থেকে পাঁচজন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।   ঘটনার পর তারা মিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিএসএফের গুলির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পর তার মরদেহের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।   মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে এর আগেও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের মার্চে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।    সীমান্তে গুলির ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। নতুন এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বন্দুক হামলা
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো চত্বরের অদূরে সশস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকে ‘সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণ’ হিসেবে দেখছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।    মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের  তথ্যমতে, বেলিসারিও দোমিঙ্গেস ও রিপুবলিকা দে ব্রাসিল সড়কের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তিন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত দুই ব্যক্তি, দুজনেরই বয়স ৩৯ বছর, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   হামলার পরপরই মোটরসাইকেলে করে সন্দেহভাজন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রের একটি ব্যস্ত এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে জাল নথি তৈরি ও বিক্রির জন্য পরিচিত। যদিও মেক্সিকো সিটির কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, রাজধানীর পর্যটন ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের এত কাছে এ ধরনের প্রকাশ্য বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।    কর্তৃপক্ষ এখনও হামলার উদ্দেশ্য বা নিহত-আহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
'সবাইকে মেরে ফেলতে হবে’ হত্যাকাণ্ডের আগেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে রেস্তোরাঁ মালিকের ভয়ংকর মন্তব্য
'সবাইকে মেরে ফেলতে হবে’ হত্যাকাণ্ডের আগেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে রেস্তোরাঁ মালিকের ভয়ংকর মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে আলোচিত মিচেল পরিবার হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। নিহত রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা থাই মিচেলের পরিবারের করা এক দেওয়ানি মামলায় দাবি করা হয়েছে, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে বাড়ির রিং ক্যামেরায় স্বামী ম্যাথিউ মিচেলের অস্বাভাবিক আচরণ ও “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” ধরনের মন্তব্য রেকর্ড হয়েছিল। আদালতে দাখিল করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।    আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ মে হিউস্টনের রিভার ওকস এলাকার নিজ বাড়িতে থাই মিচেল, দম্পতির দুই শিশু সন্তান এবং ম্যাথিউ মিচেলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হ্যারিস কাউন্টি ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সেস জানায়, থাই মিচেল ও দুই শিশুর মৃত্যু ছিল হত্যাকাণ্ড, আর ম্যাথিউ মিচেলের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।    মামলায় থাই মিচেলের বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়িক ঋণ, আর্থিক সংকট এবং প্রতারণার অভিযোগে চাপে পড়ে ম্যাথিউ মিচেল পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেন। তাদের দাবি, ঘটনার আগে তিনি বাড়ির ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে পায়চারি করতেন এবং রিং ক্যামেরায় “সবাইকে মেরে ফেলতে হবে” বলে বিড়বিড় করতে শোনা যায়।   একই মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ম্যাথিউ মিচেলের মা বেটি মিচেল ও বোন মেরেডিথ মিচেল প্রায় ১৪ লাখ ডলারের সম্পদ ঋণদাতাদের কাছ থেকে আড়াল করতে সহায়তা করেছিলেন। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং ম্যাথিউ মিচেলের সম্পদের ওপর আদালত-নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট গঠনের আবেদন জানিয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।    ম্যাথিউ ও থাই মিচেল হিউস্টনের পরিচিত দুটি রেস্তোরাঁ, ট্রাভেলার্স টেবিল এবং ট্রাভেলার্স কার্ট এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পারিবারিক এই ট্র্যাজেডির পরও কিছুদিন দুটি রেস্তোরাঁ চালু ছিল। তবে সম্প্রতি ট্রাভেলার্স কার্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ট্রাভেলার্স টেবিল আগের মতোই চালু থাকবে।    ঘটনাটি হিউস্টনের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মামলার নতুন তথ্য প্রকাশের পর পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সংকটের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার শুনানি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জন্মদিনের হাসি বদলে গেল শোকে
জন্মদিনের হাসি বদলে গেল শোকে, গুলিতে প্রাণ গেল ২২ বছরের তরুণের

নিজের ২২তম জন্মদিন উদযাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে গুলিতে নিহত হয়েছেন এক তরুণ। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিনিক্স পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে তর্কের জেরেই এ প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।    পুলিশের তথ্যমতে, শনিবার ভোর সাড়ে ২টার দিকে ফিনিক্সের ১৬তম স্ট্রিট ও থমাস রোড এলাকার একটি এআরসিও গ্যাস স্টেশন থেকে গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কর্মকর্তারা। সেখানে ২২ বছর বয়সী হুলিও অ্যাঞ্জেল ওসিফে দিয়াজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।    নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার আগের রাতেই তিনি পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে নিজের ২২তম জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন। আনন্দঘন সেই উদযাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, এটি তারা কল্পনাও করেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে পরিশ্রমী, প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে দিয়াজের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয় এবং পরে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।    পুলিশের ভাষ্য, নিহত ও সন্দেহভাজন একে অপরের পরিচিত ছিলেন না। কী কারণে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। তাদের ভাষায়, একটি আনন্দের দিন মুহূর্তেই আজীবনের শোকে পরিণত হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জীবন নিয়ে আমি আতঙ্কিত, মৃত্যুর চার মাস আগেই এইচআরকে লিখেছিলেন চিঠি!
জীবন নিয়ে আমি আতঙ্কিত, মৃত্যুর চার মাস আগেই এইচআরকে লিখেছিলেন চিঠি!

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে কর্মস্থলে সহকর্মীর গুলিতে নিহত এক সিটি কর্মী মৃত্যুর কয়েক মাস আগে মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগকে ই-মেইলে লিখেছিলেন, “আমি আমার জীবন নিয়ে ভয় পাচ্ছি।” নতুন প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা কর্মস্থলের বিরোধ, একের পর এক অভিযোগ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রাণঘাতী সহিংসতায় গড়ায়।    প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, নিহত সিটি কর্মী জোয়ি ম্যাকলিন ও অভিযুক্ত সহকর্মী ব্রাইসেন কিমের মধ্যে অন্তত ছয় মাস ধরে বিরোধ চলছিল। এই সময়ে দুজনই একাধিকবার এইচআর বিভাগে অভিযোগ করেন এবং তাদের মধ্যে সংঘাত নিরসনে প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল।    তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, ঘটনার কয়েক মাস আগে ম্যাকলিন এক ই-মেইলে লিখেছিলেন যে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং কর্মস্থলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্রাইসেন কিমও পুলিশের কাছে দাবি করেন, তিনিও দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীর আচরণে আতঙ্কিত ছিলেন এবং একাধিকবার এইচআর ও কর্মস্থল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার কয়েক দিন আগে ম্যাকলিন তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং সেগুলো এখনো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন সকালে লাস ভেগাস সিটির মেইনটেন্যান্স বিভাগে দুই কর্মীর মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ব্রাইসেন কিম গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন জোয়ি ম্যাকলিন, পরে তার মৃত্যু হয়। গুলির পর অভিযুক্ত নিজেই ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনার কথা জানান।    তদন্তে সাক্ষীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক কিমকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, ধস্তাধস্তির মধ্যেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালান। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।    এদিকে ক্লার্ক কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি ব্রাইসেন কিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।   ঘটনার পর লাস ভেগাস সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তা সেবা চালু রাখা হয়েছে এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আগে পাওয়া অভিযোগগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, সেটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় তরুণী কিরণদীপ কৌর
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় অবস্থানরত তরুণীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাতে মৃ ত্যু!

যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকায় স্বামী ও তিন মাসের শিশুর পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণী কিরণদীপ কৌর। বিদেশে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া এই তরুণীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ নিজ জন্মভূমি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই সকালে পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকার আক্সব্রিজ রোডের একটি বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় কিরণদীপ তাঁর স্বামী ও তিন মাস বয়সী সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন।   অভিযোগ, হঠাৎ এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে ঢুকে কিরণদীপের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার শব্দ শুনে তাঁর স্বামী ঘুম থেকে জেগে উঠলেও ততক্ষণে হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।   জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে কিরণদীপকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।   ঘটনার পর পুলিশ ৪৪ বছর বয়সী ড্যানিয়েল শন জেমস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, একজনকে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের প্রাথমিক শুনানিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন না এবং কিরণদীপের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   কিরণদীপ ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতের পাঞ্জাবের তারন তারান জেলার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে পড়াশোনা করে তিনি একটি ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করবেন। তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর জন্য দরিদ্র পরিবারটি প্রায় ২৫ লাখ রুপি খরচ করেছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।   কিরণদীপের মা ও ভাই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা মেয়েকে নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনার কথা তাঁরা কখনো কল্পনাও করেননি। তারা শুধু ন্যায়বিচার এবং কিরণদীপের মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ চান।   এদিকে মরদেহ ভারতে পাঠানো এবং শেষকৃত্যের খরচ বহনের জন্য যুক্তরাজ্যের সাউথহল এলাকার একটি গুরদ্বারা ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   কিরণদীপের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় ও পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবহরে সশস্ত্র হামলা
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫; তদন্ত দাবি জাতিসংঘের

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে মানবিক সহায়তাবাহী একটি বহরে সশস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ এবং দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সোমবার জংলেই অঙ্গরাজ্যের ডুক কাউন্টিতে স্থানীয় অংশীদার সংস্থার পরিচালিত একটি ত্রাণবহরের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও চারজন আহত হন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও হতাহত হয়েছেন। ডুজারিক বলেন, দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হামলার সময় বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তাবাহী হিসেবে চিহ্নিত ছিল, তবুও তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।   হামলার শিকার বহরটি পরিচালনা করছিল জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম এলাকা থেকে পাজুতের উদ্দেশে ফিরছিলেন। ফেরার পথেই তাদের বহরের ওপর হামলা চালানো হয়। জেডিএফ এই ঘটনাকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।   এদিকে জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ২০১১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহাত্মক সংঘাত ও সহিংসতার কারণে দক্ষিণ সুদান দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানবিক সংকটে রয়েছে। জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতি দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুতর মানবিক সংকটপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ত্রাণকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোকে কঠিন করে দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সীমান্ত শহরে গুলিতে নিহত বিপ্লবী গার্ডের দুই সদস্য
ইরানের সীমান্ত শহরে গুলিতে নিহত বিপ্লবী গার্ডের দুই সদস্য

ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী শহর পাভেহতে সশস্ত্র হামলায় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি।   প্রতিবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা একটি বাড়ির ভেতরে ঢুকে ওই দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।   তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠীর নাম নিশ্চিত করা হয়নি। ইরান সাধারণত এ ধরনের হামলার জন্য কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে থাকে।   পাভেহ শহরটি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তবর্তী এসব এলাকায় কুর্দি জনগোষ্ঠীর বসবাস এবং তাদের একটি অংশের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠেছে।   ইরান সরকার অভিযোগ করে আসছে, এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বিদেশি শক্তির সমর্থন পেয়ে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সহায়তার অভিযোগ তোলে তেহরান।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি “কাপুরুষোচিত সশস্ত্র হামলা”। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এ ধরনের হামলা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও সামনে চলে এসেছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক মেয়রের মেয়ে নিহত। ছবি: সংগীত
ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক মেয়রের মেয়ে গ্যাস স্টেশনে গুলিতে নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের Greenfield শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে সশস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন হলেন Elizabeth Saavedra, যিনি Soledad শহরের সাবেক মেয়র John Saavedra-এর মেয়ে।   স্থানীয় পুলিশ জানায়, সোমবার Fastrip gas station-এ জ্বালানি নেওয়ার সময় এক দম্পতির ওপর একাধিক বন্দুকধারী অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পুলিশ কর্মকর্তার মাত্র ৫৩ সেকেন্ড সময় লাগে। তবে হামলার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।   Aldo Juan Mandujano (২৬) এবং Elizabeth Saavedra (৩২) নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে Monterey County Sheriff's Office।   Guillermo Mixer জানান, প্রাথমিক তদন্তে হামলাটি গ্যাং-সংক্রান্ত প্রতিশোধমূলক হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এলিজাবেথ সাভেদ্রার কোনো গ্যাং-সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত দম্পতি গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার সময় হামলাকারীরা প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তদন্তকারীদের ধারণা, গত মে মাসে King City-এর এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।   Anna Velazquez এক শোকবার্তায় বলেন, এলিজাবেথ সাভেদ্রার মৃত্যু পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি জানান, সাভেদ্রা ছিলেন একজন নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক এবং Baile Folklórico Costa de California-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি একটি বার্বারশপের মালিকও ছিলেন।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলিজাবেথ সাভেদ্রা চার বছর বয়সী যমজ দুই ছেলের মা ছিলেন। তার স্মরণে ২ ও ৩ জুলাই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে ছবি বা ভিডিও থাকলে তা তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মিজৌরিতে স্কাইডাইভিং বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনা
মিজৌরিতে স্কাইডাইভিং বিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনা: নিহত ১২

যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যে একটি স্কাইডাইভিং বিমানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১১ জন স্কাইডাইভার ও একজন পাইলট নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে, যা এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।   বেটস কাউন্টি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং কোম্পানি ভাড়া নিয়েছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতায় উঠতে ব্যর্থ হয়। পরে এটি হঠাৎ বাঁ দিকে মোড় নেয় এবং বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দরের অদূরে, মাত্র প্রায় ২০০ গজ দূরে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা সব ১২ আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।   বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন বলেন, “আমরা এটিকে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে দেখছি।” তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় পতিত বিমানটি কোনো বাণিজ্যিক এয়ারলাইনের নয়; এটি একটি স্থানীয় বিমান, যা ওই বিমানবন্দর থেকেই উড্ডয়ন করেছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, বিমানটি প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি৭৫০ মডেলের ছিল—যা সাধারণত স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটির জন্য কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সার্ভিস সক্রিয় ছিল না। তবে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমার নিয়ম অনুযায়ী এমন যোগাযোগ বাধ্যতামূলক ছিল না বলেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।   দুর্ঘটনার পর স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা আশপাশের এলাকা তল্লাশি চালান, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় দুর্ঘটনার আগে কোনো স্কাইডাইভার বিমান থেকে লাফ দিয়েছিলেন কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   শেরিফ অ্যান্ডারসন জানান, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের স্বজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নিজের চোখে দুর্ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   মিজৌরির বাটলার শহরটি কানসাস সিটি থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা উড্ডয়নের সময় কোনো জটিলতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।   এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। স্কাইডাইভিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চারমূলক কার্যক্রমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় হামলায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মীসহ ২ জন নিহত, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

জর্জিয়ার আটলান্টায় পৃথক সহিংস হামলার ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর এক কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের একজন লোরেন বুলিস , যিনি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি -এর অফিস অফ ইন্সপেক্টর জেনারেল -এ কর্মরত ছিলেন। তিনি সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে হামলার শিকার হন। আরেক নারী পৃথক স্থানে নিহত হন।   পুলিশ জানিয়েছে, আহত এক পুরুষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের নাম ওলাওলুকিতান এডন আবেল। তদন্তকারীরা জানান, হামলাগুলো এলোমেলোভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার পর ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।   তদন্ত শেষে হামলার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের কাছে গুলিবর্ষণ, নিহত ২

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের আশপাশে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত দুইজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।   বুধবার স্থানীয় সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ঘটনাস্থলে কয়েক মিনিট ধরে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের সামনে টানা গুলিবর্ষণ চলছে এবং এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য কিছু ফুটেজে এক হামলাকারীকে পার্ক করা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির আড়াল নিয়ে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। কনস্যুলেটটি ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থিত।   ২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তুরস্কে কোনো ইসরায়েলি কূটনীতিক অবস্থান করছেন না। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজন একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যারা ধর্মকে অপব্যবহার করে। নিহতদের মধ্যে দুজন সহোদর ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০