সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পবিত্র কুরআন

মেয়ে আশুরার কোরআন মুখস্থের অর্জনের কথা জানিয়েছেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা

চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে হাফেজার মর্যাদা অর্জন করেছেন। ১৭ অক্টোবর চেচেনিয়ার রাজধানী গ্রোজনির মেয়র কার্যালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই খবর প্রকাশ করেছে ইসলামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইসলামনিউজ। তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যবসায়, ধৈর্য ও নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে এ অর্জন করেছেন আশুরা।   রমজান কাদিরভও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের এ অর্জনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশুরার এই সাফল্যে তাঁদের পরিবার আনন্দিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার পাশাপাশি শব্দের অর্থ বোঝা ও শুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের অনুশীলন করেছেন আশুরা। এ দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পরিবারের দোয়া ও সহযোগিতাও ছিল।   এ উপলক্ষে রমজান কাদিরভের বাসভবনে চেচেনিয়ার মুফতি সালাহ-হাজি মেজিয়েভের নেতৃত্বে ধর্মীয় আলেমরা যান। সেখানে তাঁরা দোয়া করেন এবং আশুরা পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। কাদিরভ তাঁদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোরআনের জ্ঞান আশুরার জীবনে পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।   ইসলামি পরিভাষায়, যিনি সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেন, তাঁকে ‘হাফেজ’ এবং নারী হলে ‘হাফেজা’ বলা হয়। কোরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি এর অর্থ বোঝা ও শিক্ষা অনুযায়ী জীবনযাপনের ওপরও ইসলামি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। আশুরার এ অর্জনকে তাঁর পরিবার ধর্মীয় শিক্ষা ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে।   সূত্র: গ্রোজনি সিটি হল, ইসলামনিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
স্বচ্ছ কালো রেশমের পাতায় সোনা ও রুপার কালি দিয়ে লেখা পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
স্বচ্ছ কালো রেশমি কাপড়ে সোনা-রুপার কালি দিয়ে পুরো কোরআন লিখেছেন আজারবাইজানের শিল্পী

পবিত্র কোরআনের বাণীকে শৈল্পিক রূপ দিতে যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম ক্যালিগ্রাফাররা নানা মাধ্যম ব্যবহার করে আসছেন। এবার সেই ঐতিহ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আজারবাইজানের প্রখ্যাত শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। তিনি স্বচ্ছ কালো রঙের রেশমি বা সিল্ক কাপড়ের ওপর সোনা ও রুপার কালি দিয়ে সম্পূর্ণ কোরআন হাতে লিখেছেন। তার এই অসাধারণ শৈল্পিক কাজ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি নিখুঁত নিষ্ঠার অপূর্ব এক নিদর্শন হয়ে উঠেছে তার এই সৃষ্টি।   এই অসামান্য প্রকল্পটি শেষ করতে শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদেকে টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য তার প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত মানের কালো রেশমি কাপড়ের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি অক্ষর ও আয়াত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও ধৈর্য কাজে লাগিয়েছেন। লেখার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তিনি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কোরআনের একটি সংস্করণকে মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে পবিত্র গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।   রেশমি কাপড়ের ওপর কোরআন লেখার এই অভিনব ধারণার পেছনে রয়েছে শিল্পীর দীর্ঘদিনের গভীর গবেষণা। কোরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে আগে চামড়া বা কাগজের ওপর কোরআন লেখা হলেও সম্পূর্ণ কোরআন রেশমি কাপড়ের ওপর লেখার কোনো পূর্বনজির সেভাবে নেই। সিল্ক বা রেশম কাপড়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এর আভিজাত্য তাকে এই বিশেষ উপাদানটি বেছে নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।   মেমেদজাদের এই কঠোর পরিশ্রম ও শৈল্পিক একাগ্রতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার তৈরি রেশমি কাপড়ের এই কোরআনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টের আর্থার এম. স্যাকলার গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থী এবং শিল্প সমালোচকরা এই অসাধারণ শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই কাজটি কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থের অনুলিপি নয় বরং এটি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ঐতিহ্য, শিল্পীর অসীম ধৈর্য এবং পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্যের প্রতি গভীর উপলব্ধির এক অনন্য মেলবন্ধন।   ইসলামী শিল্পকলায় ক্যালিগ্রাফি বা চারুলিপির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন। যুগে যুগে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই ধারাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন এবং নতুনত্ব এনেছেন। আজারবাইজানের এই শিল্পীর কাজটি সেই ঐতিহাসিক পরম্পরারই একটি আধুনিক ও সৃজনশীল রূপ। সোনা ও রুপার কালিতে কালো সিল্কের ওপর ফুটে ওঠা প্রতিটি আয়াত যেন এক একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এমন একটি মাস্টারপিস তৈরি করার মাধ্যমে তুনজালে মেমেদজাদে ইসলামী শিল্পকলার ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে নিলেন।   সংবাদ সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট এবং প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
স্বর্ণের গহনার কাজ ছেড়ে আলি জামান ৬ বছরে হাতে লিখলেন বিশাল পবিত্র কোরআন
স্বর্ণের গহনার কাজ ছেড়ে আলি জামান ৬ বছরে হাতে লিখলেন বিশাল পবিত্র কোরআন

ইরাকের সাবেক স্বর্ণকার ও ক্যালিগ্রাফার আলি জামান ছয় বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে হাতে লিখে তৈরি করেছেন বিশাল আকারের একটি পবিত্র কোরআন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তৈরি এই অনুলিপির প্রতিটি অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ মিটার এবং প্রস্থ দেড় মিটার। আকার ও নির্মাণশৈলীর কারণে কাজটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, আলি জামানের তৈরি সম্পূর্ণ কোরআনটি ৩০২টি দুই পাশে লেখা বড় শিট বা স্ক্রল নিয়ে গঠিত। প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৫ ফুট। পাশাপাশি রাখা হলে একটি খোলা অংশ প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত জায়গা নেয়।   ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়ার রাণিয়া এলাকায় ১৯৭১ সালে জন্ম আলি জামানের। জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করলেও ছোটবেলা থেকেই আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ২০১৩ সালে জুয়েলারির কাজ ছেড়ে পুরোপুরি ক্যালিগ্রাফিতে মনোযোগ দেন তিনি।   ২০১৭ সালে পরিবার নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলে যান আলি জামান। ইসলামী ক্যালিগ্রাফির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা শহরটিতেই নিজের শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে ছোট আকারের একটি বড় কোরআন অনুলিপির কাজও করেছিলেন তিনি।   পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিসরের একটি কোরআন তৈরির পরিকল্পনা শুরু করেন। প্রায় এক বছর ধরে প্রয়োজনীয় উপকরণ, মাপ ও নকশা নিয়ে প্রস্তুতির পর ২০২০ সালের দিকে মূল কাজ শুরু করেন। এরপর টানা ছয় বছর ধরে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তিনি প্রকল্পটি সম্পন্ন করেন।   তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, আলি জামান আধুনিক প্রিন্টিং বা ডিজিটাল প্রযুক্তির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কোরআনের প্রতিটি অক্ষর তিনি হাতে লিখেছেন প্রচলিত কামিশ বা রিড পেন ব্যবহার করে। লেখার জন্য বেছে নিয়েছেন ইসলামী ক্যালিগ্রাফির পরিচিত থুলুথ লিপি।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, লেখার জন্য ব্যবহৃত বড় শিটগুলোও বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো তৈরিতে ডিম, কর্নস্টার্চ ও অ্যালামের মতো ঐতিহ্যবাহী উপাদানের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। ফলে শিটগুলো সাধারণ কাগজের তুলনায় মোটা এবং অনেকটা পার্চমেন্টের মতো।   ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকার মিহরিমাহ সুলতান মসজিদের একটি ছোট কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করেছেন আলি জামান। তার দৈনন্দিন রুটিন শুরু হতো ফজরের নামাজের পর। খাবার ও নামাজের বিরতি ছাড়া দিনের বড় অংশ তিনি ক্যালিগ্রাফির কাজে কাটাতেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।   কাজটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কোরআনের দাবি করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্বীকৃতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বরেকর্ডধারী কোরআন বলা ঠিক হবে না।   গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকা অনুযায়ী, দীর্ঘতম হাতে লেখা কোরআন স্ক্রলের রেকর্ড ভারতের কেরালার জাসীম মোহাম্মদের নামে। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেরালার কালিকটে তিনি ১ হাজার ১০৬ মিটার দীর্ঘ হাতে লেখা কোরআন স্ক্রল তৈরি করে রেকর্ডটি অর্জন করেন।   তবে জাসীম মোহাম্মদের কাজটি দীর্ঘ স্ক্রলের রেকর্ড, আর আলি জামানের কাজটি বিশাল আকারের পৃথক হাতে লেখা শিট দিয়ে তৈরি। ফলে দুটি কাজের ধরন আলাদা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আলি জামানের সৃষ্টিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হাতে লেখা কোরআন হিসেবে উল্লেখ করেছে।   ছয় বছরের কাজ শেষ হওয়ার পর আলি জামান বলেছেন, জীবদ্দশায় এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারাকে তিনি বিশেষ সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে তার তৈরি কোরআনটি এমন কোনো জাদুঘর বা স্থানে প্রদর্শিত হোক, যেখানে মানুষ ইসলামী ক্যালিগ্রাফির এই কাজ কাছ থেকে দেখতে পারবেন, এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র ২৬ দিনে সবাইকে অবাক করে কোরআন মুখস্থ করেছে গাজার ১৪ বছরের মুহান্নাদ
মাত্র ২৬ দিনে সবাইকে অবাক করে কোরআন মুখস্থ করেছে গাজার ১৪ বছরের মুহান্নাদ

গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের মুহান্নাদ আল-হাসানি ২০১৫ সালে মাত্র ২৬ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। ওই বছরের ২৫ জুলাই প্রকাশিত আল জাজিরা নেটের প্রতিবেদনে তাঁর এই অর্জনের কথা উঠে আসে।    মুহান্নাদ জাবালিয়ার ‘আল-আওদা ইলাল্লাহ’ মসজিদে ‘আন-নুখবা’ নামের নিবিড় কোরআন মুখস্থ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ফজরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকতেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫ পৃষ্ঠা মুখস্থ করে শিক্ষকের কাছে পড়ে শোনাতেন।    আল জাজিরাকে মুহান্নাদ বলেছিলেন, কর্মসূচিটি নিবিড় হলেও তাঁর কাছে বিরক্তিকর লাগেনি। কোরআন মুখস্থ শেষ করার পর তিনি তা মনে রাখার জন্য নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করছিলেন। একই কর্মসূচিতে গাজার আরও কয়েকজন কিশোর কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। ঘটনাটি ২০১৫ সালের; এটি সাম্প্রতিক কোনো অর্জনের খবর নয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আল-আজহারে দশ কেরাতে সর্বোচ্চ সনদ পেলেন বাংলাদেশি রায়হান মাহমুদ
আল-আজহারে দশ কেরাতে সর্বোচ্চ সনদ পেলেন বাংলাদেশি রায়হান মাহমুদ

ঢাকার সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার রাজাঘাট গ্রামের সন্তান হাফেজ মাওলানা মুফতি কারী রায়হান মাহমুদ আজহারী পবিত্র কোরআনের ১০ ধরনের কেরাতে সনদ অর্জন করেছেন। সম্প্রতি মিশরে তিনি এই সনদ অর্জন করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় একাধিক সাফল্য এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে কোরআন, ক্বিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি।   রায়হান মাহমুদের পিতা হাজী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধার পরিচয় দেওয়া রায়হান সাভারের বড় মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকার বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ পরিচালিত মাদ্রাসাতুল মাদীনা এবং মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন তিনি। পরে কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম থেকে মুফতি কোর্স সম্পন্ন করেন। এসব শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি ‘মুমতাজ’ ফল অর্জন করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এরপর ক্বিরাত শিক্ষায় আরও এগিয়ে যেতে লালবাগের মা’হাদুল ক্বিরাত থেকে উচ্চতর তাজবিদ ও ক্বিরাতের শিক্ষা নেন রায়হান। উচ্চশিক্ষার জন্য পরে মিশরে পাড়ি জমান তিনি। কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির তানতা শাখায় ‘উলুমুল কোরআন ও ক্বিরাত’ বিভাগে পড়াশোনা করছেন।    আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাতেও রায়হান মাহমুদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। মিশরের ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৫৫টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। এছাড়া ‘ওফাউল আজয়াল’ ও ‘সুফারাউল হিদায়া’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের কৃতিত্বও রয়েছে তার।    কোরআনের তিলাওয়াত, তাজবিদ ও ক্বিরাতে দক্ষতার পাশাপাশি রায়হান আরবি ও বাংলা ভাষায় পারদর্শী এবং ফিকহ বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। ২০২৬ সালে তারাবির নামাজ পড়ানোর জন্য তিনি জাপান সফর করেন। একই বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্যও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    সাভারের একটি মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করে মিশরের আল আজহারে উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের এই ধারাবাহিকতা রায়হান মাহমুদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তার এই অর্জনে শিক্ষক, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দিত। কোরআন, ক্বিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় ভবিষ্যতে তিনি আরও উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর

ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের উত্তরে আল-রাম এলাকার ১৫ বছর বয়সী কিশোরী হুর আবদিন একটানা এক বসায় সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মুখস্থ থেকে তেলাওয়াত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফিলিস্তিনে অনুষ্ঠিত এই তেলাওয়াতে তার নির্ভুলতা, মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অনলাইনের দর্শকদেরও নজর কেড়েছে।   সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ থেকে একটানা তেলাওয়াত করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। এর জন্য দীর্ঘদিনের অনুশীলন, শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি, গভীর মনোযোগ এবং কোরআনের আয়াত ও সূরাগুলোর ওপর ব্যাপক দখল প্রয়োজন।   ইসলামি পরিভাষায়, যিনি সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেন তাকে হাফেজ বা হাফেজা বলা হয়। আর এক বসায় পুরো কোরআন তেলাওয়াত সম্পন্ন করা হিফজ করা ব্যক্তির জন্যও বিশেষ ধরনের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।   হুর আবদিনের এই তেলাওয়াতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার অধ্যবসায় ও কোরআন মুখস্থ করার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন।   ফিলিস্তিনে চলমান নানা সংকটের মধ্যে কিশোরী হুরের এই অর্জন স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে এক বসায় পুরো কোরআন তেলাওয়াতের নির্দিষ্ট সময় বা আনুষ্ঠানিক কোনো রেকর্ডের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন
ইসরাইলিদের তাণ্ডবে আগুনে পুড়ল ফিলিস্তিনি গ্রাম, ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রাম সাররায় শতাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় একাধিক বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর আতঙ্কে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে ফিরে এসে পোড়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআনের কপি উদ্ধার করেন।    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, শুক্রবার রাতে প্রায় ২০০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নাবলুস শহরের পশ্চিমে অবস্থিত সাররা গ্রামে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বহু পরিবারের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  হামলার পর পুরো এলাকাজুড়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে আগুন নেভার পর তারা ফিরে এসে পোড়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করেন। অনেকেই আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআন উদ্ধার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।    এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ঘটনার পর পুরো নাবলুস অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরায়েলি বাহিনী, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং পরে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়।    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ধরনের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০