- প্রচ্ছদ
- Topic
ভবিষ্যৎ
নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের ভবিষ্যৎ কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের খরচ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক সিটির NYC Kids RISE Save for College Program বুধবার, ৭ অক্টোবর বাংলাসহ একাধিক ভাষায় বিনামূল্যের তথ্যভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করেছে। কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে পড়া শিশুদের পরিবারকে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয় কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। আজকের কর্মশালায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা, উর্দু ও কোরিয়ান ভাষায় সরাসরি অনুবাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। NYC Kids RISE-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসে। অংশগ্রহণকারী চার্টার স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের আয় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই প্রাথমিক অন্তর্ভুক্তি নির্ধারিত হয় না। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিশুদের জন্য একটি NYC Scholarship Account তৈরি করা হয়। এই অ্যাকাউন্টে কলেজ ও ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে। পরিবারগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন পুরস্কার ও কমিউনিটি স্কলারশিপের মাধ্যমে সন্তানের অ্যাকাউন্টে আরও অর্থ যোগ করার সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য বাংলায় তথ্য পাওয়ার সুযোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে এবং বাংলা ভাষায় সরকারি বা কমিউনিটি সেবার তথ্য পাওয়া অনেক পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ করে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের কমিউনিটি উপস্থিতিও রয়েছে। আজকের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা কীভাবে কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন, সন্তানের অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহার করবেন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে জানতে পারবেন। এই ধরনের কর্মসূচি বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হতে পারে। ছোটবেলা থেকে সঞ্চয়ের সুযোগ সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করা ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যয় পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য তাই সন্তানের স্কুল ও শিক্ষা-সংক্রান্ত সরকারি সুবিধাগুলোর পাশাপাশি এই ধরনের সঞ্চয় ও বৃত্তি কর্মসূচির তথ্য নিয়মিত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আজকের কর্মশালাটি ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিটি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস ও নিউইয়র্ক সিটির অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, গত ১৭ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনিয়মের কারণে শিক্ষার মূল ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরো জাতির ওপর পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও আর্থিক বৃত্তি দেওয়া হয়। রিজভীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল শিক্ষার গুণগত মান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই শিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও নিবেদিত শিক্ষক, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ। গত ১৭ বছরের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে রিজভী অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার মান ও পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে এসব বক্তব্য রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর স্বাধীন প্রমাণ বা পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নতুন প্রজন্ম কী ধরনের শিক্ষা পাচ্ছে তার ওপর। শিক্ষার্থীরা যেন কেবল পরীক্ষায় পাস বা সনদ অর্জনের জন্য পড়াশোনা না করে, বরং বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর মতো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে—এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল ধরে রাখা এবং দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর ধরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন মাধুর মেহতা। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৬ সালে এইচ-১বি ভিসাও পেয়েছেন। তবু যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে ঘর কেনা কিংবা পরিবার শুরু করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। কারণ, ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ৩৫ বছর বয়সী মেহতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেন। পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিসার নিশ্চয়তা পাচ্ছিলেন না। ২০২৫ সালে অ্যামাজনে যোগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তার এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। নতুন লটারি ব্যবস্থায় বেতনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও তখন উদ্বেগে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে ভিসা নির্বাচিত হওয়াকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখেন মেহতা। তবে এইচ-১বি পাওয়ার পরও তার দুশ্চিন্তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। চাকরি হারালে সাধারণত নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য সীমিত সময় থাকে। ফলে চাকরি ও ভিসার অবস্থার ওপর তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভরশীল। মেহতার বাগদত্তাও ভারতের নাগরিক এবং তার এইচ-১বি লটারিতে আর মাত্র একটি সুযোগ বাকি। দুজনের ভিসার পরিস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মেহতার পরিচিত অনেক অভিবাসীও ভিসার অনিশ্চয়তার কারণে এখনো বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে তিনি জানান। মেহতা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য এখন ইবি-১এ ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি পেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও নিশ্চিন্তভাবে পরিকল্পনা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বিষয়টিও সামনে আনছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসা পাওয়া কর্মীদের বড় একটি অংশকে কয়েক বছর ধরে চাকরি, ভিসা এবং স্থায়ী বসবাস—তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে হয়।
পাকিস্তান বা কাতার—মধ্যস্থতাকারী যে-ই হোক না কেন, সবার একটাই অভিন্ন বার্তা: 'শান্তিকে একটি সুযোগ দেওয়া উচিত।' বর্তমানে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছে। চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে তারা সেখানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই সংঘাত নিয়ে বৃহত্তর উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। তারা ইরানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে তাদের নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এ ধরনের হামলা সাধারণ নাগরিকদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করে, এই যুদ্ধে তাদের সম্পূর্ণ ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক টেনে আনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা অত্যন্ত কঠিন। যেকোনো মুহূর্তে অবস্থা যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। পূর্ববর্তী বিভিন্ন সংঘাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কখনো কখনো চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগমুহূর্তে কোনো এক পক্ষ নিজেদের আধিপত্য প্রমাণের লক্ষ্যে পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তপ্ত করে তোলে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, কোনো এক পক্ষের আচমকা সামরিক বা গতিশীল অভিযান (কাইনেটিক অপারেশন) পুরো পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।