ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র এক রাতের সামরিক অভিযানেই ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে সক্ষম এবং সেই অভিযান শুরু হতে পারে ‘আগামীকাল রাতেই’। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল Dan Caine। সংবাদ সম্মেলনে মূলত ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানের বিষয়ে কথা বলা হয়। ট্রাম্প ওই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সেনাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই অভিযানে মোট ২১টি সামরিক উড়োজাহাজ অংশ নেয়। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো সম্ভব। বিশেষ করে ‘আগামীকাল রাত’ উল্লেখ করে দেওয়া এই বার্তাকে অনেকেই একটি স্পষ্ট আলটিমেটাম হিসেবে দেখছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো Pentagon বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক হুমকিকে কেন্দ্র করে ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া ভাষায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরান সাড়া না দিলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব হুমকিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ইরানি নাগরিক জানান, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও সংকট তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। তেহরানের এক তরুণ বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা কাজ করছে—বিদ্যুৎ, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার অভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অনেকে ইতোমধ্যে খাদ্য ও পানির মজুত শুরু করেছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক নারী বাসিন্দা। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে তারা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। ইরানের ভেতরে মতপার্থক্যও স্পষ্ট। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, তবে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনাকে অনেকেই ‘লাল দাগ’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁদের মতে, এমন হামলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষই। এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। নির্মাণ ও সেবা খাতের অনেকেই কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে অনেকাংশে। দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ তথ্যপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিকল্প উপায়ে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলেও তা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সংকট—এই তিনের চাপের মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ট্রাম্প ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের তেলের বিশাল মজুদ নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে ওই সম্পদ ‘দখল’ করতে চাইতেন এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আয় সম্ভব হতো বলে দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকরা দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে আছেন। তবে যুদ্ধবিরোধী নাগরিকদের তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ‘বোকা’ বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা হিসেবে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেননি। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, প্রণালিটি পুনরায় চালু করার জন্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আলটিমেটাম চূড়ান্ত। ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও ‘যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কোনোভাবেই শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। আইআরজিসি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডকে 'হাস্যকর কার্যকলাপ' হিসেবে অভিহিত করে স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে এই প্রণালির ওপর তাদের দৃঢ় ও দাপুটে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের রাষ্ট্রপতি তার কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব বিবেচনার ক্ষেত্রে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি যখন পুরোপুরি "উন্মুক্ত, বাধামুক্ত ও নিরাপদ” হবে, কেবল তখনই তিনি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাববেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে তেহরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান এখনো ইসরায়েল-এর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রাখে। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই সক্ষমতা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি নয়। ধারণকৃত এক বার্তায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের শক্তিও আগের মতো নেই এবং তারা এখন আর ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বিবেচিত নয়। তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলের কিছু দেশের সঙ্গে নতুন ধরনের মিত্রতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও সম্ভাব্য এসব মিত্র দেশের নাম প্রকাশ করেননি, তবে শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য একদিকে যেমন ইরানের সামরিক সক্ষমতা স্বীকার করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে—এমন বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
ইরানের নজিরবিহীন হামলার হুমকির মুখে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বিখ্যাত 'আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত' (এইউবি) তাদের সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার (২৯ মার্চ) এক জরুরি বার্তায় জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী সোম ও মঙ্গলবার সব ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হবে। ক্যাম্পাসে কেবল জরুরি প্রয়োজনে সীমিত সংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকবেন। এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। এর প্রতিবাদে আইআরজিসি স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছে যে, সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরান সময় দুপুর ১২টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হামলার নিন্দা না জানায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাল্টা হামলার শিকার হবে। তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্যাম্পাস থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ফাদলো খৌরি এক বিবৃতিতে জানান, যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তবুও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা থাকলেও বৈরুতের এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল আরাবিয়া
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনস (কেজেডএডি) কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করলে এর ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে। আহত ভারতীয় নাগরিকদের আঘাতের মাত্রা মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের বর্তমান অবস্থা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে গুজব থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের নাহারিয়ায় এই হামলায় একজন নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই দিনে ইরান ও হিজবুল্লাহর দফায় দফায় হামলার কারণে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজতে থাকে। রাজধানী তেল আবিব, মধ্যাঞ্চল এবং জেরুজালেমজুড়ে প্রায় সারাদিনই সাইরেন শোনা যায়, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক এসব হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সূত্র: আল–জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হবে। শর্ত না মানলে নয় যুদ্ধবিরতি ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, চলমান ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কয়েকটি—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ—দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য রাশিয়া ও চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো, বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনসহ যারা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাদের উচিত এই পরিষদের অপব্যবহার রোধ করা।” আরাগচি আরও জানান, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অটল রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার’ শামিল হবে এবং এর জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ হামলা’ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে এবং পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার প্রতি মস্কো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূত্র: প্রেস টিভি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে বিশ্বব্যাপী মার্কিন ও ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর আক্রোশ ও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন তার নাগরিকদের সুরক্ষায় একের পর এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করছে। সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি হালনাগাদ বার্তায় বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের ‘বাড়তি সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় বলা হয়েছে, চলমান উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে যে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র অথবা আমেরিকানদের সমাগম ঘটে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালাতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিবিসি-র প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে থাকা পশ্চিমাদের জন্য এক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যেকোনো হুমকি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় ইরান রণক্ষেত্রে প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করছে। যেকোনো কাণ্ডজ্ঞানহীন বা প্রলাপপূর্ণ হুমকির বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।” হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসন সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তেহরান তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করতে রাজি নয়। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত, যা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরান থেকে ইসরায়েল-এর দিকে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা এই হুমকি প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রবিবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। সামাজিক মাধ্যমে তারা আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক তেলবাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নিজেদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো হামলা হলে তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এসব স্থাপনায় হামলার ফলে ‘অপূরণীয়’ ক্ষতি হবে এবং এর প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে। গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই হুঁশিয়ারি আসে যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পর। শনিবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি-তে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেওয়ার বিনিময়ে ভারতের কাছে তিনটি তেলের ট্যাংকার ছাড়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে আটক এসব ট্যাংকার মুক্তির বিষয়ে তেহরান নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনা করছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিল, জাহাজগুলো পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তর বা শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফারের সঙ্গে জড়িত ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তেহরান ট্যাংকার ছাড়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে চায়নি। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়শোয়াল বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না। যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ও ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে। রান্নার গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় এসব জাহাজ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী ভারত। দেশটির মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামের তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল। আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী এবং বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাশে থাকার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উর্দু ভাষায় দেওয়া বার্তায় আরাগচি বলেন, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার মুখে ইরান ও ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি এবং দৃঢ় সমর্থন জানানোয় পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের প্রতি তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে ইরানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। উপসাগরীয় অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকায় সেসব অঞ্চল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কিছুটা তিক্ততা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, মার্কিন-সৌদি সমীকরণ পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করেনি। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রিয়াদ সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রিয়াদে যাওয়ার আগে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চীন, সৌদি আরব, কুয়েত ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর ৫টি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স জানিয়েছে, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও সেগুলোর বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তবে এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পশ্চিম ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভেতরে থাকা ৬ জন ক্রু সদস্যই নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা কোনো শত্রুভাবাপন্ন হামলার ফল নয়। পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র (Operation Epic Fury) অধীনে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৫০ জন আহত হয়েছেন। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী এই বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করলেও মার্কিন বাহিনী তা নাকচ করে দিয়েছে। সংঘাতের এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব বেসামরিক স্থাপনার ভেতরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ও তাদের গোপন অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো এখন থেকে ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসব স্থানে ভয়াবহ হামলা চালানো হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলজাজিরা জানিয়েছে, মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি কার্যক্রমের পাল্টা জবাব দিতেই ইরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরাসরি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এড়াতে আগাম এই সতর্কতা দেওয়া হলেও, গুরুত্বপূর্ণ এসব বাণিজ্যিক বন্দরে হামলার হুমকি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে পরিচালিত। এই অভিযানে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার শিকার হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুধাবির আল ধাফ্রা বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি। অন্যদিকে, ইরানের ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুও প্রাণ হারিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো ২৫০০ মার্কিন মেরিন সেনার একটি চৌকস দল মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের এই সদস্যরা তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ নিয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। এই মোতায়েন ওই অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির নৌবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে এই অভিযান পরিচালনা করে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবুধাবির আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা সামরিক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর কয়েক দফায় এই হামলা চালানো হয়। মূলত ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে ইরানি নৌবাহিনী। অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি জানান, এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্যাট্রিয়ট রাডার ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি মজুত রাখার বিশাল ট্যাংকগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই সরাসরি সামরিক অভিযান ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং শিয়াপন্থি সংগঠন হিজবুল্লাহর ওপর নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার কারণে ইরান আগের চেয়ে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তেহরানের রেভুল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বড় ধরনের আঘাতের সম্মুখীন হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ যে হামলার পরিকল্পনা করছে, তার বিপরীতে লেবাননে ইসরাইলি অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতার জন্যই তিনি ‘জীবনবীমা’ ঘোষণা করবেন না। ইসরাইলের পরবর্তী সামরিক পরিকল্পনা কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে ইরান ও হিজবুল্লাহ এখন আর আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই। নেতানিয়াহুর এই কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, যেকোনো ধরনের হুমকির মোকাবিলায় ইসরাইল তার সামরিক তৎপরতা জারি রাখবে। ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে হিজবুল্লাহর যেকোনো পাল্টা পদক্ষেপকে কঠোরভাবে দমন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews