যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা বলছেন বিশ্বনেতারা
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। যুদ্ধবিরতি পরবর্তী চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শিগগিরই আলোচনায় বসার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর।
- বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া:
পাকিস্তান ও চীন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তার মতে, মিত্রদের সহযোগিতায় লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, চীন এই সমঝোতায় নিজেদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার কথা তুলে ধরেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাশিয়া: রাশিয়ার পক্ষ থেকে কড়া মন্তব্য করে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর একপাক্ষিক ও উসকানিহীন হামলার যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তা ‘চরমভাবে ব্যর্থ’ প্রমাণিত হয়েছে।
জাতিসংঘ ও ইইউ: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন একে ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উত্তেজনা হ্রাস’ হিসেবে দেখছেন। তবে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস মনে করেন, এটি উত্তেজনার পথ থেকে এক ধাপ পিছিয়ে আসা।
ভারত: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাধাহীন নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে তারা আশাবাদী। দক্ষিণ কোরিয়াও একই সুর বজায় রেখেছে।
ভিন্নমত (ইসরায়েল ও স্পেন): ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিলেও সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কড়া ভাষায় বলেছেন, যারা বিশ্বজুড়ে আগুন লাগায়, পরে এক বালতি পানি নিয়ে আসলে তাদের ঢালাও প্রশংসা করা যায় না।
ফ্রান্স ও জার্মানি: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে লেবাননকেও এর আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। জার্মানি এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিশেষ ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
এছাড়া ইরাক, মিশর, ওমান, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া পৃথক বিবৃতিতে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত একটি টেকসই এবং স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। ইউক্রেনও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে একই রকম দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের নর্থহ্যাম্পটনের ক্যাথলিক বিশপ ডেভিড ওকলির বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের ঘটনা। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সী ওকলি তখন মধ্য চল্লিশের একজন ক্যাথলিক যাজক ছিলেন। মামলাটি খারিজের আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওল্ড বেইলিতে হাজির হন তিনি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওকলির বিরুদ্ধে একটি যৌন নিপীড়ন এবং দুটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের লুর্দে ধর্মীয় তীর্থযাত্রার সময় তিনি ওই কিশোরীকে চুমু দেন। পরে একটি চার্চের আবাসিক ভবন এবং একটি খালের নৌকায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওকলি বর্তমানে শর্তসাপেক্ষ জামিনে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওল্ড বেইলিতে তার মামলায় অভিযোগের জবাব দেওয়ার কথা থাকলেও আদালতকে জানানো হয়, অভিযোগগুলো খারিজের আবেদন আগামী ৪ জানুয়ারি শুনানি হবে। এর আগে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে শুনানিতে প্রসিকিউটর সারাহ ম্যাডেন জানিয়েছিলেন, লুর্দে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার পর অভিযুক্ত ও কিশোরীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী দাবি করেছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে অন্তত দুইবার যৌন সম্পর্ক হয়েছিল। স্ট্যাফোর্ডশায়ার পুলিশের ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধ তদন্তকারী দল তদন্তের পর গত জুনে ওকলির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পুলিশ তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে তিনি ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা অবস্থায় রয়েছেন। ডেভিড ওকলি ১৯৮০ সালে ক্যাথলিক যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হন। ২০২০ সালে তিনি নর্থহ্যামটনের বিশপ হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ৪ জানুয়ারির শুনানিতে এগোবে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
নেতানিয়াহুর পরকীয়া কেলেঙ্কারি, নীরবতা ভাঙলেন গোপন প্রেমিকা
তিনজনের ডিএনএ নিয়ে জন্ম নিল যুক্তরাজ্যের প্রথম শিশু!
ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বললেন ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া
যুক্তরাজ্যের দুই ননদ-ভাবি হোলি ও বেকি স্টিভেন্স শুধু একে অপরের সন্তানের দেখভালই করেন না, বরং তারা একে অপরের সন্তানদের নিয়মিত স্তন্যপানও করান। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘দিস মর্নিং’-এ উপস্থিত হয়ে মাতৃত্বের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা। বিগত সাত বছর ধরে তারা একে অপরের সন্তানদের বুকের দুধ খাইয়ে আসছেন। হোলির ছেলে ফ্রেডির বয়স যখন মাত্র পাঁচ দিন, তখন সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবেই নিতান্ত প্রয়োজনে এই অভ্যাসের সূচনা হয়েছিল। একদিন বেকি যখন ফ্রেডির দেখাশোনা করছিলেন, তখন শিশুটি হঠাৎ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লে জরুরি ভিত্তিতে তাকে বুকের দুধ খাওয়ান তিনি। সে সময় বেকি তার নিজের ছেলে ফয়কেও স্তন্যপান করাতেন। পরবর্তীতে আরেক দিনের স্মৃতিচারণ করে হোলি জানান, একবার তিনি ব্রেস্ট পাম্প ছাড়াই বেকির বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং উপায় না পেয়ে বেকির ছেলে ফয়কে নিজের বুকের দুধ খাইয়েছিলেন। তাদের মতে, এর ফলে বাইরে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের বিশাল ব্যাগ বওয়ার ঝক্কিও অনেকটা কমে যায়। দীর্ঘ সাত বছর পর আজও তাদের এই অভ্যাস অব্যাহত রয়েছে; সম্প্রতি বেকির নবজাতক কন্যা পার্লকেও স্তন্যপান করিয়েছেন হোলি। তাদের দাবি, একে অপরের সন্তানদের স্তন্যপানের কারণে তাদের দুই পরিবারের পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করানোর বা ‘ওয়েট নার্স’-এর ধারণাটি অবশ্য মানব ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। অন্তত খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। ২০২৫ সালের ‘জামা’ (JAMA) জার্নালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ হাজার মায়ের মধ্যে ৩.৭ শতাংশ মা তাদের শিশুর জীবনের প্রথম ছয় মাসে অন্যের বুকের দুধ খাইয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভ্যাস নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কেউ একে ইতিবাচক ও স্বাভাবিকভাবে নিলেও অনেকেই বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা বন্ধুদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি অনিরাপদ নয়, যদি উভয় মায়ের স্বাস্থ্য, নিয়মিত সেবনকৃত ওষুধ ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকে। তবে পেডিয়াট্রিক নার্স প্র্যাকটিশনার জোয়ানা ক্রেইলিং সতর্ক করে বলেছেন, এতে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ, সম্পূরক উপাদান এমনকি এইচআইভি বা হারপিসের মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত দুধ না পেলে নবজাতকের পানিশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। এতসব ঝুঁকি ও সমালোচনার পরও হোলি ও বেকি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। সব নেতিবাচকতা উড়িয়ে দিয়ে হোলির সহজ উত্তর, “এটি খুবই সুবিধাজনক। দুধ তো দুধই।”
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, ১৩ ও ১৪ বছরের দুই ছাত্রীকেও নিপীড়নের কথা স্বীকার শিক্ষিকার
লোহিত সাগরে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান, গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখলে নিয়ে শক্তির জানান দিল হুথিরা
পাইলটের গাঁজা সেবন ধরা পড়তেই ভারতের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে সরাসরি তথ্য থাকা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় প্রায় আটটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে এবং সেটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো পরে আবার কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। আল আজরাক এলাকার কাছে অবস্থিত ঘাঁটিটি জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিবিএস নিউজ জানায়, হামলার সময় ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সরাসরি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তারা প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোর ক্ষয়ক্ষতিকে তুলনামূলকভাবে সামান্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আটটি এফ-১৫ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলোকে আবার পরিষেবায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানটির ক্ষতি ছিল বেশি। সিবিএসের সূত্র অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত লাগে এবং পরে সেটির একটি ডানা অনুপস্থিত অবস্থায় পাওয়া যায়। রয়টার্সও সিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে একই ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে। হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ওই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানে চালানো এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা একাধিক সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানায়। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের একটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ওই ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করা হয়। চারটি ট্যাংকারে ওমান উপসাগরে এবং একটি ট্যাংকারে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির দিকে ছোড়া ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। জর্ডানের পক্ষ থেকে ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি। হামলার পর জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও এ-১০ যুদ্ধবিমানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসায় ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তবে সিবিএসের প্রতিবেদনে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে পুনরায় কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও এ-১০ যুদ্ধবিমানটির পরবর্তী ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার নতুন একটি পর্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং এর পর ইরানের পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেল। সিবিএস নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মধ্যে রয়েছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানের ডানা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সামান্য ক্ষতি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কিম জং উনের ‘সিক্রেট ছেলে’! উত্তরসূরি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তদন্ত
সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে ৩৫০০ নটিক্যাল মাইলের অবিশ্বাস্য পথ পাড়ি দিল নৌযান