যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘খুব মরিয়া’ হয়ে উঠেছে।
চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি জোর দিয়ে জানান, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনা রোববার সকালে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও বিদ্যমান মজুত নিয়ে মতপার্থক্যই ছিল প্রধান বাধা।
এদিকে আলোচনার ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেশটির সব বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের দাবি, অন্যদিকে কঠোর পদক্ষেপ—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
গত বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অধিকার ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর-সংক্রান্ত জটিলতা, স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মার্কিন সরকারের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ ব্যক্তি তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের মর্যাদা ত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০০। যদিও ব্যবধান খুব বেশি নয়, তবুও এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারণে এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে চলতি পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেকেই প্রকাশ্যে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণের কথাও তুলে ধরছেন। সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক লিলি, যিনি একই সঙ্গে বেলজিয়ামের নাগরিকও, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের সহায়তাকারী একটি সংস্থাকে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত ছিল তার কাছে এক ধরনের প্রতিবাদ। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের একটি ব্যক্তিগত উপায়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী এরিন ক্ল্যাট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তিনি আর্থিক ও রাজনৈতিক উভয় কারণেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। স্থায়ীভাবে অন্য দেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগের মতো নেই। ক্ল্যাট বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক মনে করেননি। পাশাপাশি দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথ নিয়েও তিনি হতাশ ছিলেন। একই ধরনের মতামত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক ব্যক্তি, যিনি গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি না হলে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক কারণ যতটা আলোচনায় আসে, বাস্তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নাগরিকদের বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা কিছুটা ব্যতিক্রম। কোনো মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, তাকে প্রতি বছর আইআরএসের কাছে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। এমনকি বহু বছর ধরে বিদেশে বসবাস করলেও এই বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে। ফলে বিদেশে বসবাসরত অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দ্বৈত কর-সংক্রান্ত নথিপত্র, আর্থিক হিসাব এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলায় পরিণত হয়। অনেকেই এই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতেই নাগরিকত্ব ত্যাগের পথ বেছে নেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াও সহজ নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে নাগরিকত্ব হারানোর সনদের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অন্তত দুটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়, যার একটি অবশ্যই সরাসরি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হয়। এ ছাড়া আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয় এবং এ সিদ্ধান্তের ফলে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিও স্বীকার করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কনস্যুলার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি দিতে হতো। বর্তমানে তা কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবলেও ব্যয়ের কারণে পিছিয়ে থাকা অনেক মানুষ এখন আবেদন করতে আগ্রহী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন, করনীতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও খুবই ছোট, তবুও বিষয়টি দেশটির নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের ধারণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে। সূত্র: আইআরএস, ফেডারেল রেজিস্টার, সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় এক মর্মান্তিক ও অমানবিক হামলার শিকার হয়েছেন ২০ বছর বয়সী ম্যানেজার জ্যাকব স্মিথ। গত ৩০ মে ডিউটি শেষ হওয়ার পর জলানি ব্লুয়েট নামের ২৩ বছর বয়সী তারই এক সহকর্মী আকস্মিকভাবে তার গায়ে ফুটন্ত গরম তেল ছুঁড়ে মারে। এই ভয়াবহ হামলায় জ্যাকবের মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত এবং কাঁধসহ শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং তিনি থার্ড-ডিগ্রি বার্নে ভুগছেন। বর্তমানে তাকে ইউসি ডেভিস মেডিকেল সেন্টারে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই তরুণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিজের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গলা ও হাতে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় জ্যাকব জানান, এটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক একটি অধ্যায়। তবে এই দুঃসময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্যাকব নিজেকে পৃথিবীর অন্যতম ভাগ্যবান ব্যক্তি বলে মনে করেন, কারণ এত বড় দুর্ঘটনার পরও মানুষের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে আছেন। এদিকে তার মা অ্যাম্বার স্মিথ ছেলের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অ্যাম্বার জানান, জ্যাকব অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন তরুণ এবং সম্প্রতি তার বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়েছিল। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই আকস্মিক ট্র্যাজেডি তার জীবনকে থমকে দিয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পরপরই অভিযুক্ত জলানি ব্লুয়েট ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। বর্তমানে তাকে সাটার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মারাত্মক শারীরিক আঘাত ও প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জ্যাকবের মা আক্ষেপ করে বলেন, এত কষ্টের মাঝেও তার ছেলের একটিই প্রশ্ন—কেন তার সাথে এমনটা করা হলো? জ্যাকবকে ইতোমধ্যে স্কিন গ্রাফটিং বা ত্বক প্রতিস্থাপনসহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে এখনো দীর্ঘ ও কষ্টকর এক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মিডল্যান্ড শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ঘটা এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শহরের মেয়র লরি ব্লং। মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে হামলাকারীকে একটি ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মিডল্যান্ড পুলিশ প্রধান গ্রেগ স্নো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালের দিকে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার একটি ভবন থেকে আকস্মিক গুলির শব্দ শুনতে পান কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা। এর পরপরই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুরো এলাকাটি সিলগালা করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। হামলাকারীকে বাগে আনতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে ভারী সাঁজোয়া যান (আর্মর্ড ইউনিট) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এই বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছে। বন্দুকধারীর সঙ্গে পুলিশের এখনো এক টানা অচলাবস্থা চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভিনিউ এবং ওয়াল স্ট্রিটের আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিডল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জনসাধারণকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকাটি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলার জোরালো অনুরোধ করা হয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারী দল (ফার্স্ট রেসপন্ডারস) এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।