শিক্ষার্থীদের

মসজিদ অবস্থানর অবস্থায় নারীর। ছবি:সংগৃহীত
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে শিক্ষা সফর ঘিরে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত ওই সফরে শিক্ষার্থীদের ইসলামি পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোরআন দেওয়া হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারি স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সীমা অতিক্রম করে এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছিল।   গত ৭ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়। এতে পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পালো অল্টো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রেন্ট ক্লাইনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের শরৎকালে সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে শিক্ষার্থীদের একটি সফর। এটি পালো অল্টো হাই স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ ছিল।   স্কুলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে তিন বছরের একটি শিক্ষা কর্মসূচি। এতে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কমিউনিটির সঙ্গে কাজ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে মসজিদ সফরের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষামূলক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।   সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদীরা ‘কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রী পরিবারের অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সফরের সময় শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি দেওয়া হয়েছিল এবং মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা মসজিদে দুপুরের নামাজও প্রত্যক্ষ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে বাদীপক্ষ সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে।   তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মসজিদ সফরের সঙ্গে যুক্ত নাগরিক অধিকারকর্মী জাহরা বিলু অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেওয়া। ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না এবং সফরটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   এই পার্থক্যটিই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্ম সম্পর্কে ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারে। তবে সরকারি স্কুল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন, প্রচার বা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের অভিযোগ, মসজিদ সফরের কিছু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণমূলক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে সফরের আয়োজকদের অবস্থান হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও চর্চা তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক।   মামলায় শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কিছু শিক্ষার্থীর ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছ থেকে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি চাইছেন।   পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার কাগজপত্র হাতে পায়নি। তবে তিনি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ডিস্ট্রিক্টের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   এখন ফেডারেল কোর্টে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, মসজিদ সফরটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল, নাকি সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে ভারতের যন্তর মন্তরে উচ্ছ্বাস। ছবি:সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে ভারতের যন্তর মন্তরে উচ্ছ্বাস, বিজয় মিছিল শিক্ষার্থীদের

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দিলে রাজধানীর ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া হাজার হাজার শিক্ষার্থী উল্লাসে ফেটে পড়েন। পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে বিজয় মিছিল শুরু হয় এবং আন্দোলনকারীরা একে তরুণ সমাজের যৌথ সংগ্রামের বিরাট সাফল্য হিসেবে আখ্যা দেন।   শুক্রবার সকালে ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে জমা দেন বলে নিশ্চিত করেছেন সূত্রগুলো। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতারা এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রথম বড় পদক্ষেপ।   আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাহুল শর্মা বলেন, "এটি আমাদের সংগ্রামের প্রথম বিজয়। আমরা দাবি করছি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হোক। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রমাণ করে যে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হলে তাঁদের বিরোধিতা করার ক্ষমতা কারও নেই।"   উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০-এর বিভিন্ন ধারা, বিশেষত প্রবেশিকা পরীক্ষার পদ্ধতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলছিল। দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়ে সরকারের কাছে তাদের দাবি তুলে ধরছিলেন।   পদত্যাগের ঘোষণার পর যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে 'বিজয় বাংলাদেশ' ও 'শিক্ষা সংস্কার জিন্দাবাদ' স্লোগান দিতে থাকেন। অনেকেই হাতে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। দিল্লি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।   শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এই ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেও দেখছেন। তবে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বেচ্ছায় তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর স্থলে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে।   বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পদ্ধতি সংস্কার, উচ্চশিক্ষায় ফি কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করা। তাদের দাবি আদায়ের প্রথম ধাপ হিসেবে এই পদত্যাগকে দেখছেন তাঁরা। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।   দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুশান্ত রায় বলেন, "এটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃত সংস্কার আনতে এখনও অনেক পথ বাকি।"   প্রসঙ্গত, গত এক দশকে ভারতে শিক্ষানীতিতে একাধিক সংস্কার আনা হলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। ধর্মেন্দ্র প্রধানের সময়ে জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল সরকারকে।   পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তিনি তাঁর সিদ্ধান্তকে 'ব্যক্তিগত' বলে অভিহিত করেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা এই পদত্যাগকে তাদের দাবির প্রতি সরকারের নতি স্বীকারের চিহ্ন হিসেবে দেখছেন।   যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এই স্থান ত্যাগ করবেন না। এদিকে নতুন শিক্ষামন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আপাতত শিক্ষার্থীদের এই বিজয় উৎসবেই মেতেছে রাজধানীর একাংশ।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০