সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সরকারি চাকরি

নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ
নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ

নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি পেতে আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে এসেছে বেশ কিছু নতুন সুযোগ। বিশেষ করে যারা প্রথমবার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটিতে পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধা চালু হয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেটের একটি বিশেষ নিয়োগ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পদে কোনো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন চাকরিপ্রার্থী এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া প্রবাসীদের জন্য সরকারি চাকরির পথ আগের তুলনায় কিছুটা সহজ হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির সিটি প্রশাসনের প্রশাসনিক সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একটি নতুন স্থানীয় আইনের আওতায় ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় আবেদনকারী এবং নিউইয়র্ক সিটির হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধা পাচ্ছেন। অর্থাৎ যোগ্য আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য আর ফি দিতে হচ্ছে না।   তবে পরীক্ষার ফি মওকুফ হওয়ার অর্থ এই নয় যে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে হবে না। নিউইয়র্ক সিটির অধিকাংশ সিভিল সার্ভিস পদে এখনো পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।   নিউইয়র্ক স্টেটের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি হলো এনওয়াই হেল্পস বা নিউইয়র্ক হায়ারিং ফর ইমার্জেন্সি লিমিটেড প্লেসমেন্ট স্টেটওয়াইড কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রয়োজন না থাকলেও আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হবে।   ২০২৬ সালে এই কর্মসূচির আওতায় প্রশাসনিক সহকারী, অফিস সহকারী, মোটর ভেহিকল প্রতিনিধি এবং এ ধরনের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, নিউইয়র্ক স্টেটের একটি প্রশাসনিক সহকারী পদে বছরে ৪০ হাজার ৩৯১ ডলার থেকে ৫৮ হাজার ৪৪৭ ডলার পর্যন্ত বেতনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পদটি বিশেষ নিয়োগ কর্মসূচির মাধ্যমে পরীক্ষাবিহীন নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত ছিল।   নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির তালিকায় স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টের মতো পদও রয়েছে। ২০২৬ সালের তালিকা অনুযায়ী, স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদের পরীক্ষার জন্য ১ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী স্কুল নিরাপত্তা এজেন্ট পদের পরীক্ষা ২০ অক্টোবর এবং ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদের পরীক্ষা ২২ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদে বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের জন্য ন্যূনতম বেতন বছরে ৪৮ হাজার ৭১৯ ডলার। এই চাকরিতে ট্রাফিক ও পার্কিং আইন কার্যকর করা, লঙ্ঘনের নোটিশ দেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক শুনানি বা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো দায়িত্ব থাকে। চাকরিটিতে দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করতে হতে পারে এবং বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন হয়।   নিউইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন কর্মীর চাকরিও দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে এটিকে পরীক্ষা ছাড়াই সহজে পাওয়া যায় এমন চাকরি বলা ঠিক হবে না। এই পদে প্রথমে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, মেডিকেল পরীক্ষা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়।   স্যানিটেশন কর্মীর প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৪৭ হাজার ৭৫২ ডলার। পাঁচ বছর ছয় মাস চাকরি করার পর বেতন ৯৫ হাজার ৩১৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, পেনশন এবং অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এই চাকরির জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডির পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেটের ক্লাস এ বা বি বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে হয়।   মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির বা এমটিএর ট্রানজিট ক্লিনার পদও তুলনামূলক কম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। এমটিএর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই, বৈধভাবে কাজের অনুমতি যাচাই, মাদক পরীক্ষা এবং মেডিকেল পরীক্ষাসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের মেইল ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন পদও নিউইয়র্কে বসবাসকারীদের জন্য সম্ভাব্য সরকারি চাকরির সুযোগ তৈরি করে। এটি সিটি বা স্টেটের চাকরি নয়, ফেডারেল সরকারের চাকরি। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, মাদক পরীক্ষা ও মেডিকেল যাচাইয়ের মতো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপ রয়েছে। কিছু পদের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অতিরিক্ত যোগ্যতাও প্রয়োজন হতে পারে।   তবে ২০২৬ সালে নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য একটি পদকে সবচেয়ে সহজ বলা যাবে না। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, শারীরিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলের ওপর।   যারা নিউইয়র্কে নতুন করে সরকারি চাকরির চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য প্রথমেই নিউইয়র্ক স্টেটের পরীক্ষাবিহীন নিয়োগের পদগুলো খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির নতুন পরীক্ষার ফি মওকুফের সুবিধাও কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের ন্যূনতম যোগ্যতা, আবেদনের শেষ তারিখ এবং নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া এক তরুণের মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনেছে মানসিক চাপের বিষয়টি। ছবি: সংগৃহীত
৫০ বার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর ‘সরি পাপা’ লিখে ভারতীয় যুবকের আত্মহত্যা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হওয়ার মানসিক চাপে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগে তিনি বাবার উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে বারবার চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি না পাওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, নিহত তরুণের নাম আনন্দ। তিনি ২০২৪ সালে কানপুরের বেসরকারি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিএসআইটি (PSIT) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন।   পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় তারা বড় ছেলের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে বিহারে গিয়েছিলেন। পরে বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে গৃহকর্মী প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ লাইনের একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চিরকুটে তিনি লিখেছেন, “সরি পাপা, আমি সরকারি চাকরির জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।”   নিহতের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ পাওয়ার গ্রিড করপোরেশনে এক বছরের শিক্ষানবিশি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি রেলওয়ে, স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আনন্দ নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছিলেন না। গত কয়েক মাস ধরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। পরিবার তাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের ব্যর্থতা নিয়ে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।   গোবিন্দ নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার অশোক কুমার দুবে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে না পারার হতাশা এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় কানপুরের ভৈরব ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।   ভারতে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। সীমিত সংখ্যক পদ এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিষ্ঠানের মানসিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আয়ুষী শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে সরকারি চাকরি ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে জন্মদাত্রী মাকে নির্মমভাবে খুন করল মেয়ে

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে এক নারী সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আয়ুষী শর্মা আত্মীয়দের সহযোগিতায় মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নীরজ শর্মা (৪৫) জয়পুরের একটি আদালতে নিম্ন বিভাগীয় কেরানি (এলডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ জুলাই বিকেলে তিনি ছেলেকে কোচিং সেন্টারে নামিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি স্করপিও গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। পরে তদন্তে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসে।   জয়পুর পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার রঞ্জিতা শর্মা জানান, নীরজ শর্মার স্বামী প্রায় এক বছর আগে মারা যান। তার মৃত্যুর পর অনুকম্পাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে নীরজ শর্মা সরকারি চাকরি পান। তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, মেয়ে আয়ুষী সেই চাকরি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মা ও মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পুলিশের অভিযোগ, আয়ুষী তার কাকা মোহন স্বরূপ এবং চাচাতো ভাই বলরাম ওরফে রবির সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ভরতপুরের বাসিন্দা হেমন্ত শর্মাকে ৭ লাখ রুপির বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।   তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে একটি থার গাড়ি ভাড়া করে নীরজ শর্মার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে প্রায় এক মাস নজরদারি চালিয়ে ৩ জুলাই স্করপিও গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন কয়েকজন অভিযুক্ত নীরজ শর্মার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে একে অপরকে তথ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ পুলিশের। ঘটনার পর নিহতের ভাই রাকেশ কুমার শর্মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান, নীরজ শর্মা জীবিত থাকতেই সম্পত্তি নিয়ে মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বিরোধের কথা বলেছিলেন। তিনি একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।   পুলিশ এ ঘটনায় আয়ুষী শর্মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বলরাম ওরফে রবি নামে একজন অভিযুক্ত এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আয়ুষী স্বীকার করেছেন যে তিনি বাবার মৃত্যুর পর সরকারি চাকরিটি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মা সেই চাকরিতে যোগ দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর সম্পত্তি ও চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি রয়েছে।   ঘটনাটি ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি ও অনুকম্পাভিত্তিক সরকারি চাকরিকে কেন্দ্র করে এমন হত্যার অভিযোগে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ তদন্ত শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০