আমেরিকা

মার্কিন-ইরান চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন বারাক ওবামা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১১:২২
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা চুক্তি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বাস্তবসম্মত কোনো অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

 

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওবামা এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ইরানের সাথে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক দিন আগে, গত শনিবার শিকাগোর ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়। সেখানে ওবামা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান পরিচালনার কৌশল নিয়ে নিজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

 

সাক্ষাৎকারে ওবামা স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আনা এই নতুন চুক্তিটি ২০১৫ সালে তাঁর নিজের প্রশাসনের করা ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির চেয়ে খুব একটা আলাদা বা উন্নত কিছু হবে বলে মনে হয় না। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসন ইরানের সাথে একটি কার্যকর পরমাণু চুক্তি করেছিল, যা থেকে পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

 

উল্লেখ্য, আট বছর আগে বারাক ওবামার আমলে করা ওই চুক্তিটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তা থেকে বের করে এনেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ দীর্ঘ সংঘাতের পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন আবার ইরানের সাথেই নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে।

 

সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বোমাবর্ষণ বন্ধের আশা প্রকাশ করে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যায় ডর-ভীতি বা যুদ্ধ করে সমাধান খোঁজার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, যা যুদ্ধ এড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের এত দিনে এই শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু মনে হচ্ছে বারবার আমাদের এই একই শিক্ষা নতুন করে নিতে হচ্ছে।"

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। এরপর গত ১৪ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার অধীনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা হবে। তবে ট্রাম্পের এই চুক্তির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়েই এখন খোদ আমেরিকার ভেতরেই প্রশ্ন তুললেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নের গ্রিন কার্ড: পরিবার, চাকরি, বিনিয়োগ—কোন পথে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাস?

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিপত্র, যা সাধারণভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ নামে পরিচিত, সেটি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো মানুষ। অনেকের ধারণা গ্রিন কার্ড পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো বিয়ে বা লটারি। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার একাধিক বৈধ পথ রয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ সক্ষমতা কিংবা মানবিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত পথগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক স্পনসরশিপ, চাকরিভিত্তিক অভিবাসন, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক আবেদন, বিনিয়োগ, আশ্রয়, শরণার্থী কর্মসূচি এবং ডাইভারসিটি ভিসা লটারি।   পারিবারিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। মার্কিন নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, অবিবাহিত সন্তান, বিবাহিত সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন।   বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী কাউকে বিয়ে করলে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধু অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এজন্য দম্পতির যৌথ বসবাস, আর্থিক লেনদেন, ছবি ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।   এইচ-ওয়ান বি ভিসা থেকে গ্রিন কার্ড প্রতি বছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী এইচ-ওয়ান বি কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। এই ভিসাধারীদের অনেকেই পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সাধারণত নিয়োগকর্তা কর্মীর পক্ষে স্থায়ী চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেন। শ্রমবাজার যাচাই, অভিবাসন আবেদন এবং ভিসা নম্বর পাওয়ার পর গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত আবেদন করা হয়।   ইবি-১: অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্নদের জন্য বিজ্ঞান, গবেষণা, শিক্ষা, শিল্পকলা, ব্যবসা বা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গবেষণা প্রকাশনা, বড় পুরস্কার বা নেতৃত্বের প্রমাণ থাকলে এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই আবেদন করা সম্ভব।   ইবি-২: উচ্চশিক্ষিত ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী মাস্টার্স ডিগ্রি বা সমমানের উচ্চশিক্ষা এবং বিশেষ দক্ষতা থাকলে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক এবং অন্যান্য উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা সাধারণত এই পথ ব্যবহার করেন। জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন এমন আবেদনকারীরা ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার’-এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ পান।   ইবি-৩: দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য দক্ষ শ্রমিক, পেশাজীবী এবং কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষ কর্মীদের জন্য ইবি-৩ ক্যাটাগরি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর জন্য চাকরির অফার দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও এই পথের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।   বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে আবেদনকারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।   আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্য গ্রিন কার্ড যারা রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত বা অন্যান্য নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পান, তারা আশ্রয় অনুমোদনের এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আশ্রয় মর্যাদা বহাল থাকতে হয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।   শরণার্থী কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা সাধারণত এক বছর পর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। মানবিক বিবেচনায় পরিচালিত এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ডাইভারসিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনা করে। কম অভিবাসনপ্রবণ দেশগুলোর নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত হলে নিরাপত্তা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে অভিবাসী ভিসা এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়। এই ক্যাটাগরি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এখন!   বিশেষ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড ধর্মীয় কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মচারী, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ সহযোগী এবং কিছু মানবিক কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ গ্রিন কার্ড কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নথিপত্রের প্রয়োজন হয়।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ একাধিক হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে পরিবারভিত্তিক আবেদন, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন এবং বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১২:৪৬
ছবি: সংগৃহীত

নেটফ্লিক্স ও ইউটিউবের সাথে টেক্কা দিতে 'রোকু' কিনে নিল ফক্স

ছবিতে: প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডা. এবিএম আতীকুজ্জামান ও দুই বাংলাদেশি চিকিৎসক রাইসা ও জান্নাত | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা পেশায় এগিয়ে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি তরুণী, প্রশংসায় ডা. এবিএম আতীকুজ্জামান

আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম | ছবি: সংগৃহীত

ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ায় আমেরিকার জর্জিয়ায় এক আইনজীবীর ১ বছরের জেল

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সরকারি অর্থায়নে স্থায়ী গ্রোসারি শপ চালুর আইন করার তোড়জোড়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা মুদি দোকান স্থায়ীভাবে চালু রাখার উদ্দেশ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছেন স্থানীয় আইনপ্রণেতারা। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেনিফার গুতেরেজ ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মিলে সিটি কাউন্সিলে এই সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, সিটির পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে যেন অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান বাধ্যতামূলকভাবে গড়ে তোলা হয়।   বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন তাঁর প্রথম মেয়াদের মধ্যেই সিটির পাঁচটি প্রধান বরোতে অন্তত একটি করে সরকারি মুদি দোকান চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আইনপ্রণেতা জেনিফার গুতেরেজ মনে করেন, এই উদ্যোগটি যেন কেবল বর্তমান মেয়রের একক বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আইন পাসের মাধ্যমে এটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া উচিত। যাতে করে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রশাসন এলেও এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি চিরতরে বজায় থাকে।   উত্থাপিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের কমিশনার অথবা মেয়রের মনোনীত অন্য কোনো সংস্থার প্রধানকে প্রতিটি বরোতে অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনে কোনো বেসরকারি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ অংশীদারিত্ব বা পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। মেয়রের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি মালিকানা ব্যবহারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী খরচ কমিয়ে আনা।   সরকারি এই গ্রোসারি উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চ-মানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে পুরো সিটিজুড়ে সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি তাদের দৈনন্দিন খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে পাঁচটি বরোতে প্রথম পাঁচটি দোকান তৈরির জন্য মেয়র মামদানি ইতিমধ্যে ৭ কোটি ডলারের বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছেন।   এই নতুন মডেলের আওতায়, গ্রোসারি শপের জমি এবং দোকান নির্মাণের সমস্ত খরচ ও ভাড়ার ব্যয়ভার বহন করবে সরাসরি নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, একটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো বেসরকারি অপারেটর বা প্রতিষ্ঠান এই দোকানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে শর্ত থাকবে যে, সরকারি সুবিধার কারণে বেঁচে যাওয়া অর্থ সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম কমিয়ে সমন্বয় করতে হবে।   উদারপন্থী ডেমোক্র্যাট দল থেকে নির্বাচিত এবং নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া জোহরান মামদানি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সিটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য এই ব্যতিক্রমী সরকারি গ্রোসারি শপের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা এখন স্থায়ী আইনের দিকে রূপ নিতে যাচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১১:৩৩
আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা | ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইরান চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন বারাক ওবামা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক, যুদ্ধ অবসানসহ ৪ বিষয়ে বড় ঐকমত্য

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক | ছবি: সংগৃহীত

ইলন মাস্কের সম্পদের সমান হতে সাধারণ আমেরিকানদের লাগবে ১ কোটি বছর

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ৩৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতি আটকে রাখার নীতি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কঠোর আদেশের মুখে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়ার আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশের সাথে তারা "তীব্র দ্বিমত" পোষণ করলেও মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জন ম্যাককনেলের রায় মেনে নেবে।   গত সপ্তাহে বিচারক ম্যাককনেলের দেওয়া ওই আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, আদালতের নির্দেশটি কেবল প্রাথমিক ছিল এবং এটি এখনও "কার্যকর" হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার বিচারক ম্যাককনেল এই টালবাহানার তীব্র সমালোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিক রায় জারি করেন এবং সরকারকে অবিলম্বে এই নীতি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি রায়ে স্পষ্টভাবে লেখেন, "এবার আর কোনো অজুহাত চলবে না। সরকারের দায়িত্ব এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা।"   বিচারকের এই কড়া আলটিমেটামের পর ইউএসসিআইএস-এর উপ-পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা আলফোনসো-রয়্যালস শুক্রবার আদালতে একটি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জানান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো "আর কার্যকর নেই" বলে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী অভিবাসীর আবেদন পুনরায় চালু হওয়ার পথ সুগম হলো।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ইউএসসিআইএস এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। এর ফলে ইতিমধ্যে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংগঠন আদালতে মামলা দায়ের করে। গত ৫ জুন দেওয়া রায়ে ওবামা আমলে নিযুক্ত বিচারক জন ম্যাককনেল ট্রাম্পের এই নীতি বাতিল করে বলেন, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্রিজ বা আটকে রাখার কোনো আইনি কর্তৃত্ব ইউএসসিআইএস-এর নেই। তিনি এই নীতিকে অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা বলে অভিহিত করে বলেন, কেবল জন্মসূত্রের কারণে এই মানুষদের সাথে এমন আচরণ করা অবৈধ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১০:২৩
ছবি: সংগৃহীত

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগল প্রধান সুন্দর পিচাইকে দেখে শিক্ষার্থীদের মঞ্চ বর্জন

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রোপচারে হার্টের ভালভ উল্টো বসানোর অভিযোগ, হাসপাতাল ও সার্জনের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকার মামলা

স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে কভারেজ ছাড়ছেন লাখো আমেরিকান

স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে কভারেজ ছাড়ছেন লাখো আমেরিকান, ঝুঁকিতে মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

0 Comments