নিউইয়র্কে হোমলেস থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ১৩০ জনকে বিশেষ সংবর্ধনা
নিউইয়র্কে গৃহহীনতা বা হোমলেস জীবন কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১৩০ জনেরও বেশি মানুষকে সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 'দ্য ডো ফান্ডের' উদ্যোগে পরিচালিত ‘রেডি, উইলিং অ্যান্ড এবল’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা মানুষের স্থায়ী আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করে।
১৯৮০-এর দশকে জর্জ টি ম্যাকডোনাল্ড এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে একটানা ৭০০ দিন অনাহারী মানুষদের খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে হোমলেস মানুষদের শুধু খাবার দেওয়াই নয়, বরং তাদের জীবন পুনর্গঠন এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে এই দাতব্য সংস্থাটি বড় পরিসরে কাজ শুরু করে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া গ্র্যাজুয়েট ইমানি আবদুস-সাবির জানান যে অতীতে তিনি মাদকাসক্তি ও কারাভোগের মতো কঠিন লড়াই পার করেছেন, কিন্তু এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরই তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার মতো এমন কার্যকরী প্রোগ্রাম আর কোথাও নেই বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই অতীতে কারাভোগ করেছেন, যারা কাজের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সমাজে নানা বাধার মুখে পড়েন। প্রিজন পলিসি ইনিশিয়েটিভের পরিসংখ্যান অনুসারে, সাধারণ মানুষের তুলনায় সাবেক বন্দীদের হোমলেস বা গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দশ গুণ বেশি থাকে।
আরেক গ্র্যাজুয়েট রিকি উইলিস অতীতে শেল্টারে জীবন কাটালেও বর্তমানে ব্রুকলিনে বসবাস করছেন এবং একজন পেশাদার চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। অতীতের সংগ্রাম পেরিয়ে নিজের আজকের অর্জন দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
দ্য ডো ফান্ড মূলত সাবেক বন্দীদের জীবন সহজ করতে বিভিন্নমুখী সহায়তা প্রদান করে থাকে। যার মধ্যে চাকরির ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুত হওয়া থেকে শুরু করে সহায়ক আবাসন খুঁজে দেওয়া এবং সমাজে পুনর্বাসনের যাবতীয় প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘমেয়াদি এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো নতুন করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের বাসিন্দা এবং শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের দক্ষ সফটওয়্যার প্রকৌশলী ইয়াদেসা আগা লেক তাহোর হিমশীতল পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় নেভাডা অঙ্গরাজ্যের জনপ্রিয় স্যান্ড হারবার স্টেট পার্ক এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ওয়াশো কাউন্টি শেরিফ অফিস এবং আঞ্চলিক চিকিৎসা পরীক্ষক কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়াদেসা আগা লেকের কিনারে অবস্থিত পাথরের একটি দলের দিকে সাঁতার কেটে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময়ই তিনি হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে যান এবং সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে তলিয়ে যেতে দেখে মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত বেশ কয়েকজন সাহসী পথচারী ও উৎসুক জনতা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন এবং অনেক চেষ্টার পর তাকে টেনে তীরে নিয়ে আসেন। তীরে আনার পরপরই শেরিফ বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে তার জ্ঞান ফেরাতে বা সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। তবে দীর্ঘ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই পুরো ঘটনাটিকে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনাজনিত জলে ডুবে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক ও নিশ্চিত কারণ নির্ণয় করতে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি হতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মতো সময় লেগে যায়। লেক তাহোর এই স্যান্ড হারবার এলাকাটি এর স্ফটিকস্বচ্ছ পানি ও সুবিশাল পাথুরে গঠনের কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটককে আকর্ষণ করে থাকে। সাঁতার কাটা বা নৌকা চালানোর জন্য এটি বেশ জনপ্রিয় হলেও এখানকার পানির একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। স্থানীয় জননিরাপত্তা ক্যাম্পেইনের তথ্য অনুসারে, লেকের অত্যন্ত ঠান্ডা পানির আকস্মিক ধাক্কার কারণে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাতজন মানুষ প্রাণ হারান। এর আগেও এই একই এলাকায় এমন আরও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এদিকে, সহকর্মীরা ইয়াদেসা আগাকে স্মরণ করে তাকে অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী এবং একজন ভালো সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এমন আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউইয়র্কে হোমলেস থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ১৩০ জনকে বিশেষ সংবর্ধনা
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেটাসেন্টার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, এআইয়ের যুগে বাড়ছে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে শঙ্কা
লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যাট হাতে হামলার অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি ব্যবস্থার তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত এই অভিযানে মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদনকারীরাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন ও অভিবাসন এবং শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিমানযাত্রীদের শনাক্ত করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরে নিবন্ধন, নিরাপত্তা তল্লাশি বা উড়োজাহাজে ওঠার আগমুহূর্তে সাধারণ পোশাকে থাকা কর্মকর্তারা যাত্রীদের আটক করছেন। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ভাষ্য, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন কার্যকর করা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি আগের প্রশাসনের নীতির পরিবর্তনের অংশ। তাদের মতে, অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যাতে নির্বিঘ্নে দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন আইনজীবীদের দাবি, যাদের আশ্রয়ের আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এই অভিযানের মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধেই কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই। এতে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিমান ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বেড়েছে। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কর্মকর্তারাও এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বিমানযাত্রীদের ব্যক্তিগত ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা, টেনেসি, কলোরাডো ও ম্যাসাচুসেটসসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে মোট কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা রয়েছে, তারা অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ বর্তমান নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলো অভিবাসন আইন প্রয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ধীর গতিতে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি: দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫ শতাংশে
অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুললেন, হাতে পেলেন ২৫০ ডলারের স্পিডিং টিকিট
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আদালতে প্রথমবার আফগান নারীকে বহিষ্কারের চেষ্টা
অনলাইন মার্কেটপ্লেস ই-বে তাদের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হওয়া এক দম্পতির সঙ্গে প্রায় ৫ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে। কয়েক বছর ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট হয়রানির অন্যতম আলোচিত ঘটনার আইনি অধ্যায়ের অবসান হলো। বার্তা সংস্থা এপি, রয়টার্স এবং সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা ডেভিড ও ইনা স্টেইনার ‘ই-কমার্সবাইটস’ নামে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করেন, যেখানে ই-বে সম্পর্কিত সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হতো। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ই-বের কয়েকজন তৎকালীন কর্মী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে। তদন্তে উঠে আসে, দম্পতির বাড়িতে জীবন্ত তেলাপোকা ও মাকড়সা, রক্তমাখা শূকরের মুখোশ, শেষকৃত্যের ফুলের তোড়া এবং স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর বেঁচে থাকার বিষয়ে লেখা বইসহ বিভিন্ন ভীতিকর সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া তাদের অনুসরণ করা, অনলাইনে হয়রানি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনেরও অভিযোগ ছিল। ২০২১ সালে দায়ের করা দেওয়ানি মামলার নিষ্পত্তিতে ই-বে এবং প্রতিষ্ঠানটির তিন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা মোট ৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছেন। এর মধ্যে ই-বে দেবে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সাবেক প্রধান নির্বাহী ডেভিন ওয়েনিগ ব্যক্তিগতভাবে ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেবেন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানে আরও ১০ লাখ ডলার অনুদান দেবেন। এছাড়া আরও দুই সাবেক কর্মকর্তা পৃথকভাবে ক্ষতিপূরণ দেবেন। সমঝোতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থার জন্য অতিরিক্ত ৬০ লাখ ডলার অনুদানও দেওয়া হবে। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই সমঝোতা বড় করপোরেশনগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা যে সংবাদমাধ্যম বা সমালোচকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে তার গুরুতর আইনি পরিণতি হতে পারে। সমঝোতা চুক্তিতে গোপনীয়তার কোনো শর্ত রাখা হয়নি, ফলে স্টেইনার দম্পতি পুরো ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারবেন। এর আগে ২০২০ সালে এ ঘটনায় ই-বের সাত সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ গঠন করা হয়। তাদের অধিকাংশই সাইবার স্টকিং ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ স্বীকার করেন এবং পরবর্তী সময়ে কারাদণ্ড বা গৃহবন্দি থাকার সাজা পান। ২০২৪ সালে একই ঘটনার দায়ে ই-বে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ৩০ লাখ ডলার ফৌজদারি জরিমানাও পরিশোধ করে।
বিদেশি প্রভাবের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় এফবিআই অভিযান
স্তন্যদানকারী মা দুই সিনড্রোম শিশু থেকে আলাদা করে আইসির হেফাজতে, পরিবারের ক্ষোভ