জর্জিয়ায় মিল্কশেক পছন্দ না হওয়ায় ফাস্টফুড কর্মীর ওপর হা মলার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ডেইরি কুইন রেস্তোরাঁয় মিল্কশেক নিয়ে বিতর্কের জেরে এক গ্রাহকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করতে যাচ্ছে পুলিশ। মেট্রো আটলান্টা এলাকার পাউডার স্প্রিংসের অস্টেল-পাউডার স্প্রিংস রোডে অবস্থিত ওই ফাস্টফুড রেস্তোরাঁয় গত মঙ্গলবার দুপুরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১টা ১১ মিনিটের দিকে ড্রাইভ-থ্রু লেনে এক ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে এক কর্মীর দিকে পানীয় ও কাপ ছুড়ে মারছেন এবং এরপর দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যাচ্ছেন। ডেইরি কুইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই গ্রাহক তাকে দেওয়া পানীয়টি ‘মিল্কশেক নয়’ দাবি করে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে ম্যানেজারের ওপর এই হামলা চালান।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার মাত্র একদিন পরই পাউডার স্প্রিংস পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, সেবা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা, ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলা বা অর্ডারের ত্রুটি সংশোধনের অনুরোধ করা পুরোপুরি স্বাভাবিক।
কিন্তু শুধুমাত্র নিজের দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মীর ওপর হামলা করা কখনোই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে ঠিক কী কী ধারায় অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা প্রকাশ করেনি।
এদিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ডেইরি কুইন কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের কর্মীদের প্রতি সাধারণ মানুষের এই সমর্থন ও ভালোবাসা তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির নিউয়ার্ক থেকে মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসগামী একটি ফ্লাইটে ক্লান্ত এক মায়ের শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে তাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট মনিক হ্যারিস। ঘটনাটি ঘটে ২ সেপ্টেম্বরের একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে, যা পরিচালনা করছিল রিপাবলিক এয়ারওয়েজ। ফ্লাইট চলাকালে হ্যারিস লক্ষ্য করেন, এক মা শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের কোলে থেকে পিছলে পড়তে শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন। পরে তিনি শিশুটিকে নিজের কোলে রেখে মাকে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন যাত্রী জন ফ্রেসে। তিনি মুহূর্তটির একটি ছবি তোলেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটি প্রকাশ করেন। ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পোস্টটিতে ২ লাখের বেশি লাইক পড়ে এবং হাজারো মানুষ মন্তব্য ও শেয়ার করেন। ফ্রেসের বর্ণনা অনুযায়ী, মা ছিলেন নতুন মা এবং ভীষণ ক্লান্ত। শিশুটি নড়াচড়া শুরু করলে হ্যারিস দ্রুত তাকে ধরে ফেলেন এবং মাকে আশ্বস্ত করে বিশ্রাম নিতে বলেন। হ্যারিসের এই আচরণকে যাত্রীরা তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রশংসা করেন। হ্যারিস পরে জানান, তিনি কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজটি করেননি। তার ভাষায়, মানুষের জন্য এমন ছোট ছোট কিছু কাজ করা যায়, যা হয়তো কেউ কখনো দেখবে না; কিন্তু তা কারও জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাটি এবার একজন যাত্রী দেখেছেন এবং সেই মুহূর্তই তাকে হাজারো মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। রিপাবলিক এয়ারওয়েজও হ্যারিসের প্রশংসা করেছে এবং তাকে নিজেদের দলের একজন অসাধারণ সহকর্মী ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হ্যারিসের এই মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে ক্লান্ত নতুন মায়ের পাশে একজন অপরিচিত মানুষের এমন তাৎক্ষণিক সহায়তা অনেকের কাছে সহমর্মিতা ও মানবিকতার একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের সীমান্ত দেয়াল ঠেকাতে মামলায় টেক্সাসের জমির মালিকরা
মহাকাশে অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বদলে যেতে পারে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন
সেনারা দেশ রক্ষায়, অথচ পরিবারের সদস্যদেরই আটক করছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত শিক্ষকনির্ভর শ্রেণিকক্ষের বদলে এআই ও অ্যাডাপটিভ লার্নিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে পড়াশোনার নতুন মডেলের বিস্তার ঘটছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলফা স্কুল নামের একটি বেসরকারি স্কুল নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে বা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে ক্যাম্পাস পরিচালনা বা চালুর পরিকল্পনা করছে। এই মডেলে প্রচলিত অর্থে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদান করেন না। শিক্ষার্থীরা এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজেদের গতিতে গণিত, ইংরেজিসহ মূল একাডেমিক বিষয় শেখে। স্কুলটির মডেল অনুযায়ী, দিনের একটি বড় অংশ একাডেমিক শিক্ষার বদলে যোগাযোগ দক্ষতা, আর্থিক জ্ঞান, প্রকল্পভিত্তিক কাজসহ বিভিন্ন জীবনমুখী দক্ষতা তৈরিতে ব্যয় করা হয়। আলফা স্কুলের মডেলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ‘টু-আওয়ার কোর’ পদ্ধতি। এতে শিক্ষার্থীরা সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা এআইভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার মাধ্যমে মূল একাডেমিক বিষয়গুলো শেখে। এরপর দিনের বাকি সময়ে তারা বিভিন্ন জীবনদক্ষতা ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। তবে ‘শিক্ষক ছাড়াই স্কুল’ কথাটি পুরোপুরি আক্ষরিক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দেখভাল ও সহায়তার জন্য কর্মীরা থাকেন, যাদের অনেক ক্ষেত্রে ‘গাইড’ বলা হয়। তারা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং স্কুলের পরিবেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। আলফা স্কুল এরই মধ্যে অস্টিন, নিউইয়র্ক ও মিয়ামিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ২০২৬ সালে শিকাগো, আটলান্টা, শার্লট, র্যালি ও ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। এআইনির্ভর এই মডেল নিয়ে অবশ্য শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে একই সময়ে আরও বিভিন্ন বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার ঘটছে। সান অ্যান্টোনিওর মতো শহরে মাইক্রোস্কুল, চার্টার স্কুল ও ভার্চুয়াল স্কুল জনপ্রিয় হচ্ছে। কিছু মাইক্রোস্কুলে মাত্র ২০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকে এবং একই শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে শেখে। এই পরিবর্তনের পেছনে অভিভাবকদের স্কুল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার চাহিদাও বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালের ন্যাশনাল স্কুল চয়েস উইক-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৬ মিলিয়ন অভিভাবক অন্তত একটি সন্তানের জন্য নতুন বা ভিন্ন ধরনের স্কুল বিবেচনা, খোঁজ বা নির্বাচন করেছেন। তবে এআইনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল, সামাজিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় সব পরিবারের সমান সুযোগ—এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলের এই নতুন মডেল শুধু প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভবিষ্যতের শিক্ষা কেমন হবে—সেই বড় প্রশ্নও সামনে আনছে।
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়, বাঁচবে বাড়তি খরচ
চীন-রাশিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
কিছুতেই ভয় পেতে চান না নিউইয়র্কের জোডি স্মিথ, তাই অপসারণ করালেন মস্তিষ্কের বিশেষ অংশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ চলতি সপ্তাহে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। বাজারে এবার তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত হলে ইতোমধ্যে উচ্চ মর্টগেজ রেটের চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং মার্কেটে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টরা। ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের বৈঠকে বসেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে ফেড ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছিল। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার পেছনে মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা CPI মাসিক হিসাবে ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এদিকে মর্টগেজ রেটও ইতোমধ্যে বাড়ছে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির বার্ষিকীকৃত হার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং প্রথমবারের মতো ৪০ লাখের নিচে চলে গেছে। একই সময়ে পেন্ডিং হোম সেলসও কমেছে, ফলে আট মাসের ধারাবাহিক বৃদ্ধির অবসান হয়েছে। তবে ফেডের সুদের হার সরাসরি মর্টগেজ রেট নির্ধারণ করে না। ফেড মূলত ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে মর্টগেজ রেট বন্ড মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই ফেড সুদের হার বাড়ালেই মর্টগেজ রেট একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল মনে করেন, সেপ্টেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াক বা না বাড়াক, মর্টগেজ রেটের ওপর চাপ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতারা তুলনামূলক সতর্ক হয়ে উঠছেন। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে ফার্স্ট টাইম হোমবায়ার ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর। অন্যদিকে উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্রেতা এবং পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকা সেকেন্ড হোমের ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাড়ি বিক্রেতাদেরও দাম, মেরামতের খরচ এবং ক্লোজিংয়ের সময় বিভিন্ন কনসেশন নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বেশি সমঝোতা করতে হতে পারে বলে রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাজার ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমনটা মনে করছেন না অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী। ফলে ফেডের এবারের সিদ্ধান্ত শুধু সুদের হার নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি কেনাবেচা, মর্টগেজ খরচ এবং নতুন বাড়ি কেনার সামর্থ্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আগামী কয়েক দিনের সুদের হার ও মর্টগেজ মার্কেটের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত