আমেরিকা

অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুললেন, হাতে পেলেন ২৫০ ডলারের স্পিডিং টিকিট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৯:৫৬
অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুলে জরিমানার নোটিশ পেলেন গৃহবধূ। ছবি: সংগৃহীত
অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুলে জরিমানার নোটিশ পেলেন গৃহবধূ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে গতি সীমা লঙ্ঘনের একটি জরিমানার নোটিশ পৌঁছে দিতে অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মীর মতো পোশাক পরা এক প্রসেস সার্ভারের উপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফিনিক্সের বাসিন্দা মাইরান্ডা ইয়াং, যিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তার বাড়িতে কোনো পার্সেল পৌঁছে দিতে এসেছেন একজন অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মী।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিএনএক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে ফিনিক্স শহরের একটি ফটো এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মাইরান্ডা ইয়াংয়ের নামে একটি ট্রাফিক টিকিট ইস্যু হয়। গত সপ্তাহে নীল রঙের ভেস্ট পরা এক ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে নিজেকে সিটির পক্ষে কাজ করা একজন প্রসেস সার্ভার হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২৫০ ডলারের স্পিডিং টিকিটের নোটিশ হাতে তুলে দেন।

 

ইয়াং জানান, ওই ব্যক্তির পোশাক অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মীদের ইউনিফর্মের সঙ্গে এতটাই মিল ছিল যে তিনি প্রথমে এটিকে একটি পার্সেল ডেলিভারি বলেই মনে করেছিলেন।

 

অ্যারিজোনার আইন অনুযায়ী, ডাকযোগে পাঠানো ফটো এনফোর্সমেন্ট ট্রাফিক টিকিটের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রাপককে সাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে একই নোটিশ ব্যক্তিগতভাবে হাতে পৌঁছে দেওয়া হলে সেটি আইনগতভাবে কার্যকর হয়ে যায় এবং জরিমানা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়।

 

মাইরান্ডা ইয়াংয়ের দাবি, প্রসেস সার্ভার তাকে জানান যে ডাকযোগে আগেই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি সেটি বাড়ির দরজায় রেখে চলে যান। ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ পাওয়ার পর এখন তাকে ২৫০ ডলারের জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।

 

ফিনিক্স সিটি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে শহরের ১৭টি ফটো এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরার মাধ্যমে ধরা পড়া গতি সীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় জরিমানার নোটিশ দেওয়া শুরু করে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষ মেসাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভেরা মোবিলিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আদায় হওয়া প্রতিটি জরিমানার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০ ডলার পায়। তবে পৃথক প্রসেস সার্ভারদের কীভাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা চুক্তিতে উল্লেখ নেই।

 

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি নোটিশ পৌঁছে দিতে কোনো প্রসেস সার্ভারের এমন পোশাক ব্যবহার করা বিভ্রান্তিকর কি না। যদিও এ বিষয়ে ফিনিক্স সিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫ শতাংশে। ছবি: সংগৃহীত
ধীর গতিতে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি: দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়ে এসেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বার্ষিক হিসেবে ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশ কম। এর আগে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধির হার ছিল সংশোধিত ২.১ শতাংশ।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বিউরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের প্রকাশিত প্রাথমিক প্রাক্কলন বা অ্যাডভান্স এস্টিমেটে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে অর্থনীতিবিদরা দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। মূলত সরকারি ব্যয় কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও রপ্তানির গতি মন্থর হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এই ধীরগতি দেখা দিয়েছে। যদিও এই সময়ের মধ্যে ভোক্তাদের ব্যয় এবং ব্যক্তিগত খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মূল চালিকাশক্তি ছিল ভোক্তা ব্যয়, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, যা সরকারি খাতের ব্যয়ের পতনের কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মূল পরিমাপক ‘রিয়েল ফাইনাল সেলস টু প্রাইভেট ডমেস্টিক পারচেজার্স’ ৩.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, জিডিপি গণনার সময় আমদানি ব্যয় বাদ দেওয়া হয়, এবং এই প্রান্তিকে আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি ছিল।   এদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও এই প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশ অনেকটাই বেড়েছে। দেশটির গ্রস ডমেস্টিক পারচেসেস প্রাইস ইনডেক্স ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের তিন মাসের সময়সীমায় ছিল ৩.৬ শতাংশ। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত খরচ বা পিসিই মূল্যসূচক বেড়ে ৫.১ শতাংশ হয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৪.৬ শতাংশ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো—খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থিতিশীল খাতগুলো বাদ দিয়ে পরিমাপ করা মূল পিসিই মূল্যস্ফীতি ৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সাথে বর্তমান ডলারে হিসাবকৃত জিডিপি এই প্রান্তিকে বার্ষিক ৭.৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা সামনের দিনগুলোতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাণিজ্য বিভাগ পরবর্তীতে এই প্রবৃদ্ধির আরও দুটি সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১০:৩৯
অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুলে জরিমানার নোটিশ পেলেন গৃহবধূ। ছবি: সংগৃহীত

অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুললেন, হাতে পেলেন ২৫০ ডলারের স্পিডিং টিকিট

বিরল 'এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট'-এ প্রথমবারের মতো মামলার শুনানি শুরু। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আদালতে প্রথমবার আফগান নারীকে বহিষ্কারের চেষ্টা

অভিযুক্ত দম্পতি। ছবি:সংগৃহীত

ই-বে'র বিরুদ্ধে তেলাপোকা ও রক্তমাখা শূকরের মুখোশ পাঠানোর অভিযোগ, দম্পতিকে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো ও বেভারলি হিলস এলাকায় বিদেশি প্রভাব ও জনদুর্নীতি-সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক স্থানে তল্লাশি অভিযান চালায় এফবিআই। (প্রতীকী/সংবাদভিত্তিক ছবি)
বিদেশি প্রভাবের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় এফবিআই অভিযান

ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি, বেভারলি হিলস এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযান বৃহত্তর জনদুর্নীতি ও সম্ভাব্য বিদেশি প্রভাব-সংক্রান্ত তদন্তের অংশ।   লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, এফবিআই কর্মকর্তারা সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির একজন সুপারভাইজার, অন্টারিও সিটি কাউন্সিলের একজন সদস্য, একটি চীনা-আমেরিকান গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এবং বেভারলি হিলসে একটি বিলাসবহুল বাসভবনে আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। এছাড়া অন্টারিও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।   তবে এফবিআই এখনো তদন্তের প্রকৃতি বা কারা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত—সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে পরোয়ানাগুলো সিল করা থাকায় তদন্ত সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তটি স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য বিদেশি প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং জনদুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তদন্তগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম আলোচিত অভিযান। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য প্রকাশ হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৮:৪৮
পুলিশ প্রটোকল। ছবি:সংগৃহীত

স্তন্যদানকারী মা দুই সিনড্রোম শিশু থেকে আলাদা করে আইসির হেফাজতে, পরিবারের ক্ষোভ

জর্জ বিমার। ছবি:সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মায়ের ‘শেষ ইচ্ছা’ পূরণের দাবি করে গুলি করে হত্যা করে মরদেহে আগুন! ছেলে গ্রেপ্তার

মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবিচ্ছিন্ন আরও পাঁচ শিশুর পরিবারে ফেরা, মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকায় প্রশংসনীয় ভূমিকা

লতিফ সিদ্দিকীকে আদলতে তুলার সময়। ছবি:সংগৃহীত
আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন, প্রস্তুত আছি: লতিফ সিদ্দিকী

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আদেশ ঘোষণার পর আদালতে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।”   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।   আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন দাখিল করা হয়নি। এ অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানানো হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   আদেশ ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া ওকালতনামায় স্বাক্ষরের অনুমতি এবং ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় তার মক্কেলের সঙ্গে কথা বলার আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল দুটি আবেদনই মঞ্জুর করেন।   এ সময় কাঠগড়া থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি কয়েকবার বলেন, “মাননীয় আদালত, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” তবে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালত তার বক্তব্য শোনেননি।   এরপর তিনি বলেন, “হায়রে হায়, এই যদি হয় আদালত, তাহলে আমি কোথায় যাব?” দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে হাজতখানায় নিয়ে যেতে এগিয়ে এলে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডারও সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা বসতে বললে তিনি বলেন, “আমি বসে থাকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো সেটা আমার বিষয়। তোমরা বলার কে।”   এজলাসকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময়ও তিনি বলেন, “আদালতকে বলতে চাইলাম ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।”   এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার কিছু পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।   মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ওই সময়ের বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত ও অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং মামলার চূড়ান্ত রায় হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ৭:৪২
ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করা এক রহস্যময় হ্যাকার। ছবি:সংগৃহীত

ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক!

"হাসপাতালে পিঠে বিলিয়ার্ড/পুল কিউ (লাঠি) এক ব্যক্তির নাটকীয় দৃশ্য।" ছবি:সংগৃহীত

ট্রেকিং স্টিক শরীর ভেদ করেও ১৬ কিলোমিটার হাটলেন পর্বতারোহী

বিট কয়েন ও বিমান। ছবি:সংগৃহীত

এমিরেটসে এবার বিটকয়েনে টিকিটের মূল্য পরিশোধ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুগের সূচনা

0 Comments