বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা, তবু রক্ষা পেলেন না—ফ্লোরিডায় কুমিরের হামলায় নারীর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১২ ফুট লম্বা এক বিশাল কুমিরের হামলায় নিহত ৩১ বছর বয়সী এক নারীকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টার মর্মান্তিক বডিক্যাম (বডি ক্যামেরা) ফুটেজ প্রকাশ করেছে পুলিশ। গত সপ্তাহান্তে ইকনলকহ্যাচি নদীতে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সাঁতার কাটার সময় ব্রিটানি ক্লার্ক নামের ওই নারী কুমিরের এই নৃশংস হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। সদ্য প্রকাশিত পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজে হামলার ঠিক পরের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের দৃশ্য উঠে এসেছে।
শিউরে ওঠা এই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত রোববার এক পুলিশ কর্মকর্তা জঙ্গল ও ঝোপঝাড় পেরিয়ে ইকনলকহ্যাচি নদীর বালুময় তীরে ছুটে যাচ্ছেন। নদীর তীরের কাছে একটি ত্রিপলের নিচে মারাত্মক আহত ব্রিটানি ক্লার্ক এবং অন্য আরেকজন ব্যক্তিকে (যিনি সম্ভবত তার বয়ফ্রেন্ড চ্যান্স অ্যালিসন) বসে থাকতে দেখা যায়। সেমিনোল কাউন্টি শেরিফ অফিসের ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের কাছে পৌঁছানোর পরপরই অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে দ্রুত একটি টুর্নিকেট (বিশেষ ব্যান্ডেজ) বের করেন এবং এরপরই ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়।
হামলার ভয়াবহতা কতটা তীব্র ছিল, তা ঘটনার পরপরই পুলিশের কাছে করা একটি জরুরি ৯১১ (911) কলের বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে। পুলিশকে কল করা ওই ব্যক্তি ব্রিটানির ক্ষতবিক্ষত অবস্থার বর্ণনা দিয়ে জানান যে, কুমিরের কামড়ে তার দুটি হাতই স্থানচ্যুত হয়েছে এবং একটি হাত শরীর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত উপস্থিতি এবং আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মারাত্মক ক্ষতের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্রিটানি ক্লার্ককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার ও ফেডারেল ঠিকাদারি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য ভার্জিনিয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চাকরির বাজার। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি উত্তর ভার্জিনিয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ফেডারেল ঠিকাদার, তথ্যকেন্দ্র ও সরকারি প্রকল্পের উপস্থিতি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থানের বাজারকে আরও শক্তিশালী করেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ভার্জিনিয়ায় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে রাজ্যে মোট কৃষি খাতের বাইরের চাকরি ছিল প্রায় ৪২ লাখ ৪৪ হাজার। তবে সামগ্রিক বেকারত্বের হার কম হওয়াকে সরাসরি যেকোনো চাকরি সহজে পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট পেশায় সুযোগ নির্ভর করে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদার ওপর। প্রযুক্তিখাতে ভার্জিনিয়ার অবস্থান বিশেষভাবে শক্তিশালী। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পেশাভিত্তিক সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে কম্পিউটার ও গণিতভিত্তিক পেশায় প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ মানুষ কাজ করছিলেন। এসব পেশায় গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার ৬১০ ডলার। তথ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫০ ডলার। সফটওয়্যার উন্নয়ন, মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং, নেটওয়ার্কিং, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা প্রকৌশল ও তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় এই প্রযুক্তি অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে উত্তর ভার্জিনিয়ার সঙ্গে ফেডারেল সরকারের ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ফেডারেল ঠিকাদারদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। তবে এসব চাকরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা ছাড়পত্র। প্রতিরক্ষা ও কিছু সরকারি প্রকল্পের চাকরিতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রয়োজন হতে পারে এবং নির্দিষ্ট পদে মার্কিন নাগরিকত্বও বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা থাকলেই সব ধরনের ফেডারেল ঠিকাদারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি তথ্যকেন্দ্র শিল্পও ভার্জিনিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উত্তর ভার্জিনিয়ার লাউডন ও আশপাশের এলাকায় বড় তথ্যকেন্দ্র অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে মেঘভিত্তিক অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, বৈদ্যুতিক প্রকৌশল, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যকেন্দ্র পরিচালনার মতো ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আর্লিংটনের ন্যাশনাল ল্যান্ডিং এলাকায় অ্যামাজনের প্রধান কার্যালয়-২-ও এই অঞ্চলের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে উত্তর ভার্জিনিয়া প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য শুধু চাকরির বাজার নয়, বড় একটি প্রযুক্তি পরিবেশ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। তবে চাকরির সুযোগের সঙ্গে বসবাসের খরচও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ভার্জিনিয়া আবাসন ব্যবসায়ী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে পুরো ভার্জিনিয়া রাজ্যে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। উত্তর ভার্জিনিয়ার অনেক এলাকায় বাড়ি ও ভাড়ার খরচ রাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশিদের কাছেও ভার্জিনিয়া ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে শুধু চাকরি ও পেশাগত সুযোগের কারণে নয়, শক্তিশালী সম্প্রদায়ের উপস্থিতির কারণেও। উত্তর ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা, নর্দার্ন ভার্জিনিয়া বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন বাংলা সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পহেলা বৈশাখ, ঈদ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাংলা ভাষা ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ নানা আয়োজনও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করছে। আগামী ২৩ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজনের খবরও প্রকাশ হয়েছে, যেখানে খাবারের পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে। এই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পেশাগত জীবনের পাশাপাশি নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুযোগ অনেক পরিবারের বসবাসের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ভার্জিনিয়ায় বসবাস করলেই চাকরি নিশ্চিত হবে এমন নয়। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যে বসবাসের কারণে অভিবাসনের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো সুবিধাও তৈরি হয় না। চাকরির সুযোগ নির্ভর করে প্রার্থীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির ধরন এবং অভিবাসন সুবিধা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম ও যোগ্যতার ওপর। সব মিলিয়ে, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি পেশায় শক্তিশালী কর্মসংস্থান বাজার, ফেডারেল ঠিকাদারির বড় উপস্থিতি, তথ্যকেন্দ্র শিল্প এবং ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থান ভার্জিনিয়াকে পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আর এর সঙ্গে সক্রিয় বাংলাদেশি সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি পেশাজীবী ও পরিবারগুলোর কাছেও রাজ্যটি ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ
নিউ ইয়র্কে থাকেন, ড্রাইভার লাইসেন্স আছে? রিনিউয়ের আগে যা জানা জরুরি
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা
রেস্টুরেন্টে এলেই অভিযোগ, খাবার হতে হবে প্রচণ্ড গরম, কথায় কথায় রাগ আর কখনো কর্মীদের উদ্দেশে কটু কথা। এমন একজন ক্রেতাকে দেখলে অন্য কর্মীরা যখন এড়িয়ে চলতেন, তখনও হাসিমুখে তার টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতেন মেলিনা সালাজার। টানা প্রায় সাত বছর একইভাবে সেবা দেওয়ার পর সেই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর মেলিনার জন্য অপেক্ষা করছিল অবিশ্বাস্য এক চমক। উইলে তাকে ৫০ হাজার ডলার এবং নিজের ২০০০ মডেলের একটি বিউইক গাড়ি দিয়ে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলের লুবিস ক্যাফেটেরিয়ার। ২০০৭ সালে ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে। সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মেলিনার সেই নিয়মিত ক্রেতার নাম ছিল ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস। ৮৯ বছর বয়সী সোর্ডস ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন প্রবীণ সেনাসদস্য। রেস্টুরেন্টে নিয়মিত আসতেন তিনি। তবে কর্মীদের কাছে সহজ মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল না। মেলিনা সে সময় জানিয়েছিলেন, সোর্ডস চাইতেন তার খাবার অত্যন্ত গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হোক। খাবার এতটাই গরম হতে হতো যে তাতে তার মুখ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি পরোয়া করতেন না। নিজের পছন্দমতো কিছু না হলে রেগে যেতেন, অভিযোগ করতেন এবং কখনো কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করতেন। এসব কারণে অন্য অনেক কর্মী তার টেবিলের দায়িত্ব নিতে চাইতেন না। কিন্তু মেলিনা তাকে এড়িয়ে যাননি। প্রায় সাত বছর ধরে সোর্ডস যখনই আসতেন, তিনি ধৈর্য ধরে তার পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করতেন। বৃদ্ধের রাগ বা অভিযোগের জবাবেও নিজের আচরণ বদলাননি। এরপর ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই রেস্টুরেন্টে আসা বন্ধ করে দেন সোর্ডস। পরে স্থানীয় পত্রিকার মৃত্যুসংবাদ থেকে মেলিনা জানতে পারেন, জুলাই মাসে মারা গেছেন তার দীর্ঘদিনের সেই নিয়মিত ক্রেতা। সেখানেই গল্পটি শেষ হতে পারত। কিন্তু বড় চমকটি আসে কয়েক মাস পর, বড়দিনের ঠিক আগে। মেলিনা জানতে পারেন, মৃত্যুর আগে তৈরি করা উইলে সোর্ডস তার জন্য ৫০ হাজার ডলার রেখে গেছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, নিজের ২০০০ মডেলের বিউইক গাড়িটিও মেলিনাকে দিয়ে যান তিনি। খবরটি পাওয়ার পর মেলিনা এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সে সময় টেক্সাসের কেজিবিটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘটনাটি এখনও তার বিশ্বাস হচ্ছে না। সোর্ডসের স্বভাব নিয়েও রাখঢাক করেননি তিনি। তাকে কিছুটা রূঢ় প্রকৃতির মানুষ হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন। তবে সোর্ডস জীবিত অবস্থায় মেলিনাকে কখনো এত বড় পুরস্কার দেবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে সেই সময়ের নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি মেলিনার জন্য একটি বিশেষ ধন্যবাদপত্র রেখে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত মূলধারার প্রতিবেদনগুলোতে এমন কোনো চিঠির তথ্য পাওয়া যায় না। নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রায় সাত বছর ধরে মেলিনার ধৈর্য ও সেবা পাওয়া এই নিয়মিত ক্রেতা মৃত্যুর পর তার উইলে ৫০ হাজার ডলার এবং একটি গাড়ি মেলিনার নামে রেখে যান। ঘটনার পর অন্য রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য মেলিনার পরামর্শও ছিল খুব সাধারণ। মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে এবং ভালোভাবে আচরণ করতে বলেছিলেন তিনি। প্রায় দুই দশক আগের ঘটনাটি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলার বা গাড়ির চেয়েও গল্পটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে আছে সেই সাত বছরের আচরণ। মেলিনা জানতেন না তার ধৈর্যের কোনো পুরস্কার আসবে। অন্যরা যে মানুষটিকে এড়িয়ে চলতেন, তাকেই তিনি প্রতিদিন অন্য ক্রেতাদের মতো সেবা দিয়ে গেছেন। আর জীবদ্দশায় মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেও মৃত্যুর পর নিজের উইলের মাধ্যমে সেই সেবার মূল্য দিয়ে গেছেন ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস।
রাতে ঘুরে এসে ব্যাংক অ্যাপ খুলতেই হতবাক নারী, অ্যাকাউন্টে ৫ ঋণ ৫ হাজার কোটি ডলার!
যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, দুই কোটির বেশি ফান্ডিং পেলেন বাংলাদেশের ইভা
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা: আপনার গাড়ির নম্বর পুলিশ খুঁজেছে কি না জানবেন যেভাবে
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫০০ ডলারে এক একর জমি কেনা যায় এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই যেকোনো রাজ্যে সহজে জমির মালিক হওয়া সম্ভব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবির পুরোটা সঠিক নয়। কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলারে ছোট কিংবা অনুন্নত জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জমির সাধারণ বাজারদর হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। বিদেশিদের জমি কেনার নিয়মও রাজ্য এবং জমির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই মূল্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে আবাসিক জমি কিংবা প্রত্যন্ত মরুভূমির অনুন্নত জমির দাম সরাসরি তুলনা করা যায় না। রাজ্যভেদে জমির দামে বড় পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোতে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য ছিল একরপ্রতি মাত্র ৭২৫ ডলার। নেভাদায় প্রায় ১ হাজার ডলার এবং অ্যারিজোনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। ফলে এসব রাজ্যের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক কম দামে জমি পাওয়া সম্ভব। তবে মিসিসিপি, আরকানসাস কিংবা টেক্সাসে সাধারণভাবেই ৫০০ থেকে ২ হাজার ডলারে এক একর জমি পাওয়া যায়, এমন দাবি সরকারি গড় মূল্যের সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাবে এসব রাজ্যে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য একরপ্রতি কয়েক হাজার ডলার। শহর, পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি কিংবা উন্নত এলাকার কাছাকাছি হলে দাম আরও বেশি হতে পারে। সস্তা জমির বিজ্ঞাপন দেখার সময় এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। অনলাইনে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার ডলারে যেসব জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়, সেগুলোর অনেকটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকায় হতে পারে। সেখানে পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নাও থাকতে পারে। এমনকি জমিটি কিনলেও সেখানে বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে অ্যারিজোনায় সস্তায় জমি কিনলেই নিজের ইচ্ছামতো ছোট বাড়ি নির্মাণ করা যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বাড়ির আকার, স্থায়ী কিংবা স্থানান্তরযোগ্য কাঠামো, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমি ব্যবহার এবং ভবন নির্মাণের নিয়ম মানতে হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কিংবা গ্রিন কার্ড ছাড়া জমি কেনা যায় কি না। সাধারণভাবে বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সব বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেনার ওপর সার্বিক কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের জমি বাধাহীনভাবে কেনা যাবে। বিশেষ করে কৃষিজমির বিদেশি মালিকানা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা বিধিনিষেধ এবং তথ্য জানানোর নিয়ম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানা নিয়ে দেশটির সব রাজ্যে একই নিয়ম নেই। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা কার্যকর রয়েছে। বিদেশি কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতে নির্দিষ্ট ধরনের মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ অর্জন করলে কেন্দ্রীয় আইনের অধীনে কৃষি বিভাগকে সেই তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতাও তৈরি হতে পারে। তাই কৃষিজমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বর্তমান আইন যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে জমি কিংবা বাড়ি কিনলে গ্রিন কার্ড, ভিসা অথবা দেশটিতে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। সম্পত্তির মালিকানা এবং অভিবাসন মর্যাদা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করেও সেখানে বৈধভাবে সম্পত্তির মালিক হতে পারেন। কিন্তু সেই সম্পত্তির মালিকানা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় না। সরকারি নিলামেও যুক্তরাষ্ট্রে জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রি করা হয়। দেশটির সাধারণ সেবা প্রশাসন উদ্বৃত্ত কেন্দ্রীয় জমি ও ভবন নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে। তবে সরকারি নিলামে বাজারদরের তুলনায় নিশ্চিতভাবে ৫০ শতাংশ কমে জমি পাওয়া যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। দরদাতাদের প্রতিযোগিতা, জমির অবস্থান এবং সম্পত্তির শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়। একইভাবে মাত্র ৫০ ডলার অগ্রিম দিয়ে এবং মাসে ১০০ ডলার কিস্তিতে জমি কেনার সুযোগ কোনো সরকারি সুবিধা নয়। কোনো বেসরকারি জমির মালিক নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে এমন প্রস্তাব দিতে পারেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত, সুদের হার, অতিরিক্ত খরচ, কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে কী হবে এবং জমির মালিকানা বৈধ ও পরিষ্কার কি না, এসব যাচাই না করে এমন চুক্তিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সস্তা জমি কেনার আগে জমির মালিকানা যাচাই করাও জরুরি। জমির ওপর পুরোনো ঋণ কিংবা অন্য কারও আর্থিক দাবি রয়েছে কি না, সম্পত্তি কর বকেয়া আছে কি না, সেখানে যাওয়ার বৈধ রাস্তা রয়েছে কি না, জমিটি বন্যা কিংবা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কি না এবং সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে কি না, এসব বিষয় আগেই যাচাই করা প্রয়োজন। বিদেশি মালিকদের করের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি মালিক সম্পত্তি বিক্রি করলে বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কর আইনের অধীনে বিশেষভাবে অর্থ আটকে রেখে কর পরিশোধের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আমেরিকায় কয়েকশ ডলারে জমি কেনার বিজ্ঞাপন বাস্তবে পাওয়া গেলেও শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমিটি কোথায়, কী কাজে ব্যবহার করা যাবে, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা আছে কি না, বছরে কত সম্পত্তি কর দিতে হবে, মালিকানা পরিষ্কার কি না এবং বিদেশি নাগরিক হিসেবে সেই জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো রাজ্যভিত্তিক বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে জমি কিংবা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারেন। তবে জমির মালিক হওয়া মানেই আমেরিকায় বসবাসের অনুমতি, ভিসা কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ নয়। সম্পত্তি কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অধিকার দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
ভার্জিনিয়ায় বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, সহজেই চাকরি ও গ্রিন কার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, দিতে হতে পারে ১,৩৩০ ডলার