মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জিতলে ইতিহাস গড়ার পথে আবদুল এল-সায়েদ, হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রগতিশীল রাজনীতিক ড. আবদুল এল-সায়েদ। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর হওয়ার নজির গড়তে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মুসলিম সদস্য থাকলেও সিনেটে এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিম নির্বাচিত হননি।
মিশিগানের এই সিনেট আসনটি শূন্য হচ্ছে বর্তমান ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। দলীয় মনোনয়নের লড়াইয়ে আবদুল এল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। সম্প্রতি রাজ্য সিনেটর ম্যালোরি ম্যাকমোরো প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেশি দুই প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রাইমারি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী ধারার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
আবদুল এল-সায়েদের প্রচারণায় বড় শক্তি যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থন। এছাড়া কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি) এবং সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনও প্রকাশ্যে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
১৯৮৪ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েটে জন্ম নেওয়া আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ একজন মিশরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম-আমেরিকান। তার বাবা-মা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি তিনি ডেট্রয়েট ও পরে ওয়েন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদেও ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় আরব-আমেরিকান ও মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। বিশেষ করে ডিয়ারবর্ন, হ্যামট্রামক ও ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় কয়েক লাখ আরব-আমেরিকান ও মুসলিম বসবাস করেন। বিভিন্ন গবেষণা ও নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই জনগোষ্ঠী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করছে। গাজা যুদ্ধ, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন এবং অর্থনৈতিক নীতির মতো বিষয়গুলো মুসলিম ও আরব-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
প্রচারণায় আবদুল এল-সায়েদ সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় কমানো, শ্রমজীবী মানুষের আয় বৃদ্ধি, করপোরেট প্রভাব কমানো এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক চাপ লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এসব ইস্যুকে সামনে রেখেই তিনি নিজেকে প্রগতিশীল বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন।
তবে প্রাইমারিতে জয় পেলেই তিনি সিনেটর হয়ে যাবেন না। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাধারণ নির্বাচনে লড়তে হবে। সেই নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর হিসেবে নতুন ইতিহাস রচনা করবেন আবদুল এল-সায়েদ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-তে থাকা ২ কোটি ৮ লাখ মানুষ অক্টোবরে একবারের জন্য ৯০ ডলার করে পাবেন। তবে পার্ট বি-তে নথিভুক্ত প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি এই অর্থ পাবেন না। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৯০ ডলার দেওয়া হচ্ছে অক্টোবরের পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে। পার্ট বি-তে চিকিৎসকের সেবা, হাসপাতালের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা ও কিছু প্রতিরোধমূলক সেবা অন্তর্ভুক্ত। এটি মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট বৃদ্ধি নয়; অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। মেডিকেয়ার পরিচালনাকারী সরকারি সংস্থা সিএমএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-র যোগ্য সদস্যরা অর্থ পাবেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ প্ল্যানে থাকা ব্যক্তিরা এই অর্থের আওতায় নেই। যাঁদের পার্ট বি প্রিমিয়াম মেটাতে মেডিকেইড সহায়তা দেয়, যাঁরা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তাঁরাও যোগ্য নন। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের মাধ্যমে ৮ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে ৯০ ডলার জমা হওয়ার কথা। অন্যদের কাছে অক্টোবরের পরের দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাগজের চেক পৌঁছাবে। চেকের সঙ্গে থাকা বার্তায় এটি মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে অক্টোবরের প্রিমিয়াম খরচ কমানোর অর্থ বলে উল্লেখ থাকবে। এই এককালীন অর্থ চলতি বছরের প্রিমিয়াম বৃদ্ধির পুরোটা মেটায় না। সিএমএসের হিসাবে, ২০২৬ সালে পার্ট বি-র সাধারণ মাসিক প্রিমিয়াম ১৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ২০২ ডলার ৯০ সেন্ট হয়েছে। অর্থাৎ মাসে ১৭ ডলার ৯০ সেন্ট বেশি দিতে হচ্ছে। নিজের যোগ্যতা জানতে 1-800-MEDICARE নম্বরে ফোন করা যাবে। অর্থ পাঠানোর অবস্থা জানতে ১৫ অক্টোবর থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের 1-800-772-1213 নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে সিএমএস। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিএমএস
আইসিইবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারে ট্রাম্পের চাপের অভিযোগ সাবেক এফবিআই কর্মকর্তার
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য গোপনের দায়ে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে বিচার বিভাগের মামলা
ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলোর জন্য আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন ইরান যুদ্ধে নিহত বেশিরভাগ সেনার স্বজনরা। গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় সেনার পরিবারের মাত্র একজন সদস্য মঙ্গলবারের এই আয়োজনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভয়াবহ ওই হামলায় বেঁচে ফেরা সেনারা এর আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ওই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৯ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ভিয়েতনামের যুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংঘাতে নিহত প্রায় ৪০ জন সেনাকে সম্মান জানাতে হোয়াইট হাউস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তবে কুয়েতে হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের কাছ থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় গোল্ড স্টার পরিবারগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। নিহত মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল এম. আমোরের স্বামী জোই আমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, হামলার আগে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং কেন ছয়জন সেনাকে প্রাণ হারাতে হলো, সে বিষয়ে তিনি এখন মার্কিন জনগণের কাছে স্বচ্ছতার দাবি জানাচ্ছেন। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জুনে তদন্ত শেষ হলেও সংবেদনশীল তথ্য বাদ দেওয়ার কাজ চলায় তারা এখনো পরিবারগুলোকে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। স্বজনদের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পেছনে দেরিতে দাওয়াত পাওয়া এবং বর্তমান প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আমন্ত্রণপত্র পাঠানোয় অনেক পরিবার আর্থিকভাবে বা সময়মতো ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে পারেনি। অন্যদিকে, নিহত মেজর অ্যালেক্স ক্লিনার-এর স্ত্রী লিবি ক্লিনার জানান, দেরিতে দাওয়াত পাওয়ায় তিনি শিশুদের দেখাশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার সময় পাননি। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে বলেন যে, যে প্রশাসন সেনাদের জীবনের বিষয়ে এত খামখেয়ালি আচরণ করে, তিনি তাদের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহী নন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো ভ্রমণ’ এবং ‘তুচ্ছ বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা অনেক পরিবারের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়েও পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা গেছে। নিহত চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট মারজানের স্ত্রী টিনা মারজান জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর সন্তানরা কোনো আমন্ত্রণ পাননি। যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, যারা আগে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেছিলেন, তাদের সাথে তারা নতুন করে যোগাযোগ করেনি। অন্যদিকে, নিহত মেজর কোডি খোর্ক-এর মা ডোনা বুরহানস নিজেকে ট্রাম্পের সমর্থক দাবি করলেও, বারবার শোকের স্মৃতি মনে করাটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। সার্বিকভাবে, শহীদ সেনাদের সম্মান জানানোর এই আয়োজনটি শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব ও অবহেলার এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেই সামনে এসেছে।
নিউইয়র্কে তিন দিন ধরে নিখোঁজ কাজী আজিজুল হক খোকন, উদ্বেগে পরিবার ও কমিউনিটি
নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ
ফ্লোরিডার নেপলসে টার্গেট স্টোরের সেলফ-চেকআউট ব্যবহার করে বারবার চুরির দায়ে নিজ কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী কিম্বার্লি ম্যাকডোনেল। টার্গেটে ১৮ বার কেনাকাটা করতে গিয়ে তিনি ১৫১টি পণ্যের বিল পরিশোধ করেননি, যার মোট মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৪৭২ ডলার। সম্প্রতি 'পুলিশ এনকাউন্টারস টিভি' নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে তার গ্রেপ্তারের বডি-ক্যামেরা ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর সেটি অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকডোনেল আড়াই ডলারের কোমল পানীয় থেকে শুরু করে প্রায় আটশ ডলারের ম্যাট্রেস পর্যন্ত চুরি করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সেলফ-চেকআউটে কিছু পণ্যের বারকোড স্ক্যান না করেই ইচ্ছা করে সেগুলো নিয়ে তার এসইউভিতে করে চলে যেতেন। এমনকি কোনো কোনো দিন চুরির সময় তার সাথে একটি শিশুও উপস্থিত ছিল। টানা দুই মাস ধরে চলা এই ঘটনাগুলোর ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি গ্র্যান্ড থেফটের অভিযোগ আনা হয়। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, সাড়ে সাতশ থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের পণ্য চুরির অপরাধ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তবে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে। ম্যাকডোনেলকে তার কর্মস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করে। সহকর্মীদের সামনে যাতে তাকে লজ্জিত হতে না হয়, সেজন্য পুলিশ তাকে আড়ালে ডেকে নেয়। শুধু তাই নয়, তাকে অসুস্থ সন্তান ও স্বামীর সাথে ফোনে কথা বলার এবং পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রেও তার সুবিধা বিবেচনা করে পুলিশ। তার শান্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের বিপরীতে পুলিশের এমন নমনীয়তা দেখে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। অনেকেই পুলিশের এই ‘ভিআইপি’ সেবার সমালোচনা করে একে লিমুজিন রাইডের সাথে তুলনা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে কেবলই পুলিশের পেশাদারিত্ব হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও
নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির