নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্কে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ‘বৈঠকখানা’-তে ভোরে বোমাসদৃশ একটি জ্বলন্ত ডিভাইস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রেস্টুরেন্টের কর্মীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় সম্ভাব্য বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃষ্টি চলাকালে রেইনকোট ও মুখোশ পরা এক ব্যক্তি রেস্টুরেন্টের প্রধান দরজা খুলে জ্বলন্ত একটি ডিভাইস ভেতরে ছুড়ে মেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রেস্টুরেন্টের কর্মীরা আগুন দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপে ডিভাইসটি থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটসহ বিশেষায়িত একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ডিভাইসটি উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘বোমাসদৃশ ডিভাইস’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এটি কার্যকর বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত এবং আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন এই রেস্টুরেন্টে ঘটনাকালে কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা এর পেছনে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ওয়াশিংটন: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বৈঠকে দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, তিনি এরদোয়ানের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা করেছেন এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চান। তুরস্ক ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, একই সঙ্গে এস-৪০০ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হলে এফ-৩৫-এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত তথ্য রাশিয়ার হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই উদ্বেগের কারণেই তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ২০২০ সালে ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (CAATSA)’ আইনের আওতায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এস-৪০০ ইস্যুর পর থেকে আঙ্কারা ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে, তারা ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী। তুরস্কের সরকার বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য বলে উল্লেখ করেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর এফ-৩৫ কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরার সম্ভাবনা আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে বিষয়টি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। মার্কিন আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং উন্নত সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনসহ একাধিক আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সম্পর্কই নয়, ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং ন্যাটোর দক্ষিণাঞ্চলীয় নিরাপত্তা জোরদারে তুরস্কের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণা এখনও একটি নীতিগত অবস্থান। এটি কার্যকর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তুরস্কের ওপর মার্কিন প্রতিরক্ষা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচারণার অংশ হিসেবে ফিলাডেলফিয়ায় ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’-এর প্রথম গ্যাস স্টেশন চালু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী স্টেশনগুলোতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৪৭ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুমে ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় কমাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কম দামে জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমাতে সহায়তা করবে এই কর্মসূচি। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলের একাধিক গ্যাস স্টেশন এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে বাজারদরের তুলনায় কম দামে জ্বালানি বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যদিও এই মূল্যছাড় সব গ্যাস স্টেশনের জন্য প্রযোজ্য নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানির মূল্য কমানোকে অন্যতম অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে খুচরা জ্বালানি বিক্রেতাদের আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার সুবিধা দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ মূলত অংশীদার খুচরা বিক্রেতাদের একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত পরিসরে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশের সব অঞ্চলে একই দামে জ্বালানি পাওয়া যাবে—এমনটি নয়। স্থান, করের হার, পরিবহন ব্যয় ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্যাসোলিনের দাম ভিন্ন হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, ভবিষ্যতে আরও বেশি খুচরা বিক্রেতাকে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কম দামে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, জর্জিয়াসহ মোট ৮টি রাজ্যে জনপ্রিয় সুপারশপ ‘পাবলিক্স’-এ বিক্রি হওয়া হিমায়িত ব্লুবেরি খেয়ে অন্তত ১২ জন মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া ‘ই-কোলাই’-তে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জরুরি সতর্কতা জারি করে বাজার থেকে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ব্লুবেরি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, চিলির একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রুতাস ই ওরতালিসাস দেল সুর’ দ্বারা সরবরাহকৃত ‘গ্রিনওয়াইজ’ ব্র্যান্ডের অর্গানিক ব্লুবেরিতে এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগ প্রথম এই সংক্রমণের বিষয়টি টের পেয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে অবহিত করে। এরপরই পাবলিক্স সুপারশপ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই পণ্যটির বিক্রি বন্ধ করে দেয়। তদন্তে জানা গেছে, দূষিত এই ব্লুবেরিগুলো ১০ আউন্সের প্যাকেজে আলাবামা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, কেনটাকি, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, টেনিসি এবং ভার্জিনিয়ার পাবলিক্স আউটলেটগুলোতে বিক্রি করা হয়েছিল। যেসব প্যাকেজের লট কোড ‘৬০৪০১’ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ ‘৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৮’ লেখা রয়েছে, মূলত সেগুলোতেই এই সংক্রমণ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সাধারণ গ্রাহকদের এই নির্দিষ্ট ব্লুবেরি না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, কেউ যদি এই ব্লুবেরি কিনে থাকেন, তবে তা যেন দ্রুত ডাস্টবিনে ফেলে দেন অথবা দোকানে ফেরত দিয়ে টাকা বুঝে নেন। এমনকি প্যাকেট ছাড়া ফ্রিজে রাখা ব্লুবেরিটি এই ব্র্যান্ডের কি না তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও তা ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েকদিন থেকে সর্বোচ্চ ৯ দিনের মধ্যে ই-কোলাই সংক্রমণের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—পেটে তীব্র মোচড় বা ব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং অনবরত বমি হওয়া। সম্প্রতি যারা এই ব্লুবেরি খেয়েছেন এবং এই ধরনের উপসর্গের মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং সংক্রমণের মূল উৎস অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।