যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় চার বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে আমজাদ ইব্রাহিম নামের এক লাইসেন্সধারী আইনজীবীকে এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস হার্টজবার্গ জানান, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা সত্ত্বেও আমজাদ ইব্রাহিম সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের বিপুল আয় গোপন করেছিলেন। মার্কিন কর বিভাগ বা আইআরএস-এর অপরাধ তদন্ত শাখার বিশেষ কর্মকর্তা ডিমেট্রিয়াস হার্ডেম্যান এই বিষয়ে বলেন, এই মামলার রায় দেশের সব কর ফাঁকিবাজদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। কেউ যদি অবৈধভাবে আয় গোপন করে কর ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আইআরএস-এর দক্ষ গোয়েন্দারা জটিল সব জালিয়াতি উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় এনে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আমজাদ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সাল থেকে ওকালতি পেশার সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মূলত ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ কর বছরে জর্জিয়ার জনস ক্রিক এলাকায় বসবাসকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিপুল পরিমাণ ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেন। যার ফলে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত ট্যাক্স বকেয়া পড়ে যায়, যা তিনি পরিশোধ করেননি। তদন্তে দেখা গেছে, কর ফাঁকি দেওয়া ওই চার বছরে আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম অন্তত সাতটি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এই কোম্পানিগুলো থেকে নিজের আসল আয় গোপন করার জন্য তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের নামে কমপক্ষে ৭০টি চেক ইস্যু করেছিলেন, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার। গত ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে মার্কিন জেলা আদালতের প্রধান বিচারক লেই মার্টিন মে এক শুনানির মাধ্যমে আমজাদ ইব্রাহিমকে এক বছর তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাভোগের পর আরও দুই বছর তাঁকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বা সুপারভাইজড রিলিজে থাকতে হবে। একই সাথে আদালত তাঁকে আইআরএস-এর বকেয়া বাবদ ১৯ লাখ৩৪ হাজার১১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আলাদাভাবে ৩৫ হাজার ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমজাদ ইব্রাহিম আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর কর ফাঁকির তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় করা অপরাধ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে আমজাদ ইব্রাহিম ২০১৬ থেকে ২০২৩ কর বছর পর্যন্ত তাঁর সমস্ত বকেয়া ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা এই পুরো জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের পাইকসভিল হাই স্কুলের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ক্যাথরিন অ্যালবার্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা একটি বর্ণবাদী ও আপত্তিকর ‘ডিপফেক’ অডিও রেকর্ডিংয়ের ঘটনায় জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে নিজের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে তিনি এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তার নাম জড়ানো এই ভুয়া অডিওটি তৈরির অপরাধে স্কুলের সাবেক ক্রীড়া পরিচালক এবং একই সাথে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাল্টিমোর কাউন্টি পাবলিক স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এই সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন ওই স্কুলেরই সাবেক অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর বা ক্রীড়া পরিচালক ড্যাঝন ড্যারিয়েন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক এরিক আইসওয়ার্টের কণ্ঠ হুবহু নকল করে একটি নকল বা ডিপফেক অডিও ক্লিপ তৈরি করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই ভুয়া অডিও ক্লিপটিতে প্রধান শিক্ষকের কণ্ঠে অত্যন্ত আপত্তিকর বর্ণবাদী এবং ইহুদি-বিদ্বেষী মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই বানোয়াট আলাপে তৎকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ক্যাথরিনের নামও মিথ্যাভাবে জড়িয়ে একটি কাল্পনিক কথোপকথন তৈরি করা হয়। দায়ের করা নতুন এই মামলায় ক্যাথরিন অ্যালবার্ট অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, অডিওটি যে সম্পূর্ণ ভিউ এবং কৃত্রিমভাবে সাজানো হয়েছিল, তা প্রমাণিত হওয়ার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বাল্টিমোর কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেম সত্য জানার পরও জনসমক্ষে বা সরকারি নথিতে তাদের ভুল রেকর্ড সংশোধন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই চরম উদাসীনতার কারণে তার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনের ক্যারিয়ার এবং সামাজিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন ও ধূলিসাৎ হয়েছে। উল্লেখ্য, এই একই ঘটনায় এর আগে প্রধান শিক্ষক এরিক আইসওয়ার্টও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই এআই অডিওতে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যে, আফ্রিকান-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা সাধারণ পরীক্ষায় পাস করার যোগ্যতাও রাখে না। এর পাশাপাশি স্কুলের দুজন সম্মানিত শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। এই ভুয়া অডিও ফাঁসের পর স্কুলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে চরম সামাজিক হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পরবর্তীতে এই ডিজিটাল জালিয়াতি ও জঘন্য অপরাধের বিষয়টি পুলিশের তদন্তে ও ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণিত হলে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন আদালত ড্যারিয়েনকে চার মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। আদালতে ড্যারিয়েন একটি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া ‘অ্যালফোর্ড প্লী’ গ্রহণ করেন, যার অর্থ হলো তিনি নিজের মুখে অপরাধ স্বীকার না করলেও এটি মেনে নিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন ধ্বংস করা যায়, এই ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্র নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ ‘ফুড স্ট্যাম্প’ কর্মসূচির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শর্ত আরোপের চেষ্টা স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। গত শুক্রবার ২০টি ডেমোক্রেটিক শাসিত অঙ্গরাজ্যের পক্ষে রায় দিয়ে আদালত এই স্থগিতাদেশ জারি করেন। সোমবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক মিয়ং জৌন ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির শত শত কোটি ডলারের তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ‘লিঙ্গাদর্শন’, ‘অভিবাসন’ এবং ‘নারীদের খেলাধুলায় ন্যায্য সুযোগ’ সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত শর্ত জুড়ে দিতে চেয়েছিল। মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতে যুক্তি দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয় কংগ্রেসের তৈরি করা মূল কর্মসূচির মাঝে অবৈজ্ঞানিক ও বেআইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি পুষ্টি সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা এবং জাতীয় খাদ্য শৃঙ্খলের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে জানান, নতুন শর্তগুলো করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি তহবিলের ওপর তদারকি বাড়াতে সাহায্য করত। তবে বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে আপাতত তাদের এই উদ্যোগ স্থগিত করার নির্দেশ দেন। ফুড স্ট্যাম্প হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দেশটির প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ দরিদ্র মানুষ মুদি কেনাকাটার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত বছর রিপাবলিকানদের পাস করা একটি ব্যয় সংকোচন বিলের নতুন শর্তের কারণে এরই মধ্যে ৪৩ লাখেরও বেশি মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধ বাতিল করে দিয়েছেন একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে হাজারো অভিবাসী দীর্ঘ সময় আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন। শুক্রবার (২৯ মে) ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এ সংক্রান্ত রায় দেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই বিধিনিষেধ জারি করেছিল। রায়ে বিচারক জন ম্যাককনেল উল্লেখ করেন, এই নীতির কারণে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড, কাজের অনুমতি এবং নাগরিকত্বের আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, এই নীতি “যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে এক অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।” ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক ম্যাককনেল বলেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জাতীয় নিরাপত্তার একটি ‘ভুয়া অজুহাত’ ব্যবহার করেছে, যা অভিবাসী-বিরোধী মনোভাবকে আড়াল করার চেষ্টা। তিনি আরও বলেন, “ইউএসসিআইএস-এর এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে নয়, বরং তাদের জন্মগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।” বিচারক রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর অনেক আবেদনকারী কাজ করার সুযোগ হারিয়েছেন, আইনি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার সক্ষমতাও হারিয়েছেন।” ভুক্তভোগী ৩৯টি দেশের অধিকাংশই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলের দেশ। নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বৈধ অভিবাসনের বিভিন্ন পথও সীমিত করার পদক্ষেপ নেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদিত শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বার্ষিক কোটা কমিয়ে ৭ হাজার ৫০০-তে নামিয়ে আনে, যা পরে আরও ১০ হাজার বৃদ্ধি করা হয়। একই সময়ে প্রশাসন ‘শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান’দের পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিও গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেয়। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে আইনি সহায়তাকারী সংস্থা ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই রায় একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফেডারেল সরকার কোনো আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং কোনো ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছেন তার ভিত্তিতে বৈষম্যও করতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “এই বেআইনি নীতিগুলো সারা দেশে পরিবার, শ্রমিক, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন কমিউনিটির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এবং কাজ করা, আইনি সুরক্ষা পাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলের যে কঠোর অভিবাসন নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে একটি বিরল স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশটির আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, এই প্রথাটি মার্কিন সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন নয় এবং এটি 'বার্থ ট্যুরিজম' বা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রুলিংয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, চাই তার বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, কয়েক দশকের আইনি নজির এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা আপাতত স্বস্তি পেলেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল এই নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করলে তা সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং আইনবিদরা শুরু থেকেই একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে আসছিলেন। আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেও যদি এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তবে তা হবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশটিতে জন্ম নেওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।