অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নর্ক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। গত ১১ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে ১,০২২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদির ওপর পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, মার্কিন ইহুদিদের ৪৪ শতাংশ মামদানির প্রতি অত্যন্ত বা মোটামুটি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অন্যদিকে, মাত্র ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা নেতানিয়াহুকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। জরিপ অনুযায়ী, ৩৯ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মামদানিকে এবং ৫৯ শতাংশ নেতানিয়াহুকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন।
নেতৃত্বের পছন্দের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতি নিয়েও ইহুদি সম্প্রদায়ের স্পষ্ট অবস্থান উঠে এসেছে এই সমীক্ষায়। জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং মাত্র ২৯ শতাংশ তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। জাতীয় গড়ের তুলনায় এই চিত্রটি বেশ ভিন্ন, যেখানে সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক ও নেতিবাচক মনোভাব যথাক্রমে ৩৮ ও ৫৯ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়েও বেশিরভাগ ইহুদি অসন্তুষ্ট। অর্থনীতি পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ, অভিবাসন নীতিতে ৬৯ শতাংশ এবং ইরান ইস্যুতে ৭৩ শতাংশ ইহুদি ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসমর্থন জানিয়েছেন। ইসরায়েল ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েলের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গেও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশের কাছে ইসরায়েল ব্যক্তিগতভাবে "অত্যন্ত বা খুব গুরুত্বপূর্ণ" এবং ২৮ শতাংশের কাছে "কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ"। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে "অতিরিক্ত সমর্থন" দিচ্ছে বলে মনে করেন ৩৮ শতাংশ ইহুদি। বিপরীতে ২৮ শতাংশ মনে করেন সমর্থন অপর্যাপ্ত এবং ৩২ শতাংশ মনে করেন সমর্থন ঠিক পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিন সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে মত দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা। পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৩ শতাংশ মার্কিন ইহুদি, যেখানে ৩৬ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন এবং ৩০ শতাংশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন।
জরিপে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ৭ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ন্যায়সঙ্গত ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর হামাসের অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোকে যৌক্তিক মনে করেন ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা। তবে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বা ৭৯ শতাংশ ৭ অক্টোবরের হামলাকে সম্পূর্ণ অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি, হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন ৭৩ শতাংশ ইহুদি। গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা "হ্যাঁ" বলেছেন এবং ৪৯ শতাংশ এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন; বাকি ২১ শতাংশ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ ইহুদি ধর্মীয়ভাবে খুব একটা সক্রিয় নন বলে জানা গেছে। ধর্মীয় উপাসনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৩৪ শতাংশ জানান তারা কখনোই যান না, ১৮ শতাংশ বছরে একবারের কম যান এবং ১৬ শতাংশ বছরে এক বা দুবার যান। ধর্মতাত্ত্বিক পরিচয়ের দিক থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ছিলেন গোঁড়া বা অর্থোডক্স ইহুদি। অন্যদিকে ৪৩ শতাংশ নিজেদের রিফর্ম এবং ২৩ শতাংশ কনজারভেটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তাদের নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বিভাজন নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের স্টি. ক্লাউড শহরে প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী কাতেরিনা ইভানোভনা মার্কিভের বিরুদ্ধে দুটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত ২৫ বছর বয়সী কুইন্টন ম্যাককে হিউজ ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর ভোর ৪টার কিছু পর স্টি. ক্লাউড পুলিশ একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ যাওয়ার আগে হিউজ নিজেই ৯১১ নম্বরে ফোন করে জানান যে, একটি “সামান্য ঝগড়ার” সময় তিনি ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তদন্তে পুলিশ একটি রক্তমাখা প্রায় ৮ ইঞ্চি লম্বা ছুরি উদ্ধার করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে মার্কিভকে আহত হিউজের বুকে চাপ দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ৯১১ কলে তাকে বারবার ক্ষমা চাইতেও শোনা গেছে বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিভ জানান, ঘটনার আগে তারা দুজনই মদ্যপান করেছিলেন। পরে তাদের মধ্যে তর্কের সূত্রপাত হয়, কারণ তিনি যৌন সম্পর্ক করতে চাইলে হিউজ রাজি হননি। তিনি দাবি করেন, তর্কের একপর্যায়ে রাগের মাথায় ছুরি নাড়ানোর সময় হিউজের গায়ে আঘাত লাগে। তার ভাষ্য, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করতে চাননি; কেবল আঁচড় দিতে চেয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, তার রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে এবং ঘটনার সময় তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, মার্কিভ ও হিউজ একই কর্মস্থলে কাজ করতেন এবং কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সহকর্মীদের একজন তদন্তকারীদের জানান, মার্কিভ আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং রেগে গেলে নিজেকে সামলাতে কষ্ট হতো। স্টিয়ার্নস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মার্কিভের বিরুদ্ধে দুটি দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বর্তমানে তিনি স্টিয়ার্নস কাউন্টি জেলে আটক রয়েছেন। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাতেরিনা ইভানোভনা মার্কিভ আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্ট কাউন্টিতে আটলান্টার জনপ্রিয় রেডিও ব্যক্তিত্ব বিগ টিগারের স্ত্রী অ্যালিসিয়া ডেনিস ব্রাউনকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালে ম্যারিল্যান্ড থেকে নিখোঁজ হওয়া ১০ বছর বয়সী এক শিশুর অপহরণ মামলার ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। হার্ট কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে পুলিশ একটি জরুরি সতর্কবার্তা পায় যে, আই-৮৫ মহাসড়ক দিয়ে এক সন্দেহভাজন নারী গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ও জর্জিয়া স্টেট পেট্রোল যৌথ অভিযান চালিয়ে গাড়িটি থামায় এবং অ্যালিসিয়াকে কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই আটক করে। এ সময় তাঁর গাড়ির ভেতর থেকে অক্ষত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ম্যারিল্যান্ডের বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ ব্রাউনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ওই শিশু নিখোঁজের মামলায় পরোয়ানা জারি করেছিল। এছাড়া ফুলটন কাউন্টি শেরিফ অফিসও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুর হেফাজত বা কাস্টডি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে আরেকটি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে। ম্যারিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, তারা ব্রাউনকে নিজেদের রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করবে। স্ত্রীর এই গ্রেফতারের ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁর স্বামী ও রেডিও তারকা বিগ টিগার (যার আসল নাম ড্যারিয়ান মরগান) পারিবারিক আইনি জটিলতার কারণে তাঁর জনপ্রিয় রেডিও শো থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের কোনো অপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন। পারিবারিক এই ঝামেলা এখানেই শেষ নয়; বিগ টিগারের রেডিও সহ-উপস্থাপক ফ্রান্সেসকা অ্যামিকার গত ৩০ জুন অ্যালিসিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করেন। অ্যামিকারের দাবি, অ্যালিসিয়া সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিগ টিগারের সাথে অবৈধ সম্পর্কের মিথ্যা রটনা রটিয়েছেন। এর পাশাপাশি, গত ২০ জুন বিগ টিগারকেও মারামারি ও শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে স্যান্ডি স্প্রিংস পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, তবে পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে পুরো পরিবারটি এক বিশাল আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে পারিবারিক সহিংসতার এক নৃশংস ঘটনায় এক অবসরপ্রাপ্ত নারী কারা কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নিহতের ২৬ বছর বয়সী ক্ষুব্ধ ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার কুইন্সের ফার রকঅ্যাওয়ের নেমিওক অ্যাভিনিউয়ের নিজ বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম জোয়ান ক্রফোর্ড (৬১)। তিনি নিউইয়র্কের একজন অবসরপ্রাপ্ত সংশোধন কর্মকর্তা বা কারা কর্মকর্তা ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঘরের ভেতর তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্নসহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ নিহতের একমাত্র ছেলে আরমেল ক্রফোর্ডকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতের চাচাতো ভাই ব্যারি ক্রফোর্ড গণমাধ্যমকে জানান, মায়ের চাকরি নিয়ে আরমেলের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। জোয়ান ক্রফোর্ড কারা বিভাগে চাকরি করার কারণে বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে থাকতেন। আরমেলের ধারণা ছিল, ছোটবেলা থেকে মা তাকে পর্যাপ্ত সময় বা কোয়ালিটি টাইম দেননি। ব্যারি আরও জানান, সম্প্রতি দাদীর দেখভাল করা নিয়ে আরমেলের সঙ্গে মায়ের নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। আরমেল দাদীকে শ্রদ্ধা না করায় মা তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। এই বিষয়টি নিয়ে মায়ের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল সে। তবে বাইরে আরমেলের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না, তার সব ক্ষোভ ছিল কেবল মায়ের ওপরই। পরিবারের সদস্যরা জোয়ান ক্রফোর্ডকে একজন অত্যন্ত পরোপকারী এবং স্নেহময়ী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাজেডি তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। অন্যদিকে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আরমেলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।