নেতানিয়াহু

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি , কংগ্রেসম্যান রো খান্না  এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
মামদানির নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বানে এবার সুর মেলালেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান রো খান্না

শুক্রবার ক্যাপিটল হিলে এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত নেতানিয়াহু কিংবা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাদের গ্রেপ্তার করা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   রো খান্নার ভাষায়, বিষয়টি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন এলাকায় প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   ২০২৪ সালে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না।   রো খান্নার এই মন্তব্যের আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মামদানি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি শহরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, মেয়র হিসেবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সরাসরি আইনি ক্ষমতা তার নেই। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের ক্ষমতা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   মামদানি এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আইসিসির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি মনে করেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।   মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না।   এদিকে রো খান্না নিজেও সম্প্রতি ইসরায়েল সফরের সময় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হাতে কিছু সময়ের জন্য আটক হওয়ার দাবি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন এই ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান।   নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরেই নতুন করে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   তবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এরই মধ্যে স্পষ্ট। ফলে মামদানি ও রো খান্নার আহ্বান মূলত রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বামে জোহরান মামদানি ,ডানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
"জাতিসংঘ সম্মেলনে নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার হতে দেব না"- মামদানির গ্রেপ্তার ইঙ্গিতের জবাবে ট্রাম্প

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।   মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।   এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী
নেতানিয়াহু পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হলে দেশ ছাড়তে চান ২৩ শতাংশ ইসরায়েলি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি আবারও ক্ষমতায় ফেরেন, তবে দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন দেশটির এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি নাগরিক। দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।   জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অন্তত ২৩ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশ ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে, ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরলেও তাদের দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বাকি অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনো মতামত দেননি।   জরিপে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার ভাবনার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন জোটের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত আইন নিয়েও জনগণের গভীর অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৬৭ শতাংশ নাগরিক সরকার কর্তৃক পাস হওয়া এসব নতুন আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।   এই বিতর্কিত আইনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তোরাহ অধ্যয়নকে আধা-সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করা। এর পাশাপাশি কট্টরপন্থী অর্থোডক্স ইহুদিরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ না দিলেও তাদের গ্রেফতার থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার নতুন বিধানটি দেশটিতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এসব নীতি মেনে নিতে না পারলেও ক্ষমতাসীনদের প্রতি একাংশের সমর্থন রয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ উত্তরদাতা নতুন এই বিতর্কিত আইনগুলোকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বাকিরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক কট্টরপন্থী নীতিগুলো ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, জরিপের পরিসংখ্যানে যার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নেতানিয়াহু ও তার ছেলে ইয়াইর I ছবি: সংগৃহীত
বিতর্ক এড়াতে নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেললেন নেতানিয়াহুর ছেলে

বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহু নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইয়াইর এখন থেকে ‘ইয়োনাতান হোন’ নামে পরিচিত হবেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিষ্কণ্টক রাখা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহু পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব এড়াতেই তিনি এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   হারেৎজের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত কর সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিতে তার নাম ইয়াইর নেতানিয়াহু হিসেবেই নথিভুক্ত ছিল। তবে সাম্প্রতিক নথিতে একই পরিচিতি নম্বরের বিপরীতে তার নতুন নাম হিসেবে ‘ইয়োনাতান হোন’ উল্লেখ করা হয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, সরকারি নথিতে তার ঠিকানা হিসেবে ‘বেলফোর ০’ নামের একটি কাল্পনিক ঠিকানাও ব্যবহার করা হয়েছে।   অবশ্য ইয়াইর আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নামের শেষে ‘হুন’ পদবি ব্যবহার করতেন, যা মূলত তার মা সারা নেতানিয়াহুর বাবা শামুয়েলের আদি পারিবারিক নাম ছিল। গাজায় চলমান যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যখন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং মার্কিন রাজনীতিতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমছে, ঠিক এমন একটি সংকটময় সময়ে নাম পরিবর্তনের এই খবরটি প্রকাশ্যে এলো।   নেতানিয়াহু পরিবারে নাম পরিবর্তনের এই ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ইয়াইরের ভাই আভনের নেতানিয়াহুও আইনি যাচাই-বাছাই ও সংবাদমাধ্যমের নজর এড়াতে নিজের নাম বদলে ‘আভি সেগাল’ রেখেছিলেন। জানা যায়, ওই ছদ্মনামেই তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে নগদ ৫ লক্ষ ২ হাজার পাউন্ডের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন।   স্বয়ং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আশায় ‘বেন নিতাই’ নাম ধারণ করেছিলেন। এছাড়া জায়নবাদী আন্দোলনের ইতিহাসেও নাম পরিবর্তনের এই সংস্কৃতি বেশ পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে ইউরোপীয় পরিচয় মুছে ফেলতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন পোল্যান্ড থেকে তৎকালীন ফিলিস্তিনে এসে নিজের নাম পরিবর্তন করেছিলেন। ডেভিড বেন-গুরিয়ন, গোল্ডা মেয়ার এবং অ্যারিয়েল শ্যারনের মতো শীর্ষ ইসরাইলি নেতারাও একইভাবে নিজেদের আদি নাম পরিবর্তন করে হিব্রু নাম ধারণ করেছিলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: মাইকেল এম. সান্তিয়াগো/গেটি ইমেজেস
মার্কিন ইহুদিদের কাছে জনপ্রিয়তায় নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে জোহরান মামদানি

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নর্ক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের সর্বশেষ এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। গত ১১ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে ১,০২২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদির ওপর পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, মার্কিন ইহুদিদের ৪৪ শতাংশ মামদানির প্রতি অত্যন্ত বা মোটামুটি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অন্যদিকে, মাত্র ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা নেতানিয়াহুকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। জরিপ অনুযায়ী, ৩৯ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মামদানিকে এবং ৫৯ শতাংশ নেতানিয়াহুকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করেছেন।   নেতৃত্বের পছন্দের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতি নিয়েও ইহুদি সম্প্রদায়ের স্পষ্ট অবস্থান উঠে এসেছে এই সমীক্ষায়। জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং মাত্র ২৯ শতাংশ তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। জাতীয় গড়ের তুলনায় এই চিত্রটি বেশ ভিন্ন, যেখানে সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি ইতিবাচক ও নেতিবাচক মনোভাব যথাক্রমে ৩৮ ও ৫৯ শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়েও বেশিরভাগ ইহুদি অসন্তুষ্ট। অর্থনীতি পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ, অভিবাসন নীতিতে ৬৯ শতাংশ এবং ইরান ইস্যুতে ৭৩ শতাংশ ইহুদি ট্রাম্পের নীতির প্রতি অসমর্থন জানিয়েছেন। ইসরায়েল ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   ইসরায়েলের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গেও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশের কাছে ইসরায়েল ব্যক্তিগতভাবে "অত্যন্ত বা খুব গুরুত্বপূর্ণ" এবং ২৮ শতাংশের কাছে "কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ"। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে "অতিরিক্ত সমর্থন" দিচ্ছে বলে মনে করেন ৩৮ শতাংশ ইহুদি। বিপরীতে ২৮ শতাংশ মনে করেন সমর্থন অপর্যাপ্ত এবং ৩২ শতাংশ মনে করেন সমর্থন ঠিক পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিন সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে মত দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা। পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৩ শতাংশ মার্কিন ইহুদি, যেখানে ৩৬ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন এবং ৩০ শতাংশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছেন।   জরিপে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ৭ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ন্যায়সঙ্গত ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর হামাসের অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোকে যৌক্তিক মনে করেন ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা। তবে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বা ৭৯ শতাংশ ৭ অক্টোবরের হামলাকে সম্পূর্ণ অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি, হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন ৭৩ শতাংশ ইহুদি। গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা "হ্যাঁ" বলেছেন এবং ৪৯ শতাংশ এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন; বাকি ২১ শতাংশ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ ইহুদি ধর্মীয়ভাবে খুব একটা সক্রিয় নন বলে জানা গেছে। ধর্মীয় উপাসনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৩৪ শতাংশ জানান তারা কখনোই যান না, ১৮ শতাংশ বছরে একবারের কম যান এবং ১৬ শতাংশ বছরে এক বা দুবার যান। ধর্মতাত্ত্বিক পরিচয়ের দিক থেকে মাত্র ১০ শতাংশ ছিলেন গোঁড়া বা অর্থোডক্স ইহুদি। অন্যদিকে ৪৩ শতাংশ নিজেদের রিফর্ম এবং ২৩ শতাংশ কনজারভেটিভ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তাদের নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় বিভাজন নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক নির্ভরতা থেকে ইসরায়েলকে ‘মুক্ত’ হতে হবে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।   ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের গুশ এতজিওন এলাকায় রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহু বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং অস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে হবে।   তার ভাষায়, “আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনকে আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের নিজস্ব স্বাধীন অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমাদেরই তৈরি করতে হবে।” ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশটি ইরান এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এসব চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।   তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আগামী ৩০ বছরে ইসরায়েল কোথায় থাকবে, তা নির্ভর করবে আমাদের নিজস্ব শক্তি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর।” নেতানিয়াহু আরও বলেন, কেবল অস্ত্র উৎপাদন নয়, নতুন প্রজন্মের সামরিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং উন্নত প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করাও জরুরি। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দক্ষ নেতৃত্বই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সামরিক ও কৌশলগত মিত্র, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি খাতে দেশটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।   নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্যকে সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোতে চায়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ওয়াশিংটনে পথ বন্ধ হচ্ছে নেতানিয়াহুর? ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত দুই নেতার মধ্যে বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে কৌশলগত অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রাম্প যেখানে দ্রুত সংঘাতের অবসান ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে নেতানিয়াহু সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে রয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবির থেকেই সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।   রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ এবং ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে নেতানিয়াহুর নীতির প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনে তার রাজনৈতিক পরিসর আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মতবিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি বড় সামরিক হামলা ঠেকাতে তিনি সরাসরি নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। তার দাবি, তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছিলেন যে একতরফা পদক্ষেপ নিলে ইসরাইলকে শেষ পর্যন্ত একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।   ট্রাম্পের এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের নীতিতে ইসরাইলের নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রায় নিঃশর্ত সমর্থনের ধারা বজায় থাকলেও এবার ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার প্রশাসনের অবস্থানই নির্ধারক হবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা।   প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।   অন্যদিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তার নেতৃত্ব নিয়ে ইসরাইলের ভেতরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান প্রদর্শন এখন তার জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ইরান এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার জবাবে শক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখালে তাকে দুর্বল নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তার সমর্থকেরা। এ কারণে ট্রাম্পের চাপ থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু ইরান এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   সাম্প্রতিক সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলার পর বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখা হয় বলে জানা যায়। এরপরও নেতানিয়াহু ইরান ও লেবাননের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুমোদন দেন। ট্রাম্প পরে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাকে অনুরোধ করেছিল যেন তিনি নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত রাখেন। এরপর তিনি সরাসরি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।   মার্কিন সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। তার মতে, রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের একক প্রভাব এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।   তবে হোয়াইট হাউস দুই নেতার সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের সংকটের কথা অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরাপত্তা সহযোগিতা আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী অবস্থানে আছে।   এদিকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু ইসরাইলের স্বাধীন কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদও অভিযোগ করেছেন, তার সময়ে ইসরাইলের নীতিনির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা ইসরাইলের রয়েছে। তার ভাষ্য, ইরান ও হিজবুল্লাহ এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে তারা হামলা চালাবে, কিন্তু ইসরাইল জবাব দিতে পারবে না। এমন পরিস্থিতি তিনি মেনে নেবেন না।   পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয় নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো ও আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   কিছু সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ইরান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।   ইসরাইলের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেও নেতানিয়াহুর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অতীতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সক্ষমতা আগের মতো কার্যকর নেই।   বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে মধ্যপ্রাচ্য নীতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চান। আর নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর পুরোনো কৌশল ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে চাপে ফেলেছে ইসরাইল
ইরানকে চাপে ফেলেছে ইসরাইল: নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান এখনো শেষ হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে ইতোমধ্যেই ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ অর্জন করেছে ইসরাইল।   একটি মানচিত্র উপস্থাপন করে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব লাল রঙে দেখানো হয়, নেতানিয়াহু বলেন—ইরান একসময় ইসরাইলকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো। তার ভাষায়, ইসরাইলই বর্তমানে ইরানকে চাপে রেখেছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টি তার দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে তিনি নানা গোপন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন। তবে তার অভিযোগ, বিশ্ব সেই সতর্কবার্তাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।   নেতানিয়াহুর দাবি, গত জুনে ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে ইসরাইল এক ধরনের ‘ভয়ভীতি’র বাধা ভেঙে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এবার সঠিক সময়ে নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য তার কাছে পৌঁছেছিল, যা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
যুদ্ধবিরতি হলেও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: নেতানিয়াহু

লেবাননে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সংকল্প ব্যক্ত করেন। নেতানিয়াহু লিখেছেন, "আমার নেতৃত্বে ইসরায়েল ইরানের সন্ত্রাসী শাসন এবং তাদের প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।" একই পোস্টে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেন। এরদোয়ানকে ইরানের প্রতি নমনীয় হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে নেতানিয়াহু বলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইরানের পক্ষ নিচ্ছেন এবং কুর্দি নাগরিকদের ওপর 'গণহত্যার' জন্য তিনিই দায়ী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে তাদের আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরছে না, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক তিক্ততা এই বার্তার মাধ্যমে আরও প্রকট হয়ে উঠল।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি
সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানে হামলায় রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন নেতানিয়াহু

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করে আসছিলেন। তবে বারাক ওবামা সহ অন্য প্রেসিডেন্টরা এই যুদ্ধ এড়িয়ে চললেও, কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পই নেতানিয়াহুর সেই বিতর্কিত পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওবামা প্রশাসনের এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, নেতানিয়াহু ওবামা প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। কেরির মতে, নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাথে একটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা। জন কেরি বলেন, "আমি ও প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তির (JCPOA) বিষয়ে আলোচনা করছিলাম, তখন নেতানিয়াহু পর্দার আড়ালে ক্রমাগত যুদ্ধের কথা বলছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরানকে থামানোর একমাত্র পথ হলো সামরিক হামলা।" কেরি আরও যোগ করেন, নেতানিয়াহু কেবল ওবামাকেই নয়, তার পূর্বসূরিদের কাছেও একই দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক উপদেষ্টাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করত। ফলে ওবামা প্রশাসন সামরিক হামলার বদলে কূটনৈতিক পথকেই বেছে নেয়। তবে চিত্রপট বদলে যায় ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ছিল ওবামা প্রশাসনের ঠিক বিপরীত। কেরি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর নেতানিয়াহু তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পান। ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের সাথে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন এবং ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আমলে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার মতো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মূলত নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্ররোচনারই প্রতিফলন। জন কেরির এই বক্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই "যুদ্ধংদেহী" নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা থেকে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও বের হতে পারছে না। কেরির এই স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল যে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলি লবিং কতটা প্রভাবশালী।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দুই লক্ষ্যেই লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় যেতে চান নেতানিয়াহু

লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে উদ্যোগ নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ঘোষিত লক্ষ্য দুটি—হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্ত্রিসভাকে দ্রুত সরাসরি সংলাপ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।   ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর–এ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে লেবাননে কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   অন্যদিকে লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার পথ তৈরি করতে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মতো একটি ‘প্রাথমিক ধাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন, যেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলী ফাইয়াদ সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সংলাপ তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, বর্তমান সংকটের সমাধানের জন্য প্রথমে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি, এরপরই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০ জন নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবিত আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানের ওপর।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু | ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও বিশ্বজুড়ে নিন্দা: অবশেষে লেবাননের সাথে সংলাপে বসছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের নাটকীয় মোড়। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিন্দা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করল তেল আবিব। লেবাননের সঙ্গে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য নিজের মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  দীর্ঘদিনের চরম বৈরিতা কাটিয়ে এই দুই প্রতিবেশীর মুখোমুখি বসার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার অনুরোধ আসার প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে থাকছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। নেতানিয়াহুর মতে, বৈরুতকে নিরস্ত্রীকরণ করার বিষয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সদিচ্ছাকে ইসরায়েল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ এবং দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই আলোচনার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে ওয়াশিংটনের চাপ। জানা গেছে, বুধবার এক ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার তীব্রতা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল এখন থেকে ‘সহায়ক অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দৌত্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে শান্তির এই বার্তা কতটুকু আলোর মুখ দেখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
নেতানিয়াহুই ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে প্ররোচিত করেছিলেন। কিন্তু সেই ইসরায়েলকেই এখন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিছক দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে । ছবি: এএফপি
যুদ্ধবিরতির টেবিলে একা নেতানিয়াহু? মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের নিয়েই চাপে ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের টানটান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নতুন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু সংঘাত থামানোর উদ্যোগ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘প্রস্থান কৌশল’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতায় রাজি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে এবার তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে তেহরান।   এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমঝোতায় সরাসরি অংশ না থাকায় কার্যত ‘দর্শক’ হয়ে পড়েছেন। যদিও তিনি শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে ছিলেন।   পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ইসলামাবাদ-এ। তবে এই আলোচনায় ইসরায়েল বা উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি তার ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশ কাটিয়ে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে?   এদিকে ইরান যুদ্ধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-এর ওপর নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে তেহরান এখন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে সাময়িকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা পেলেও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে তাদের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান।   উপসাগরীয় দেশগুলোও এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কৌশল নির্ধারণে বাধ্য হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কায় তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করবে, আবার অন্যদিকে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন সমীকরণ খুঁজবে।   সব মিলিয়ে বর্তমান যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বরং এটি একটি পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে।

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে জয় নেই, কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নেতানিয়াহুর

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট জয় পায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা লেগেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর নেতৃত্বে থাকা সরকারের ওপর।   বছরের পর বছর ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাতে ইসরায়েল তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি বলে বিভিন্ন মহলে মত উঠে এসেছে।   ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা Yair Lapid এই পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসে এক বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় ইসরায়েল কার্যত আলোচনার বাইরে ছিল এবং সরকার কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল স্বল্পমেয়াদি একটি সামরিক অভিযান। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই হিসাব ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কিংবা তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি।   ইসরায়েলের আরেক রাজনৈতিক নেতা Yair Golan এই যুদ্ধবিরতিকে ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সরকার যে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।   সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি থামাতে পারেনি, এমনকি তেহরানের সামরিক শক্তিও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং ইরান আক্রমণের মুখেও টিকে থেকে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটেন, যা ইসরায়েলের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে।   সব মিলিয়ে, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ—এই তিন দিক থেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইরানে মার্কিন ক্রু উদ্ধারে ইসরায়েলের সহায়তা, দাবি নেতানিয়াহুর

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারের অভিযানে ইসরায়েল সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করেছে ইসরায়েল।   নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। শত্রুপক্ষের ভূখণ্ড থেকে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সফল অভিযানের জন্য ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তার জন্য ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে ও বাইরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সহযোগিতা “নজিরবিহীন” পর্যায়ে পৌঁছেছে। একজন মার্কিন সেনাকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পেরে ইসরায়েল গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরান দাবি করে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।   ওই বিমানে থাকা দুই ক্রুর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে দুই দিনব্যাপী অনুসন্ধান শেষে একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে মার্কিন কমান্ডোরা তাকে উদ্ধার করে। তবে এই উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না—সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি - সংগৃহিত
নেতানিয়াহুর ছেলেকে মায়ামি থেকে বিতাড়িত করে ইরান যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের

  ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভ ব্যানন এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তখন ইয়ার কেন মায়ামিতে ছুটি কাটাচ্ছেন।   তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অবিলম্বে নেতানিয়াহুর ছেলেকে দেশটি থেকে বের করে দিয়ে তার গায়ে যুদ্ধের ইউনিফর্ম পরিয়ে প্রথম সারির যোদ্ধাদের সাথে পাঠানো উচিত।   ব্যানন কেবল ইয়ার নেতানিয়াহুকেই নয়, বরং লন্ডনে অবস্থানরত আরবের মিত্র দেশগুলোর রাজপুত্রদেরও একই কায়দায় বিতাড়িত করে নিজ নিজ দেশের সীমান্ত রক্ষায় যুদ্ধে পাঠানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।   জানা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়ার এবং আবনার কেউই ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সম্পন্ন করেননি, যা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই বর্তমানে বেশ সমালোচনা ও তীব্র বিতর্ক রয়েছে।   স্টিভ ব্যানন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বও রয়েছেন।   ইরানের পক্ষ থেকে এর জবাবে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।   ব্যাননের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, অথচ ইসরায়েল সেই অভিযানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের অস্বস্তিতে ফেলেছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্র দেশের নেতার ছেলের বিলাসী জীবন নিয়ে ব্যাননের এই কঠোর অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।  

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের হামলার সক্ষমতা এখনো আছে, তবে ‘অস্তিত্বের হুমকি নয়’—নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান এখনো ইসরায়েল-এর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রাখে। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই সক্ষমতা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি নয়। ধারণকৃত এক বার্তায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের শক্তিও আগের মতো নেই এবং তারা এখন আর ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বিবেচিত নয়।   তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলের কিছু দেশের সঙ্গে নতুন ধরনের মিত্রতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   যদিও সম্ভাব্য এসব মিত্র দেশের নাম প্রকাশ করেননি, তবে শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য একদিকে যেমন ইরানের সামরিক সক্ষমতা স্বীকার করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে—এমন বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডে অনুমোদন: ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বিতর্কিত আইন পাস

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। সোমবার (৩০ মার্চ) বিলটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা পাঠে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন পায়।   ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিলটির পক্ষে ৬২ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৮টি এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।   আইনটির পক্ষে ভোট দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। আইনটি পাস হওয়ায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ উন্মুক্ত হলো, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।  

Unknown মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
লেবাননের আরও এলাকা দখলের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলকৃত 'নিরাপদ অঞ্চল' বা বাফার জোনের পরিধি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। লেবানন থেকে আন্তঃসীমান্ত হামলা প্রতিহত করার অজুহাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নর্দান কমান্ড থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, "লেবানন সীমান্তে বিদ্যমান নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও প্রসারিত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অনুপ্রবেশের হুমকি চূড়ান্তভাবে রুখে দেওয়া এবং সীমান্ত থেকে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল হামলার ঝুঁকি কমিয়ে আনা।" সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণ দিকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেবাননকে দ্বিখণ্ডিত করা লিটানি নদীর ওপর থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতুও গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, সেতু ও যাতায়াত পথগুলো ধ্বংস করার ফলে দক্ষিণ লেবাননের হাজার হাজার মানুষ জরুরি জীবন রক্ষাকারী রসদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নির্বিচার হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ আর বাস্তুচ্যুতির কারণে দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। একই বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ইরান ও তার মিত্রদের ওপর 'প্রচণ্ড শক্তি' নিয়ে হামলার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি অভিযানে তেহরানের শাসনে ফাটল ধরতে শুরু করেছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আগাম নির্বাচন এড়াতে মরিয়া নেতানিয়াহু, বাজেট পাসে জোর তৎপরতা

নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় আগাম ভোট এড়াতে তৎপর হয়ে উঠেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় বাজেট পাস নিশ্চিত করতেও জোর দিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় তেমন উন্নতি হয়নি।   বরং সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, পার্লামেন্ট নেসেট-এ তাঁর দল লিকুদের আসন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৯ মার্চ প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী, লিকুদ পার্টির আসন ৩৪ থেকে কমে ২৮টিতে নেমে আসতে পারে। যদিও দলটি বৃহত্তম হিসেবে থাকতে পারে, তবে জোটগতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে তাঁর জোট পেতে পারে মাত্র ৫১টি আসন।   ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বাজেট পাস না হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। এই প্রেক্ষাপটে আগাম নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক মিত্রদের সন্তুষ্ট রাখতে বিভিন্ন খাতে তহবিল বরাদ্দ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু—এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর সরকারের কয়েকজন সদস্য।   এর আগে যুদ্ধের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর জোট আগাম নির্বাচনের কথা বিবেচনা করেছিল। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছেন তিনি।   নেতানিয়াহু নিজেও সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেছেন, সরকার তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করবে বলেই তিনি আশা করছেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক মিত্রদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রস্তাবিত বিশাল বাজেট পাসে সহযোগিতা চেয়েছেন।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দ্বৈত প্রভাব ফেলছে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে জনসমর্থন থাকলেও, ভোটের রাজনীতিতে এর প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।   জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিদিয়ন রাহাতের মতে, দেশটির ভোটারদের মধ্যে প্রায় সমান বিভাজন রয়েছে। একাংশ ডানপন্থী জোটকে সমর্থন করলেও আরেক অংশ বিরোধীদের পক্ষে রয়েছে। মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা ভোটাররা এখনো নেতানিয়াহুর দিকে ঝুঁকছেন না।   বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং অনিশ্চিত ফলাফলের কারণে ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে বিশ্বনেতাদের যোগদানের আহ্বান নেতানিয়াহুর

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, ইরান শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।   রোববার দক্ষিণ ইসরায়েল-এর ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।   নেতানিয়াহুর ভাষায়, “ইরান পুরো বিশ্বকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের এই অভিযানে যুক্ত হওয়ার। যদিও ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ এই পথে এগোতে শুরু করেছে, তবে আরও শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান-এর পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই অভিযানের প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহুর এই আহ্বান এসেছে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আদর্শ মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন যে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করেছে।   নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ইতোমধ্যে বহু বিশ্বনেতা ব্যক্তিগতভাবে এ অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০