নিউইয়র্ক পুলিশে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি, নেতৃত্বেও শক্ত অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম নগর পুলিশ বাহিনী নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একসময় হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা এই বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের দাবি, এনওয়াইপিডিতে এক হাজারেরও বেশি ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এবং প্রায় দেড় হাজার বেসামরিক কর্মী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তবে এ বিষয়ে এনওয়াইপিডি পৃথক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।
বিশেষ করে ২০২৫ সালে দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে ঘিরে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের অবদান নতুন করে আলোচনায় আসে।
ম্যানহাটনের একটি ভবনে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত দিদারুল ইসলাম কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে শত শত পুলিশ কর্মকর্তা, কমিউনিটি নেতা এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যরা শুধু টহল পুলিশ হিসেবেই নয়, গোয়েন্দা শাখা, সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট, পরিদর্শকসহ বিভিন্ন নেতৃত্বের পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও তাদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই অগ্রযাত্রার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় যোগদানে উৎসাহিত করতে পেশা-সচেতনতামূলক সেমিনার, নিয়োগবিষয়ক তথ্যসভা এবং পরামর্শমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে আসছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি, কমিউনিটি সেবা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও জোরদারের কাজ করছে।
সংগঠনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মসজিদ, কমিউনিটি কেন্দ্র, কলেজ এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পুলিশে যোগদানের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, শারীরিক প্রস্তুতি এবং পেশাগত সম্ভাবনা সম্পর্কে তরুণদের সরাসরি দিকনির্দেশনা দেন। কমিউনিটি নেতাদের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের মধ্যে পুলিশ পেশার প্রতি আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বাংলাদেশি তরুণদের অনেকেই প্রথমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কর্মকর্তা, বিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা কিংবা অন্যান্য বেসামরিক পদে যোগ দেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের পর পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ভর্তি হয়ে ইউনিফর্মধারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। এই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নগর পুলিশ বাহিনী এনওয়াইপিডিতে প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী পুলিশ কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। সেই বিশাল বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু একটি পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সরকারি সেবায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি বিল গেটসের সম্পদের মাত্র ১ শতাংশ পাবেন তাঁর তিন সন্তান। মাইক্রোসফটের এই সহপ্রতিষ্ঠাতার বর্তমান সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১১৫ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে সন্তানদের জন্য রাখা সম্পদের পরিমাণও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। তবে সন্তানদের বিপুল উত্তরাধিকার না দেওয়ার পেছনে তাঁর যুক্তি, এতে তাদের প্রকৃত উপকার হবে না। বরং নিজের যোগ্যতায় সফল হওয়ার সুযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর উদ্যোক্তা ও পডকাস্ট উপস্থাপক রাজ শামানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে গেটস তাঁর উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, সন্তানদের ভালো পরিবেশে বড় করা হয়েছে এবং উন্নত শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবারের মোট সম্পদের তুলনায় তারা পাবে ১ শতাংশেরও কম। কারণ, তাঁর বিবেচনায় পুরো সম্পদ বা এর বড় অংশ সন্তানদের দিয়ে যাওয়া তাদের জন্য উপকারী সিদ্ধান্ত হবে না। গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি চান তাঁর সন্তানরা নিজেদের উপার্জন ও সাফল্যের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করুক। বাবার বিপুল সম্পদ যেন তাদের নিজস্ব অর্জনকে আড়াল করে না দেয়, সেটিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, পরিবারের সম্পদ তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া উচিত নয়। গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে তাঁর তিন সন্তান—জেনিফার, রোরি ও ফোবি। তাঁদের মধ্যে ১১৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ১ শতাংশ সমানভাবে ভাগ করা হলে প্রত্যেকে প্রায় ৩৮৩ মিলিয়ন ডলার পেতে পারেন। তবে এটি মোট সম্পদের ১ শতাংশ সমানভাবে ভাগ করার ভিত্তিতে করা একটি হিসাব; প্রত্যেকে ঠিক কত অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। সন্তানদের জন্য সম্পদের সীমিত অংশ রাখার পরিকল্পনা গেটসের দীর্ঘদিনের দাতব্য উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০০০ সালে তিনি ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস মিলে গঠন করেন গেটস ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কাজ করা হয়। ২০২২ সালে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে গেটস বলেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি তাঁর প্রায় পুরো সম্পদই ফাউন্ডেশনে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে একসময় বিশ্বের ধনীদের তালিকা থেকেও তিনি সরে যাবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজের সম্পদ এমন কাজে ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর দায়িত্ব, যা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং জীবনমান উন্নত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বিপুল সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার অধিকারী অন্যদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। গেটস একা নন। মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস, ওয়ারেন বাফেট, মাইকেল ব্লুমবার্গ ও মার্ক জাকারবার্গের মতো আরও কয়েকজন ধনী ব্যক্তি তাঁদের সম্পদের বড় অংশ দাতব্য কাজে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে গেটসের মতো বিপুল সম্পদের মালিকদের ক্ষেত্রে দাতব্য কাজে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার পরও পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য সম্পদ অবশিষ্ট থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে উত্তরাধিকার নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে অবশ্য বড় ব্যবধান রয়েছে। এমপাওয়ারের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ পরিবার উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পদ রেখে যেতে চায়। কিন্তু ৩৪ শতাংশ পরিবার জানে না, বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে কি না। ২০২৫ সালের চয়েস মিউচুয়ালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক উত্তরাধিকার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন অথবা ইতিমধ্যে পেয়েছেন। উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁরা গড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫০ ডলার পাওয়ার হিসাব করছেন। কিন্তু রিচমন্ডের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চলতি বছরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তরাধিকার পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর মধ্যম পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। গড় পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০ ডলার। ধনী পরিবারের বড় অঙ্কের সম্পদ হস্তান্তরের কারণে গড় পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। নর্থওয়েস্টার্ন মিউচুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অধিকাংশ উত্তরাধিকার—৬৬ শতাংশ—সন্তান বা নাতি-নাতনিদের কাছে গেছে। এ ছাড়া ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী এবং ৩২ শতাংশ ক্ষেত্রে দাতব্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উত্তরাধিকার পেয়েছে। একটি সম্ভাব্য ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা চললেও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এর বড় অংশ ধনী পরিবারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ঋণ, বাড়ির বন্ধকী কিস্তি ও চিকিৎসার ব্যয়ের কারণে অনেক সাধারণ পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে দেওয়ার মতো সম্পদ তুলনামূলক কম থাকতে পারে। গেটসের মতে, উত্তরাধিকার নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে আগেভাগেই নিজের অর্থনৈতিক দর্শন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। এতে ভবিষ্যতে কে কতটা সম্পদ পাবে, তা নিয়ে ভুল প্রত্যাশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে। সম্পদ পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও একই ধরনের। পরিবারের আর্থিক অবস্থা, অর্থ ব্যবহারের মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিবেচনা করে উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করা উচিত। উত্তরাধিকার এককালীন অর্থ, বিনিয়োগ হিসাব, ট্রাস্ট কিংবা নির্দিষ্ট সময় পরপর অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে বণ্টন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজন, আর্থিক অভ্যাস ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি করসংক্রান্ত বিষয়ও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে উত্তরাধিকার হিসেবে কম অর্থ পাওয়া মানেই তা মূল্যহীন নয়। আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করা কয়েক হাজার ডলারও দীর্ঘ সময়ে উল্লেখযোগ্য সম্পদে পরিণত হতে পারে। তাই পরিবারের জন্য কত সম্পদ রেখে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি করা এবং জীবিত অবস্থায় নিজের আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় ৪০ বছরের সম্পর্কের ইতি, পেপসি ছেড়ে কোকাকোলার সঙ্গে চুক্তি করছে কেএফসি
সরকারি কর্মীদের শিক্ষাঋণ মওকুফে বিতর্কিত নিয়ম বাতিলের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াল ট্রাম্প প্রশাসন
চোখের সামনে সাগরে তলিয়ে গেল বাড়ি, ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলজুড়ে বাড়ছে ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিদাতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া কর্মীদের খরচ আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালে পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামের জন্য কর্মীদের গড়ে বছরে ৭ হাজার ৪৭১ ডলার দিতে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৬২১ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯ শতাংশ। বিশেষ করে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা বেশি চাপে পড়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকে বিমার খরচের বড় অংশ বহন করতে হয়। স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে গবেষণাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কেএফএফের (KFF) নতুন এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৬ সালের নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত স্বাস্থ্যসুবিধা জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিমার সামগ্রিক ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয়ের ওপরই আর্থিক চাপ বাড়ছে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই চাপ তুলনামূলক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে অবসর গ্রহণের বয়সের নিচে থাকা প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পান। তাঁদের জন্য এই বিমা চিকিৎসার ব্যয় সামলানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু বিমার খরচ বাড়তে থাকায় কর্মীদের হাতে থাকা অর্থের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। কেএফএফের জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার মোট বার্ষিক প্রিমিয়াম গড়ে ২৮ হাজার ৩০৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এই মোট খরচের একটি অংশ কর্মীরা দেন, আর বাকি অংশ বহন করেন নিয়োগকর্তারা। কেএফএফের স্বাস্থ্যসেবা বাজারবিষয়ক কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ম্যাথিউ রে বলেন, এ বছর কর্মীদের বিমার জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা কতটা সাশ্রয়ী থাকছে, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। ছোট প্রতিষ্ঠানে ব্যয়ের চাপ আরও স্পষ্ট। জরিপে দেখা গেছে, ১০ থেকে ৯৯ জন কর্মী রয়েছে এমন ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার জন্য কর্মীদের গড় বার্ষিক অবদান ২০২৬ সালে বেড়ে ৯ হাজার ৬৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৮ হাজার ৯০০ ডলার। বিপরীতে, ২০০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের গড় অবদান এ বছর ৬ হাজার ৮৪০ ডলার, যা গত বছর ছিল প্রায় ৬ হাজার ২০০ ডলার। অর্থাৎ, বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তুলনায় ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিজেদের পকেট থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমার মোট প্রিমিয়ামের গড়ে ৩৭ শতাংশ বহন করেন। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হার ২৫ শতাংশ। ছোট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩২ শতাংশ কর্মী এমন বিমা পরিকল্পনায় রয়েছেন, যেখানে পরিবারের বিমার অর্ধেকেরও বেশি খরচ তাঁদের দিতে হয়। বড় প্রতিষ্ঠানে এই হার মাত্র ৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৬ কোটি ২৩ লাখ মানুষ কাজ করেন। বেসরকারি খাতের মোট কর্মীর প্রায় ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশই এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। ফলে ছোট ব্যবসার স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে যাওয়া বিপুলসংখ্যক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন জেনা ক্যালিগারিস। তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ জন কর্মী রয়েছেন। তিনি জানান, কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা চালু রাখা নিয়ে তাঁকে নিয়মিত উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয়। তাঁর ব্যবসায় দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে প্রতিযোগিতা করতে হয়। তাই কর্মীদের ওপর বিমার অতিরিক্ত খরচ চাপিয়ে দিতে চান না তিনি। প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়নভুক্ত নন এমন কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমার খরচের ৮০ শতাংশ বহন করে। বাকি অর্থ দেন কর্মীরা। ব্যয় সামলাতে প্রতিষ্ঠানটি পুরোনো গাড়ি ও যন্ত্রপাতি আরও দীর্ঘদিন ব্যবহার করছে, বছরের শেষে কর্মীদের বোনাস কমিয়েছে এবং বার্ষিক কোম্পানি পিকনিকও বন্ধ করেছে। ক্যালিগারিসের ভাষায়, কর্মীদের বিমা সুবিধা বজায় রেখে ব্যবসায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি খরচের বোঝা নিজেরাই বহন করার চেষ্টা করতে হচ্ছে। গত তিন বছরে ব্যয় কমানোর জন্য তাঁদের প্রতিষ্ঠান একাধিকবার বিমা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেছে। তারপরও এ বছর প্রিমিয়াম ২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান তিনি। কেএফএফের ম্যাথিউ রে বলেন, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বড় কোম্পানির তুলনায় বেশি ডিডাক্টিবল বা বিমা সুবিধা কার্যকর হওয়ার আগে কর্মীদের নিজস্ব অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়—এমন খরচের মুখে পড়ে। এ ছাড়া ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্যবিমার বাজারে খরচের ওঠানামাও বেশি অনিশ্চিত। স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। অক্টোবরে পরিচালিত এক এপি-নরক জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ১০ জনে সাতজন বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে স্বাস্থ্যসেবা তাঁদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, চিকিৎসার খরচ এবং পরিবারের বাজেট সামলানোর বিষয়গুলোও ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোকে তাঁর নির্বাচনী বার্তার অংশ করেছেন। তিনি ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ এবং কিছু আমেরিকানের জন্য অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন। তবে তাঁর প্রশাসনের নেওয়া অন্য কিছু নীতিগত পদক্ষেপের কারণে কিছু মানুষের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। নতুন জরিপেও দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মী বেশি অর্থ ব্যয় করলেও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধায় তেমন উন্নতি দেখতে পাচ্ছেন না। ২০২৬ সালের এই জরিপে ১০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রায় ১ হাজার ৯০০টি বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে উঠে আসা চিত্র বলছে, স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়ার চাপ শুধু কর্মীদের ব্যক্তিগত বাজেটেই সীমাবদ্ধ নেই; কর্মীদের সুবিধা ধরে রাখতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্য ব্যয় কমানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও হেগসেথকে কড়া আক্রমণ ওবামার, বললেন তাঁরা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ অঙ্গরাজ্যে কমেছে ক্রেডিট কার্ডের সীমা, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন গ্রাহকেরা
ডেলাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে শিগগিরই, যুক্তরাষ্ট্রে এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে সময়
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্যান্টন শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক মা ও তাঁর চার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পরিবারটির বাবা ও আরেক সন্তান বেঁচে গেলেও তাঁদের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই চলছে। প্রিয়জনদের হারানোর শোকের মধ্যেই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রতিবেশী, স্থানীয় বাসিন্দা ও কমিউনিটির সদস্যরা। সিবিএস নিউজ টেক্সাসের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভোরে ভ্যান জান্ট কাউন্টিতে পরিবারটির বাড়িতে আগুন লাগে। নিহত মায়ের নাম জেসমিন হেনসন। তাঁর চার সন্তানের নাম রবার্ট মিচেল, ট্রয় মিচেল, লেভি মিচেল ও অ্যাভ্রিল মিচেল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় বাড়ি থেকে কয়েকজন বের হতে সক্ষম হন। দমকলকর্মীদের ভেতরে পৌঁছাতে বাড়ির বাইরের একটি দেয়াল ভাঙতে হয়েছিল। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু আগুনে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ায় মা ও চার সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই পরিবারের জন্য ঘটনাটি শুধু একটি বাড়ি হারানোর ঘটনা নয়; মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষগুলোকে হারানোর অসহনীয় বাস্তবতা। পরিবারটির বাবা ও বেঁচে যাওয়া সন্তান এখন শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি গভীর মানসিক আঘাত সামলানোর কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের তাঁরা প্রায়ই বাড়ির আশপাশে খেলতে দেখতেন। তাদের হাসি, ছোটাছুটি ও স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন এখন সেই এলাকার মানুষের স্মৃতিতে বেদনাদায়ক হয়ে থাকবে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এদিকে পরিবারটির চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তা সংগ্রহ করছেন। শনিবার একটি তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন দুর্যোগের পর প্রতিবেশীদের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, বিপদের সময়ে একটি কমিউনিটির মানুষের পাশে দাঁড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পরিবারটির এই মর্মান্তিক ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পারিবারিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বাড়িতে ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র সচল রাখা, আগুন লাগলে বের হওয়ার পথ আগে থেকে নির্ধারণ করা এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি শেখানো জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নার্সিং হোমে নার্স নিয়োগে বড় উদ্যোগ ট্রাম্পের, তিন বছর কাজ করলে মিলতে পারে ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জামিন শুনানির অধিকার নেই, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিল আপিল আদালত