নিউইয়র্কে ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ উদ্বোধন, আত্মত্যাগী বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে স্থায়ী সম্মান
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে একটি সড়কের আনুষ্ঠানিক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ শনিবার ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৭২ স্ট্রিটের একটি অংশের নতুন নাম রাখা হয় “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” (Detective Didarul Islam Way)। অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামের পরিবার, নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তারা, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে সংঘটিত প্রাণঘাতী বন্দুক হামলায় দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন। সে সময় তিনি ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অনুমোদিত নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন। হামলাকারীর গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ তখন দিদারুল ইসলামকে সাহসী ও আত্মত্যাগী কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার সন্তান দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর প্রথমে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিষ্ঠাবান, বিনয়ী এবং জনসেবায় নিবেদিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর হাজারো পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। এনওয়াইপিডি তাঁকে মরণোত্তর “ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড” পদে পদোন্নতি দেয়। তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং গর্ভে থাকা তৃতীয় সন্তানকে রেখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে” শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতিচিহ্ন নয়; এটি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান, জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর-নিউইয়র্ক (CAIR-NY) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ও জনসেবার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখবে।
দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে ঘিরে নিউইয়র্কে এর আগেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর নামে “Didarul Islam Police Recruitment Act” শীর্ষক একটি আইন প্রস্তাবও আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য স্কুল সেফটি এজেন্টসহ অন্যান্য জননিরাপত্তা পদে কাজের অভিজ্ঞতাকে এনওয়াইপিডিতে যোগদানের ক্ষেত্রে আরও স্বীকৃতি দেওয়া। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, এই উদ্যোগ দিদারুল ইসলামের কর্মজীবন ও জনসেবার আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের জামিন শুনানির সুযোগ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয় বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর নিউ অরলিন্সভিত্তিক পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালত ১০-৭ ভোটে এ সিদ্ধান্ত দেন। এর ফলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে আটক সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের মুক্তির আবেদন করার সুযোগ সীমিত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসন নীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এ রায়কে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটিতে প্রশ্ন ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিধান অনুযায়ী আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানির অধিকার রয়েছে কি না। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়া এবং নির্দিষ্ট আইনি ধারায় আটক থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবিধান এমন শুনানি নিশ্চিত করে না। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের আটক রাখার বৈধতা নিয়ে জামিন শুনানির মাধ্যমে যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ বাধ্যতামূলক নয় বলে আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। রায়ের পক্ষে মত দেওয়া বিচারক কোরি উইলসন বলেন, আটক ব্যক্তিরা যদি শারীরিকভাবে আটকে না থাকার স্বাধীনতা চান, তাহলে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক। তবে এ বক্তব্য আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের অংশ হলেও রায়টি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। ভিন্নমত দেওয়া বিচারকেরা মনে করেন, নির্বাহী বিভাগের হাতে কাউকে আটক রাখার ক্ষমতা থাকলেও সেই ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক সীমা থাকা প্রয়োজন। এর আগে গত জুলাইয়ে পঞ্চম সার্কিট আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ রায় দিয়েছিল, ৯০ দিনের বেশি কোনো অভিবাসীকে আটক রাখলে তাঁকে জামিন শুনানির সুযোগ না দেওয়া সাংবিধানিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। পরে পুরো আদালত মামলাটি পুনরায় শুনে শুক্রবার আগের সিদ্ধান্ত উল্টে দেয়। মামলাটি করা হয়েছিল মেক্সিকোর দুই নাগরিক ও হন্ডুরাসের এক নাগরিকের পক্ষ থেকে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আটক থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। নতুন রায়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় দেশটির সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটককেন্দ্রগুলোর কয়েকটি অবস্থিত। রায়ের বিরোধিতা করে বিচারক ডানা ডগলাস সতর্ক করেছেন, সরকারের হাতে সীমাহীনভাবে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার ক্ষমতা দেওয়া হলে তা ইতিহাসের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। মামলায় অভিবাসীদের পক্ষে থাকা ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন প্রজেক্টের আইনজীবী এলি নর্টনও বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে যথেষ্ট কারণ ছাড়াই আরও বেশি মানুষকে আটক রাখার পথ তৈরি হতে পারে। এতে আটক ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান আইন কর্মকর্তা জেমস পার্সিভাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রায়টিকে প্রশাসনের জন্য বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত আইনি অবস্থান হিসেবে টিকে থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এ মাসে অভিবাসীদের জামিন শুনানি আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক কি না, সে বিষয়ে পৃথক একটি মামলা শুনতে সম্মত হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা প্রশ্নটি আইনগত, আর পঞ্চম সার্কিটের সাম্প্রতিক রায়টি সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে। দুটি প্রশ্নের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পঞ্চম সার্কিটের এই রায় টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপিতে কার্যকর হবে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব অভিবাসী বা সব ধরনের আটক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য, এমনটি বলা যাবে না। নিম্ন আদালতগুলোতে অভিবাসীদের আটক রাখার বৈধতা নিয়ে মামলা চলতে থাকায় দেশজুড়ে এ বিষয়ে আইনি মতপার্থক্যও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানি অভিবাসন আটকনীতি নিয়ে বিতর্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, পঞ্চম সার্কিট আপিল আদালতের রায়।
নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১ হাজার ৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে আবাসন লটারির আবেদন
পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলন্ত স্কুলবাস থামিয়ে ১৯ শিশুকে রক্ষা করলেন যুবক
বিল গেটসের শতকোটি ডলারের সম্পদ থেকে সন্তানেরা পাবেন মাত্র ১ শতাংশ, কেন এমন সিদ্ধান্ত
প্রায় চার দশক ধরে পেপসির পানীয় পরিবেশন করে আসার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁগুলোতে সরবরাহকারী ব্র্যান্ড বদলাচ্ছে কেএফসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দেশটির হাজারো কেএফসি রেস্তোরাঁয় পেপসির পরিবর্তে কোকাকোলা কোম্পানির পানীয় পাওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার এ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইনটি। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে কেএফসির পানীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে পেপসিই ছিল একমাত্র অংশীদার। নতুন চুক্তির ফলে আটলান্টাভিত্তিক কোকাকোলা কোম্পানির সঙ্গে কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিনের এই পরিবর্তনকে কেএফসি তাদের খাবার ও পানীয়ের তালিকায় নতুনত্ব আনা এবং গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় আসার আগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে। কেএফসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন অংশীদারত্ব তাদের মেনু ও পানীয় পরিবেশনের ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার চলমান প্রচেষ্টার আরেকটি ধাপ। একই সঙ্গে গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় আসার নতুন কারণ তৈরি করাও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। কেএফসি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন ট্যান-গিলেসপি বলেছেন, কেএফসি ও কোকাকোলা—দুটি ব্র্যান্ডের প্রতিই ভোক্তাদের গভীর আগ্রহ ও ভালোবাসা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অংশীদারত্ব শুধু গ্রাহকদের গ্লাসে কোন পানীয় থাকবে, সেই পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, কেএফসিকে সময়ের সঙ্গে আরও মানানসই করে তোলা, রেস্তোরাঁগুলোর কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং খাবার ও পানীয়ের প্রস্তাব আরও উন্নত করার প্রচেষ্টার অংশ এটি। বর্তমান সময়ের গ্রাহকদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরিও তাঁদের লক্ষ্য। কোকাকোলা কোম্পানি কেএফসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে একই ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কী করতে পারে, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী। কোকাকোলা কোম্পানির উত্তর আমেরিকায় ফুড সার্ভিস ও অন-প্রিমাইস বিভাগের প্রেসিডেন্ট ডাগমার বগসও নতুন চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেএফসির পরিচিত খাবার ও স্বাদের সঙ্গে কোকাকোলার বিস্তৃত পানীয়সম্ভার এবং নতুন পণ্য তৈরির সক্ষমতা যুক্ত হলে গ্রাহকদের জন্য আরও সতেজ অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব হবে। বগসের মতে, এই অংশীদারত্ব গ্রাহকদের মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। পানীয়ের ব্র্যান্ড পরিবর্তনের পাশাপাশি কেএফসি তাদের সামগ্রিক পানীয়ের তালিকাও সম্প্রসারণ করছে। নতুন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে আইসড কফি, বোবা এবং মিল্কশেকসহ বিভিন্ন পানীয়। এসব নতুন পণ্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনের কাজ চলছে টেক্সাসে অবস্থিত কেএফসির ‘ওপেন হাউস’ নামের উদ্ভাবনী রেস্তোরাঁয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনায় পানীয়ের বৈচিত্র্য বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন স্বাদ ও বিকল্প যুক্ত করার মাধ্যমে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় তাঁদের আগ্রহ বাড়াতে চায় কেএফসি। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের কেএফসি রেস্তোরাঁগুলোতে পানীয়ের তালিকায় বড় পরিবর্তন আসবে। তবে ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কেএফসি রেস্তোরাঁগুলোর ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সরকারি কর্মীদের শিক্ষাঋণ মওকুফে বিতর্কিত নিয়ম বাতিলের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়াল ট্রাম্প প্রশাসন
চোখের সামনে সাগরে তলিয়ে গেল বাড়ি, ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলজুড়ে বাড়ছে ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি
পরিবারসহ স্বাস্থ্যবিমায় বছরে গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার ৪৭১ ডলার, বাড়ছে মার্কিন কর্মীদের ব্যয়
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়া এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘দায়িত্বশীল নয় এমন মানুষ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ আমেরিকানদের। শনিবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবামা। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন ও শেরড ব্রাউনের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। অ্যাক্টন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে এবং ব্রাউন মার্কিন সিনেটের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়েছে। অথচ কয়েক মাস আগে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই সংঘাতের পরিণতি কী হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। ওবামা বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাই ছিল যুদ্ধ শুরুর অন্যতম যুক্তি। কিন্তু তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে এগোনোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া ছাড়াই আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ওবামার ভাষ্য, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর যুদ্ধ শুরু করেন। যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এত মাস পরও এই সংঘাত কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বিবেচনা করা দরকার। যুদ্ধের মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন ওবামা। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং শত শত সেনা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সামরিক অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। আহত সেনার সংখ্যা ৮৬৫। এই হিসাবে যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অযুদ্ধকালীন মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হেগসেথকে নিয়েও কটাক্ষ সমাবেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কর্মকাণ্ড নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ওবামা। সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা ও পুরুষালি চেহারা নিয়ে হেগসেথের আগ্রহের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যেন সেনাদের চোয়ালের গঠন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রার মতো বিষয়েই বেশি মনোযোগী। হেগসেথের সামরিক সদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও তোলেন ওবামা। জুলাইয়ে হেগসেথ ঘোষণা করেছিলেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সক্রিয় সামরিক সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে বছরে একবার টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি শনাক্ত করার পরীক্ষা করা হবে। ওবামা এ সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে বলেন, হেগসেথের মনোযোগ যেন সেনাদের চুলের ধরন ও বাহ্যিক চেহারা ঠিক রাখার দিকেও বেশি। তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এরপর ওবামা বলেন, “এরা দায়িত্বশীল মানুষ নন।” তাঁর মতে, নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন না, তখন তার পরিণতি সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হয়। তেলের দাম ও শুল্কনীতি নিয়েও সমালোচনা ইরান যুদ্ধের প্রভাব যে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়াচ্ছে—সমাবেশে সেই বিষয়টি তুলে ধরেন ওবামা। তাঁর বক্তব্য, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এবং সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ডিজেলের দামসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যে। ওবামা বলেন, তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুদ্ধের ভূমিকা রয়েছে এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধিও সেই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে যুদ্ধকে উপেক্ষা করা যায় না। তবে মূল্যবৃদ্ধির জন্য শুধু যুদ্ধকে দায়ী করেননি তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিরও সমালোচনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাঁর যুক্তি, বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ বা কাঁচামাল আমদানি করা মার্কিন উৎপাদকদের ওপর শুল্কের চাপ পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়। কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক বিরোধ নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ওবামা। তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ‘শত্রু সাম্রাজ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের ধারণা নিয়ে কৌতুক করেন এবং দেশটির পরিচিত পণ্য ম্যাপল সিরাপের কথা উল্লেখ করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রচার জোরদার নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার জোরদার করতেই ওহাইওতে গিয়েছিলেন ওবামা। ক্লিভল্যান্ডের সমাবেশকে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরা হয়। ওবামা ২০০৮ ও ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওহাইওতে জয় পেয়েছিলেন। এবার তিনি শেরড ব্রাউনের সিনেট নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্রাউন রিপাবলিকান প্রার্থী জন হুস্টেডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, অ্যামি অ্যাক্টন গভর্নর পদে লড়ছেন। ব্রাউনের পক্ষে প্রচারে ওবামা বলেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হতে পারে এবং এর ফল সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ওহাইওর মানুষের স্বার্থে ওয়াশিংটনে কে কাজ করবে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওবামার এই বক্তব্যে যুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক প্রস্তুতি, জ্বালানির দাম ও বাণিজ্যনীতি—সবকিছুকেই নির্বাচনী বিতর্কের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া সেখানে প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ অঙ্গরাজ্যে কমেছে ক্রেডিট কার্ডের সীমা, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছেন গ্রাহকেরা
ডেলাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে শিগগিরই, যুক্তরাষ্ট্রে এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে সময়