কবর থেকে মিলল যুবকের মরদেহ, সেই নারীকে ধরিয়ে দিলে ১১ হাজার ডলার পুরস্কার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অগভীর কবর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী ইসাবেল রোজ জনসনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে ধরতে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও আলাবামাজুড়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ১১ হাজার ডলার পুরস্কার।
ওয়ালটন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম জেসন কোলথার্ট। ৪৩ বছর বয়সী জেসনের দেহাবশেষ গত ২৫ জুন ফ্লোরিডার ফ্রিপোর্ট এলাকার সানসেট লেনের একটি সম্পত্তিতে অগভীর কবর থেকে উদ্ধার করা হয়। নাইসভিল পুলিশ প্রথমে তদন্তকারীদের সম্ভাব্য স্থানটির তথ্য দিয়েছিল।
তদন্তের পর ইসাবেল জনসনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে তিনি এখনও পলাতক। তাকে লুকিয়ে থাকতে সহায়তা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসাবেল জনসন প্রায়ই নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেন। হার্লে, জেসিকা এলেইন বোম্যান, জেসিকা এলেইন থ্রাশ, জেসিকা ডাউডি ও ডেনিসসহ একাধিক নামে তিনি পরিচিত হয়ে থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিচয় গোপন করতে তিনি সম্প্রতি চুল ছোট করে কেটে রংও পরিবর্তন করেছেন।
পুলিশের বর্ণনায়, ইসাবেলের উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি এবং ওজন আনুমানিক ১২০ পাউন্ড। তার চুল বাদামি ও চোখ হ্যাজেল রঙের। বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর কাছে ফুলের নকশার একটি উলকি এবং ডান পায়ের গোড়ালিতেও আলাদা উলকি রয়েছে।
শেরিফের কার্যালয়ের দাবি, যাতায়াত ও অর্থ সংগ্রহের জন্য ইসাবেল কখনো কখনো পারিবারিক সহিংসতা বা ব্যক্তিগত দুর্দশার গল্প বলে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে ফ্লোরিডার ওকালুসা ও ওয়ালটন কাউন্টির পাশাপাশি জর্জিয়া এবং দক্ষিণ আলাবামার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ রয়েছে।
তবে জেসন কোলথার্টকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ এখনো প্রকাশ করেনি তদন্তকারীরা। তিনি কীভাবে মারা গেছেন এবং অভিযুক্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
জেসনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি অন্যের বিপদে এগিয়ে যেতেন এবং প্রয়োজন হলে খাবার কেনা কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারেও প্রতিবেশীদের গোপনে সহায়তা করতেন। তার মৃত্যুতে ২০ বছর বয়সী এক ছেলে বাবাকে হারিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসাবেল জনসনকে কোথাও দেখা গেলে কেউ যেন তার কাছে যাওয়ার চেষ্টা না করেন। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় খবর দিতে বলা হয়েছে। মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ফ্লোরিডা এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটির (ফ্যামু) হোমকামিং গেমের পর এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাগ মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামের কাছে এই অপ্রত্যাশিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অর্ধেকই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগীর বয়স মাত্র ১১ বছর। টালাহাসি পুলিশের প্রধান লরেন্স রেভেল জানিয়েছেন, মোট ১১ জন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গোলাগুলির আগে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে এই সহিংসতায় রূপ নেয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বেশ গুরুতর, যাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাকি আটজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। পুলিশ প্রধান লরেন্স রেভেল এই হামলাকে একটি "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
নিউইয়র্কে ইহুদিদের উপর হামলা ও নিরাপত্তার উদ্বেগে ফ্লোরিডায় পাড়ি জমাচ্ছে শতাধিক ইহুদি পরিবার
নিউইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনলে মিলবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, জেনে নিন শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের র্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে তিন লাখ ডলারের বেশি আয় করেও মাসিক খরচ ও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় নিয়ে আর্থিক চাপে রয়েছেন অনেক উচ্চ আয়ের মানুষ। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের ২০২৬ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, এই আয়ের শ্রেণির ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা মূলত এক মাসের বেতন দিয়ে পরবর্তী বেতন পাওয়া পর্যন্ত চলেন। অর্থাৎ বড় অঙ্কের আয় থাকলেও নিয়মিত ব্যয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পর্যাপ্ত সঞ্চয় গড়ে তুলতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁদের সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাস শেষে কোনো অর্থ থাকে না। গোল্ডম্যান স্যাকস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অবসরজীবনসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনের জন্য ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ হাজার ১০৬ জনের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিন হাজার ৬১২ জন কর্মরত এবং এক হাজার ৪৯৪ জন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক অবস্থা, নিয়মিত ব্যয়, সঞ্চয় এবং অবসরজীবনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যেও আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, বছরে এক লাখ থেকে তিন লাখ ডলার আয় করা ব্যক্তিদের ২৩ শতাংশ নিজেদের মাসিক বেতনের ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন। বিপরীতে তিন লাখ ডলারের বেশি আয় করা ব্যক্তিদের মধ্যে এই হার ৩৬ শতাংশ। আর বছরে এক লাখ ডলারের কম আয় করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হারটি ৪২ শতাংশ। ফলে জরিপে মাঝামাঝি আয়ের শ্রেণির তুলনায় সর্বোচ্চ আয়ের শ্রেণিতে আর্থিক চাপের কথা জানানো মানুষের অনুপাত বেশি পাওয়া গেছে। আরও বিস্তারিত হিসাবে দেখা গেছে, বছরে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ ডলার আয়ের শ্রেণিতে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা মূলত এক বেতন থেকে পরবর্তী বেতন পর্যন্ত চলার কথা জানিয়েছেন। পাঁচ লাখ ডলারের বেশি আয়ের শ্রেণিতে এই হার ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার আয়ের শ্রেণিতে হারটি ছিল ২২ দশমিক ২ শতাংশ। এই পার্থক্য দেখায়, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক চাপ সব ক্ষেত্রে একই অনুপাতে কমে না। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক চাপের পেছনে বড় আর্থিক প্রতিশ্রুতি ও জীবনযাত্রার প্রত্যাশা ভূমিকা রাখতে পারে। বড় বাড়ির মর্টগেজ, ব্যয়বহুল গাড়ি, সন্তানদের শিক্ষা এবং পরিবারের সদস্যদের সহায়তার মতো খাতে নিয়মিত অর্থ ব্যয় হতে পারে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার মান ও ব্যয় বাড়লে সঞ্চয়ের জন্য অবশিষ্ট অর্থ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে জরিপে সব উচ্চ আয়ের পরিবারের সমস্যার কারণ একই বলে উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে কম আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক চাপের ধরন অনেক ক্ষেত্রে আলাদা। তাঁদের জন্য খাবার, বাসস্থান, যাতায়াত এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার খরচ মেটানোই বড় সমস্যা হতে পারে। উচ্চ আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে বেশি সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বড় ঋণ, নিয়মিত ব্যয় এবং ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্য পূরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে। তাই দুই আয়ের শ্রেণির মানুষের মাসিক বেতনের ওপর নির্ভরশীলতার অভিজ্ঞতাকে একই ধরনের আর্থিক সংকট হিসেবে দেখা ঠিক নয়। জরিপে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তিন লাখ ডলারের বেশি আয় করা উত্তরদাতাদের ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লক্ষ্য পিছিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে এক লাখ থেকে তিন লাখ ডলার আয়ের শ্রেণিতে এই হার ছিল ৫৪ শতাংশ। এসব লক্ষ্যের মধ্যে অবসরজীবনের সঞ্চয়, বাড়ি কেনা, ঋণ পরিশোধ কিংবা জরুরি তহবিল গড়ে তোলার মতো বিষয় রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক চাপের চিত্র পাওয়া গেছে। বছরে তিন লাখ ডলারের বেশি আয় করা উত্তরদাতাদের প্রায় ৪২ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের ন্যূনতম বকেয়া বা তার কম পরিশোধ করেন। এক লাখ থেকে তিন লাখ ডলার আয়ের শ্রেণিতে এই হার ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ। তবে ন্যূনতম অর্থ পরিশোধের অভ্যাসের পেছনে প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দিষ্ট কারণ জরিপ থেকে নিশ্চিত করা যায় না। অবসরজীবনের সঞ্চয় নিয়ে উদ্বেগও গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ শতাংশ আবাসন ব্যয়কে অবসরজীবনের জন্য অর্থ জমানোর বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা বলেছেন। ঋণের কিস্তি ও পরিশোধের চাপের কথা জানিয়েছেন ২৭ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান সব আয়ের উত্তরদাতাদের নিয়ে, শুধু তিন লাখ ডলারের বেশি আয় করা ব্যক্তিদের নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন পরিবারের জন্যও জরিপটি আয় ও সঞ্চয়ের পার্থক্য বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। চাকরির বেতন বেশি হলেও কর, মর্টগেজ বা রেন্ট, স্বাস্থ্যবিমা, গাড়ির কিস্তি এবং পরিবারের অন্যান্য ব্যয় বিবেচনা করতে হয়। নিয়মিত খরচের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি ও অবসরজীবনের জন্য কতটা অর্থ রাখা সম্ভব হচ্ছে, সেটিও আর্থিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে জরিপের ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের সব উচ্চ আয়ের মানুষের আর্থিক অবস্থার নিশ্চিত চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। তথ্যগুলো উত্তরদাতাদের নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে, তাঁদের ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করে নয়। ফলে মাসিক বেতনের ওপর নির্ভরশীলতার কথা জানানো মানেই তাঁদের কোনো সঞ্চয় বা সম্পদ নেই, এমন সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষণায় মূলত উঠে এসেছে, বড় অঙ্কের আয়ও সব সময় আর্থিক স্বস্তি বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের সুখ কমছে, জীবনে সবচেয়ে অসন্তুষ্ট জেন জি
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মাত্র ১,৮২০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ, চলছে লটারি
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারিয়েও মাসে ১ হাজার ডলার সাশ্রয়, তরুণীর অভিনব কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস ধর্মযাজকদের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনের মামলা নিষ্পত্তিতে ৮০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও দর-কষাকষির পর এই ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক ভুক্তভোগী কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পাবেন এবং নিপীড়নের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। আর্চবিশপ রোনাল্ড হিকস জানিয়েছেন, অভিযোগকারী ও তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে সমঝোতা শেষে আগামী ৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হবে। যাজকদের উদ্দেশে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের মানসিক নিরাময় ও পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে এবং গির্জা তার সুসমাচার প্রচার, দরিদ্রদের সাহায্য ও শিশুদের শিক্ষাদানের মতো মূল সেবামূলক কাজগুলোতে পুনরায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীদের আইনজীবী জেফ অ্যান্ডারসন এই সমঝোতাকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ভুক্তভোগীদের অপরিসীম সাহস, ত্যাগ ও দৃঢ়তার ফলেই আজ জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক গির্জায় হওয়া বৃহত্তম সমঝোতাগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয়। এর আগে ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের আর্চডায়োসিস ভুক্তভোগীদের ৮৮ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০০০-এর দশকের শুরু থেকেই দেশটিতে ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং গির্জার ঊর্ধ্বতন নেতাদের দ্বারা সেসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসতে থাকে। নিউইয়র্কের এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণের চুক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার আরেকটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কে শুটিং চলাকালে ছুরি হাতে হা মলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২৩ বছরের যুবক
নিউইয়র্কে নারী পুলিশকে রাত কাটানোর প্রস্তাব, ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে যৌ ন হয়রানির মামলা