ফ্লোরিডাসহ ৫ অঙ্গরাজ্যে কবরস্থান থেকে স্বজনদের গয়না-স্মারক চুরি, চক্রের ৩ সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাসহ অন্তত পাঁচ অঙ্গরাজ্যে সমাধিসৌধে ঢুকে মৃত স্বজনদের সঙ্গে রাখা গয়না ও পারিবারিক স্মারক চুরির অভিযোগে তিনজনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন তিনজনই ইন্ডিয়ানাপোলিসের বাসিন্দা। তারা ফ্লোরিডা, ওকলাহোমা, নিউইয়র্ক, টেক্সাস ও জর্জিয়ার বিভিন্ন কবরস্থানকে লক্ষ্য করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় সন্দেহভাজন হিসেবে ড্রেক মিলাম, পরশে ব্যাংক্রফট ও অ্যাঞ্জেলা গ্যারেটের নাম প্রকাশ করেছে।
তদন্তকারীদের হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডার অরেঞ্জ, সেমিনোল ও হিলসবরো কাউন্টি এবং উইন্টার পার্ক শহরে প্রায় ২০টি চুরির ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৩৫ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা মূলত সমাধিসৌধের এমন কুঠুরি বা স্থানকে লক্ষ্য করত, যেখানে মৃত ব্যক্তিদের দাহ করা দেহাবশেষ রাখা হয়। এসব কুঠুরির ভেতরে থাকা গয়না ও প্রয়াত স্বজনের স্মৃতি হিসেবে পরিবারের সদস্যদের রাখা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
কিছু ঘটনার সময়ের দৃশ্য নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এসব ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় অবস্থান করতে পারেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ঘটনাটিকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক পরিবার এই চুরির শিকার হয়ে থাকতে পারে, যারা এখনো বিষয়টি জানতে পারেনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্বজনের সমাধিস্থল পরিদর্শন না করা পরিবারগুলোকে সেখানে গিয়ে কোনো জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও সমাধিস্থল থেকে গয়না বা অন্য কোনো পারিবারিক স্মারক চুরি হয়ে থাকলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাতে হবে।
তিন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার কবর বা সমাধি থেকে সামগ্রী অপসারণ এবং বড় ধরনের চুরির অভিযোগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তথ্য দিতে ক্রাইমলাইন নম্বরে ৮০০-৪২৩-টিপস (৮৪৭৭) যোগাযোগ করা যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreডিজিটাল মূল্যতালিকা চালুর পর গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন ফার্নার জানিয়েছেন, গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, কেনাকাটার ইতিহাস, আয় বা কোনো পণ্যের জন্য তিনি কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, এসব তথ্য ব্যবহার করে আলাদা আলাদা দাম নির্ধারণ করবে না ওয়ালমার্ট। শুক্রবার ওয়ালমার্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফার্নার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ‘ব্যক্তির পরিচয় নয়, পণ্যের মূল্য’ নির্ধারণের নীতিতে থাকবে। তার ভাষ্য, কে পণ্যটি কিনছেন বা দিনের কোন সময়ে কিনছেন, তার ওপর ভিত্তি করে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না। ওয়ালমার্টের দোকানগুলোতে কাগজের মূল্যতালিকার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ছোট ডিজিটাল পর্দা বা ডিজিটাল শেলফ লেবেল বসানো হচ্ছে। এসব পর্দায় পণ্যের দাম দেখানো হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম পরিবর্তন করা যায়। প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গ্রাহক ও ভোক্তা অধিকারকর্মীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হতে পারে কি না। ওয়ালমার্ট অবশ্য বলছে, ডিজিটাল শেলফ লেবেলের কাজ শুধু পণ্যের দাম প্রদর্শন করা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেবেল গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে না, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না এবং নিজেরা পণ্যের দাম নির্ধারণও করে না। অনুমোদিত মূল্য পরিবর্তন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয় এবং দোকানের তাকের দাম ও ক্যাশ কাউন্টারে নেওয়া দাম একই রাখাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ফার্নার আরও জানিয়েছেন, ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটা সহকারী ‘স্পার্কি’র ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক স্পার্কির সঙ্গে কী তথ্য শেয়ার করছেন বা তার কেনাকাটার ইতিহাস কী, সেসবের ভিত্তিতে বেশি দাম নেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো গ্রাহকের প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে এমন কম দামের পণ্য গোপন করার জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিজিটাল মূল্যতালিকার ব্যবহার ওয়ালমার্টে দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্চে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ওয়ালমার্ট শাখায় তখন এই প্রযুক্তি চালু ছিল এবং আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো মার্কিন শাখা নেটওয়ার্কে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়ালমার্টের মতে, কাগজের লেবেল বদলানোর পরিবর্তে ডিজিটাল লেবেল ব্যবহারে কর্মীদের সময় সাশ্রয় হচ্ছে। নতুন পণ্য আসা, ছাড়ের দাম পরিবর্তন বা বিশেষ মূল্য নির্ধারণের মতো ক্ষেত্রে কর্মীদের হাতে হাতে হাজার হাজার কাগজের লেবেল বদলাতে হয় না। ফলে দোকানের তাকের দাম দ্রুত হালনাগাদ করা এবং ক্যাশ রেজিস্টারে থাকা দামের সঙ্গে মিল রাখা সহজ হচ্ছে। তবে বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কোনো গ্রাহক একটি পণ্যের জন্য কত টাকা দিতে রাজি হতে পারেন, সেই ধারণার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রকাশ করে। কমিশন বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দাম নির্ধারণ করলে এবং সে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে তা ভোক্তা সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এফটিসি অবশ্য বলেছে, সব ধরনের ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিষিদ্ধ করার আইনগত ক্ষমতা তাদের নেই। তবে বিভ্রান্তিকর বা অন্যায্যভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের ওপর জনমত নেওয়ার সময়সীমাও পরে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল মূল্যব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফার্নারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতির কারণে পণ্যের দাম কমতে বা বাড়তে পারে। কোনো পণ্য কম দামে সংগ্রহ করা গেলে ওয়ালমার্ট সেই সাশ্রয় গ্রাহকদের দিতে পারে। আবার পণ্য সংগ্রহ বা পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে দামও বাড়তে পারে। তবে ব্যক্তিগত গ্রাহকের তথ্য বা তার অর্থ দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে একই পণ্যের জন্য আলাদা দাম নেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্র: ওয়ালমার্ট
সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে কমছে গ্র্যাজুয়েশনের হার, উঠছে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কে ডেলিভারি দিতে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের লবিতে প্রস্রাব, ক্যামেরায় ধরা পড়লেন কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত বিলটিতে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল, নাগরিকদের বাবা-মায়ের জন্য গ্রিন কার্ডের পথ সীমিত করা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বর্তমান কাঠামো বদলে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। আলাবামার সিনেটর টিউবারভিল ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিলটি সিনেটে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর S. 5485। সিনেটে উত্থাপনের পর এটি দুইবার পাঠ করা হয়েছে এবং বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন আইনে কোনো পরিবর্তন আনেনি। প্রস্তাবটি এর আগে প্রতিনিধি ব্যারি মুরের নেতৃত্বে ২৯ এপ্রিল প্রতিনিধি পরিষদে H.R. 8586 হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছিল। ওই বিলের সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান, ওয়েসলি হান্ট ও ট্রয় নেহলস। টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে পরিবারের সম্পর্কের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বেতন, বয়স, সামরিক সেবা এবং বিশেষ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিলটির পক্ষে টিউবারভিল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যারা দেশটির আইন মেনে চলবেন এবং সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখবেন। প্রস্তাবটির অন্যতম বড় পরিবর্তন হবে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি বাতিল। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে লটারির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। টিউবারভিলের বিলটি এ ব্যবস্থা বন্ধ করে দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় কর্মীদের জন্য বছরে ৩ হাজার অভিবাসী ভিসার একটি সীমিত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান আইনে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকরা তাদের বাবা-মায়ের জন্য তাৎক্ষণিক আত্মীয় হিসেবে অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মাকে এই শ্রেণি থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের সুযোগ মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে সীমিত করার কাঠামো তৈরি হবে। শুধু নতুন আবেদনকারী নয়, বর্তমানে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে। যেসব পরিবারভিত্তিক আবেদনের শ্রেণি বিলটির আওতায় বাদ যাবে, সেগুলোর অপেক্ষমাণ আবেদন অনুমোদনের সুযোগ থাকবে না। আগে অনুমোদিত কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও নতুন পরিবর্তন অনুযায়ী ভিসা দেওয়ার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থায়ও প্রস্তাবটি বড় পরিবর্তন আনতে চায়। বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব শ্রেণির পরিবর্তে একটি প্রতিযোগিতামূলক পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বছরে বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ৯২ হাজার ভিসা দিয়ে শুরু করার কথা বলা হয়েছে, যদিও বিলের নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী এই সংখ্যা কমতে পারে। এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব থাকতে হবে। আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম মান পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি আবেদন করার সময় বয়স ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে হওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। বেতনের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রস্তাবিত বেতন সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মধ্যম বেতনের অন্তত ২০০ শতাংশ হতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ডিগ্রি পাওয়া বা পাওয়ার কাছাকাছি থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ১৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ বেতন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি, চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রি, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স, যোগ্য সামরিক সেবা এবং অসাধারণ অর্জন বিবেচনা করা হবে। উচ্চ বেতন বা নির্দিষ্ট ধরনের উচ্চতর ডিগ্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিয়োগদাতাদের ওপরও নতুন দায়িত্ব আরোপ করা হবে। কোনো বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে। একই পদে সমান বা বেশি যোগ্য মার্কিন কর্মী থাকলে তাকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর এমন লঙ্ঘনের কারণে কোনো মার্কিন কর্মী চাকরি হারালে জরিমানা ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিয়ম না মানার ধারাবাহিক বা নিয়মিত চর্চা প্রমাণিত হলে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধানও প্রস্তাবটিতে রয়েছে। পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত অভিবাসী এবং যোগ্য স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের প্রথমে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই শর্তসাপেক্ষ সময় হবে দুই বছর। এ সময়ে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ, কিছু ধরনের অপরাধে দণ্ডিত হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে প্রধান আবেদনকারীর স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি থাকবে। এর প্রভাব নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের ওপরও পড়তে পারে। বিলটিতে অভিবাসীদের কাছ থেকে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ‘প্রটেকশন অব আমেরিকান ভ্যালুজ’ নামে ওই ঘোষণায় সংবিধানসম্মত নীতির প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণহত্যা, নিপীড়ন, তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে হত্যা, যৌন সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের মতো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়েও ঘোষণা দিতে হবে। সিনেটের প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদের আগের বিলের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যেমন, নিয়োগদাতার ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনের ধারাবাহিক চর্চার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। অসাধারণ সক্ষমতার জন্য পয়েন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দুই বিলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ ছাড়া শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের বিধান তুলে নেওয়ার সময় কিছু সাক্ষাৎকার মওকুফের সুযোগ প্রতিনিধি পরিষদের প্রস্তাবে ছিল, যা সিনেটের সংস্করণে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা বাতিল করে নতুন পদ্ধতি চালুর সময়সীমাতেও দুই প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক অঙ্গরাজ্যের বাইরের শিক্ষার্থীদের সমপরিমাণ টিউশন, ফি ও অন্যান্য খরচ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ বিধান লঙ্ঘন করলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য অনুমোদন হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। বিলটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনছে। তবে টিউবারভিলের প্রস্তাবিত আইন এবং প্রশাসনের নেওয়া নির্বাহী বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক বিষয় নয়। S. 5485 এখনো কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটিতে রয়েছে এবং আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সিনেটে বিলটি কমিটির পরবর্তী পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিল H.R. 8586-ও এপ্রিল মাসে কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং এখনো আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন বা কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের নিয়ম এই প্রস্তাবের কারণে পরিবর্তিত হয়নি। সূত্র: নিউজউইক
বাড়ি কিনতে খরচ বাড়ছে কোথায়, কমছে কোন রাজ্যে- দেখুন তালিকা
গাড়ির দাম কমাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের নিয়ম শিথিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে ভিজিটর ভিসা নয়, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে সতর্কতা
যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আমেরিকান সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটির কাছে স ন্ত্রা স ও বি স্ফো র ক-সংক্রান্ত আইনে পাঁচজনকে আ টক করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। রোববার সকালে আমেরিকার আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন চলাচলের খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের আ টক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আ টক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বি স্ফো র ক আইনের আওতায় অ প রা ধের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি তাদের স ন্ত্রা সী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সঙ্গেও জড়িত থাকার সন্দেহে আ টক করা হয়েছে। তারা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার পর ফেয়ারফোর্ডের কাছের উইলফোর্ড এলাকার কয়েকটি বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। এলাকাটিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান শুরু করা হয়েছে। উইলফোর্ড আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বি স্ফো র ক-নিরাপত্তা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহজনক যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে। যানবাহনগুলোর চারপাশে প্রায় ৪০০ মিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৮৫টি পরিবারের সদস্যদেরও এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে জানান, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঘাঁটির দিকে যাওয়া তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন সম্পর্কে পুলিশকে জানানো হয়। পরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আ টক করা হয়। স্থানীয় পুলিশ কাউন্টার টে র রি জ ম পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করছে। আরএএফ ফেয়ারফোর্ড আমেরিকান বিমানবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক কর্মকাণ্ডেও ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে বি-১ ল্যান্সার ও বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেসের মতো মার্কিন বি মান অবস্থান করেছে। ঘটনার বিষয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজনদের দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, তারা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষ তি করার পরিকল্পনা করছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঘটনাটি নিয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, জরুরি সাড়াদানকারী দল ও সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন হলে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব শাবানা মাহমুদও ঘটনাস্থলে কাজ করা জরুরি সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে থাকা আমেরিকান বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং জানিয়েছে, ঘটনাটির পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আরএএফ লাকেনহিথের ৪৮তম ফাইটার উইং জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে পারবে না। তবে লাকেনহিথ, মাইল্ডেনহল ও ফেল্টওয়েল ঘাঁটি নিয়ে গঠিত এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
একসময় পানি আনতে হতো পার্ক থেকে, আজ সেই শহরেই চিকিৎসক দুই ভাই
ক্যালিফোর্নিয়ায় পরপর দুই ভূ ক ম্পন, কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা