হারানো হাইকারকে খুঁজতে চলল রাতভর অভিযান, অচেনা নম্বর ভেবে ধরেননি রেসকিউ টিমের ফোন
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর মাউন্ট এলবার্টে পথ হারিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন এক হাইকার। তাকে খুঁজতে রাতভর পাহাড়ে অভিযান চালায় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম। বারবার ফোন ও টেক্সট মেসেজও পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি। পরে জানা যায়, নিখোঁজ হাইকার ফোন দেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু অচেনা নম্বর থেকে কল আসায় ইচ্ছা করেই ধরেননি। অথচ সেই কলগুলোই আসছিল তাকে খুঁজতে থাকা উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে।
ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবরের। লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৯টার দিকে মাউন্ট এলবার্টের সাউথ ট্রেইলহেড থেকে একা হাইকিং শুরু করেন ওই ব্যক্তি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় রাত ৮টার দিকে উদ্ধারকারী দলের কাছে নিখোঁজ হওয়ার খবর পৌঁছায়।
রাত প্রায় ১০টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি রেসকিউ টিম তাকে খুঁজতে পাহাড়ে ওঠে। হাইকাররা সাধারণত যেসব এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলেন, সেসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তির মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো কলের উত্তর পাওয়া যায়নি।
রাতভর অনুসন্ধানের পর ভোর ৩টার দিকে প্রথম দফার অভিযান বন্ধ করা হয়। দিনের আলো ফুটলে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সকাল ৭টার দিকে নতুন একটি দল বিভিন্ন সম্ভাব্য এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে।
এর মধ্যেই উদ্ধারকারীরা জানতে পারেন, যাকে খুঁজতে এত আয়োজন, তিনি নিজেই নিরাপদে গাড়ির কাছে ফিরে এসেছেন।
পরে ওই হাইকার জানান, সন্ধ্যা নামার পর তিনি মূল ট্রেইল হারিয়ে ফেলেছিলেন। রাতভর হাঁটতে থাকেন এবং একাধিকবার ভুল পথে চলে যান। শেষ পর্যন্ত পরদিন সকালে সঠিক পথ খুঁজে গাড়ির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। হাইকিং শুরু করার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তিনি ফিরে আসেন।
কিন্তু পুরো সময়টিতে তাকে খুঁজতে যে বড় ধরনের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযান চলছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না।
সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বিষয়টি সামনে আসে ফোনকল নিয়ে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছিল, হাইকারের মোবাইলে বারবার কল করা হলেও তিনি সেগুলো ধরেননি। কারণ নম্বরগুলো তার পরিচিত ছিল না।
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই হাইকারকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, পাহাড়ে পথ হারিয়ে যাওয়ার পরও কেউ কেন অচেনা নম্বরের ফোন উপেক্ষা করবেন।
তবে লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ওই ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মানুষকে দ্রুত বিচার না করার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি জানায়, একটি ঘটনার সব তথ্য জানার পর যেটিকে সাধারণ জ্ঞান বলে মনে হয়, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা একজন পথহারা মানুষের কাছে সেটি তখন এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে।
একই সঙ্গে পাহাড়ে হারিয়ে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখার পরামর্শ দেয় উদ্ধারকারী দল। কেউ নিখোঁজ হওয়ার পর যদি অচেনা নম্বর থেকে বারবার ফোন আসে, সেটি উদ্ধারকারী দলের কল হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে ফোন ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মাউন্ট এলবার্ট কলোরাডোর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রকি মাউন্টেন অঞ্চলেরও সর্বোচ্চ চূড়া। এর উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ৪৩৩ ফুট। উচ্চতা, দ্রুত বদলে যাওয়া আবহাওয়া এবং দুর্গম ট্রেইলের কারণে সেখানে হাইকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী সংস্থা। কলোরাডোর লিডভিল ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া, আহত বা আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে সংস্থাটি কাজ করে।
ঘটনাটি কয়েক বছর আগের হলেও এর বার্তাটি এখনো প্রাসঙ্গিক। দুর্গম এলাকায় হারিয়ে গেলে মোবাইল ফোনে আসা অচেনা নম্বরের একটি কলও কখনো কখনো হতে পারে আপনাকে খুঁজতে থাকা উদ্ধারকারী দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে সড়কে টহল দেওয়ার সময় অস্বাভাবিক এক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ। দুই ব্যক্তি একটি দুই আসনের সোফা দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর বসিয়ে সেটিকে চলাচলের বাহন হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। শহরের একটি সড়কে এমন অবস্থায় চলার সময় তাদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি প্রকাশ করে বিভাগটি। লিভনাও ফক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গত সপ্তাহান্তে ঘটে। পরে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ তাদের ফেসবুক পাতায় ওই অস্বাভাবিক বাহনের ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, একটি দুই আসনের সোফা দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে এবং দুই ব্যক্তি সেটিতে করে সড়কে চলাচল করছেন। স্থানীয় আরেক প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল হিসেবে শার্লটের সাউথ ট্রায়ন স্ট্রিটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টিকে শুধু ব্যতিক্রমী একটি যান দেখার ঘটনা হিসেবে নেয়নি, বরং সড়ক নিরাপত্তার দিকটিও সামনে এনেছে। তাদের বক্তব্যের সারাংশ হলো, প্রচলিত যানবাহনের বাইরে কোনো অস্বাভাবিক বাহন রাস্তায় চলাচল করলে তা অন্য চালকদের হঠাৎ বিস্মিত বা বিভ্রান্ত করতে পারে। এতে চালকের মনোযোগ সড়ক থেকে সরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় পুলিশ মানুষকে রাস্তায় কোনো বাহন ব্যবহারের আগে সেটি অন্যদের জন্য কতটা নিরাপদ, তা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে এমন কিছু রাস্তায় নেওয়া উচিত কি না, যা অন্য গাড়ির চালকদের অপ্রত্যাশিতভাবে চমকে দিতে পারে, সে বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্যে মূল গুরুত্ব ছিল বাহনটি কতটা নিরাপদ এবং সড়কের অন্যান্য ব্যবহারকারীদের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেই প্রশ্নে। পুলিশের প্রকাশিত ছবিটি দ্রুত অনলাইনে মানুষের আগ্রহ তৈরি করে। অস্বাভাবিক কাঠামোর এই বাহন দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মজা ও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্যও করেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ বিভাগের পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে বিপুলসংখ্যক প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জমা পড়ে। তবে এই ঘটনার পর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। লিভনাও ফক্স জানিয়েছে, তারা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ওই বাহন চালাচ্ছিলেন কি না এবং তাদের কোনো টিকিট দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। ফলে ঘটনাটির পর সম্ভাব্য জরিমানা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের একটি বিশেষ ইউনিটও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাউথ ট্রায়ন স্ট্রিটসহ শার্লটের বিনোদনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে রাতের সময়ে সড়ক ও জননিরাপত্তা নজরদারিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করে। সেই নিয়মিত টহলের মধ্যেই এই অস্বাভাবিক বাহনটি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। সড়কে বৈদ্যুতিক স্কুটার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত চলাচলের বাহনের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব বাহন কীভাবে এবং কোথায় ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিধিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শার্লটের ঘটনাটি সেই বৃহত্তর সড়ক নিরাপত্তা আলোচনার একটি বিচিত্র উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: লিভনাও ফক্স, শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ, অক্টোবরেই কার্যকর হচ্ছে যেসব নিয়ম
নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল সান ফ্রান্সিসকোর দুই বেডরুমের বাসা, ভাড়া ৬,৩৪০ ডলার
দমবন্ধ হয়ে আসা ১১ মাসের শিশুকে বাঁচালেন নিউইয়র্কের দুই পুলিশ কর্মকর্তা, মায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এ কারণে তাঁরা অন্তত কখনো কখনো আর্থিক চাপ অনুভব করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত লেন্ডিংট্রির জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৭১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সন্তানকে অর্থ দিয়েছেন। গত দুই বছরে সহায়তা দিয়েছেন ৪৪ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে ৩২ শতাংশ মাসে একাধিকবার অর্থ দিয়েছেন। গত দুই বছরে সহায়তা দেওয়া মা-বাবাদের ৫৩ শতাংশ সন্তানের খাবার বা বাজারের খরচে সাহায্য করেছেন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা সাবস্ক্রিপশনের খরচে সহায়তা করেছেন ৩৫ শতাংশ। সমানসংখ্যক মা-বাবা নিয়মিত বিল ও জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ দিয়েছেন। আবাসন খরচে সাহায্য করেছেন ২৫ শতাংশ। সন্তানকে সহায়তা দেওয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালানোর সক্ষমতা কমেছে বলে জানিয়েছেন ১৮ শতাংশ মা-বাবা। ঋণ পরিশোধে প্রভাব পড়েছে ১৬ শতাংশের, সঞ্চয়ে ১৩ শতাংশের এবং অবসরের জন্য অর্থ জমানোয় ১১ শতাংশের। সহায়তা পাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন, মা-বাবার সাহায্য ছাড়া বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ মেটানো তাঁদের জন্য কঠিন বা অসম্ভব হতো। মার্চে প্রকাশিত ওয়েলস ফার্গোর পৃথক জরিপে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের সন্তানেরা অর্থ, বাসস্থান বা অন্য সহায়তার জন্য তাঁদের ওপর নির্ভর করেন। ওই মা-বাবাদের ৫৬ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাঁদের নিজেদের অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণনা ব্যুরোর হিসাবে, ২০২৪ সালে পরিবারের বাইরে থাকা ২১ বছর বা বেশি বয়সী ৩৭ লাখ সন্তানকে মোট ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছেন প্রায় ২৬ লাখ মা-বাবা। যাঁরা সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক অর্থের মধ্যক পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭২৫ ডলার। বাড়িতে থাকা সন্তানদের পেছনে খরচ এই হিসাবে নেই। লেন্ডিংট্রির অনলাইন জরিপটি ৫ থেকে ৯ আগস্ট চালানো হয়। এতে অংশ নেওয়া ২ হাজার মার্কিন ভোক্তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবা ছিলেন ৫৯৪ জন।
নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম
লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যুর পর বুলিংয়ের অভিযোগ এনেছে পরিবার
ফ্লোরিডায় ১৭ বছর বয়সী যমজ সন্তানদের ছুরিকাঘাত, পরে নিজেও আ ত্মহ ত্যা বাবার
মেক্সিকো সীমান্তের টেক্সাস অংশে আরও কয়েক শ সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার, ২ অক্টোবর মার্কিন নর্দার্ন কমান্ড জানিয়েছে, রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে আগে থেকে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সহায়তায় নতুন এই মোতায়েন করা হয়েছে। নর্দার্ন কমান্ডের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা, সম্ভাব্য হুমকিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো এবং রিও গ্র্যান্ডে এলাকায় কর্মরত কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে সহায়তা করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। কতজন সেনা পাঠানো হয়েছে, তাঁরা কত দিন থাকবেন বা কোন কোন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। রিও গ্র্যান্ডে এলাকায় ড্রোন নিয়ে উদ্বেগের একটি আগের ঘটনা রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ আগস্ট সীমান্তে তাদের সদস্য ও বর্ডার কর্মকর্তাদের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত তিনটি ড্রোন লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামানো হয়। বাহিনী ড্রোনগুলোকে কার্টেল সংশ্লিষ্ট বলে বর্ণনা করে। ওই ঘটনাটি শুক্রবারের নতুন সেনা মোতায়েনের কারণ হিসেবে ধারণা পাওয়া যায়। সীমান্তে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও নতুন নয়। আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত সামরিক বাহিনীর হিসাবে, দক্ষিণ সীমান্তে যৌথ টাস্কফোর্সের অধীনে প্রায় আট হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের কাজের মধ্যে ছিল নজরদারি, টহল ও সীমান্তরক্ষী সংস্থাকে সহায়তা। আট হাজারের সংখ্যাটি আগস্টের হিসাব; শুক্রবার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরের হালনাগাদ মোট সংখ্যা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
কেটামিনের প্রভাবে অসুস্থ অবস্থায় যৌন সম্পর্ক, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
১২ বছরের খোঁজের অবসান, মিলল ৬ ক্যারেটের হীরা ‘আমেরিকান ড্রিম’, মূল্য হতে পারে ১০ লাখ ডলার