ইন্ডিয়ানায় রেকর্ড ভাঙা বন্যা, চার বছরের শিশুসহ মৃত্যু বেড়ে ৭
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে টানা কয়েক দিনের ভয়াবহ ঝড় ও রেকর্ড ভাঙা বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত সাতজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি শত বছরের বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে।
ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে ভয়াবহ আবহাওয়া শুরু হয়। কয়েক দফা শক্তিশালী ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা মধ্য ও দক্ষিণ ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
শুরুতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রোববার নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশু, তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন।
চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয় ইন্ডিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেনিংস কাউন্টিতে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার প্রবল ঝড়ের সময় একটি গাছ ভেঙে শিশুটির শোবার ঘরের ওপর পড়ে। এতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ম্যাথিউ মোরে নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণও রয়েছেন। ডেলাওয়ার কাউন্টির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে মিসিসিনেওয়া নদীর একটি সেতু থেকে প্রবল স্রোতের পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। তিন দিন পর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি হাই স্কুল শেষ করা ম্যাথিউ পারডু ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আরেক ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী স্টেফানি স্যালির মরদেহ এবং তার কুকুরকে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। কাছেই পাওয়া যায় তার গাড়ি। তদন্তকারীদের ধারণা, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় প্রবল স্রোতে তার গাড়িটি ভেসে যায়।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্য ইন্ডিয়ানায়। কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে হোয়াইট রিভারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিলে নদীর পানি ২৪ ফুটের বেশি উচ্চতায় পৌঁছায়, যা ১৯১৩ সালে তৈরি হওয়া আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট জানিয়েছেন, গত ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে শহরটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
হোয়াইট রিভার ও এর আশপাশের খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ফার্স্ট রেসপন্ডাররা নৌকা ব্যবহার করেছেন। ইন্ডিয়ানাপোলিসের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা রাখা হয়েছে।
গভর্নর মাইক ব্রাউনের অফিস জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং বহু উদ্ধার ও ওয়েলফেয়ার চেক পরিচালনা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের উত্তরে বয়স্কদের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটিতেও জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে আগে সাধারণত বন্যার ঝুঁকিতে না থাকা এলাকাও এবার পানিতে তলিয়ে গেছে।
ঝড়ের প্রভাবে এক পর্যায়ে ইন্ডিয়ানাজুড়ে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন রাজ্যজুড়ে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্ডিয়ানার জন্য ফেডারেল জরুরি সহায়তার অনুরোধ অনুমোদন করেন। এর ফলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ফেডারেল সহায়তা যুক্ত হয়েছে।
শুধু ইন্ডিয়ানা নয়, সাম্প্রতিক এই শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্টের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। ইলিনয় থেকে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় টর্নেডো, ভারী বৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইন্ডিয়ানায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও কর্তৃপক্ষ সতর্কতা তুলে নেয়নি। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং ফুলে ওঠা নদীগুলো এখনো বিপজ্জনক। বিশেষ করে পানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক দিয়ে গাড়ি না চালাতে এবং প্রবল স্রোতের নদী থেকে দূরে থাকতে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর মাউন্ট এলবার্টে পথ হারিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন এক হাইকার। তাকে খুঁজতে রাতভর পাহাড়ে অভিযান চালায় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম। বারবার ফোন ও টেক্সট মেসেজও পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি। পরে জানা যায়, নিখোঁজ হাইকার ফোন দেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু অচেনা নম্বর থেকে কল আসায় ইচ্ছা করেই ধরেননি। অথচ সেই কলগুলোই আসছিল তাকে খুঁজতে থাকা উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে। ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবরের। লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ৯টার দিকে মাউন্ট এলবার্টের সাউথ ট্রেইলহেড থেকে একা হাইকিং শুরু করেন ওই ব্যক্তি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় রাত ৮টার দিকে উদ্ধারকারী দলের কাছে নিখোঁজ হওয়ার খবর পৌঁছায়। রাত প্রায় ১০টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি রেসকিউ টিম তাকে খুঁজতে পাহাড়ে ওঠে। হাইকাররা সাধারণত যেসব এলাকায় পথ হারিয়ে ফেলেন, সেসব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তির মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো কলের উত্তর পাওয়া যায়নি। রাতভর অনুসন্ধানের পর ভোর ৩টার দিকে প্রথম দফার অভিযান বন্ধ করা হয়। দিনের আলো ফুটলে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সকাল ৭টার দিকে নতুন একটি দল বিভিন্ন সম্ভাব্য এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যেই উদ্ধারকারীরা জানতে পারেন, যাকে খুঁজতে এত আয়োজন, তিনি নিজেই নিরাপদে গাড়ির কাছে ফিরে এসেছেন। পরে ওই হাইকার জানান, সন্ধ্যা নামার পর তিনি মূল ট্রেইল হারিয়ে ফেলেছিলেন। রাতভর হাঁটতে থাকেন এবং একাধিকবার ভুল পথে চলে যান। শেষ পর্যন্ত পরদিন সকালে সঠিক পথ খুঁজে গাড়ির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। হাইকিং শুরু করার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তিনি ফিরে আসেন। কিন্তু পুরো সময়টিতে তাকে খুঁজতে যে বড় ধরনের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযান চলছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বিষয়টি সামনে আসে ফোনকল নিয়ে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছিল, হাইকারের মোবাইলে বারবার কল করা হলেও তিনি সেগুলো ধরেননি। কারণ নম্বরগুলো তার পরিচিত ছিল না। ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই হাইকারকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, পাহাড়ে পথ হারিয়ে যাওয়ার পরও কেউ কেন অচেনা নম্বরের ফোন উপেক্ষা করবেন। তবে লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ওই ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মানুষকে দ্রুত বিচার না করার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি জানায়, একটি ঘটনার সব তথ্য জানার পর যেটিকে সাধারণ জ্ঞান বলে মনে হয়, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা একজন পথহারা মানুষের কাছে সেটি তখন এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ে হারিয়ে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখার পরামর্শ দেয় উদ্ধারকারী দল। কেউ নিখোঁজ হওয়ার পর যদি অচেনা নম্বর থেকে বারবার ফোন আসে, সেটি উদ্ধারকারী দলের কল হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে ফোন ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়। মাউন্ট এলবার্ট কলোরাডোর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রকি মাউন্টেন অঞ্চলেরও সর্বোচ্চ চূড়া। এর উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ৪৩৩ ফুট। উচ্চতা, দ্রুত বদলে যাওয়া আবহাওয়া এবং দুর্গম ট্রেইলের কারণে সেখানে হাইকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। লেক কাউন্টি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী সংস্থা। কলোরাডোর লিডভিল ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া, আহত বা আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে সংস্থাটি কাজ করে। ঘটনাটি কয়েক বছর আগের হলেও এর বার্তাটি এখনো প্রাসঙ্গিক। দুর্গম এলাকায় হারিয়ে গেলে মোবাইল ফোনে আসা অচেনা নম্বরের একটি কলও কখনো কখনো হতে পারে আপনাকে খুঁজতে থাকা উদ্ধারকারী দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ।
বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৪০ হাজার চাকরি
ইন্ডিয়ানায় রেকর্ড ভাঙা বন্যা, চার বছরের শিশুসহ মৃত্যু বেড়ে ৭
কোম্পানির ১ লাখ ৯১ হাজার ডলার আত্মসাৎ, ধরা পড়ার ভয়ে কোমায়’ যাওয়ার নাটক
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা এগিয়ে যাওয়ায় অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও ওমানের আলাদা আলোচনার বিষয়ে তিনি কী ভাবছেন। জবাবে তিনি বলেন, ওমান যদি যুক্তরাষ্ট্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহার করে ওমানে ব্যাপক বোমা হামলার হুমকি দেন। এটি ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের প্রথম এমন হুঁশিয়ারি নয়। গত মে মাসেও তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে গেলে ওমানকে হামলার মুখে পড়তে হতে পারে। সে সময়ও তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো একটি দেশকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া হবে না। নতুন হুমকিটি এসেছে এমন সময়ে, যখন ইরান জানিয়েছে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ট্রানজিট রুটের মানচিত্র নিয়ে দুই পক্ষ একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে এবং যৌথ ঘোষণার বিস্তারিত চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা রুট তৈরির কথা রয়েছে। এর একটি ইরানের উপকূলের কাছাকাছি এবং অন্যটি ওমানের দিক দিয়ে পরিচালিত হতে পারে। সাময়িক ব্যবস্থার অধীনে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধ্যতামূলক টোল না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এর আগে ওমান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে এমন একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে দিয়েছিল, যাতে হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজগুলো স্বেচ্ছায় অর্থ দিতে পারে এবং সেই অর্থ নৌপথের নিরাপত্তা ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই হরমুজে বাধ্যতামূলক টোল বা কোনো একটি দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রকাশ্য বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রণালীটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। ইরান বলেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক নয়। হরমুজ ঘিরে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একাধিকবার নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে। ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সরাসরি যোগাযোগের একটি ব্যাকচ্যানেল রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে নেই এবং সমঝোতায় পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করছেন না বলেও জানান। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় এই বিষয়টি এখনও অন্যতম প্রধান বিরোধ হিসেবে রয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছে মাস্কাট। এই নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণেই অতীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ একাধিক সংকটে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে দেশটি। তবে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের নতুন সমঝোতার উদ্যোগ এখন মাস্কাটকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির পর ওয়াশিংটন ও মাস্কাটের সম্পর্ক কোন দিকে যায় এবং ইরান ও ওমানের প্রস্তাবিত হরমুজ চুক্তি বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাক্সের ভেতরে ছিল চার বছরের শিশুর মরদেহ, নাম জানতেই পুলিশের লাগল ৬৫ বছর
প্রাথমিকের ইংরেজি পরীক্ষায় আসছে স্পিকিং টেস্ট, প্রত্যেক শিক্ষার্থী পাবে ইউনিক আইডি
আইটি ও সাইবার নিরাপত্তায় চাকরির বড় বাজার ভার্জিনিয়ায়, বাংলাদেশিদের কাছেও হয়ে উঠছে আকর্ষণীয়
হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ — পুলিশ ঘটনার নজরদারি ভিডিও ও সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে। হিউস্টনের গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। হিউস্টন পুলিশ বিভাগ সম্প্রতি ঘটনাটির নজরদারি ভিডিও ও সন্দেহভাজনের দুটি প্রতিকৃতি প্রকাশ করে জনগণের সহায়তা চেয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই দুপুর প্রায় ১২টা ২০ মিনিটে দক্ষিণ-পূর্ব হিউস্টনের সাবো রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক সন্দেহভাজন তার কাছে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে টাকা দাবি করে।ভুক্তভোগী গাড়ি থেকে মানিব্যাগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সন্দেহভাজন তার পেটে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা হ্যারিস কাউন্টির দ্বিতীয় এলাকার একজন ডেপুটি কনস্টেবল গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। তিনি সন্দেহভাজনকে পালিয়ে যেতে দেখে অনুসরণ শুরু করলে সন্দেহভাজন ঘুরে তার গাড়ির দিকে একাধিক গুলি চালায়। গাড়িতে একাধিক গুলি লাগলেও ডেপুটি আহত হননি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন পরে একটি আবাসিক ভবন এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। পুলিশ তাকে তরুণ কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে; ঘটনার সময় তার পরনে বেগুনি রঙের হুডযুক্ত পোশাক ও হাফপ্যান্ট ছিল। পুলিশের প্রকাশ করা নজরদারি ভিডিও ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তথ্য থাকলে হিউস্টন পুলিশের ডাকাতি তদন্ত বিভাগে ৭১৩-৩০৮-০৭০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে থাকেন, ড্রাইভার লাইসেন্স আছে? রিনিউয়ের আগে যা জানা জরুরি
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা