ইন্ডিয়ানায় রেকর্ড ভাঙা বন্যা, চার বছরের শিশুসহ মৃত্যু বেড়ে ৭
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে টানা কয়েক দিনের ভয়াবহ ঝড় ও রেকর্ড ভাঙা বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত সাতজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি শত বছরের বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নৌকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে।
ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে ভয়াবহ আবহাওয়া শুরু হয়। কয়েক দফা শক্তিশালী ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা মধ্য ও দক্ষিণ ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
শুরুতে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রোববার নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশু, তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন।
চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয় ইন্ডিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেনিংস কাউন্টিতে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার প্রবল ঝড়ের সময় একটি গাছ ভেঙে শিশুটির শোবার ঘরের ওপর পড়ে। এতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ম্যাথিউ মোরে নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণও রয়েছেন। ডেলাওয়ার কাউন্টির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধুদের সঙ্গে মিসিসিনেওয়া নদীর একটি সেতু থেকে প্রবল স্রোতের পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। তিন দিন পর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি হাই স্কুল শেষ করা ম্যাথিউ পারডু ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আরেক ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী স্টেফানি স্যালির মরদেহ এবং তার কুকুরকে একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। কাছেই পাওয়া যায় তার গাড়ি। তদন্তকারীদের ধারণা, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় প্রবল স্রোতে তার গাড়িটি ভেসে যায়।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্য ইন্ডিয়ানায়। কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে হোয়াইট রিভারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিলে নদীর পানি ২৪ ফুটের বেশি উচ্চতায় পৌঁছায়, যা ১৯১৩ সালে তৈরি হওয়া আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট জানিয়েছেন, গত ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে শহরটিতে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
হোয়াইট রিভার ও এর আশপাশের খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ফার্স্ট রেসপন্ডাররা নৌকা ব্যবহার করেছেন। ইন্ডিয়ানাপোলিসের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা রাখা হয়েছে।
গভর্নর মাইক ব্রাউনের অফিস জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং বহু উদ্ধার ও ওয়েলফেয়ার চেক পরিচালনা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের উত্তরে বয়স্কদের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটিতেও জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে আগে সাধারণত বন্যার ঝুঁকিতে না থাকা এলাকাও এবার পানিতে তলিয়ে গেছে।
ঝড়ের প্রভাবে এক পর্যায়ে ইন্ডিয়ানাজুড়ে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন রাজ্যজুড়ে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্ডিয়ানার জন্য ফেডারেল জরুরি সহায়তার অনুরোধ অনুমোদন করেন। এর ফলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধার এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ফেডারেল সহায়তা যুক্ত হয়েছে।
শুধু ইন্ডিয়ানা নয়, সাম্প্রতিক এই শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্টের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। ইলিনয় থেকে পশ্চিম পেনসিলভানিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় টর্নেডো, ভারী বৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইন্ডিয়ানায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও কর্তৃপক্ষ সতর্কতা তুলে নেয়নি। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং ফুলে ওঠা নদীগুলো এখনো বিপজ্জনক। বিশেষ করে পানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক দিয়ে গাড়ি না চালাতে এবং প্রবল স্রোতের নদী থেকে দূরে থাকতে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন অর্থবছরে অভিবাসী ভিসার সংখ্যা পুনর্বণ্টন হওয়ায় পারিবারিক ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ এবং কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রভাব এবং বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচির ফি নিয়েও পরিবর্তন সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা শ্রেণির জন্য নতুন ভিসা সংখ্যা পাওয়া যায়। এর ফলে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, আবার কিছু কর্মভিত্তিক শ্রেণিতে চাহিদা ও বার্ষিক সীমার কারণে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভারতের ইবি-২ শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ছিল। অক্টোবরের নতুন বুলেটিনে এই শ্রেণি আবার চালু হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১৩। ভারতের অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণিও আবার চালু হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ শ্রেণির তারিখও ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হয়েছে। তবে সব শ্রেণিতে অগ্রগতি হয়নি। বেশিরভাগ দেশ, মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের জন্য ইবি-২ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ‘কারেন্ট’ অবস্থা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৫ করা হয়েছে। একইভাবে বেশিরভাগ দেশ ও মেক্সিকোর ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিসা সীমার মধ্যে সংখ্যা রাখতে কিছু শ্রেণিতে এই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে। চীনা আবেদনকারীদের জন্যও কর্মভিত্তিক কিছু শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ইবি-৩-এর আবেদন করার তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৪ হয়েছে। অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণির তারিখও ১ মার্চ ২০১৭ থেকে এগিয়ে ১ মার্চ ২০২১ হয়েছে। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ-২এ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হয়েছে। গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর পার্থক্য। ডেটস ফর ফাইলিং নির্ধারণ করে কখন যোগ্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারণ করে কখন অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হওয়া নয়। অক্টোবর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস কোন চার্ট ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করবে, সেটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের চার্ট এবং ইউএসসিআইএসের সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখে আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হয়। এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যান না। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আবেদন ফিও বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ নভেম্বর থেকে মূল বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ফি বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পটভূমি যাচাই এবং কর্মসূচির তদারকির ব্যয় মেটাতেই এই ফি পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইবি-৫ কর্মসূচির কিছু পুরোনো বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন ধরনের আবেদনে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি নির্ধারণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ফি পরিবর্তনের প্রভাব বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর ওপর পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি নিউজউইককে বলেন, অক্টোবরের ভিসা বুলেটিন বিশেষ করে ভারতীয় গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, নতুন অর্থবছরে ভিসা সংখ্যা আবার পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ড জট কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা রিকি মারে অক্টোবরের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বুলেটিন প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা। পারিবারিক বা কর্মভিত্তিক কোন শ্রেণিতে আবেদন করা হয়েছে, অগ্রাধিকারের তারিখ কী এবং কোন দেশের জন্য চার্জযোগ্য হিসেবে আবেদনটি বিবেচিত হচ্ছে, এসব তথ্যের ওপর আবেদন করার সময় নির্ভর করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন ও ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। সূত্র: নিউজউইক
নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল সান ফ্রান্সিসকোর দুই বেডরুমের বাসা, ভাড়া ৬,৩৪০ ডলার
দমবন্ধ হয়ে আসা ১১ মাসের শিশুকে বাঁচালেন নিউইয়র্কের দুই পুলিশ কর্মকর্তা, মায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সহায়তা দেওয়া মা-বাবার ৬৪ শতাংশ আর্থিক চাপে
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বার্তায় তাদের সদস্য ইসলামের পদোন্নতির খবর জানিয়েছে। এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটিও তাঁকে নতুন পদে অভিনন্দন জানিয়েছে। মোহাম্মদ এস ইসলাম বর্তমানে ব্রুকলিনে এনওয়াইপিডির ৬২তম প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিঙ্কটের আওতায় রয়েছে বেনসনহার্স্ট, ম্যাপলটন ও বাথ বিচ এলাকা। এনওয়াইপিডির প্রিসিঙ্কট পরিচিতি পাতায়ও তাঁকে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাপার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন ১৮ বছরের। এই সময়ে তিনি হাউজিং, প্যাট্রল ও ডিটেকটিভ ব্যুরোসহ বিভাগের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন। পদোন্নতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে তুলে ধরে ইসলাম ও তাঁর পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি। এনওয়াইপিডির ওয়েবসাইটে শুক্রবার পর্যন্ত ইসলামের নামের পাশে আগের পদবি ‘ক্যাপ্টেন’ লেখা ছিল। তবে তাঁর ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির কথা জানিয়েছে বাপা ও এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটি। পদোন্নতি কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ সংগঠনগুলোর পাওয়া ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।
লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যুর পর বুলিংয়ের অভিযোগ এনেছে পরিবার
ফ্লোরিডায় ১৭ বছর বয়সী যমজ সন্তানদের ছুরিকাঘাত, পরে নিজেও আ ত্মহ ত্যা বাবার
মেক্সিকো সীমান্তে সম্ভাব্য হুমকি সামলাতে আরও কয়েক শ মার্কিন সেনা প্রেরণ যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কথিত যৌন নিপীড়নের একটি ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ার পর অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের একটি বাড়িতে এক নারী শিক্ষার্থীকে মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণে প্ররোচিত করে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারের নথিতে ওই নারীর বর্ণনায় ঘটনার আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগকারীকে মামলার নথিতে জেন ডো নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ঘটনার রাতে তিনি আগে থেকেই অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন। পরে তাকে কেটামিন গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেটামিনের প্রভাবে তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে স্বাভাবিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন। টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং আর চালিয়ে যেতে চান না বলে জানিয়েছিলেন। তদন্তের নথিতে তার এক রুমমেটের বক্তব্যও রয়েছে। ওই রুমমেটের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর জেন ডো অভিযুক্তদের একজনকে বলেছিলেন, তিনি এত বেশি কেটামিন নিয়েছিলেন যে তার চোখও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না, তবুও তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা হয়। এই বক্তব্য টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারের নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্নেলের টাইটেল নাইন তদন্তে অভিযোগকারী, অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জন এবং ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তদন্তে মোট ৩২ জনের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয় এবং ৫০টির বেশি সাক্ষাৎকারের নথি তৈরি হয় বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশিত নথিতে টাইটেল নাইন প্যানেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের যুক্তি বা শুনানির সম্পূর্ণ কার্যবিবরণী নেই। অভিযুক্তদের বক্তব্যেও ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। তাদের একজন দাবি করেছেন, তিনি ওই নারীর কাছ থেকে কেটামিন নেওয়ার আগে তার সম্মতি নিয়েছিলেন। আরেক অভিযুক্ত স্কট ক্রেটজমার দাবি করেছেন, তিনি কক্ষে মাত্র কয়েক মিনিট ছিলেন এবং ওই নারীকে অস্বাভাবিকভাবে নেশাগ্রস্ত মনে হয়নি। তার আইনজীবীও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওই নারী সাতজন সাবেক ভ্রাতৃসংঘ সদস্য, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, চি ফাই এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ওই রাতে তাকে মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাবে অসহায় অবস্থায় নিয়ে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তখন কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর বিষয়টি আবার সামনে আসে। টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন ২৮ সেপ্টেম্বর জানান, মামলাটি নতুন করে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ওই নারীর প্রাথমিক শপথ করা বক্তব্যে মাদক প্রয়োগ বা একাধিক ব্যক্তির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল না। তবে নতুন তথ্য সামনে আসার পর তদন্ত পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ১ অক্টোবর নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে এই মামলার বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন। ফলে এখন নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর অভিযোগের ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, তদন্তটি তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও নতুন তদন্তকে সমর্থন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা আগে নিজেদের টাইটেল নাইন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি তদন্ত করেছিল এবং অভিযুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সাময়িক বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও বর্তমান ফৌজদারি তদন্ত দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের চূড়ান্ত রায়ও হয়নি। নতুন তদন্তে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য, পূর্বের তদন্তের নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১২ বছরের খোঁজের অবসান, মিলল ৬ ক্যারেটের হীরা ‘আমেরিকান ড্রিম’, মূল্য হতে পারে ১০ লাখ ডলার
নিউইয়র্ক পুলিশে লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেলেন শরীয়তপুরের হুমায়ুন কবির