জীবন বাজি রেখে ১০ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১৬ বছরের কিশোর, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রশংসা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করে জাতীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছেন ১৬ বছর বয়সী কিশোর লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামস। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরাসরি প্রশংসা করেছেন।
সোমবার, ১৭ আগস্ট, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে রাইডার উইলিয়ামস, উদ্ধার হওয়া শিশু নাথানিয়েল রাই এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। সেখানে প্রেসিডেন্ট রাইডারকে বলেন, “তুমি যা করেছ, তা অবিশ্বাস্য—এবং সবাই তা দেখেছে।”
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজের সিব্রাইট স্টেট বিচে। ওই সময় ১০ বছর বয়সী নাথানিয়েল রাই পরিবারের সঙ্গে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল। হঠাৎ শক্তিশালী ঢেউয়ের ধাক্কায় অগভীর পানিতে থাকা নাথানিয়েল পা হারিয়ে সাগরের দিকে ভেসে যায়। প্রবল স্রোত তাকে তীর থেকে আরও দূরে নিয়ে যেতে থাকে।
সে সময় দায়িত্বে থাকা ১৬ বছর বয়সী রাইডার পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে দ্রুত সহায়তার জন্য রেডিওতে বার্তা দেন। এরপর তিনি নিজের রেডিও ও সানগ্লাস ফেলে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হাতে উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম নিয়ে তিনি উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে শিশুটির কাছে পৌঁছান।
উদ্ধারের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কয়েক ফুট উঁচু ঢেউ বারবার রাইডার ও নাথানিয়েলকে আছড়ে ফেলছিল। ঢেউয়ের প্রচণ্ডতার কারণে রাইডার শিশুটির শরীরে উদ্ধার-নল পরাতেও পারছিলেন না। একপর্যায়ে নাথানিয়েল নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবুও রাইডার তাকে শক্ত করে ধরে পানিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন। পরে আরেক লাইফগার্ড অ্যারন বোনেন পানিতে গিয়ে দুজনকে নিরাপদে তীরে আনতে সহায়তা করেন।
ঘটনার ভিডিও এক প্রত্যক্ষদর্শী ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে রাইডার শিশুটিকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন এবং বারবার ঢেউয়ের আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার দৃশ্যমান হচ্ছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে।
নাথানিয়েলের বাবা সুমিত রাই পরে জানান, তাঁর ছেলে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তিনি রাইডারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে বাঁচানোর এই ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর রাইডার নিজেও বিষয়টিকে ব্যক্তিগত বীরত্ব হিসেবে দেখেননি। তিনি জানান, বিপদের মুহূর্তে লাইফগার্ডরা প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করেন। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর দায়িত্ব এবং তিনি নিজের কাজকে ভালোবাসেন। উদ্ধার শেষে তিনি আবার দায়িত্বে ফিরে যান।
রাইডারের সাহসিকতার ভিডিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও নজরে আসে।
এরপর ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁকে সম্মানিত করার ঘোষণা দেন। ১৭ আগস্টের সাক্ষাতে ট্রাম্প রাইডারকে একজন প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং লাইফগার্ডদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।
ওভাল অফিসে রাইডারের সঙ্গে ছিলেন নাথানিয়েল ও তাঁর পরিবার। সেখানে নাথানিয়েলের বাবা আবারও রাইডারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাইডার জানান, এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণই তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
এই ঘটনা শুধু এক কিশোরের সাহসিকতার গল্প নয়; বরং প্রশিক্ষিত লাইফগার্ডদের গুরুত্ব এবং সমুদ্রের প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক শহরে মূল আবাসস্থল নয়—এমন বিলাসবহুল বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টি নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি করছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের দুটি কমিটি। মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট দুপুর ১টায় সিটি হলের কাউন্সিল চেম্বারে অর্থ কমিটি এবং সরকারি কার্যক্রম, রাজ্য ও ফেডারেল আইনবিষয়ক কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানির মূল বিষয় ‘পিড-আ-তের’ কর বাস্তবায়ন। ‘পিড-আ-তের’ বলতে সাধারণত এমন দ্বিতীয় আবাসিক বাড়িকে বোঝানো হয়, যা মালিকের প্রধান বাসস্থান নয় এবং অনেক সময় বছরে সীমিত সময় ব্যবহার করা হয়। নিউইয়র্কে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার উচ্চমূল্যের মধ্যে এসব বাড়ির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সিটি কাউন্সিলের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের আবাসন ও শূন্যতা জরিপ অনুযায়ী নিউইয়র্কে ৫৮ হাজার ৮১০টি আবাসিক ইউনিট ভাড়া বা বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছিল না, কারণ সেগুলো মৌসুমি, বিনোদনমূলক বা মাঝেমধ্যে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল। এই সংখ্যা ভাড়া বা বিক্রির জন্য অনুপলব্ধ মোট ইউনিটের প্রায় ২৬ শতাংশ। এ ধরনের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে থাকা কাউন্সিল সদস্যদের যুক্তি হলো, এতে অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত আবাসিক ইউনিটগুলো বাজারে আসতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত কর থেকে পাওয়া অর্থ সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। সিটি কাউন্সিলের একটি প্রস্তাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভাকে নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত সম্পত্তি কর আরোপের অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ৫ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি গড় বাজারমূল্যের নির্দিষ্ট অপ্রধান আবাসনের কথা উল্লেখ রয়েছে। কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলারের ২০২৩ সালের হিসাবের ভিত্তিতে উচ্চমূল্যের অপ্রধান আবাসনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে বছরে গড়ে প্রায় ২৫৮ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। আজকের শুনানিতে এই কর বাস্তবায়নের সম্ভাব্য প্রভাব, রাজস্ব আয় এবং আবাসন বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে করটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে থাকায় সিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, বাড়ির মালিক ও আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
জীবন বাজি রেখে ১০ বছরের শিশুকে বাঁচাল ১৬ বছরের কিশোর, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রশংসা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রিতে নির্মাতাদের ছাড়, ৩৫ শতাংশ কমিয়েছে দাম গড়ে ৬ শতাংশ পর্যন্ত
নিউ ইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন সংঘাত, মুখোমুখি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করেছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত সরকার। তবে রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে না বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার নাম পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে যাচাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই স্বীকৃতির পরও প্রত্যাবাসনের পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। মিয়ানমারের বক্তব্য, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। তাদের বড় অংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের এই নতুন যাচাইকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও প্রত্যাবাসনের বাস্তব পরিবেশ নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল, ফ্রান্স-বেলজিয়াম-গ্রিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সবজি বিক্রি বাড়াতে দোকানের সামনে নাচের আয়োজন, চেন্নাইয়ে ভিডিও ভাইরাল
চারবার গুলিবিদ্ধ হয়েও ৯১১-এ ফোন, ১৩ বছরের কিশোরীর সাহসিকতায় মুগ্ধ মিশিগান
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাশ কাউন্টিতে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে দুই বছরের শিশু আলায়না পরিবারের বাড়ির বেসমেন্টে পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাটি ঘটে ১২ আগস্ট সন্ধ্যায়, যখন প্রবল বৃষ্টিতে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। শিশুটিকে বেসমেন্টে ডুবে থাকতে দেখে তার ১৩ বছরের ভাই দ্রুত জরুরি নম্বরে ফোন করে। একই সময়ে মা শিশুটিকে উদ্ধারের পর জীবন বাঁচানোর জন্য সিপিআর দিতে শুরু করেন। কিন্তু বন্যার পানিতে বাড়িটির চারপাশের রাস্তা এতটাই ডুবে গিয়েছিল যে উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক কৃষক ট্রাক্টর নিয়ে উদ্ধারকারীদের বাড়িতে পৌঁছাতে সহায়তা করেন এবং পরে পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন। উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইন্ডিয়ানাপোলিসের একটি হাসপাতালে আকাশপথে পাঠান। গুরুতর অবস্থায় তাকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ১৬ আগস্ট পরিবারের জন্য আসে আশার খবর। শিশুটি যন্ত্রের সহায়তা ছাড়াই নিজে থেকে শ্বাস নিতে শুরু করেছে। পরিবার জানিয়েছে, সামনে এখনও দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার পথ রয়েছে, তবে শিশুটির এই উন্নতিকে তারা বড় জয় হিসেবে দেখছেন। রাশ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মায়ের দ্রুত পদক্ষেপ, কিশোর ভাইয়ের জরুরি ফোন এবং স্থানীয় কৃষকের সহায়তা শিশুটিকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি, আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধ দম্পতির
মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা