যুক্তরাষ্ট্রে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস, প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মের কোভিড ঢেউ আরও বিস্তৃত হয়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর সর্বশেষ মহামারি প্রবণতা মডেল অনুযায়ী, ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছে অথবা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু আইওয়ায় পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় সংক্রমণের প্রবণতা নির্ধারণ করতে পারেনি সংস্থাটি।
সিডিসির ১২ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ৪৭টি অঙ্গরাজ্যকে ‘বাড়ছে’ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার, রোড আইল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসিকে ‘বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্যকে বর্তমানে সংক্রমণ ‘অপরিবর্তিত’, ‘কমছে’ বা ‘কমার সম্ভাবনা রয়েছে’ হিসেবে দেখানো হয়নি। সিডিসির এই মডেল প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ করা হয় এবং সংক্রমণের প্রবণতা অনুমান করতে জরুরি বিভাগে রোগী আসার তথ্যসহ বিভিন্ন নজরদারি তথ্য ব্যবহার করে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগের চিত্রের সঙ্গে এটি বড় পার্থক্য। জুলাইয়ের শেষ দিকে সিডিসির তথ্য বলেছিল, দেশটির ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে কোভিড সংক্রমণ বাড়ছিল বা বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। আরও ১১টি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। সর্বশেষ মানচিত্রে সেই স্থিতিশীল অবস্থায় থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো আর নেই।
ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ইলিনয় ও জর্জিয়ার মতো বড় অঙ্গরাজ্যেও সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ শুধু দেশের কোনো একটি অঞ্চল নয়, দক্ষিণ, পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েই একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে সিডিসির এই মানচিত্রকে সরাসরি বর্তমানে কতজন মানুষ কোভিডে আক্রান্ত, তার হিসাব হিসেবে দেখা যাবে না। সংস্থাটির ‘কারেন্ট এপিডেমিক ট্রেন্ডস’ মডেল মূলত সংক্রমণের দিক নির্ধারণ করে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ভাইরাসের বিস্তার বাড়ছে, কমছে নাকি মোটামুটি একই অবস্থায় রয়েছে, সেটিই এখানে দেখানো হয়।
এই ধরনের প্রবণতা শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরাসরি রোগীর সংখ্যা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসার আগেই সংক্রমণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এই মডেলে সংক্রমণের বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং ‘আর’ বা প্রজনন হারও হিসাব করা হয়।
সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অবশ্য আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পেকোসজ নিউজউইককে বলেন, গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুতে কোভিড সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমানে সংক্রমণ বাড়লেও তা হঠাৎ করে ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নয়।
পেকোসজের মতে, কোভিড এখন মহামারি পর্যায়ের পরিবর্তে অনেকটাই মৌসুমি রোগের মতো আচরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এমন কোনো নতুন ধরন বা পরিবর্তিত ধরন দেখা যাচ্ছে না, যা বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে রোগটি পর্যবেক্ষণে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পিটার চিন-হংও বলেছেন, সর্বশেষ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একটি বিস্তৃত কোভিড সংক্রমণ ঢেউয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দেশজুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে মানেই বিপুলসংখ্যক মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বেন, এমনটা নয়।
তাঁর মতে, মানুষের শরীরে আগের সংক্রমণ ও টিকার মাধ্যমে তৈরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখন তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে অতীতের মতো ব্যাপক গুরুতর অসুস্থতা নাও দেখা যেতে পারে। তবে বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, গুরুতরভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তি এবং খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এখনও বেশি।
সিডিসির সর্বশেষ শ্বাসতন্ত্রের রোগবিষয়ক তথ্যেও দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে দেখানো হয়েছে। ৭ আগস্টের আপডেটে সংস্থাটি জানিয়েছিল, অনেক এলাকায় কোভিডের কার্যক্রম কম থাকলেও পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে তা বাড়তে শুরু করেছে। জরুরি বিভাগে কোভিড-সংক্রান্ত রোগীর উপস্থিতিও ‘খুব কম’ পর্যায়ে ছিল, যদিও প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংক্রমণের প্রবণতা বাড়া আর গুরুতর রোগীর সংখ্যা বাড়া এক বিষয় নয়। সিডিসির মডেল মূলত ভাইরাসের বিস্তারের গতি দেখছে। হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু কিংবা গুরুতর অসুস্থতার পরিস্থিতি বোঝার জন্য আলাদা তথ্য দেখতে হয়। সিডিসি জাতীয় পর্যায়ে কোভিডের বিভিন্ন সূচক, জরুরি বিভাগে রোগীর উপস্থিতি, হাসপাতালে ভর্তি এবং বর্জ্যপানির নমুনাসহ একাধিক তথ্য ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
বর্জ্যপানি নজরদারিও কোভিডের বিস্তার বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মানুষের বর্জ্যপানির নমুনায় ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করে কোনো এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সিডিসির এ সংক্রান্ত তথ্য প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মের শেষভাগে মানুষের ভ্রমণ, ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটানো এবং মৌসুমি পরিবর্তনের মতো বিষয়ও সংক্রমণের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো নতুন ভাইরাসের ধরন শনাক্ত হয়নি, যা আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে গুরুতর রোগ সৃষ্টি করছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন গুরুত্বপূর্ণ।
সিডিসিও অসুস্থ বোধ করলে অন্যদের থেকে দূরে থাকা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো সাধারণ সতর্কতার কথা বলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য টিকা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশনাও অনুসরণ করার পরামর্শ রয়েছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড সংক্রমণের বর্তমান প্রবণতা গ্রীষ্মকালীন একটি বিস্তৃত ঢেউয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সংক্রমণ বাড়ছে বলেই আগের মহামারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। বরং সিডিসির তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য বলছে, ভাইরাসটি এখন মৌসুমি ছন্দে ফিরে আসার পথে রয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা বুঝতে আগামী কয়েক সপ্তাহের সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও অন্যান্য নজরদারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে ইতালির সিসিলির এক শান্ত পাহাড়ি গ্রামে মাত্র ৬৫ হাজার ডলারে বাড়ি কিনে স্থায়ী হয়েছেন এক মার্কিন দম্পতি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই সম্পত্তি কেনার আগে তারা কখনো নিজের চোখে সেটি দেখেননি। ২০২০ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকালে তারা সিসিলির মেলিল্লি গ্রামে এই বাড়িটি কেনার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় একটি সিসিলিয়ান-ব্রিটিশ দম্পতির সহায়তায় সাতটি প্রপার্টি দেখার পর ঐতিহাসিক এলাকার এই দুই বেডরুমের বাড়িটি তাদের মন কাড়ে। তৎকালীন বাজারদর অনুযায়ী ৫৭ হাজার ইউরো বা প্রায় ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে কেনা এই বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর ছাদের বড় টেরেস। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর ও মাউন্ট এটনার অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বাড়িটিতে শুধু রান্নাঘরটি নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন ছিল। ২০২২ সালে প্রথমবার সেখানে গিয়ে এই দম্পতি মুগ্ধ হয়ে যান। নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টের তুলনায় এই প্রশস্ত বাড়ি, গ্রামের শান্ত পরিবেশ, স্থানীয়দের আন্তরিকতা এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। সিসিলিতে দুই মাস কাটানোর পর তারা নিউইয়র্কে ফিরে গেলেও সেখানকার যান্ত্রিক জীবনের সাথে আর নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেননি। অবশেষে প্রায় এক বছর ধরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা পাকাপাকিভাবে সিসিলিতেই পাড়ি জমান। বর্তমানে মেলিল্লি গ্রামেই বসবাস করছেন এই দম্পতি, আর নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির এই শান্ত পাহাড়ি জনপদকেই বেছে নিয়েছেন নিজেদের স্বপ্নের নতুন ঠিকানা হিসেবে।
নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত
নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে এমন পাসপোর্টধারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পুরোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই তার ইউএস পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট থাকলেও এই নিয়মের কোনো পরিবর্তন হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি কোনো নতুন আইন বা বিধিনিষেধ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের কাছেই দুই দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান মার্কিন নাগরিক হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাকে মার্কিন পাসপোর্টই ব্যবহার করতে হবে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব ইমিগ্রেশন আইন ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই একই নিয়ম মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রেও সমভাবে কার্যকর। কোনো শিশু দ্বৈত নাগরিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের জন্য তার বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএ (ESTA) নিয়েও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্বৈত নাগরিকরা দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইএসটিএ বা মার্কিন ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধা নিতে পারবেন না। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কোনো দ্বৈত নাগরিকের ইএসটিএ শনাক্ত করলে তা সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করে দিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগেই নিজেদের এবং সন্তানদের মার্কিন পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করে প্রয়োজনে তা নবায়ন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে
জর্জিয়ায় ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল ১১ অক্টোবর, সবাইকে আমন্ত্রণ
মাত্র ১৬ বছরেই ব্যবসা শুরু করে মাসে ২৫ হাজার ডলার আয় মার্কিন কিশোরের
জর্জিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য আবারও কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সেবার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। জর্জিয়া বা পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত যেসব বাংলাদেশি কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহী, তাদের নির্ধারিত তারিখ দুটি ক্যালেন্ডারে রেখে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আরিফিন বাবুল আমেরিকা বাংলাকে জানান, কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত দিনে যথাসময়ে সেবাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসার পাশাপাশি আয়োজকদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের সহযোগিতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। এবারের আয়োজনে শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরিফিন বাবুল জানান, কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কনস্যুলার সেবা অনুষ্ঠিত হবে 3150 Holcomb Bridge Road, 1st Floor, Norcross, GA 30071 ঠিকানায়। আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দিন সেখানে মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সেবা দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা এই আয়োজনে পাওয়া যাবে না। এনআইডি সেবার জন্য সংশ্লিষ্টদের মায়ামিতে অবস্থিত কনস্যুলেটে যেতে হবে। জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডা থেকেও বাংলাদেশিরা এই কনস্যুলার সেবা নিতে পারবেন বলে জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। তিনি বলেন, এসব অঙ্গরাজ্য থেকে যারা আটলান্টায় এসে কনস্যুলার সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্য ভালোভাবে দেখে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেবাকেন্দ্রে আসার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার সেবার বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। তাই সেবা নিতে আগ্রহীদের এখন থেকেই ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ নিজেদের ক্যালেন্ডারে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা গ্রহণ করলে পুরো কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। কনস্যুলার সেবা আয়োজনসংক্রান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুলের সঙ্গে 404-552-3241 নম্বরে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান শান্তর সঙ্গে 404-542-0717 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জর্জিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিদের নির্ধারিত দুই দিন মনে রাখার এবং কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের ট্রেন স্টেশনে গিটার বাজিয়ে চাকরির খোঁজে বাংলাদেশি তরুণ
অপারেশনের সময় টিকটকে নাচের ভিডিও, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত