সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে ফুল ফ্রি টিউশন, সঙ্গে প্রায় ৩২ লাখ টাকার স্টাইপেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ০:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে টিউশন ফি ছাড় ও উচ্চশিক্ষার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে টিউশন ফি ছাড় ও উচ্চশিক্ষার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি প্রশ্ন হলো, কীভাবে টিউশন ফি ছাড়ের পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ চালানোর মতো আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। শুধু ভালো সিজিপিএ নয়, নিজের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং যে প্রোগ্রামে আবেদন করা হচ্ছে তার সঙ্গে নিজের প্রোফাইলের সঠিক মিলও যে গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি বাস্তব উদাহরণ উঠে এসেছে কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সাফল্যে।

 

প্রকাশিত একটি কেস স্টাডি অনুযায়ী, বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশোনা করা ওই শিক্ষার্থী কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজিতে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পেয়েছেন। এর আওতায় তাঁর পুরো টিউশন ফি মওকুফ এবং প্রতি একাডেমিক বছরে ১৩ হাজার ১০৮ ডলার স্টাইপেন্ড পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে কেস স্টাডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

দুই বছরে এই স্টাইপেন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ হাজার ২১৬ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩২ লাখ টাকা। তবে স্টাইপেন্ডের পরিমাণ নিয়োগের সময়কাল, চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

 

কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অন-ক্যাম্পাস মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের বড় অংশই গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পান। বিভাগের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নয় মাসের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চুক্তিতে স্টাইপেন্ড ১২ হাজার ৩৯৩ ডলার এবং এর সঙ্গে ফুল টিউশন মওকুফের সুবিধাও রয়েছে।

 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এই সাফল্যের পেছনে শুধু ফলাফল নয়, ছিল শক্তিশালী একাডেমিক ও গবেষণা প্রোফাইল। তাঁর ব্যাচেলর পর্যায়ে সিজিপিএ ছিল ৪-এর মধ্যে ৩.৩৭ এবং তিনি নিজ ক্লাসে প্রথম হন। মাস্টার্সে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৫৫ এবং তিনি নিজ ব্যাচে পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন।

 

গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল উল্লেখযোগ্য। মাস্টার্সে তিনি বাংলা ও ইংরেজি কবিতা নিয়ে থিসিস করেন। পাশাপাশি তাঁর পাঁচটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে একটি গবেষণাপত্রে তিনি প্রথম লেখক ছিলেন।

 

শুধু একাডেমিক পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। ২০২১ সাল থেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে লেকচারার হিসেবেও কাজ করছিলেন। সেখানে সাহিত্য, সমালোচনামূলক তত্ত্ব ও ভাষাবিজ্ঞান পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের থিসিস ও গবেষণা প্রকল্প তত্ত্বাবধানের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন। পরবর্তীতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

 

ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও তাঁর আবেদনের একটি শক্তিশালী দিক ছিল। আইইএলটিএস একাডেমিকে তাঁর মোট স্কোর ছিল ৭.৫। এর মধ্যে লিসেনিংয়ে ৮.৫, রিডিংয়ে ৭.৫, রাইটিংয়ে ৬.৫ এবং স্পিকিংয়ে ৭.০ স্কোর করেন তিনি।

 

তবে এই আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরিকল্পনা। কেস স্টাডি অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়ার শুরুতেই তাঁর প্রোফাইলের শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ের দিকে না তাকিয়ে প্রোগ্রামের কাঠামো, শিক্ষক সদস্যদের গবেষণার ক্ষেত্র, ফান্ডিংয়ের সুযোগ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং আবেদনকারীর একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে সামঞ্জস্য খোঁজা হয়।

 

এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম বেছে নেওয়া হয়। এরপর সম্ভাব্য শিক্ষক সদস্যদের গবেষণার ক্ষেত্র, প্রকাশনা ও আগ্রহের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আবেদনকারীর গবেষণার সঙ্গে যাদের সবচেয়ে বেশি মিল রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়।

 

এখানে আরেকটি বিষয় আমেরিকান বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রোগ্রামে আবেদন করার আগে কোনো নির্দিষ্ট সুপারভাইজারের সম্মতি বাধ্যতামূলক ছিল না। তারপরও সম্ভাব্য শিক্ষক সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কেস স্টাডি অনুযায়ী, একজন শিক্ষক আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহে ইতিবাচক সাড়া দেন এবং তাঁকে তত্ত্বাবধান করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

এরপর আবেদনকারীর মাস্টার্স থিসিস, প্রকাশিত গবেষণা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার লক্ষ্যকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সদস্যের গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট গবেষণার দিক তৈরি করা হয়।

 

গবেষণা প্রস্তাবে গবেষণার পটভূমি, সমস্যার বিবরণ, আগের গবেষণায় ঘাটতি, গবেষণার উদ্দেশ্য, গবেষণা প্রশ্ন, সাহিত্য পর্যালোচনা, তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য গবেষণাগত অবদান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আগের গবেষণা, বর্তমান একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে একটি ধারাবাহিক কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা হয়।

 

শেষ ধাপে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, জীবনবৃত্তান্ত, আইইএলটিএস ফলাফল, গবেষণা প্রকাশনা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করে ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের আবেদন প্রস্তুত করা হয়। ব্যক্তিগত বিবৃতিতেও তাঁর একাডেমিক যাত্রা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার মধ্যে যোগসূত্র তুলে ধরা হয়।

 

আমেরিকান বাঙালি কমিউনিটির যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এই ঘটনাটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে। শুধু সিজিপিএ ভালো হলেই যে ফান্ডিং নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। আবার কোনো অধ্যাপকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেই যে ভর্তি বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয়ে যাবে, সেটিও ঠিক নয়।

 

বরং নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানানসই বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম খুঁজে বের করা, গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, সঠিক শিক্ষক সদস্য নির্বাচন, শক্তিশালী গবেষণা প্রস্তাব তৈরি এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন সাজানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির এই উদাহরণ কোনো নির্দিষ্ট বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। তবে এটি দেখিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সময় শুধু নম্বরের ওপর নির্ভর না করে নিজের পুরো প্রোফাইলকে কীভাবে সঠিক প্রোগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা যায়। আমেরিকান বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য সেটিই হতে পারে ফান্ডিং পাওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য গোপনের দায়ে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে বিচার বিভাগের মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য গোপনের দায়ে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে বিচার বিভাগের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। ৫ অক্টোবর দেওয়া ঘোষণায় বিভাগটি জানায়, নাগরিকত্বের আবেদনপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, ভুল পরিচয় ব্যবহার বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।   বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাগুলোর কয়েকটিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। অন্য মামলাগুলোতে আগের পরিচয়, অভিবাসন ইতিহাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনে বেআইনিভাবে অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব অর্জিত হলে তা বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে সরকার।   প্রকাশিত তালিকায় চীনে জন্ম নেওয়া সাবেক মার্কিন নৌসেনা জিনচাও ওয়েইয়ের নাম রয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তিসংক্রান্ত অপরাধে তাঁর সাজা হয়েছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে শুরু হওয়া কর্মকাণ্ড তিনি আবেদন করার সময় গোপন করেছিলেন। নেপালে জন্ম নেওয়া দিব্যা ভাট্টারাইয়ের বিরুদ্ধেও নাগরিকত্বের আবেদনপ্রক্রিয়ায় অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক সময়ে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। বিভাগটির আগের একটি নির্দেশনায়ও আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল।   সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১০৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাইয়ে হয়েছে অন্তত ৫০টি। নতুন ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যখন এ ধরনের মামলার সংখ্যা বাড়ছে।   তবে বিচার বিভাগের মামলা দায়েরের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। প্রতিটি মামলায় সরকারের আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন থাকবে। বিচার বিভাগও তার ঘোষণায় জানিয়েছে, নতুন মামলাগুলোতে উত্থাপিত দাবি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ২০:২৯
ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের

ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের

ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন

ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে নিয়ে ট্রাম্পের আয়োজন, যোগ দেননি অধিকাংশ স্বজন

কাজী আজিজুল হক খোকন

নিউইয়র্কে তিন দিন ধরে নিখোঁজ কাজী আজিজুল হক খোকন, উদ্বেগে পরিবার ও কমিউনিটি

নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন
নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন

নিউইয়র্কে অন্য এক চালকের কাছে টিএলসি-সংশ্লিষ্ট গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক মালিক। ওই চালক নিয়মিত টোল পরিশোধ না করায় গাড়িটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-জেডপাস টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। পরে গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান বলে মালিকের অভিযোগ। এরপর থেকে ওই চালকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মালিকের ভাষ্য, গাড়ি নেওয়ার সময় চালক তাকে বলেছিলেন, ই-জেডপাসের সঙ্গে তার একটি পেমেন্ট প্ল্যান রয়েছে এবং টোলের বকেয়া তিনি ধীরে ধীরে পরিশোধ করছেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই মালিক গাড়িটি তার কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, শুধু ই-জেডপাস নয়, এমটিএ এবং পোর্ট অথরিটির কাছেও টোল ও ভায়োলেশন বাবদ বকেয়া জমেছে।   বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মালিকের দাবি, গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার প্রায় এক মাস পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান। এরপর চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   মালিকের কাছে টোল, ভায়োলেশন এবং সাসপেনশন সংক্রান্ত ইমেইল নোটিশ রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব নোটিশের মাধ্যমে বকেয়ার পরিমাণ এবং গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। তবে এই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট চালকের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং চালকের বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের টিএলসি গাড়ির মালিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সামনে এনেছে। অন্য চালকের কাছে গাড়ি বা টিএলসি-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার পর টোল ও ভায়োলেশন নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে কি না, তা নজরদারির বাইরে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হতে পারে। চালক গাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্টের প্রশাসনিক জটিলতা থেকে যেতে পারে মালিকের ওপর।   মালিকের দাবি অনুযায়ী, এখন তাকে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারের টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া নিয়ে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সাসপেন্ড হওয়া গাড়িটি কীভাবে আবার বৈধভাবে রাস্তায় নামানো যাবে, সেটিও হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ফলে টিএলসি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে চালকের সঙ্গে স্পষ্ট চুক্তি, টোল পেমেন্টের নিয়মিত হিসাব এবং ভায়োলেশন পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৭:৩৭
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী

ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে এক বছরে নিষিদ্ধ প্রায় ১২ হাজার বই, বাদ পড়েনি বিশ্বখ্যাত ক্ল্যাসিকও

নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির
নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির পাহাড়ি গ্রামে, ৬৫ হাজার ডলারের বাড়িতে নতুন জীবন মার্কিন দম্পতির

নিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে ইতালির সিসিলির এক শান্ত পাহাড়ি গ্রামে মাত্র ৬৫ হাজার ডলারে বাড়ি কিনে স্থায়ী হয়েছেন এক মার্কিন দম্পতি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই সম্পত্তি কেনার আগে তারা কখনো নিজের চোখে সেটি দেখেননি। ২০২০ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকালে তারা সিসিলির মেলিল্লি গ্রামে এই বাড়িটি কেনার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন।   স্থানীয় একটি সিসিলিয়ান-ব্রিটিশ দম্পতির সহায়তায় সাতটি প্রপার্টি দেখার পর ঐতিহাসিক এলাকার এই দুই বেডরুমের বাড়িটি তাদের মন কাড়ে।   তৎকালীন বাজারদর অনুযায়ী ৫৭ হাজার ইউরো বা প্রায় ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে কেনা এই বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর ছাদের বড় টেরেস। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর ও মাউন্ট এটনার অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বাড়িটিতে শুধু রান্নাঘরটি নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন ছিল।   ২০২২ সালে প্রথমবার সেখানে গিয়ে এই দম্পতি মুগ্ধ হয়ে যান। নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টের তুলনায় এই প্রশস্ত বাড়ি, গ্রামের শান্ত পরিবেশ, স্থানীয়দের আন্তরিকতা এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে।   সিসিলিতে দুই মাস কাটানোর পর তারা নিউইয়র্কে ফিরে গেলেও সেখানকার যান্ত্রিক জীবনের সাথে আর নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেননি। অবশেষে প্রায় এক বছর ধরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা পাকাপাকিভাবে সিসিলিতেই পাড়ি জমান। বর্তমানে মেলিল্লি গ্রামেই বসবাস করছেন এই দম্পতি, আর নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির এই শান্ত পাহাড়ি জনপদকেই বেছে নিয়েছেন নিজেদের স্বপ্নের নতুন ঠিকানা হিসেবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৫:১২
নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত

নিউইয়র্কে পুলিশ কর্মকর্তার গলার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা দিতেই ৭ বার ছু রিকা ঘাত

নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক

নিউইয়র্কে নারীদের রাতের সাবওয়ে ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক, কেউ বলছেন নিরাপদ, কেউ সতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অন্তঃসত্ত্বা মাকে হ ত্যার পর গর্ভ থেকে অনাগত সন্তান চুরি, গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

0 Comments