সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৩:১১
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পেপাল-ভেনমোতে টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এখন পেপাল ও ভেনমো ব্যবহার করে সরাসরি টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। নতুন এই পেমেন্ট সুবিধা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে এবং চলতি বছর আরও প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হতে পারে। 


প্রথম দিকের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলামাইন ইউনিভার্সিটি, বাটলার ইউনিভার্সিটি, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অনলাইন পেমেন্ট পোর্টাল থেকেই পেপাল বা ভেনমোকে পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে বেছে নিতে পারবেন। 

 

এই সুবিধা চালু করতে পেপাল শিক্ষা খাতের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইলুমিয়া, নেলনেট ক্যাম্পাস কমার্স ও টাচনেটের সঙ্গে নতুন ইন্টিগ্রেশন করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমের ভেতর থেকেই পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্টের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড অথবা পেপাল ও ভেনমো অ্যাকাউন্টে থাকা ব্যালেন্স থেকে দেওয়া যাবে। 

 

তবে এই সুবিধা ব্যবহার করলেই যে অতিরিক্ত খরচ থাকবে না, তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সার্ভিস বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হতে পারে। যেমন, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পেপাল বা ভেনমো ব্যবহার করে টিউশন পরিশোধ করলে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস ফি প্রযোজ্য হবে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি ভিন্ন হতে পারে। 

 

কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিও ২০ ডলারের বেশি পেপাল ও ভেনমো লেনদেনে কমপক্ষে ৩ ডলার সার্ভিস ফি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই বড় অঙ্কের টিউশন পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

 

পেপাল ও ভেনমোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব লেনদেনে এনক্রিপশন ও জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নন-ব্যাংক পেমেন্ট অ্যাপে রাখা অর্থ সবসময় প্রচলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকে না। 

 

পেপালের কিছু নির্দিষ্ট ব্যালেন্স প্রোগ্রাম ব্যাংকের মাধ্যমে এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্সের আওতায় পড়তে পারে। তবে সব পেপাল বা ভেনমো ব্যালেন্স এই সুরক্ষা পায় না। পেপাল নিজেও জানিয়েছে, এফডিআইসি পাস-থ্রু ইন্স্যুরেন্স সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়, পেপালের ব্যর্থতার ক্ষেত্রে নয়। 

 

নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য টিউশন পরিশোধের পদ্ধতি আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। তবে টিউশনের মতো বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি, পেমেন্টের উৎস এবং অর্থের সুরক্ষা সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্প ও মার্ক কার্নির নোবেল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
ট্রাম্পের নোবেল স্বপ্নে ধাক্কা, সম্ভাবনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এগিয়ে

নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গত বছরও পুরস্কারটির জন্য তার সম্ভাবনা বেশ আলোচনায় ছিল। তবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে। বরং পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের হিসাবে ট্রাম্পের চেয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার কালশির হিসাবে ট্রাম্পের ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ১ শতাংশের নিচে, আর কার্নির সম্ভাবনা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে পলিমার্কেটে ট্রাম্প ও কার্নি—দুজনের সম্ভাবনাই ১ শতাংশ করে দেখানো হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা নোবেল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়; বাজারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধারণা ও লেনদেনের ভিত্তিতে সম্ভাবনা ওঠানামা করে।   কার্নির সম্ভাবনা অবশ্য এর কিছুদিন আগেই অনেক বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কালশিতে তার সম্ভাবনা সাময়িকভাবে ১৪ শতাংশে উঠে যায় এবং তিনি ওই সময় তালিকার শীর্ষে ছিলেন। পরে তা দ্রুত কমে যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ওঠানামাই দেখায় যে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের তথ্যকে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় না।   ট্রাম্প গত বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার প্রচেষ্টায় আটটি যু দ্ধের অবসান হয়েছে। এসব দাবির কারণে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছিল।   শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পরে তিনি নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প সেটি গ্রহণ করেন। নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে কমিটির বিরুদ্ধে ‘রাজনীতিকে শান্তির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগও তোলা হয়েছিল।   ২০২৬ সালে পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য আরও কঠিন হয়েছে। চলতি বছরে তার প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা অভিযান এবং ইরানে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে তার সম্ভাবনা পূর্বাভাস বাজারে নেমে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের এবারের সম্ভাবনা খুব কম বলে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত উঠে এসেছে।   অন্যদিকে মার্ক কার্নি ২০২৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং কানাডার ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার সম্ভাবনার কথাও একাধিকবার ওঠে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।   কার্নি একই সময়ে ইউরোপের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তিনি বিশ্বের মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।   জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক আলোচিত বক্তৃতায় কার্নি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তী সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনাতেও তার নাম উঠে আসে।   তবে কার্নি নোবেল কমিটির চূড়ান্ত তালিকায় আছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। নরওয়ের নোবেল কমিটি নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান বছরের মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে না। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেটি নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা স্বীকৃতি নয়। মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়।   ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। এরপর কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেয়।   বর্তমান পূর্বাভাস বাজারে ট্রাম্প ও কার্নির পাশাপাশি সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবার নামও আলোচনায় রয়েছে। কালশির বর্তমান বাজারে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এগিয়ে রয়েছে। তবে এগুলোও কেবল বাজারভিত্তিক পূর্বাভাস, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়।   নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামরিক শক্তি কমানো কিংবা শান্তি সম্মেলন আয়োজন ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে।   ফলে নোবেল ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ও কার্নিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মূলত পূর্বাভাস বাজার। সেখানে কার্নির সম্ভাবনা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি দেখা গেলেও শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নরওয়ের নোবেল কমিটিই।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৬:২৩
বয়স্কদের জন্য ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার পেমেন্ট

৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পাচ্ছেন লাখো বয়স্ক, শর্ত পূরণ না করায় বাদ ৪ কোটি

লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন সেনাদের সামরিক মহড়া

লিথুয়ানিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের শহরভেদে বদলে যাচ্ছে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা

গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ও সবচেয়ে খারাপ শহর কোনগুলো, দেখুন তালিকায়

গ্রিন কার্ড স্পনসরে আয়ের শর্ত, আয় কম হলে স্বজন আনার উপায়ও আছে
গ্রিন কার্ডে স্বজন আনতে হলে স্পনসরের আয় হতে হবে কত, জানুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিদেশে থাকা স্বজনদের গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিতে হয়। এই নথির মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে অঙ্গীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী প্রয়োজন হলে তার আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে এই আর্থিক সহায়তার নথি প্রয়োজন হয়। কিছু নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, যদি আবেদনকারীর হয়ে কোনো মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকত্বধারী আত্মীয় আবেদন করেন।   মূল বিষয় হলো, স্পনসরের আয় তার পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যার জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হবে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই আয়সীমা প্রযোজ্য নয়। স্পনসরের পরিবারে কতজন সদস্য আছেন, তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।   ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের পরিবারের দারিদ্র্যসীমা ২১ হাজার ৬৪০ ডলার। এর ১২৫ শতাংশ হলো ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ২৭ হাজার ৩২০ ডলার এবং ১২৫ শতাংশের হিসাব দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার এবং ১২৫ শতাংশ হলো ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়ে।   এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্পনসরের নিজের আয় যদি তার নির্ধারিত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা পূরণ করে, তাহলে অন্য পরিবারের সদস্যদের আয় যোগ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসাবের বাইরে থাকবে। বরং আই-৮৬৪ ফর্মে স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেই প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা ঠিক করা হয়।   পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের সময় স্পনসরের স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট সন্তান, আয়কর রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো ব্যক্তি, যে অভিবাসীকে স্পনসর করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য অভিবাসী আবেদনকারীকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। কোনো অ-নির্ভরশীল আত্মীয় একই বাড়িতে থাকলে এবং তার আয় ব্যবহার করতে চাইলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফর্ম আই-৮৬৪এ প্রয়োজন হতে পারে।   যদি স্পনসরের নিজের আয় প্রয়োজনীয় সীমায় না পৌঁছায়, তখন আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। একজন যোগ্য যৌথ স্পনসর বা জয়েন্ট স্পনসর অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারেন। অথবা একই পরিবারের যোগ্য সদস্যের আয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফর্ম ও আর্থিক প্রমাণ জমা দিতে হয়।   আয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সম্পদও ব্যবহার করা যায়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে সঞ্চয়, শেয়ার, বন্ড বা নির্দিষ্ট সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব ও প্রমাণের নিয়ম আছে। সাধারণভাবে সম্পদের নিট মূল্য এবং আয়ের ঘাটতির অনুপাত নির্দিষ্ট নিয়মে বিবেচনা করা হয়।   আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সাম্প্রতিক বেতন স্লিপ, চাকরির প্রমাণ, নিয়োগকর্তার চিঠি, আয়কর-সংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। কোনো স্পনসরের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকলে অতিরিক্ত আয় বা সম্পদের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।   স্পনসর হওয়ার জন্য শুধু পর্যাপ্ত আয় থাকাই যথেষ্ট নয়। সাধারণভাবে আর্থিক স্পনসরকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়। পাশাপাশি তার যুক্তরাষ্ট্রে ডমিসাইল বা প্রধান বসবাসের ভিত্তি থাকতে হয়।   ফর্ম আই-৮৬৪ স্বাক্ষর করার পর এটি আইনগতভাবে কার্যকর একটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। সাধারণভাবে স্পনসরের আর্থিক দায়িত্ব তখন পর্যন্ত চলতে পারে, যতক্ষণ না স্পনসর করা ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন, সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্ম-ত্রৈমাসিক অর্জন করেন বা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো সমাপ্তির শর্ত পূরণ হয়।   বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে আনতে শুধু পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদন করার আগে সম্ভাব্য স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বর্তমান আয়, কর-সংক্রান্ত নথি, প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা এবং প্রয়োজনে যৌথ স্পনসর বা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ—সবকিছু যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে আয়ের সীমা প্রতি বছর হালনাগাদ হওয়ায় পুরোনো কোনো অঙ্কের ওপর নির্ভর না করে আবেদন জমা দেওয়ার সময়কার কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, আই-৮৬৪ জমা দেওয়ার সময় কার্যকর দারিদ্র্য নির্দেশনাই সাধারণভাবে আয় যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৫:১৯
চাকরি ছিল, স্বপ্নও ছিল, স্পনসর না পেয়ে আমেরিকা ছাড়লেন ভারতীয় বিজ্ঞানী, নতুন জীবন জার্মানিতে

চাকরি ছিল, স্বপ্নও ছিল, স্পনসর না পেয়ে আমেরিকা ছাড়লেন ভারতীয় বিজ্ঞানী, নতুন জীবন জার্মানিতে

ঘরে বসেই পাসপোর্ট আবেদনের নতুন অনলাইন ব্যবস্থা

আমেরিকায় পাসপোর্ট আবেদনে আসছে বড় পরিবর্তন, ঘরে বসেই শেষ হবে পুরো প্রক্রিয়া

মামদানির নেতৃত্বে প্রথম বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

মামদানির নেতৃত্বে প্রথম বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে

নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সরকারি ডলার গায়েব, দোষ স্বীকার সিআইএ কর্মকর্তার
নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সরকারি ডলার গায়েব, দোষ স্বীকার সিআইএ কর্মকর্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড জে. রাশ ফেডারেল সরকারের প্রায় ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন। ভার্জিনিয়ার অ্যাশবার্নের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী রাশ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এফবিআই ২৯৮টি স্বর্ণের বার, বিপুল নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রাশ একটি ফেডারেল সংস্থায় জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন এবং তার টপ সিক্রেট ও সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন নিরাপত্তা অনুমোদন ছিল। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ নিশ্চিত করেছেন, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধ শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি এফবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, রাশ নিজের সরকারি পদ ও নিরাপত্তা অনুমোদনকে কাজে লাগিয়ে কাল্পনিক সরকারি কর্তৃত্ব তৈরি করেন। এমনকি তিনি একটি ভুয়া স্পেশাল অ্যাকসেস প্রোগ্রামও দাঁড় করান, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।   বিচার বিভাগের হিসাবে, এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি মোট প্রায় ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ ডলার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এর একটি অংশ দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার কেনেন এবং প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিভিন্ন ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরিয়ে নেন।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থ পরে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট, দামি ঘড়ি এবং অন্তত একটি গাড়ি কিনতে ব্যবহার করা হয়। সরকারি অর্থে কেনা স্বর্ণের বারগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার।   গত ১৯ মে এফবিআই রাশের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে ২৯৮টি স্বর্ণের বার, প্রায় ২১ লাখ ৬ হাজার ৫৫০ ডলার নগদ অর্থ, ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৫ ইউরো এবং বিপুলসংখ্যক বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার করা হয়।   দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে রাশ উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বার ও নগদ অর্থ, প্রতারণার অর্থে কেনা সম্পত্তি, ৩০টি ঘড়ি এবং দুটি ২০২৬ মডেলের বিএমডব্লিউ আলপিনা গাড়ি সরকারের কাছে সমর্পণ করতে সম্মত হয়েছেন। এসব ঘড়ির অনেকগুলোই রোলেক্স। দুটি গাড়ির মধ্যে অন্তত একটির মূল্য প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ডলার।   বিচার বিভাগের নথিতে আরও বলা হয়েছে, রাশ নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামরিক অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জ্যেষ্ঠ সরকারি পদে পৌঁছেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থার নিরাপত্তা প্রটোকলকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশের বিরুদ্ধে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য বিদেশি এক কর্মকর্তাকে দেওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। এ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে এবং তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।   সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ বলেছেন, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধ ধরা পড়ার পর তা দ্রুত এফবিআইকে জানানো হয়। তিনি বলেন, রাশ তার দায়িত্ব ও জনআস্থার অপব্যবহার করেছেন এবং তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।   এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, নিজের স্বীকারোক্তিতেই রাশ সরকারি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছিলেন এবং সেই অর্থ বিলাসবহুল কেনাকাটায় ব্যবহার করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো সরকারি পদ, নিরাপত্তা অনুমোদন বা সরকারি সম্পদের প্রবেশাধিকার কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চও ঘটনাটিকে জনআস্থার গুরুতর অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশন বলেছে, এই প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করেনি, গোয়েন্দা সংস্থার ওপর জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।   ডেভিড রাশের সাজা ঘোষণা করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায়। ওয়্যার ফ্রডের অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি তিন বছরের সুপারভাইজড রিলিজ, ক্ষতিপূরণ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জরিমানার মুখোমুখিও হতে পারেন তিনি।   মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ইতোমধ্যে ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলকে আলাদা তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২:৪৩
নিউইয়র্কে চাকরির বড় সুযোগ, প্রকাশিত ৪১ হাজারের বেশি পদ

নিউইয়র্কে চাকরির বড় সুযোগ, প্রকাশিত ৪১ হাজারের বেশি পদ

মৃত্যুর আগের দিনও হাসপাতালের বিছানায় শিক্ষার্থীদের গ্রেড দিচ্ছিলেন টেক্সাসের শিক্ষক

মৃত্যুর আগের দিনও হাসপাতালের বিছানায় শিক্ষার্থীদের গ্রেড দিচ্ছিলেন টেক্সাসের শিক্ষক

ক্যালিফোর্নিয়ার নিউয়ার্কে বিপজ্জনক চালনা ঠেকাতে নতুন কর্মসূচি নিচ্ছে পুলিশ

ক্যালিফোর্নিয়ার নিউয়ার্কে বিপজ্জনক চালনা ঠেকাতে নতুন কর্মসূচি নিচ্ছে পুলিশ

0 Comments