সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শনিবার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ওপর থাকা বিস্তৃত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সিরিয়ার পুনঃএকীভূত হওয়ার পথে থাকা বড় একটি আইনি বাধা দূর হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র দ্য নিউ আরবকে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর জুলাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রুবিওর মূল্যায়ন ছিল, তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও রাজনৈতিক শর্ত সিরিয়া পূরণ করেছে।
১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় রয়েছে। এই তালিকাভুক্তির কারণে দেশটির ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তালিকা থেকে বাদ পড়লে সিরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কমিয়ে পুনর্গঠন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ গেলেই যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে যাবে না। বিভিন্ন আইন ও নির্বাহী আদেশের আওতায় থাকা পৃথক নিষেধাজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা আলাদাভাবে বহাল থাকতে পারে।
সিরিয়াকে এখনো নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে সিরিয়ায় ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দেশটিতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘাত, অপহরণ ও অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সিরিয়ার জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পথে আরও কিছু বিধিনিষেধ ও চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreচিকিৎসা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ইউটা। রাজ্যটিতে এমন কিছু পরীক্ষামূলক প্রোগ্রামের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকের সরাসরি তদারকি ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে। এই নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘নোলা হেলথ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ব্রণের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। রোগীর মুখের ছবি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রযুক্তি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু মলম বা টপিকাল চিকিৎসার পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে। তবে এআই চাইলেই যেকোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন দিতে পারবে না। মুখে খাওয়ার ওষুধ, আইসোট্রেটিনোইন বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত ওষুধগুলো এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া জটিল বা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মানব চিকিৎসকদের হাতেই থাকবে। প্রযুক্তিটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকরা এআইয়ের দেওয়া প্রেসক্রিপশনগুলো সরাসরি পর্যালোচনা করবেন। পরবর্তীতে সিস্টেমটি রাজ্যের নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সম্পূর্ণ সক্ষম হলে তবেই চিকিৎসকদের তদারকি কমানো হতে পারে। এর আগে ইউটা অঙ্গরাজ্য এআইয়ের সাহায্যে প্রেসক্রিপশন নবায়নের পরীক্ষাও চালিয়েছে। ওই অনুমোদিত সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে লাইসেন্সধারী চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু নিয়মিত ওষুধের রিফিল বা পুনরায় নেওয়ার প্রক্রিয়া এআইয়ের সাহায্যে সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। উদ্যোগটির সমর্থকদের মতে, এআইয়ের এই ব্যবহারের ফলে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে এবং চিকিৎসকদের দৈনন্দিন কাজের চাপ অনেকটাই কমবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, ওষুধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা ইতিহাস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন উপসর্গের মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অ্যালগরিদম ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে আপাতত ইউটা কর্তৃপক্ষ এআইকে স্বাধীনভাবে চিকিৎসা করার অবাধ ক্ষমতা দেওয়ার বদলে এটিকে একটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া হিসেবেই পরিচালনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি
টাকোমায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি, চাকরি কাটার পাশাপাশি কর বাড়ানোর পরিকল্পনা
আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ডিলান শান আশার চার দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২ অক্টোবর ভোররাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় তাঁকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্রও নেই। তাঁকে খুঁজে পেতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। ডিলানকে সর্বশেষ ২ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ওয়াশিংটন ডিসির ঠিক বাইরে মেরিল্যান্ডের কলেজ পার্কে অবস্থিত। নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই দৃশ্যের পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চার দিন পর, ৬ অক্টোবর ডিলানের নতুন কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর সন্ধানে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কলেজ পার্ক এলাকায় ডিলানকে কেউ দেখে থাকলে কিংবা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় ডিলানের কাছে তাঁর মোবাইল ফোন ছিল না। সঙ্গে ছিল না মানিব্যাগ কিংবা পরিচয়পত্র। তবে কেন এসব ব্যক্তিগত জিনিস তাঁর সঙ্গে ছিল না কিংবা সেগুলো কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ছেলের সন্ধান চেয়ে পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন ডিলানের মা। তিনি বলেন, পরিবার ডিলানকে অনেক ভালোবাসে এবং আশা করছে তিনি নিরাপদে আছেন। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, ডিলান যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন। কলেজ পার্ক এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিও বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। গত ২ অক্টোবর ভোর থেকে পরবর্তী সময়ের বাড়ির দরজার ক্যামেরা, গাড়ির ক্যামেরা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য পরীক্ষা করে দেখতে বলেছেন ডিলানের মা। এসব দৃশ্যে ডিলানকে দেখা গেলে সেই তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ডিলানের উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি এবং তাঁর চুল কালো। সর্বশেষ নজরদারি ক্যামেরায় যখন তাঁকে দেখা যায়, তখন তাঁর পরনে ছিল মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো রঙের সোয়েটশার্ট, ধূসর রঙের প্যান্ট এবং সাদা জুতা। ডিলান পার্কিং গ্যারেজের কাছ থেকে এরপর কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন কি না কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁকে পরবর্তী সময়ে কোথাও দেখা গেছে কি না, সে সম্পর্কেও পুলিশ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি। নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ডিলান স্বেচ্ছায় কোথাও গিয়েছিলেন নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তদন্তকারীরা আপাতত তাঁর সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থানের পরবর্তী সময়ের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এই কারণে নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিলানের মা স্থানীয় বাসিন্দাদের শুধু বাড়ির দরজার ক্যামেরাই নয়, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যও পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো ছোট তথ্যও তাঁর গতিবিধি শনাক্ত করতে কাজে আসতে পারে বলে আশা করছে পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ডিলানের নতুন ছবি প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর শারীরিক বর্ণনা এবং সর্বশেষ পরনের পোশাকের তথ্যও ছড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, গত কয়েক দিনে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে যেন সহজে শনাক্ত করতে পারেন এবং পুলিশকে তথ্য দিতে পারেন। ডিলানের সঙ্গে মোবাইল ফোন না থাকায় ফোনের মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্র সঙ্গে না থাকার কারণে পরিবার ও পুলিশের জন্য তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে টেরাপিন ট্রেইল পার্কিং গ্যারেজের কাছে নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যটিই ডিলানের সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থান হিসেবে সামনে এসেছে। চার দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ডিলানের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তাঁকে কোথাও দেখা গেছে, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে কোনো তথ্য রয়েছে কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কোথায় যেতে পারেন সে বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন, এমন যে কাউকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিলানের সন্ধানসংক্রান্ত তথ্য জানাতে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড পুলিশের ৩০১-৪০৫-৩৫৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চার দিনেও তাঁর সন্ধান না মেলায় পরিবার এখন ছেলের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে, আর পুলিশ সম্ভাব্য তথ্য ও নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে শিক্ষিকা সেজে স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী গালাগাল, গ্রেপ্তার তরুণী
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
মিয়ামিতে বাংলাদেশি মালিকের দোকানে পিকআপ ট্রাক ঢুকে নারী আহত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমানের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ইজিকেটারকে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিচ্ছে উবার টেকনোলজিস। বোস্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিং সেবা দিয়ে আসছে। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করবে উবার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবারের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২৩ দশমিক ০৭ টাকা ধরে এই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। ইজিকেটার অধিগ্রহণের মাধ্যমে করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংয়ের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াতে চাইছে উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ক্যাটারিং ও ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে নিজেদের খাবার সরবরাহ ও করপোরেট সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ইজিকেটারের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিহাদ রহমান। টেকক্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ করপোরেট কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২২ সালে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন তিনি। এর আগে জেপিমরগ্যান চেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেনারেল ইলেকট্রিকের বিভিন্ন শীর্ষ পদেও কাজ করেছেন তিনি। ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন নিহাদ রহমান। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর একই বছরের মে মাসে তাঁকে স্থায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইজিকেটারের মূল ব্যবসা করপোরেট খাবার ও ক্যাটারিংকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ তৈরি করে বড় খাবারের অর্ডার পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের নেটওয়ার্কে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে। সাধারণ ভোক্তার ব্যক্তিগত খাবারের অর্ডারের তুলনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অফিস ও করপোরেট আয়োজনের অর্ডার সাধারণত বড় হয়ে থাকে। এই বাজারে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে ইজিকেটার। প্রতিষ্ঠানটির বিস্তৃত রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্ক এবং বড় করপোরেট অর্ডারের ব্যবসাই উবারের অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইজিকেটারকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পর করপোরেট ক্যাটারিংয়ের বাজারে কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে উবার। ইজিকেটারের বিদ্যমান ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা কার্যক্রমকে উবারের খাবার সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ খাবার সরবরাহের পাশাপাশি বড় প্রতিষ্ঠানের খাবারের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান বাড়াতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। ইজিকেটারের জন্য নির্ধারিত ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থ নগদে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে উবারের। তবে চুক্তির ঘোষণা এলেও অধিগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই লেনদেন সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ইজিকেটারের ক্যাটারিং নেটওয়ার্ককে উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও করপোরেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু হবে। এই অধিগ্রহণের কেন্দ্রীয় চরিত্রদের একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান নিহাদ রহমান। প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে ইজিকেটারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বড় আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। জেপিমরগ্যান চেজ এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইজিকেটারে আসার পর তিন বছরের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরই স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব তাঁর হাতে দেওয়া হয়। সেই নেতৃত্বাধীন ইজিকেটার এখন ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের নগদ চুক্তিতে উবারের অধিগ্রহণের পথে। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে ইজিকেটারের ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁর নেটওয়ার্ক এবং করপোরেট ক্যাটারিং কার্যক্রম উবারের বৃহত্তর ব্যবসায়িক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে করপোরেট খাবারের বড় অর্ডারের বাজারে উবারের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে ইজিকেটারের জন্যও উবারের বিদ্যমান খাবার সরবরাহ ও ব্যবসায়িক সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র অধিগ্রহণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সামনে আসবে। নিহাদ রহমানের জন্যও এই চুক্তি তাঁর পেশাগত পথচলার একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ২০২২ সালে যে প্রতিষ্ঠানে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন, তিন বছরের মধ্যে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হয়েছেন তিনি। এখন তাঁর নেতৃত্বে থাকা স্টার্টআপটিই ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে উবারের অংশ হতে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কে বিনা খরচে হোম হেলথ এইড প্রশিক্ষণ, সনদের পর চাকরিরও সুযোগ, জেনে নিন বিস্তারিত
৭ অক্টোবরের ইসরাইলিদের স্মরণ বার্ষিকীতে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের কড়া সমালোচনায় মামদানি