২০২৬ সালে ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেবে কানাডা, বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুযোগ
কানাডা সরকার ২০২৬ সালে দুটি প্রধান অস্থায়ী কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামের মাধ্যমে এবং ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রামের আওতায়।
এই পরিকল্পনার ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য কানাডায় কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির অভিবাসন ও চাকরিসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেই কোনো ব্যক্তির চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হয় না।
এদিকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে কানাডা। বিশেষ করে একাধিক ছোট কর্মস্থল থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগের তুলনায় বেশি কম মজুরির অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ পেতে পারে। নতুন হিসাব পদ্ধতিতে পুরো প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর সংখ্যা বিবেচনার পরিবর্তে প্রতিটি যোগ্য কর্মস্থল আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
কোনো কর্মস্থলে ১০ জনের কম কর্মী থাকলে সাধারণ খাতে একজন কম মজুরির অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। আর স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও খাদ্য উৎপাদনের মতো নির্দিষ্ট চাহিদাসম্পন্ন খাতে একই ধরনের ছোট কর্মস্থলে সর্বোচ্চ দুইজন পর্যন্ত নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে।
তবে নিয়ম পরিবর্তন হলেও নিয়োগদাতারা ইচ্ছেমতো বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন না। টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামের আওতায় কম মজুরির কর্মী নিয়োগের আগে সাধারণত শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন নিতে হবে। এর মাধ্যমে কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে ওই কাজের জন্য উপযুক্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রাম সাধারণত শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়াই বিদেশি কর্মীদের কানাডায় কাজের সুযোগ দেয়। এই কর্মসূচিতে কানাডার অর্থনীতি, সংস্কৃতি বা অন্যান্য বৃহত্তর স্বার্থে উপকারী হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন ধরনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের মোট ২ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এই কর্মসূচির অংশই সবচেয়ে বড়।
কানাডার নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের জন্য কানাডার শ্রমবাজারে সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, চাকরির শর্ত এবং কানাডার অভিবাসন আইন মেনে আবেদন করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের কেরালায় এক চিকিৎসক কনে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা বর্তমানে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। বিয়ের আনন্দ-উৎসব চলাকালেই হঠাৎ ক্যাটারিংয়ের দুই কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা থামিয়ে ত্বরিত তাদের সাহায্যে ছুটে যান ডা. শিরিন সুবায়ের। তার এই উপস্থিত বুদ্ধি ও পেশাদারিত্বের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ওই দুই কর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা পান। জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই ক্যাটারিংয়ের এক কর্মীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং অন্য আরেকজন কর্মী মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হন। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে নিজের বিয়ের জমকালো সাজ বা উৎসবের কথা বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন ডা. শিরিন। তিনি যেহেতু জরুরি চিকিৎসা বিভাগের (ইমার্জেন্সি মেডিসিন) একজন চিকিৎসক, তাই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ওই দুই কর্মীকে ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। বিয়ের সাজে কনের এই মানবিক পদক্ষেপের একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই চিকিৎসক কনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও, ডা. শিরিন সুবায়ের নিজে বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। এই প্রশংসনীয় কাজের বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান, এটি কেবলই একজন চিকিৎসক হিসেবে তার কর্তব্য ছিল, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
কাতারে আটক ইরানি পাইলটদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান তেহরানের
সমুদ্রসৈকতের টয়লেটে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, সিরীয় শরণার্থীর ৬ বছরের জেল
২০২৬ সালে ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেবে কানাডা, বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুযোগ
স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য মার্টিন ডে কেরালার ত্রিশূরের বিখ্যাত গুরুয়ায়ুর মন্দিরে মালয়ালি সঙ্গী নিধিন চন্দের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে বিয়ে করেছেন। যুক্তরাজ্যে বিয়ের আইনি নিবন্ধনের প্রায় নয় বছর পর মঙ্গলবার গুরুয়ায়ুর মন্দিরে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নিধিনের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল গুরুয়ায়ুর মন্দিরে বিয়ে করা। মন্দিরে সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। নিধিনের ২২ বছর বয়সী ছেলে ভেদিক শঙ্করও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মন্দিরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুষ্পাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে বিয়ের পরবর্তী আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পিরাভোমের বাসিন্দা নিধিন ২০০৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে যান। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি আইটি ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেন এবং পরে পিএইচডিও সম্পন্ন করেন। যুক্তরাজ্যে থাকার সময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রভাব তার ওপরও পড়ে। এরপর তিনি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে তুলে ধরতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং পার্লামেন্টারি কমিটির কাছেও বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। সেই সময়ই তৎকালীন ব্রিটিশ এমপি মার্টিন ডের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১৬ সালে তাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরে যুক্তরাজ্যেই তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়। তবে নিধিনের ইচ্ছা ছিল গুরুয়ায়ুর মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই ইচ্ছা এবার পূরণ হলো। কেরালায় মার্টিনের আগের সফরগুলোতে বন্যা, কোভিড মহামারি ও পারিবারিক নানা কারণে গুরুয়ায়ুরে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। মার্টিন ডে এর আগে তিন মেয়াদে প্রায় নয় বছর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ ধরনের কাজের সুযোগ
বিদেশি প্রতিনিধিদের চার ধরনের পরিচয়পত্রকে বসবাসের অনুমতি দিল আমিরাত সরকার
পাকিস্তানে গত এক দশকে পুরুষদের ধূমপানের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেলেও নারীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন তথ্য বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির পুরুষদের ধূমপানের হার কমেছে, কিন্তু নারীদের ধূমপানের হার বেড়েছে। ২০১৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের ২২ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারীদের ২ দশমিক ১ শতাংশ ধূমপান করতেন। সে সময় সামগ্রিক ধূমপানের হার ছিল ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। দশ বছর পরের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পুরুষদের ধূমপানের হার কমে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের তুলনায় পুরুষদের ধূমপানের হার প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে নারীদের ধূমপানের হার বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৪ সালের ২ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় এটি প্রায় ৫৭ শতাংশের আপেক্ষিক বৃদ্ধি।অবশ্যই এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—নারীদের ধূমপানের হার বেড়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মোট নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা ঠিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। জনসংখ্যার পরিবর্তন ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা না করে শুধু এই শতাংশের ভিত্তিতে মোট মানুষের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। পুরুষদের ধূমপান কমার প্রবণতার সঙ্গে পাকিস্তানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে নিয়ে পাকিস্তান সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির সামগ্রিক তামাক ব্যবহারের হারও কমেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শেও বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। যেমন, বাড়িতে অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার হার ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। কর্মস্থলে এই হার ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। তবে জাতীয় গড়ের এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ধূমপান কমলেও নারীদের মধ্যে হার বাড়ার অর্থ হলো তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক প্রবণতাও আলাদাভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন। এই পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য গ্যালাপ পাকিস্তান ডিজিটাল অ্যানালিটিক্স চালু করেছে পাকিস্তান টোব্যাকো ইনসাইটস—পাকিস্তানের তামাক ব্যবহারের তথ্যভিত্তিক ড্যাশবোর্ড। এতে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের তথ্য একত্র করে বয়স, লিঙ্গ, বসবাসের এলাকা এবং অন্যান্য সূচক অনুযায়ী তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বিশ্লেষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। গ্যালাপের ড্যাশবোর্ডে প্রাপ্ত তথ্য মূলত সরকারি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্লোবাল টোব্যাকো সার্ভে—বিশ্বব্যাপী তামাক ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জরিপ-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
গাজাগামী ত্রাণবহর আটকের ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাইল তুরস্ক
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রস্তুত ইরান: মাসুদ পেজেশকিয়ান