যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বাড়ছে দক্ষতাভিত্তিক নিয়োগ, ক্যারিয়ারে এগিয়ে দেবে যেসব সনদ
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে শুধু ডিগ্রির বদলে প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব কলেজেস অ্যান্ড এমপ্লয়ার্সের (এনএসিই) ২০২৬ সালের চাকরির বাজারবিষয়ক জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, তারা এন্ট্রি লেভেলের নিয়োগে দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এক বছর আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ।
এই পরিবর্তনের ফলে নতুন অভিবাসী, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও পেশাভিত্তিক সনদের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে কোনো একটি সনদই চাকরি বা নির্দিষ্ট বেতন নিশ্চিত করে না। নিয়োগদাতারা সনদের পাশাপাশি প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রযুক্তি খাতে কম্পটিআইএ সিকিউরিটি প্লাস, এডব্লিউএস ক্লাউড প্র্যাকটিশনার এবং গুগলের ক্লাউডভিত্তিক বিভিন্ন সনদ এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য এসব সনদ কাজে আসতে পারে। তবে চাকরির চাহিদা, বেতন ও নিয়োগের সুযোগ পদ এবং অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে।
আরও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য এডব্লিউএস সার্টিফায়েড সলিউশনস আর্কিটেক্ট, সিআইএসএসপি এবং পিএমপির মতো পেশাগত সনদ ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা খাতে পিএমপি দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত একটি পেশাগত সনদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের বেতন জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিএমপি সনদধারী পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। একই জরিপে পিএমপি না থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ দুই দলের বেতনের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৪ শতাংশ।
অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। ওই জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পিএমপি সনদ থাকা পেশাজীবীদের মধ্যম বেতন ১ লাখ ৭৩ হাজার ডলার। বিপরীতে পাঁচ বছরের কম সময় ধরে পিএমপি সনদধারীদের মধ্যম বেতন ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ডলার।
তবে শুধু পরীক্ষায় পাস করে সনদ অর্জন করাই চাকরি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এনএসিইর তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগদাতারা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং দক্ষতার বাস্তব প্রমাণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই জীবনবৃত্তান্তে শুধু সনদের নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে সেই সনদ থেকে অর্জিত দক্ষতা কীভাবে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা তুলে ধরা বেশি কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, সব চাকরির জন্য চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের পেশাগত প্রয়োজনীয়তা জরিপ অনুযায়ী, সব পেশা মিলিয়ে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়নি। ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে হাইস্কুল ডিপ্লোমা ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত শর্ত। আর ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি ছিল ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে পেশাগত সনদকে ডিগ্রির সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে নির্দিষ্ট চাকরির প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে সঠিক সনদের সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে পারলে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা সহজ হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি টার্গেট স্টোরে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে অদ্ভুত এক যুক্তি দিয়েছেন এক নারী। পুলিশের কাছে তার দাবি ছিল, যেহেতু তার কাঁধে তিন হাজার ডলার মূল্যের একটি দামি পার্স রয়েছে, তাই তার পক্ষে সাধারণ পোশাক চুরি করা একেবারেই অসম্ভব। ওক লন পুলিশের বডি-ক্যামেরায় ধারণকৃত ২০২৫ সালের ৯ মার্চের এই গ্রেপ্তারের ভিডিওটি সম্প্রতি ইউটিউবে নতুন করে ভাইরাল হয় এবং রাতারাতি লাখ লাখ দর্শকের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়। ঘটনার দিন ওই নারী দাবি করেন, তিনি কোনো কিছু চুরি করার চেষ্টা করেননি। মূলত তার ফোন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং কেনাকাটার বিল মেটানোর জন্য ‘অ্যাপল পে’ সুবিধা থাকা তার এক কাজিনকে খুঁজছিলেন। তিনি বারবার পুলিশকে বলছিলেন, "আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না? আমার কাছে তিন হাজার ডলারের পার্স আছে। আমি চুরি করি না, টার্গেট আমার প্রিয় দোকান।" প্রথমদিকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না, কেবল সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু টার্গেটের লস-প্রিভেনশন বা চুরি প্রতিরোধ বিভাগের কর্মীরা ভিন্ন বিবরণ দিলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। স্টোর কর্মীদের অভিযোগ, ওই নারী অন্য এক ক্রেতার ফেলে রাখা একটি ব্যাগে পোশাক ভরেন এবং মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইলিনয় রাজ্যের আইন অনুযায়ী, মূল্য পরিশোধ না করে কোনো পণ্য লুকিয়ে রাখা এবং শেষ পেমেন্ট স্টেশন অতিক্রম করাকে চুরির উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। এক্ষেত্রে মূল দরজা দিয়ে বের হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যদিও ওই নারী বারবার দাবি করছিলেন যে তিনি দোকান থেকে বের হননি এবং কর্মীদের ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরে এসেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে খুচরা চুরির (রিটেইল থেফট) অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং পোশাকগুলোর বিল পরিশোধের প্রস্তাবও দেন। এ সময় তার সঙ্গীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। দামি পার্স থাকার কারণে চুরির প্রয়োজন নেই—নারীর এই যুক্তির বিষয়ে অপরাধ বিজ্ঞানীদের ভিন্ন মত রয়েছে। ২০০১ ও ২০০২ সালের এক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, আর্থিকভাবে সচ্ছল ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের মধ্যেও চুরির প্রবণতা রয়েছে। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হলেন হলিউড অভিনেত্রী উইনোনা রাইডার। ২০০১ সালে বেভারলি হিলসের একটি দোকান থেকে তিন হাজার ডলারের কেনাকাটা করার পাশাপাশি তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য চুরি করেছিলেন, যার দায়ে পরবর্তীতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, দামি পণ্য ব্যবহারের সক্ষমতা থাকলেই কেউ চুরির উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ফলে নিজের দামি পার্সের যুক্তি আদালতে ওই নারীকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগেও দুই শিশুকে ছু রিকাঘাত করেছিলেন, এবার হা মলায় সংকটাপন্ন ২ বছরের শিশু
নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়
ক্যাশ অ্যাপের তথ্য ফাঁসের মামলায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন গ্রাহকরা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ‘এ নিউ গোল্ডেন এজ’ শীর্ষ সম্মেলনে পুরস্কার বিতরণের সময় তার ডান হাতের একটি বড় কালশিটে দাগ ঢাকতে পুরু মেকআপ ব্যবহার করার বিষয়টি সবার নজরে আসে। মার্কিন ইনস্টিটিউট অব পিস (বর্তমানে 'ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অব পিস' নামে পরিচিত)-এ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কসহ শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের হাতে ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স তুলে দেন ট্রাম্প। একই মঞ্চে তিনি তার প্রয়াত চাচা জন জি. ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি মরণোত্তর সম্মাননাও গ্রহণ করেন। তবে এই জমকালো আয়োজনের চেয়ে বেশি আলোচনা ছড়িয়েছে খোদ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে। রয়টার্সের ফটোগ্রাফার ইভান ভুচির তোলা একটি ক্লোজ-আপ ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের শুষ্ক ও লালচে হাতের কালশিটে ঢাকতে গোলাকারভাবে কমলা রঙের মেকআপ লাগানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই চোখ এড়ানোর মতো ছিল না। হোয়াইট হাউসে তার দ্বিতীয় মেয়াদে একাধিকবার তার উভয় হাতে এমন কালশিটে দেখা গেছে। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন, এই মেকআপ করতে তার "প্রায় ১০ সেকেন্ড" সময় লাগে। এর আগে হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, অতিরিক্ত অ্যাসপিরিন গ্রহণ এবং ঘন ঘন হাত মেলানোর কারণেই এই কালশিটে তৈরি হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল অবশ্য ট্রাম্পকে ‘আমেরিকান ইতিহাসের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ, জনসম্পৃক্ত ও উদ্যমী প্রেসিডেন্ট’ বলে আখ্যা দিয়ে এই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে কেবল হাতের কালশিটে নয়, ট্রাম্পের স্যুটের নিচে একটি রহস্যময় ফোলা অংশও দেখা গেছে, যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। গত আগস্টে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে এবং সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের একজন সহকারীর শেয়ার করা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এই ফোলা অংশটি নজরে আসে। অনলাইনে কেউ কেউ এটিকে কোনো মেডিকেল ডিভাইস, কোলোস্টোমি ব্যাগ বা এমনকি অ্যাডাল্ট ডায়াপার বলেও জল্পনা করছেন। পাশাপাশি হাত-পা ফুলে যাওয়া, একটানা তন্দ্রাচ্ছন্নভাব, অস্পষ্ট কথা এবং হঠাৎ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার মতো লক্ষণগুলো প্রেসিডেন্টের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনের মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোও ট্রাম্পের স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে এরই মধ্যে গভীর বিশ্লেষণ শুরু করেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে বিপাকে ট্রাম্প পরিবার? আইনি প্রতিরক্ষায় বিশেষ তহবিল
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা
ফ্লোরিডায় দুই সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আ ত্মহ ত্যা, সন্তানদের আনতে গিয়ে তিনজনের ম রদেহ দেখলেন মা
নিউ জার্সিতে এক কনের বিয়ের আনন্দের মুহূর্তটি শেষ পর্যন্ত বড় দুশ্চিন্তায় পরিণত হতে যাচ্ছিল। তিনি নিউ জার্সি ট্রানজিটের একটি ট্রেনে নিজের বিয়ের পোশাক ফেলে রেখে বিমান ধরতে নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলে যান। পোশাকটি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি বিপাকে পড়েন। খবরটি জানার পর নিউ জার্সি ট্রানজিটের কর্মীরা দ্রুত তৎপর হন। পরিবহন সংস্থার কর্মীরা বিভিন্ন ট্রেনের অবস্থান শনাক্ত করেন, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেনের কামরাগুলোতে পোশাকটি খুঁজতে থাকেন। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে পোশাকটি উদ্ধার করে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে কনে বিমানে ওঠার আগেই নিজের বিয়ের পোশাক ফিরে পান। পরিবহন সংস্থাটি ঘটনাটিকে ‘২০ মিনিটের অলৌকিক সাফল্য’ বলে বর্ণনা করেছে। ব্যস্ত সময়ে ট্রেনে ব্যাগ, নথি বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ফেলে যাওয়া সহজেই ঘটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবহন সংস্থার কর্মীদের জানানো এবং ট্রেনের নম্বর, যাত্রার সময় ও ওঠানামার স্টেশন জানাতে পারলে জিনিস খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, দ্রুত যোগাযোগ ও কর্মীদের সমন্বয় কীভাবে একজন যাত্রীর বিশেষ দিন নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।
নিউজার্সিতে খামারের পার্কিংয়ে এসইউভির চাপায় প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুর, অল্পের জন্য বাঁচলেন দাদি
আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, আতঙ্কের পর হাসপাতালে ৮ যাত্রী! মিয়ামিতে নামল নিউইয়র্কগামী বিমান