সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২১:২৭
ঘুমের মধ্যে মুখে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। ছবি: সংগৃহীত
ঘুমের মধ্যে মুখে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। স্বপ্নে ছোট একটি ইঁদুর মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে মনে হলেও ঘুম ভাঙার পর তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি কোনো স্বপ্ন নয়। সত্যিই একটি বাদুড় তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।

 

ঘটনাটি ঘটে রিচমন্ডে এডেলম্যানের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে। তিনি একজন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরে মানুষকে বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিভিআরও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

 

এডেলম্যান জানান, প্রথমে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন একটি ছোট মাঠের ইঁদুর তার মুখের কাছে এসে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। ঘুম ভাঙার সময় তিনি মুখের কাছে হাত নিয়ে কিছু একটা স্পর্শ করেন। সেটি ছিল পিচ্ছিল, লোমশ এবং ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ইঁদুর নয়, একটি বাদুড়।

 

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি বাদুড়টিকে ধরে ঘরের অন্যদিকে ছুড়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামীও জেগে ওঠেন। প্রথমে বাদুড়টিকে মেরে ফেলার কথা মনে হলেও চিকিৎসক হিসেবে এডেলম্যান জানতেন, সেটি করা ঠিক হবে না। বাদুড়টিকে ধরে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন, বিশেষ করে জলাতঙ্কের ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানার জন্য।

 

পরে দ্রুত কী করা উচিত তা জানতে তিনি ফোনে খোঁজ করেন এবং একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন। বন্ধুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এডেলম্যান তার কর্মস্থল সেন্ট মেরিস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে জলাতঙ্কের সম্ভাব্য সংস্পর্শ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

 

এডেলম্যানের স্বামী শেষ পর্যন্ত বাদুড়টিকে একটি পাত্রে আটকে ফেলতে সক্ষম হন। এরপর প্রাণীটিকে জলাতঙ্ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বাদুড়টির শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে সরাসরি সংস্পর্শের কারণে এবং আগে জলাতঙ্কের টিকা না নেওয়ায় এডেলম্যান সতর্কতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণ করেন।

 

ঘটনার পর এডেলম্যানের মূল বার্তা ছিল, বাড়িতে বাদুড় পাওয়া গেলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে তিনি আদৌ কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়েছেন কি না, তা সবসময় বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি বলছে, বাদুড়ের কামড়ের দাগ খুব ছোট হতে পারে এবং অনেক সময় তা চোখে পড়েও না। কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ঘরে বাদুড় দেখতে পেলে এবং সরাসরি সংস্পর্শ হয়েছিল কি না নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

বাদুড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাদুড়ের সংস্পর্শ একটি প্রধান কারণ। দেশটিতে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া অন্তত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের সংক্রমণের সঙ্গে বাদুড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব বাদুড় জলাতঙ্কে আক্রান্ত। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাদুড় সুস্থ এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

জলাতঙ্কের চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশের আগে সংস্পর্শের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশের পর রোগটি প্রায় সবসময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে বাদুড় ঢুকে পড়লে খালি হাতে সেটিকে ধরা উচিত নয়। নিরাপদে সম্ভব হলে উপযুক্ত সুরক্ষা নিয়ে পাত্রের মধ্যে আটকে রেখে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তারা বাদুড়টি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে এবং মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে।

 

বাদুড় সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। তবে বাড়ির ছাদ, চিমনি, চিলেকোঠা কিংবা দেয়ালের ছোট ফাঁক দিয়ে তারা ঘরে ঢুকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বাদুড় প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইঞ্চি বা ৬ মিলিমিটারের মতো ছোট ফাঁক দিয়েও ঢুকতে পারে। তাই পুরোনো বাড়ির ছাদ, দরজা, জানালা, চিমনি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রবেশপথ নিয়মিত পরীক্ষা করে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

নিজের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যও এডেলম্যান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক হয়েও এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে তথ্য খুঁজতে হয়েছিল। তাই অন্য কেউ যেন একই পরিস্থিতিতে পড়ে বিভ্রান্ত না হন, সে কারণেই তিনি ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন। তার অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সূত্র: ডব্লিউটিভিআর


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আইআইটি কানপুরের সাবেক শিক্ষার্থী গৌতম দেব।
ডালাসে রেন্ট জোগাতে অমানবিক হিমশিম, ভারত ফেরার কথা ভাবছেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশকের বেশি সময় প্রযুক্তি খাতে কাজ করেও নতুন ফুলটাইম চাকরি পাচ্ছেন না আইআইটি কানপুরের সাবেক শিক্ষার্থী গৌতম দেব। ৬১ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার টেক্সাসের ডালাসে রেন্ট ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে এখন উবার চালানো এবং খাবার ও পণ্য ডেলিভারির কাজ করছেন। দীর্ঘদিন নিয়মিত চাকরি না থাকায় সঞ্চয় শেষ হয়েছে, জমেছে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ। এই পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।   বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গৌতম। সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর এনডিটিভি ও দ্য ইকোনমিক টাইমস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাঁর সংকটের শুরু ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। চাকরি ধরে রাখতে তাঁকে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ডালাস ছাড়তে রাজি না হয়ে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের পদ থেকে নিজেই ইস্তফা দেন। এরপর সেখানেই নতুন চাকরি খোঁজার সিদ্ধান্ত নেন। গৌতমের ধারণা ছিল, আগের অভিজ্ঞতার মতো এবারও কয়েক মাসের মধ্যে নতুন কাজ পেয়ে যাবেন। প্রযুক্তি খাতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। অতীতেও এক চাকরি ছাড়ার পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে আরেকটি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে আসেনি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কোনো ফুলটাইম পদে যোগ দিতে পারেননি।   প্রথম দিকে নিয়মিত চাকরির অ্যাপ্লিকেশন করতেন এবং ইন্টারভিউ দিতেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক ধাপের ইন্টারভিউও হয়েছে। কোনো কোনো ইন্টারভিউ ভালো হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরির প্রস্তাব পাননি। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও ফল না আসায় তাঁর সামনে তাৎক্ষণিক আয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন বড় হয়ে ওঠে। ফলে চাকরি খোঁজায় আগের মতো সময় দেওয়া কমিয়ে দেন। বিকল্প আয়ের জন্য প্রথমে ডে ট্রেডিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন গৌতম। শুরুতে কিছুটা সাফল্যও পেয়েছিলেন। তবে সেই আয় ধরে রাখা যায়নি এবং তা দিয়ে নিয়মিত খরচ চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরপর তিনি উবার, ডোরড্যাশ ও ওয়ালমার্ট স্পার্কের মাধ্যমে কাজ শুরু করেন। এসব প্ল্যাটফর্মে গাড়ি চালানো ও ডেলিভারি থেকে কিছু অর্থ এলেও তাঁর প্রয়োজনীয় খরচ পুরোপুরি মিটছে না।   নিয়মিত বেতনের চাকরি না থাকায় সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাঁকে। নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সঞ্চয়ও এখন শেষ। খরচ সামলাতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্রেডিট কার্ডের ঋণ হয়েছে। গৌতমের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ডালাসের রেন্ট। বর্তমান বাসার খরচ কমাতে তিনি সস্তা কোনো বাসায় উঠতে চান। কিন্তু নতুন বাসা পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন। তাঁর আশঙ্কা, নতুন বাসার জন্য আবেদন করলে বাড়িওয়ালা চাকরি ও নিয়মিত আয়ের প্রমাণ চাইতে পারেন। ফুলটাইম চাকরি না থাকায় সেই শর্ত পূরণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্বেগ। পাশাপাশি বাসা খোঁজা ও স্থানান্তরের কাজে সময় দিতে হলে ডেলিভারি কম করতে হবে। অর্থাৎ খরচ কমানোর উদ্যোগ নিতে গিয়েও সাময়িকভাবে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখছেন তিনি।   আর্থিক সহায়তার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে গৌতমের জন্য একটি গোফান্ডমি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, সেখান থেকে পাওয়া ৯ হাজার ডলারের বেশি অর্থ বিল পরিশোধে খরচ হয়েছে। অপরিচিত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া তাঁর জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল। তবে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।   গোফান্ডমির পৃষ্ঠায় দেখা যায়, গৌতমের পক্ষে কার্যক্রমটি পরিচালনা করছেন সঙ্গম দাশ। ১২ অক্টোবর দেখা তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৮১টি অনুদানে মোট ১০ হাজার ৫৫৭ ডলার উঠেছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ডলার। তহবিলের বিবরণে রেন্ট, খাবার, প্রয়োজনীয় গাড়ি মেরামত ও স্থানান্তরের খরচে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে আগে প্রকাশিত ৯ হাজার ডলারের হিসাবের তুলনায় সংগ্রহের পরিমাণ এখন বেড়েছে।  গৌতম দুই দশকের বেশি আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে মার্কিন নাগরিক হন। এখন ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের জন্য সময় ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজ চালিয়ে যেতে চান। দেশে ফেরার সম্ভাবনাটি খোলা রাখলেও কবে যাবেন, তা নির্ধারণ করেননি।  আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বয়স ৬২ বছর হবে। তখন সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসরকালীন সুবিধা নেওয়ার যোগ্য হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, সেই অর্থের সঙ্গে গাড়ি চালানো ও ডেলিভারির আয় যোগ হলে খরচ সামলানো কিছুটা সহজ হবে। তবে তিনি মাসে কত অর্থ পাবেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকে অবসরকালীন সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ১৯৬০ সাল বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার বয়স ৬৭ বছর। তাঁরা ৬২ বছরে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে পূর্ণ অবসর বয়সে প্রাপ্য অর্থের তুলনায় মাসিক পরিমাণ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। গৌতম আপাতত এই সুবিধা ও নিজের আয় মিলিয়ে আর্থিক চাপ সামলানোর আশা করছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ০:১৪
ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদকে অর্থ সহায়তার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন নিউইয়র্কের ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্ন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদকে ৩০ হাজার ডলার সহায়তার অভিযোগে নিউইয়র্কের নারীর বিরুদ্ধে মামলা

২০৫০ সালে আমেরিকার শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী বহুতল ভবনের আধিক্য দেখা যাবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে তৈরি হবে শহর, স্বয়ংক্রিয় হবে বাড়ি

আইসিই হেফাজতে থাকার মিথ্যা দাবি করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন সুন্দাস নকভি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আইসিইর হাতে ২ দিন আটক থাকার দাবি, বাস্তবে হোটেলে স্পা নিচ্ছিলেন নারী, এখন ১০ লাখ ডলারের মামলা

আগামী ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মান সময় অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা পেছাবে এক ঘণ্টা, সময় পরিবর্তন বন্ধের উদ্যোগ অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরও ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাতে হবে। ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার লক্ষ্যে কংগ্রেসে একটি বিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হলেও সিনেটে সেটি আটকে আছে। ফলে আগামী ১ নভেম্বর, রোববার, স্থানীয় সময় রাত ২টায় অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে। এতে ঘুমানোর জন্য অতিরিক্ত এক ঘণ্টা পাওয়া গেলেও সকাল ও সন্ধ্যায় সূর্য ওঠা-ডোয়ার সময় আগের তুলনায় এক ঘণ্টা এগিয়ে আসবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনটি পাসের জন্য সিনেটের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিলটি নিয়ে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।   যুক্তরাষ্ট্রে ডে-লাইট সেভিং টাইম হলো বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়, যখন দিনের আলো সন্ধ্যায় বেশি সময় ধরে কাজে লাগানোর জন্য ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখা হয়। বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়, আর শরৎকালে আবার এক ঘণ্টা পেছানো হয়। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো দিনের আলোকে মানুষের দৈনন্দিন কাজের সময়ের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মেলানো। তবে বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের কারণে ঘুমের রুটিন, কর্মজীবন ও দৈনন্দিন পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটে বলে অনেকে মনে করেন। এই পরিবর্তন বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে।   ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার প্রস্তাবটি ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত। চলতি বছরের জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ৩০৮-১১৭ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর ফলে বিলটি সিনেটে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে অধিকাংশ এলাকায় শরৎকালে ঘড়ির কাঁটা আর এক ঘণ্টা পেছাতে হতো না। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোকে সারা বছর প্রচলিত মানসময়ের অনুসরণ করার সুযোগ দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অর্থাৎ, আইনটি পাস হলেও সব অঙ্গরাজ্যকে একইভাবে নতুন সময়ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, এমন নয়।   শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটরদের বিলটি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশেষভাবে আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, কটনের বিরোধিতার কারণে বিলটি সিনেটে আটকে আছে। প্রেসিডেন্টের মতে, রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষ এই বিষয়ে একমত হতে পারেন। এর আগে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পরও ট্রাম্প এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁর উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের পথে এগোয়নি।       সিনেটর টম কটন অবশ্য স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইমের বিরোধিতা করছেন। তাঁর যুক্তি, শীতকালে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে থাকলে অনেক এলাকায় সূর্য উঠবে আরও দেরিতে। এতে সকালে অন্ধকারের মধ্যে স্কুলে যাওয়া শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও বলেছেন, বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সিনেটে বিলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।       বর্তমান পরিস্থিতিতে নভেম্বরের সময় পরিবর্তন ঠেকানোর সুযোগও প্রায় নেই। সিনেট ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত অধিবেশন থেকে বিরত রয়েছে এবং বিলটি তাদের সরকারি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই নতুন কোনো অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত না এলে ১ নভেম্বর নির্ধারিত নিয়মেই ঘড়ির কাঁটা পেছানো হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে সময় পরিবর্তন স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ এখনো আইন হয়ে কার্যকর হয়নি।       যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য সব অঙ্গরাজ্য ডে-লাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করে না। অ্যারিজোনা ও হাওয়াই সারা বছর মানসময়ে থাকে। ১৯৬৬ সালের ইউনিফর্ম টাইম অ্যাক্ট অঙ্গরাজ্যগুলোকে ডে-লাইট সেভিং টাইম থেকে বেরিয়ে সারা বছর মানসময়ে থাকার সুযোগ দেয়। তবে বিদ্যমান আইনে অঙ্গরাজ্যগুলো এককভাবে সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করতে পারে না। সে জন্য ফেডারেল আইনে পরিবর্তন প্রয়োজন। এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থায়ী সময়ব্যবস্থার পক্ষে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ঘড়ির সময় স্থায়ীভাবে এগিয়ে রাখার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর ১৯৭৪ সালেও একই ধরনের ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়। কিন্তু শীতকালে সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকায় জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং ওই বছরই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পরে ২০০৫ সালের আইনে ডে-লাইট সেভিং টাইমের সময়সীমা বাড়ানো হয়, যা ২০০৭ সাল থেকে কার্যকর হয়। বর্তমানে মার্চের দ্বিতীয় রোববার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয় এবং নভেম্বরের প্রথম রোববার আবার পেছানো হয়।   স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইমের সমর্থকেরা বলছেন, এতে সন্ধ্যায় বেশি সময় দিনের আলো পাওয়া যাবে এবং ঘড়ির সময় বছরে দুবার বদলানোর ঝামেলা থাকবে না। তাঁদের মতে, এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদন ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীদের আশঙ্কা, শীতকালে দেরিতে সূর্য ওঠার কারণে শিশুদের স্কুলে যাওয়া এবং ভোরে কাজে বের হওয়া মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। ফলে বিতর্কটি শুধু ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং দিনের আলো কোন সময়ে পাওয়া মানুষের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়েও।   সূত্র: রয়টার্স, সিবিএস নিউজ ও রোল কল।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ২২:২৭
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অ্যান্টি-বুলিং পলিসি চালু রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের স্কুলে বুলিংয়ের শিকার শিশু, কোথায় অভিযোগ জানাবেন বাংলাদেশি অভিভাবকেরা

নিহত অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন এবং তাঁর দুই শিশুসন্তানের স্মৃতিতে শোক পালন করছেন স্থানীয়রা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সন্তান জন্মের চার দিন আগে পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারী

আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্প ওশান রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ করার প্রস্তাব ট্রাম্পের

খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যসহায়তার নতুন আয়সীমা কার্যকর, কারা সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম ও সংসার চালানোর খরচের মধ্যে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো ইলেকট্রনিক সুবিধা কার্ডে অর্থ পায়, যা অনুমোদিত খাবার কেনার কাজে ব্যবহার করা যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন আয়সীমা ও সুবিধার নিয়ম কার্যকর থাকবে।   নতুন নিয়মে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি, গুয়াম ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সাধারণ আয়সীমা অনুযায়ী একজনের পরিবারের মাসিক মোট আয় ১ হাজার ৭২৯ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ৩ হাজার ৫৭৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিট আয়ের সীমা যথাক্রমে ১ হাজার ৩৩০ ও ২ হাজার ৭৫০ ডলার। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে আয়ের সীমা আলাদা। তবে এই সীমার মধ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না; অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হয়।   পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা   ১.একজন: মোট আয় ১,৭২৯ ডলার; নিট আয় ১,৩৩০ ডলার। ২.দুজন: মোট আয় ২,৩৪৫ ডলার; নিট আয় ১,৮০৪ ডলার। ৩.তিনজন: মোট আয় ২,৯৬০ ডলার; নিট আয় ২,২৭৭ ডলার। ৪.চারজন: মোট আয় ৩,৫৭৫ ডলার; নিট আয় ২,৭৫০ ডলার। ৫.পাঁচজন: মোট আয় ৪,১৯১ ডলার; নিট আয় ৩,২২৪ ডলার।   এখানে মোট আয় বলতে অনুমোদিত কর্তন বাদ দেওয়ার আগের আয় বোঝায়। নিট আয় হিসাব করার সময় কর্মসংস্থান, নির্ভরশীল ব্যক্তির যত্ন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের কিছু অনুমোদিত ব্যয় বিবেচনা করা হতে পারে। কোন কর্তন প্রযোজ্য হবে, তা পরিবারের পরিস্থিতি ও অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।   ২০২৫ সালে পাস হওয়া ফেডারেল আইনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্ক এসএনএপি গ্রাহকের কাজসংক্রান্ত শর্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হতে পারে। শর্ত পূরণ না করলে নির্দিষ্ট তিন বছরের সময়কালে সাধারণত তিন মাসের বেশি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে।   এসএনএপি সুবিধার ক্ষেত্রে অভিবাসন-অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই প্রত্যেক বিদেশি নাগরিক এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন না। নাগরিকত্ব, নির্দিষ্ট অভিবাসন-শ্রেণি, বসবাসের সময় এবং অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। পরিবারের কোনো সদস্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যদের আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৯:১৩
স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর উধাও, ২৫ বছরেও জানা গেল না ডেবরার ভাগ্যে কী ঘটেছিল

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর উধাও, ২৫ বছরেও জানা গেল না ডেবরার ভাগ্যে কী ঘটেছিল

পণ্যের ব্যয় নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে চাপে ব্যবসা ও পরিবার

তবে ডাকঘর বন্ধ থাকলেও কিছু স্বয়ংক্রিয় সেবা চালু

যুক্তরাষ্ট্রে আজ ডাকঘর বন্ধ, চিঠি ও পার্সেল পাঠাতে গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে

0 Comments