জাকারবার্গের স্ত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা জবাব, ‘ভালোবাসা টাকা দিয়ে কেনা যায় না’
মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একজনের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সম্পদের মালিক জাকারবার্গ কেন এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছেন, যাকে তার কাছে ‘সাধারণ চেহারার’ মনে হয়েছে।
তবে মন্তব্যটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করিয়ে দেন, জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অনেক আগেই। তাদের সম্পর্কের শুরুতে দুজনই ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
জাকারবার্গ ও চ্যানের পরিচয় ২০০৩ সালে। তখন দুজনেই হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছিলেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় ফেসবুকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ জাকারবার্গের বর্তমান বিপুল সম্পদ, খ্যাতি কিংবা প্রযুক্তি ব্যবসার বিশাল সাফল্য তাদের সম্পর্কের শুরুতে কোনো বাস্তবতা ছিল না।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাদের পরিবারে তিন কন্যাসন্তান আসে। ২০২৩ সালে তাদের তৃতীয় কন্যা অরেলিয়া জন্ম নেয়।
প্রিসিলা চ্যান নিজেও নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি একজন শিশু চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি নেন এবং শিশু চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাকারবার্গের সঙ্গে চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন।
শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ করা তাদের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রিসিলা দীর্ঘদিন ধরেই শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে আসছেন। তিনি নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন।
এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো মানুষের জীবনসঙ্গী বাছাইকে শুধু চেহারা বা সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত। তাদের যুক্তি, জাকারবার্গ যখন প্রিসিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তিনি আজকের বিলিয়নিয়ার ছিলেন না। দুজনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে, যখন ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে, সেটিও তারা জানতেন না।
অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্যটির জবাবে বলেন, মানুষের প্রতি আকর্ষণ বা ভালোবাসার মূল্যায়ন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে করা যায় না। কারও জীবনসঙ্গীকে তার চেহারা দিয়ে বিচার করাও সম্পর্কের বাস্তবতাকে বোঝার জন্য যথেষ্ট নয়।
জাকারবার্গ ও চ্যানের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ২০২২ সালে তাদের বিয়ের ১০ বছর পূর্তিতে জাকারবার্গ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রায় একই ভঙ্গিতে তোলা পুরোনো ও নতুন ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ও তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
সামাজিক মাধ্যমে প্রিসিলার চেহারা নিয়ে মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে জাকারবার্গ তার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তৈরি শিল্পী ড্যানিয়েল আরশামের একটি ভাস্কর্যের ছবি প্রকাশ করার পরও সেটি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও রসিকতা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাতেও অনেকে প্রিসিলাকে শুধু ‘জাকারবার্গের স্ত্রী’ হিসেবে না দেখে তার নিজস্ব পেশাগত পরিচয় ও কাজের কথা সামনে আনেন।
সব মিলিয়ে জাকারবার্গ ও প্রিসিলার সম্পর্কের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সম্পদের শীর্ষে পৌঁছানোর আগে। সময়ের সঙ্গে জাকারবার্গের সম্পদ ও পরিচিতি ব্যাপকভাবে বদলেছে, কিন্তু তাদের পারিবারিক সম্পর্ক সেই পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে রয়েছে।
সূত্র: চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এক ডেলিভারি চালককে নগ্ন অবস্থায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক কিয়ান্তে ম্যাটলক। ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে। ম্যাটলক জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তার মেয়েও তখন বাড়িতে ছিল। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসার কথা জানতে পেরে ম্যাটলক বুঝতে পারেন, তার খাবারের অর্ডার পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখতে পান। ফুটেজে দেখা যায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি চালকটি বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বলে জানান ম্যাটলক। ম্যাটলক নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করেন। তবে ওই দিনের খাবার তিনি আর গ্রহণ করেননি। পরে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত দেয়। ঘটনার বিষয়ে ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ডোরড্যাশ সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট চালকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ তারা মেনে নেয় না। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখে পড়লে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে ডোরড্যাশ। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছে ফক্স ২৬। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে রিং ক্যামেরা, দরজার ক্যামেরা কিংবা বাড়ির অন্য কোনো নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সে জন্য আগে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন এবং এরপর পুলিশ তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছিল। ফক্স ২৬ জানিয়েছে, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা জানতে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি আবারও বাড়িতে খাবার বা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর।
জাকারবার্গের স্ত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা জবাব, ‘ভালোবাসা টাকা দিয়ে কেনা যায় না’
গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে জানুন, পারমিট ছাড়া জরিমানার মুখে পড়তে পারেন মালিকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাইস্কুলে কিশোরী শিক্ষার্থী পরিচয়ে ভর্তি হয়ে চার দিন ক্লাস করার পর ধরা পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক নারী। হায়েজিয়ং শিন নামের ওই নারী ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক শহরে। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি শিনের বিরুদ্ধে পরিচয় বা বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভুয়া সরকারি নথি দেওয়ার অভিযোগে তৃতীয় মাত্রার অপরাধের একটি মামলা করা হয়। তিনি স্কুল বোর্ডে একটি জাল জন্মসনদ জমা দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পর শিন প্রায় চার দিন স্কুলে যান। তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নথি যাচাই করার সময় তথ্যের অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং শিনকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিউ ব্রান্সউইক পাবলিক স্কুলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট অউব্রে জনসন স্কুল বোর্ডের এক বৈঠকে জানান, ভুয়া নথি জমা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে ঘটনাটির পেছনে সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে পরে নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানায়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ফলোআপ বিবৃতিতে পুলিশ বলেছিল, শিন কেন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। ঘটনার পর শিনের আইনজীবী ড্যারেন গেলবার তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। পরে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীর ভাষ্য ছিল, শিন একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং নিজের স্কুলজীবনের তুলনামূলক নিরাপদ ও আনন্দের সময়টিতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা ছিল না। শিনের শিক্ষাগত পরিচয়ও পরে সামনে আসে। তিনি রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ব্রান্সউইক ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চীনা ভাষায় একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন। নিউ জার্সির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কিছু নিয়মও ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছিল। রাজ্যের আইন ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব নথি না থাকলেও দ্রুত স্কুলে ভর্তি করার বিধান রয়েছে। পরে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি পরীক্ষা করা যায়। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানিয়েছে, শিন এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ভুয়া জন্মসনদ জমা দিয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের নিরাপত্তা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভুয়া নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও পর্যালোচনা করার কথা জানায়। পরবর্তী সময়ে শিন অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মে ২০২৩ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি বিচারপূর্ব কর্মসূচিতে তিন বছর অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শিক্ষার্থী বা স্কুলের কর্মীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগ
দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের দমনে ১৬.৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ কিনছে আইসিই
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ নিউজার্সির দম্পতি, স্বজনদের আকুতি—‘ওদের ফিরিয়ে আনুন’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ফায়ার স্টেশনে চার মাস বয়সী এক অচেতন শিশুকে রেখে যাওয়ার পর তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় হত্যার অভিযোগে ভিক্টর উইভার নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ। স্যাক্রামেন্টো পুলিশ বিভাগ জানায়, গত ১৪ আগস্ট সকাল ৯টার পরপরই ফায়ার স্টেশনে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। ওয়েস্ট এল ক্যামিনো অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে সেখানে আনা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিশুটিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার 'সেইফলি সারেন্ডারড বেবি ল' বা শিশু সমর্পণ আইন অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা যদি সন্তানের দায়িত্ব নিতে অপারগ হন, তবে জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে নিরাপদে হাসপাতাল বা নির্দিষ্ট ফায়ার স্টেশনে হস্তান্তর করার আইনি সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শিশুটির শরীরে কোনো নির্যাতনের চিহ্ন না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু নিহত শিশুটির বয়স চার মাস হওয়ায় এই ঘটনাটি কোনোভাবেই ওই আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়বে না। মৃত্যুর পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশের হোমিসাইড বা হত্যা তদন্তকারী দল অবিলম্বে মামলাটির দায়িত্ব নেয়। তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি করোনার অফিসের ময়নাতদন্ত ও সার্বিক তদন্তে শিশুটির মৃত্যুকে সুস্পষ্ট হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। এরপরই গোয়েন্দারা সন্দেহভাজন হিসেবে স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা ভিক্টর উইভারকে শনাক্ত করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত মঙ্গলবার উইভারকে গ্রেপ্তার করে হত্যার সন্দেহে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি মেইন জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহত শিশুর সাথে ওই তরুণের কী সম্পর্ক বা শিশুটির সাথে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। নিকটাত্মীয়দের জানানোর আগ পর্যন্ত শিশুটির পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
কসকোর মেম্বারশিপ নিয়ে পরে আফসোস করতে না চাইলে জেনে নিন ৫টি অসুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, জব্দ ৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের কোকেন