রেস্তোরাঁয় বিল দেন পুরুষ, তবে টিপের সিদ্ধান্তে প্রভাব থাকে নারীর—সাবেক ওয়েট্রেসের দাবি
রেস্তোরাঁয় ভালো সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপ বা বকশিশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল কাজ করতে পারে। সাবেক ওয়েট্রেস ও জনপ্রিয় লেখক মেল রবিনস জানিয়েছেন, ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তিনি এমন একটি পরামর্শ পেয়েছিলেন, যা তার টিপ পাওয়ার ধারণাই বদলে দেয়।
রবিনস জানান, মিশিগানের রেড রুস্টার ট্যাভার্নে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার সময় তার এক মেন্টর তাকে বলেছিলেন, ভালো টিপ পাওয়ার একটি কৌশল হলো—টেবিলে কার হাতে টিপ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব রয়েছে, সেটি বুঝতে পারা।
সাধারণত যে ব্যক্তি রেস্তোরাঁর বিল পরিশোধ করেন, তিনিই টিপের পরিমাণ ঠিক করেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু রবিনসের মেন্টরের পর্যবেক্ষণ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ বিল পরিশোধ করলেও টিপের বিষয়ে তার সঙ্গী নারী প্রভাব ফেলতে পারেন।
রবিনস বলেন, ভালো সেবা পেলে অনেক সময় নারী সঙ্গী তার পার্টনারকে ওয়েটারের প্রশংসা করে ভালো টিপ দিতে উৎসাহিত করেন। এই পরামর্শের পর তিনি টেবিলের নারীদের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন।
তবে আতিথেয়তা খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নারী গ্রাহকদের গুরুত্ব দিয়ে পুরুষদের উপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিউইয়র্কভিত্তিক মাহন হসপিটালিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা অংশীদার রবার্ট মাহন বলেন, ভালো ওয়েটারদের পুরো টেবিলের গতিবিধি বুঝতে হয় এবং কাউকে আলাদা করে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।
তার মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ ও মনোযোগী আচরণই শেষ পর্যন্ত ভালো টিপ পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এমনকি গবেষণাতেও গ্রাহকের সঙ্গে ছোটখাটো ইতিবাচক যোগাযোগ টিপের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, খাবার বেছে নেওয়ার সময় গ্রাহকদের প্রশংসা করা ওয়েটাররা তুলনামূলকভাবে বেশি টিপ পেয়েছেন।
ডালাস স্কুল অব এটিকেটের প্রতিষ্ঠাতা লিসা বারডেটও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নারীরা টিপের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। তবে একজন দক্ষ ওয়েটারের উচিত টেবিলের সব অতিথিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।
অর্থাৎ, বেশি টিপ পাওয়ার ‘গোপন রহস্য’ শুধু একজন নির্দিষ্ট গ্রাহককে খুশি করা নয়—বরং পুরো টেবিলকে ভালোভাবে সেবা দেওয়া, অতিথিদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করা এবং কে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা বুঝতে পারাই গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বিপণিবিতানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পার্কিং করার সময় একটি এসইউভি গাড়ি ফুটপাতের কিনারা পেরিয়ে বাবা ও শিশুকে ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম নক্স স্কেলটন। তাঁর বাবা স্যামুয়েল স্কেলটন গেইনসভিল ফায়ার বিভাগের একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। ঘটনাটি ঘটে ৭ অক্টোবর বুধবার, গেইনসভিল শহরের লাইমস্টোন মার্কেটপ্লেসে। স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্যামুয়েল সেদিন ছেলেকে কোলে নিয়ে একটি দোকানের জানালায় প্রদর্শিত জুতা দেখছিলেন। এ সময় ৬৮ বছর বয়সী এক নারী তাঁর এসইউভি গাড়িটি নির্ধারিত পার্কিং স্থানে রাখার চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটি হঠাৎ সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে ফুটপাতের কিনারা অতিক্রম করে বাবা ও শিশুকে আঘাত করে। গাড়িটি পরে বিপণিবিতানের একটি ভবনেও ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর নক্সকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশপাশের লোকজন তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে আটলান্টার একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাবা স্যামুয়েলও গাড়ির ধাক্কায় আহত হন, যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি। গেইনসভিল ফায়ার বিভাগ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্যামুয়েল ও তাঁর স্ত্রী কিয়ানা স্কেলটন অত্যন্ত যত্নশীল ও আন্তরিক মানুষ। এমন কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। নক্সের পরিবারের সদস্যদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, ছোট্ট নক্স খেলনা দানব-ট্রাক নিয়ে খেলতে, বাইরে সময় কাটাতে এবং পার্কে দোলনায় দুলতে ভালোবাসত। বাবার কর্মস্থল ফায়ার স্টেশনেও সে পরিচিত মুখ ছিল। পরিবারের কাছে সে ছিল আনন্দের উৎস। ঘটনার পর পরিবারটির আর্থিক ও মানসিক সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনুদানের পরিমাণ ৬৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এদিকে, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে গেইনসভিল পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৬৮ বছর বয়সী টেরেসা পার্কার। তিনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন এবং তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জানানো হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়ির ব্রেক ও টায়ার পরীক্ষা এবং চালকের মুঠোফোনের তথ্য পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে সম্ভাব্য অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এই দুর্ঘটনা পার্কিং এলাকায় পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দোকানের সামনে ও গাড়ি চলাচলের পথের কাছাকাছি শিশুদের নিয়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, ঘটনাটি তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
ইলহান ওমরের বাসায় ফেডারেল তল্লাশি, তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক
চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বিলিং ডেস্কে বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার, পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেশি
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে মৃত ছয় গ্রাহকসহ মোট সাতজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলারের বেশি চুরির অভিযোগে একটি ক্রেডিট ইউনিয়নের নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩৮ বছর বয়সী আমান্ডা এন টিনচারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নিজের নামে চেক তৈরি, ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপে অর্থ স্থানান্তর এবং নগদ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন এবং অন্য একজন জীবিত ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসির ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমান্ডা টিনচার আইওয়ার আইএইচ মিসিসিপি ভ্যালি ক্রেডিট ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন। তিনি ডেভেনপোর্ট শহরের বাসিন্দা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেটেনডর্ফ পুলিশ তাঁকে চুরি, প্রতারণা এবং ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই দিন বিকেলেই জামিনে মুক্তি পান তিনি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয় গত ২ জুলাই। ওই দিন ক্রেডিট ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা বেটেনডর্ফ পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে একাধিক সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, আমান্ডা মৃত ওই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় অর্থ উত্তোলন করেন। পাশাপাশি নিজের নামে একাধিক ক্যাশিয়ার্স চেক তৈরি এবং ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করেন। ক্যাশিয়ার্স চেক হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা বিশেষ ধরনের চেক, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ওই একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই ২১ হাজার ২৭৯ ডলার ৫১ সেন্ট সরানো হয়েছিল। অ্যাকাউন্টটির মালিক মারা যাওয়ার পর এসব সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ৩ জুলাই ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যালয়ে আমান্ডার সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁকে সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই সময় তিনি মন্তব্য করেন, কী করা হয়েছে, তা বেশ পরিষ্কার। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া এই বক্তব্যকে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ স্বীকারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমান্ডা অন্য কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় আরও ছয়টি অ্যাকাউন্টে একই ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সাতটি অ্যাকাউন্টে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন। অন্য অ্যাকাউন্টটির মালিক জীবিত ছিলেন। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর অভিযোগ রয়েছে আমান্ডার বিরুদ্ধে। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হারানোর বিষয়টি তাঁর উত্তরাধিকারীরা বুঝতে পারার পর আমান্ডা সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন। এ জন্য তিনি জীবিত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আগের লেনদেনের কারণে তৈরি হওয়া অর্থের ঘাটতি আড়াল করতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু মৃত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগই নয়, অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আগের লেনদেন ঢাকার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, একাধিক অ্যাকাউন্টে একই ধরনের লেনদেন হওয়ার কারণে ঘটনাটি ধারাবাহিক আর্থিক অপরাধের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঠিক কত দিন ধরে এসব লেনদেন চলেছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তদন্ত শেষে আমান্ডার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার চুরি, ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রথম মাত্রার প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইওয়ার আইনে এসব অভিযোগ গুরুতর অপরাধ বা ফেলনি হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া দ্বিতীয় মাত্রার চুরি এবং দ্বিতীয় মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় মাত্রার চুরির চারটি এবং তৃতীয় মাত্রার প্রতারণার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো গুরুতর মিসডিমিনার অপরাধের আওতায় পড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে পঞ্চম মাত্রার চুরি এবং পঞ্চম মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মাত্রার চুরি ও প্রতারণাসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ওই দিন বিকেলে জামিনে মুক্তি পান আমান্ডা। আদালতের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাঁর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আমান্ডা আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী অবস্থান নিয়েছেন কিংবা তাঁর আইনজীবী কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য এবং পরবর্তী অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা মৃত গ্রাহকদের উত্তরাধিকারীরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে অভিযুক্ত কর্মী কীভাবে এসব অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অনিয়ম ঘটেছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইওয়ার এই ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের আর্থিক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগের পাশাপাশি জীবিত গ্রাহকের অর্থ ব্যবহার করে আগের লেনদেন আড়াল করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্টে মোট ২৮ হাজার ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে আমান্ডা টিনচার জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।
নিউইয়র্কে আইসিইর অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ, বিংহ্যামটন বাংলাদেশিকে আটক
দুইবার চাকরি হারানো জিশানের রেস্তোরাঁয় এখন মাসে বিক্রি প্রায় দেড় লাখ ডলার
জাতিসংঘ থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াতের অন্যরকম পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। সোমবার ১২ অক্টোবর ভোরে চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে তদন্তের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করেনি বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিভাগটি একে চলমান ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রকাশিত ওই বক্তব্যে ওমরের নাম বা তদন্তের নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি। ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের সূত্র ধরে এই তল্লাশি চালানো হয়। ওই কাগজপত্র তিনি শিশু থাকাকালে তাঁর প্রয়াত বাবা পূরণ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্তের এই তথ্য সংবাদমাধ্যমের সূত্রভিত্তিক দাবি; বিচার বিভাগের প্রকাশিত বক্তব্যে তা বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। দ্য ইনডিপেনডেন্টও ফক্স নিউজ ডিজিটালের বরাতে ওমরের বাড়িতে তল্লাশির খবর প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অভিযানের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে বিচার বিভাগ ও ওমরের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের শহরতলি রয়েছে। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি কংগ্রেসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন তিনি। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর আট বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে যান। কেনিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে চার বছর থাকার পর তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ১৯৯৭ সালে পরিবারসহ মিনিয়াপোলিসে বসবাস শুরু করেন তিনি। তাঁর কংগ্রেশনাল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। অভিবাসন নীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমর। এর আগে ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি মিনেসোটার রিচফিল্ডে তাঁর একটি জনসভাস্থলের বাইরে ছদ্মবেশী এইচএসআই কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নজরদারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে সোমবারের তল্লাশির কোনো সম্পর্ক প্রকাশিত তথ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ফ্লোরিডায় বাবার কাস্টেডি থেকে সন্তানদের আনতে গিয়ে দুই শিশুর ম র দেহ খুঁজে পেলেন মা
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির সম্পূর্ন গাইড, জেনে নিন যোগ্যতা ও পরীক্ষার নিয়ম