সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৭ সালে বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৭:৪৪
american-us-dollars-money-bills-and-us-social-security
american-us-dollars-money-bills-and-us-social-security

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা বাড়তে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ায় আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসএসএ) নিয়ম অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সুবিধাভোগীদের ভাতাতেও সমন্বয় করা হয়। এই বার্ষিক সমন্বয়কে বলা হয় কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা সিওএলএ।

 

প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে এসএসএ পরবর্তী বছরে ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গড় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতা প্রায় ২ হাজার ১৫ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭২ ডলারে দাঁড়ায়।

 

২০২৭ সালে কত বাড়তে পারে?

 

২০২৭ সালের সিওএলএ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসএসএ আগামী অক্টোবর মাসে এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন পূর্বাভাসে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।

 

সিওএলএ নির্ধারণ করা হয় কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স (সিপিআই-ডব্লিউ)-এর তথ্যের ভিত্তিতে। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের সঙ্গে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মূল্যসূচকের পরিবর্তন হিসাব করে এই সমন্বয় নির্ধারণ করা হয়।

 

তবে চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে সাধারণত নতুন হারে অর্থ পাওয়া শুরু হয় পরবর্তী বছরের জানুয়ারি থেকে।

 

মূল্যস্ফীতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

 

মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে একই পরিমাণ সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রতি বছর সিওএলএ নির্ধারণ করা হয়।

 

বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভাতা বাড়লে সুবিধাভোগীদের মাসিক আয় কিছুটা বাড়বে। তবে খাদ্য, জ্বালানি ও বাসস্থানের মতো খাতে ব্যয়ও বাড়তে থাকায় তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়বে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

 

এসএসআই সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও কি বাড়বে?

 

সাধারণত সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) সুবিধাভোগীরাও একই সিওএলএ সমন্বয়ের আওতায় থাকেন। তবে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই আলাদা কর্মসূচি এবং এগুলোর অর্থায়ন ও যোগ্যতার নিয়মও ভিন্ন।

 

২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি বা এসএসআই সুবিধা, অথবা দুটিই পান। ফলে ২০২৭ সালের সিওএলএ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের মাসিক আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

নোট: ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বৃদ্ধির হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসএসএ অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন হার জানাবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার
কুইনসে বাড়িতে ঢুকে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে মৃতের অভিনয় করলেন ব্যক্তি

নিউইয়র্কের কুইনসে নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাত আড়াইটার দিকে ফ্লাশিংয়ের হোরেস হার্ডিং এক্সপ্রেসওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ক্রিস জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে তিনি মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেন।    ক্রিস বলেন, এক মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে থাকার সময় সদর দরজায় শব্দ শুনতে পান। এরপর চার মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়।তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা মুখে আঘাত করার পর জিপ টাই দিয়ে পেছনে হাত ও পা বেঁধে ফেলে। মুখের ওপর কোট চাপা দেয়। তখন তিনি মৃতের অভিনয় করেন।   ক্রিস জানান, তাঁর রোলেক্স ঘড়িসহ মূল্যবান গয়না নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাঁর পরনে থাকা চেইনটির মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তিনি।এ সময় ওপরতলায় লুকিয়ে ছিলেন তাঁর নারী বন্ধু। হামলাকারীদের অজান্তে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। ক্রিস বলেন, ওই বন্ধুর পদক্ষেপই তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে।    পুলিশ আসার পর তিন সন্দেহভাজন পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে। ক্রিস বলেছেন, তিনি তাকে তিনি কখনোই দেখেননি।কেউ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন ক্রিস। ঘটনার পর বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৭:৩৯
একটি বিপণিবিতানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু

জুতার দোকানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাসের শিশু, নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল নক্সের

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন এলাকার বাসায়

ইলহান ওমরের বাসায় ফেডারেল তল্লাশি, তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি, রোগীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই ও ঋণ আদায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বিলিং ডেস্কে বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার, পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বাড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বয়সের পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্যানসার শনাক্তের হার ৮৩ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনের সারাংশে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে স্তন, থাইরয়েড ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রবণতা নিয়ে গবেষকেরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। তবে নারী ও পুরুষের মধ্যে ৮৩ শতাংশ পার্থক্যের হিসাবটি মূল তথ্যসারণি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অনুসন্ধানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যানসারের পরিবর্তিত প্রবণতা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মিলেনিয়াল এবং অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রজন্মের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যানসার আগের তুলনায় বেশি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   গবেষকেরা বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন আগের প্রজন্মের তুলনায় কিছু মানুষের অপেক্ষাকৃত কম বয়সে ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশদূষণ, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, ঘুমের অনিয়ম এবং আধুনিক জীবনযাত্রার বিভিন্ন পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের সবগুলোর সঙ্গে ক্যানসার বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের সামগ্রিক ক্যানসার ঝুঁকি এখনো অনেক কম। কিন্তু কম বয়সীদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার বৃদ্ধির প্রবণতা চিকিৎসক ও গবেষকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন, ৩৪ ধরনের প্রচলিত ক্যানসারের মধ্যে ১৭টির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত পরবর্তী জন্মপ্রজন্মগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে। বিশেষ করে কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।   গবেষণায় জন্মপ্রজন্মভিত্তিক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একই বয়সে বিভিন্ন সময়ে জন্ম নেওয়া মানুষের ক্যানসার শনাক্তের প্রবণতা তুলনা করেছেন গবেষকেরা। এতে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের মানুষেরা আগের প্রজন্মের তুলনায় ভিন্ন ধরনের পরিবেশগত বা জীবনযাত্রার ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন কি না।   নারীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বেশি হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্তন ও থাইরয়েড ক্যানসার এই পার্থক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব ধরনের ক্যানসারে নারীদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেশি, এমন নয়। ক্যানসারের ধরন, বয়স এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর নারী ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার ভিন্ন হতে পারে।   স্তন ক্যানসার নারীদের মধ্যে বহুল শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর একটি। অন্যদিকে থাইরয়েড ক্যানসারও নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি শনাক্ত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে উন্নত পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তের পদ্ধতির কারণে বেশি ক্যানসার ধরা পড়তে পারে। ফলে শনাক্তের হার বৃদ্ধির পেছনে প্রকৃত রোগ বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোলোরেক্টাল ক্যানসার বা বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই ক্যানসারের হার বৃদ্ধির প্রবণতা আগের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকেরা এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, অন্ত্রের জীবাণুর পরিবেশ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করছেন।   আধুনিক খাদ্যাভ্যাসকে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।   এ ধরনের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, বিপাকীয় পরিবর্তন এবং অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব পরিবর্তন কিছু ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা গবেষণার বিষয়। তবে শুধু প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও গবেষণা চলছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য, প্লাস্টিক এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।   বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এই কণাগুলো সরাসরি তরুণদের ক্যানসার বৃদ্ধির কারণ, এমন বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ঘুমের অনিয়ম এবং শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তনও গবেষণার আওতায় রয়েছে। রাতের শিফটে কাজ, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘ সময় কৃত্রিম আলোয় থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।   গবেষকেরা এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক পরীক্ষা করছেন। তবে সাধারণ ঘুমের অনিয়ম এবং নির্দিষ্ট ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রাতের শিফটে কাজের ঝুঁকিকে একইভাবে বিবেচনা করা যায় না।   এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বিভিন্ন পদার্থের সংস্পর্শ এবং শৈশবের পরিবেশগত পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের আলোচনায় গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত কিছু পুরোনো ওষুধের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে সব ধরনের মাতৃকালীন ওষুধকে ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করারও ভিত্তি নেই।   গবেষকেরা মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবেশগত সংস্পর্শের সম্মিলিত প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। গবেষণার ভাষায় এই ধারণাকে বলা হয় এক্সপোজোম। এর মধ্যে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শৈশব, কৈশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বিভিন্ন পরিবেশগত প্রভাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে চান, দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যাভ্যাস, রাসায়নিক পদার্থ, দূষণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব তৈরি করে। তবে এসব উপাদানের কোনটি কতটা দায়ী, তা নির্ধারণ করা জটিল।   এদিকে চিকিৎসকেরা তরুণদের ক্যানসারের সম্ভাব্য উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন, মলে রক্ত, অকারণ ওজন কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত কিংবা শরীরে নতুন কোনো চাকা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন সাধারণ রোগের কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ঝুঁকির নারীদের জন্য ৪০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত ম্যামোগ্রাম পরীক্ষার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করা হয়।   তবে যাঁদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে কিংবা বিশেষ ঝুঁকির কারণ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও আগে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে সবার জন্য একই ধরনের পরীক্ষা উপযুক্ত নয়।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, তরুণদের মধ্যে কিছু ক্যানসারের হার বাড়লেও সব ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। কিছু ক্যানসারের হার কমেছে। আবার উন্নত চিকিৎসা, আগাম শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুহারও কমেছে।   ফলে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি এবং ক্যানসারে মৃত্যুর হার বৃদ্ধিকে এক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের মধ্যে বেশি ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই সেই বয়সের মানুষের মৃত্যুঝুঁকি একই হারে বেড়েছে, এমন নয়।   ওয়াশিংটন পোস্টের আলোচিত অনুসন্ধানটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল। তাই এটিকে ২০২৬ সালের নতুন গবেষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একইভাবে ২০০০ সালের পর থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তন নির্দেশ করে, সাম্প্রতিক এক বছরের বৃদ্ধি নয়।   গবেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কিছু ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশগত সংস্পর্শ, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।   তবে এখন পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির জন্য একক কোনো কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১২:১৮
মৃত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরির অভিযোগে আইওয়ার ক্রেডিট ইউনিয়নের কর্মী আমান্ডা এন টিনচারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

মারা গেছেন ছয় গ্রাহক, তবু অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলার উধাও! গ্রেপ্তার ব্যাংককর্মী

নিউইয়র্কের ভেস্টালে আইসিই কর্তৃক এক বাংলাদেশি আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইসিইর অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ, বিংহ্যামটন বাংলাদেশিকে আটক

চাকরি হারানোর পর ম্যানহাটনে গড়ে তোলা ‘নিশান’ রেস্তোরাঁয় এক মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার বিক্রির রেকর্ড গড়েছেন জিশান বাখরানি। ছবি: সংগৃহীত

দুইবার চাকরি হারানো জিশানের রেস্তোরাঁয় এখন মাসে বিক্রি প্রায় দেড় লাখ ডলার

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে শিশু অধিকার ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াত। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াতের অন্যরকম পথচলা

নিউইয়র্ক থেকে জাতিসংঘের সভাকক্ষ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, শৈশবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াত। শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। তাঁর কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জীবনী ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফাতিহার পথচলার বিশেষ দিক হলো, অল্প বয়স থেকেই বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও রয়েছে। সাত বছর বয়সে জাতিসংঘের সভাকক্ষে:  ফাতিহা আয়াতের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় শৈশবেই। তাঁর প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষার মতো বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে তাঁর এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে শিশু নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য ও পারিবারিক সহিংসতার মতো বিষয় নিয়েও আন্তর্জাতিক আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব সমস্যা শিশু ও নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে ফাতিহা অল্প বয়সেই সামাজিক সমস্যা নিয়ে নিজের আগ্রহের পরিচয় দেন। হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ: জাতিসংঘের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও ফাতিহার অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে। ২০২০ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ইউনিসেফ ক্লাবের একটি সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে বক্তব্য দেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। কনকর্ডিয়া সম্মেলনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাঁর অংশগ্রহণের কথাও প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। শিশু অধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ:  ফাতিহার কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক হলো শিশু ও নারীর অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো বিষয় তাঁর প্রকাশিত পরিচিতি ও বক্তব্যের আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।   বাংলাদেশের মতো দেশে এসব বিষয় সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষার সুযোগ এবং নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক পরিসরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মধ্য দিয়ে ফাতিহা তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন।   জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও সম্পৃক্ততা: জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়েও ফাতিহার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংস্থা পিওর আর্থের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশে শিশুদের সিসার বিষক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে।   সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি বাংলাদেশের শিশুস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফাতিহার এই সম্পৃক্ততা তাঁর কাজের সঙ্গে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যার একটি নির্দিষ্ট যোগসূত্র তুলে ধরে। নিজস্ব উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা: ফাতিহা আয়াতের আরেকটি পরিচয় তাঁর প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগ সিএইচআইএলঅ্যান্ডডি (CHIL&D)। এর পূর্ণরূপ ক্লাইমেট, হেলথ, ইনফরমেশন, লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। জলবায়ু, স্বাস্থ্য, তথ্য, শিক্ষা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়েছে বলে তাঁর প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ জিরো অলিম্পিয়াড (Zero Olympiad)। এর লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও কার্বন নিঃসরণের মতো বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তা ও কাজ করার আগ্রহ তৈরি করা। আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত জিরো অলিম্পিয়াডের সমাপনী পর্বে আট হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ১৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে সচেতন করা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অর্জন:  ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার যুব সম্মেলনে ফাতিহা আয়াত ‘হিউম্যান রাইটস হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ অর্জন করেন বলে জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টের সম্মেলনসংক্রান্ত বক্তা পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাঁকে শিশু অধিকারকর্মী ও জলবায়ু প্রচারক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক শিক্ষা বিভাগের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মানবাধিকার ও লিঙ্গসমতাবিষয়ক কোর্স সম্পন্ন করার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফিরে নতুন অধ্যায়: ফাতিহার জীবনযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া যায় আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠার পর তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকার আগা খান একাডেমিতে ভর্তি হন। ওই প্রতিবেদনে তাঁকে তখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে তাঁর আগ্রহ তৈরির পেছনে বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথে বিবিসির বিশ্বসংবাদ শোনার অভ্যাসের কথাও উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জানার এই অভ্যাস তাঁর বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।    এক কিশোরীর পথচলায় নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনা: ফাতিহা আয়াতের আন্তর্জাতিক পথচলা, শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয় নিয়ে অল্প বয়স থেকেই আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া সম্ভব। জাতিসংঘের সভাকক্ষে বক্তব্য দেওয়া থেকে তরুণদের নিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ পরিচালনা, তাঁর কর্মকাণ্ডে বৈশ্বিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা দেখা যায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই কিশোরীর গল্প তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের বিবরণ নয়; এটি শিশু ও তরুণদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে কথা বলা, প্রশ্ন তোলা এবং সমাধানের সন্ধানে যুক্ত হওয়ার একটি উদাহরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১০:৬
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

ইলহান ওমরের বাড়িতে ট্রাম্পের ফেডারেল তল্লাশি, অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্তের খবর

দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা অলিভিয়া

ফ্লোরিডায় বাবার কাস্টেডি থেকে সন্তানদের আনতে গিয়ে দুই শিশুর ম র দেহ খুঁজে পেলেন মা

এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার পদে আবেদনের সুযোগ

নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির সম্পূর্ন গাইড, জেনে নিন যোগ্যতা ও পরীক্ষার নিয়ম

0 Comments