সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বাবার হেফাজতে সন্তানকে দিতে অস্বীকৃতি, ১১ মাসের ছেলেকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২০:৪৫
ম্যাডেলিন ডেলি ও তার ১১ মাস বয়সী শিশু বাসিল স্টোনার। ছবি: সংগৃহীত
ম্যাডেলিন ডেলি ও তার ১১ মাস বয়সী শিশু বাসিল স্টোনার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে গুলি করে হত্যা করেছেন ৩৬ বছর বয়সী এক নারী। শিশুটির বাবার কাছে যেন কোনোভাবেই তার সন্তানের কাস্টডি বা হেফাজত না যায়, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই ভয়ংকর পথ বেছে নেন। সম্প্রতি আদালতে দোষ স্বীকার করার পর ওই নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুলিশি জেরার মুখে ওই পাষণ্ড মা জানিয়েছেন, তার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সার্থক মনে হয়েছে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম কাউবয় স্টেট ডেইলি ও পুলিশের একটি এফিডেভিট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই মায়ের নাম ম্যাডেলিন ভেরোনিক ডেলি। তার ১১ মাস বয়সী সন্তানের নাম ছিল বাসিল স্টোনার। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর। তবে সম্প্রতি ম্যাডেলিন আদালতে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের দায় স্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শিশুটিকে ওয়াইওমিং থেকে অপহরণ করে নিউ মেক্সিকোতে নিয়ে এসেছিলেন ম্যাডেলিন। আদালত এর আগে শিশুটির বাবা জেক স্টোনারকে জরুরি ভিত্তিতে সন্তানকে নিজের কাছে রাখার অধিকার দিয়েছিলেন। জেক পুলিশকে জানান, তিনি সবশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার ছেলেকে দেখেছিলেন।

 

অপহরণের পর থেকেই ম্যাডেলিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। অবশেষে নিউ মেক্সিকোর সিলভার সিটির কাছে একটি চাকরির জন্য আবেদন করলে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে তার নামে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সামনে আসে। এর সূত্র ধরেই গ্রান্ট কাউন্টি শেরিফ অফিস ২৩ ডিসেম্বর একটি আরভি বা রিক্রিয়েশনাল ভেহিকেল পার্কের সন্ধান পায়, যেখানে ম্যাডেলিন আত্মগোপন করে ছিলেন।

 

পুলিশ সেখানে পৌঁছালে ম্যাডেলিনকে দৌড়ে একটি আরভির ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশের জন্য পরোয়ানার অপেক্ষায় থাকার সময় পুলিশ পুরো আরভিটি ঘিরে ফেলে। ঠিক তখনই ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। কর্মকর্তারা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, ম্যাডেলিন একটি নাইন এমএম হ্যান্ডগান দিয়ে শিশু বাসিলকে গুলি করে হত্যা করেছেন। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, সন্তানকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়।

 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ম্যাডেলিন জানান, তিনি তার ছেলেকে নিরাপদ রাখতেই এমনটি করেছেন। শিশুটির বাবা ও তার পরিবার যেন কখনোই শিশুটিকে দেখতে না পায়, সে জন্য এই হত্যা তার কাছে সার্থক মনে হয়েছে। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তিনি কোনোভাবেই চাইছিলেন না তার শিশু সন্তান মাসে দুবার নেব্রাস্কা ও ওয়াইওমিংয়ের মধ্যে টানাটানির শিকার হোক।

 

পুলিশ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসতে দেখে তার মনে কী চলছিল, তখন তিনি সোজাসাপ্টা উত্তর দেন, জেক যেন বাসিলকে না পায়। ম্যাডেলিন আরও কিছু ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তিনি শিশুটিকে নিয়ে ট্রেইলার থেকে বের হলে শিশুটি বিপদে পড়ত। তার দাবি, শিশুটির বাবা আর্থিকভাবে, শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে কখনোই ছেলের কোনো দায়িত্ব নিতে চাননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তার এসব দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

বর্তমানে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রসিকিউটররা আশা করছেন, নিজ সন্তানকে হত্যার দায়ে ম্যাডেলিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক গয়না চুরি, অবশেষে আইসিইর হাতে ধরা পড়ল রোমানিয়ান দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ডজনেরও বেশি গহনা চুরির অভিযোগে রোমানিয়ার এক অবৈধ অভিবাসী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিনব কায়দায় চুরির কারণে এই জুটিকে কুখ্যাত মার্কিন অপরাধী জুটি 'বনি অ্যান্ড ক্লাইড'-এর সাথে তুলনা করা হচ্ছে।   গ্র্যান্ড লার্সেনি বা বড় ধরনের চুরির অভিযোগে নাসাউ কাউন্টি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে এই দম্পতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)-এর হেফাজতে রয়েছে। শিগগিরই তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।   এই জুটির গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ও ট্রাম্প-সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের মতো নেতাদের 'স্যাংচুয়ারি' বা অভিবাসীদের প্রতি নমনীয় আশ্রয় নীতির কঠোর সমালোচনা করছেন।   তাদের দাবি, হোকুলের মতো রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করলে এই অপরাধীরা এতদিনে আইনি ফাঁকফোকর গলে আবারও রাস্তায় ফিরে আসত এবং সাধারণ আমেরিকানদের সর্বস্বান্ত করত। একইসঙ্গে ওই পোস্টে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, দেশের আইন সমুন্নত রাখা এবং আমেরিকাকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও আইসিইর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৭:২৩
মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

মুক্তির আনন্দ টিকল মাত্র তিন মিনিট, আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেয়েই ফের আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী

ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি ও আইসিইর গুলির পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাতিলের প্রস্তাব

ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি ও আইসিইর গুলির পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাতিলের প্রস্তাব

ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বিশাল ছবিতে কুকুরের প্রস্রাব, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা

ম্যানহাটনে ট্রাম্পের বিশাল ছবিতে কুকুরের প্রস্রাব, ভাইরাল ছবি ঘিরে আলোচনা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকায় কলার দাম বাড়ার আশঙ্কা, ১৫ সেন্টের সস্তা ফল কি আর সস্তা থাকবে?
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকায় কলার দাম বাড়ার আশঙ্কা, ১৫ সেন্টের সস্তা ফল কি আর সস্তা থাকবে?

ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফল কলার দাম অচিরেই আকাশছোঁয়া হতে পারে। গুয়াতেমালার গাছ থেকে ছিঁড়ে আমেরিকানদের স্মুদি গ্লাস পর্যন্ত কলার এই দীর্ঘ যাত্রায় বর্তমানে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। ডেল মন্টে নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ড্যানি ডুমাস সার্বিক পরিস্থিতিকে রীতিমতো একটি 'সংকট' বলে আখ্যায়িত করেছেন।   কলার বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী হিসেবে পরিচিত। একটি পুষ্টিকর কলার দাম যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মাত্র ১৫ সেন্টের মতো হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সেই সস্তা দাম চরম হুমকির মুখে। বিখ্যাত মার্কিন সংবাদপত্র 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস' সম্প্রতি মধ্য আমেরিকা থেকে পেনসিলভানিয়ায় আসা কয়েক মিলিয়ন কলার একটি চালান ট্র্যাক করে এই ফলটির যাত্রাপথে নানা বিপত্তির কথা তুলে ধরেছে।   যুদ্ধের শুরু থেকে রেফ্রিজারেটেড ট্যাংকারের দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে তৈরি কলার সারের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং ট্রাক চালকের তীব্র সংকট।   মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে 'এল নিনো' (El Niño) আবহাওয়া পরিস্থিতি, যা শিপিং ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। উত্তর আমেরিকার বানানা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টম স্টেনজেল জানান, এই একাধিক কারণ মিলে একটি বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং কলার উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।   বর্তমানে পূর্বচুক্তি অনুযায়ী দাম নির্ধারিত থাকলেও কৃষকরা ইতোমধ্যেই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করছেন। এক উৎপাদকের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর তার খরচ ৫ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় এত বেশি বেড়েছে যে, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কলা চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফলের দিকে ঝুঁকছেন।   আগামী ডিসেম্বরে কলার চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, এরপর কতজন মুদি দোকানি দাম বাড়াতে দেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৫ সালে কলার দাম প্রতি পাউন্ড ৬৭ সেন্ট ছুঁয়েছিল, যা ছিল গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস এবং কোস্টারিকা থেকে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের কারণেই মূলত এই দাম বেড়েছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়। তবুও গত আগস্টে কলার দাম আগের বছরের তুলনায় ২.২ শতাংশ বেশি ছিল।   জ্বালানির দাম ও শুল্কের ওঠানামা ছাড়াও এই শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি বড় শঙ্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে 'পানামা ডিজিজ' নামক এক ক্ষতিকর ছত্রাক। অতীতে এই রোগটি 'গ্রস মিশেল' (Gros Michel) জাতের কলাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমানে এই রোগটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কলার জাত 'ক্যাভেন্ডিশ'-এর (Cavendish) জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৩:২৫
টেক্সাসে মেক্সিকো সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে আট হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাস সীমান্তে আট হাজারের বেশি সেনা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান

ট্রাম্প প্রশাসনে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলের পদত্যাগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের অনুরোধ, ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন বিতর্ক

আমেরিকায় বসেই অনলাইন ভূমিসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করা যায়। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকা থেকেই অনলাইনে দেয়া যাবে দেশের জমির খাজনা, জানুন সম্পূর্ণ নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসবমুখর শারদীয় দুর্গোৎসব। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের রচেস্টার, ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহর, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, জর্জিয়ার আটলান্টা এবং নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে অক্টোবরের বিভিন্ন দিনে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নৃত্য ও প্রবাসী পরিবারের মিলনমেলাকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা।   নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে দুর্গা উৎসব যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জনসমাগমস্থল নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই স্থানে দুর্গা উৎসবের আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টারেও ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার রচেস্টার। সংগঠনটির প্রকাশিত কর্মসূচিতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ার আয়োজন রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাঙালি সংগঠনগুলোর উদ্যোগে প্রতিবছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন দিনের দুর্গোৎসব যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেও দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সূচি অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পুষ্পাঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ব্যবস্থা রয়েছে।   একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ফেয়ারগ্রাউন্ডসে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর বে এরিয়া প্রবাসী দুর্গাপূজার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আয়োজনে প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   ফ্লোরিডায় ৪৫তম দুর্গোৎসব ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে বেঙ্গলি সোসাইটি অব ফ্লোরিডা ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তাদের ৪৫তম দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। সংগঠনটির প্রকাশিত কর্মসূচিতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত ও প্রবাসী পরিবারের মিলনমেলার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে সংগঠনটি দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে। ফ্লোরিডার টালাহাসিতেও মুকতাঙ্গন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২৪ ও ২৫ অক্টোবর দুর্গাপূজার কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। ফলে অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য উৎসবে অংশ নেওয়ার একাধিক সুযোগ থাকছে।   জর্জিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডেও পূজার আয়োজন জর্জিয়ার আটলান্টা অঞ্চলে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার আটলান্টার দুর্গাপূজা ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর লরেন্সভিলের মাউন্টেন ভিউ হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে আটলান্টা অঞ্চলের নন্দন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনও দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে।   নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলেও দুর্গাপূজাকে ঘিরে রয়েছে নানা কর্মসূচি। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব রোড আইল্যান্ড অ্যান্ড সাউদার্ন ম্যাসাচুসেটসের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রোড আইল্যান্ড হিন্দু মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ করে দেয়। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাঙালির মিলনমেলা দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালিরাও প্রতিবছর বিভিন্ন মন্দির ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই উৎসব পালন করেন।   প্রবাসে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পূজাকে কেন্দ্র করে বাংলা গান, নাচ, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং পারিবারিক ও সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য পরিচিত করে তুলতে এসব অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্থানে দুর্গা উৎসবের আয়োজন যেমন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে বাঙালি ঐতিহ্য তুলে ধরছে, তেমনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় পূজামণ্ডপগুলো প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করছে। অক্টোবরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্গাপূজার এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস, বাংলা সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১১:১৮
স্বাস্থ্যসেবায় এআই যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার না করে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসায় এআইয়ে বৈষম্য কমাতে গবেষণায় এমআইটির মুসলিম অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ‘সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া’ পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে ঝুলে ছিলেন বাবা, ঘটনার বর্ণনা দিলেন সহযাত্রী

সড়ক দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর স্বপ্নের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমেরিকান নাগরিক রবার্ট ডাভিলা। ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্নে মুহাম্মদ সাঃ কে দেখার পর ঘুম থেকে উঠেই শাহাদাহ পাঠ করে মুসলমান হন মার্কিন নাগরিক রবার্ট

0 Comments