যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ হাজার ডলারের নিষিদ্ধ মাদক, গ্রেপ্তার দুই
যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন বা সিবিপি সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক 'খাট' জব্দ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই নিজেদের লাগেজে করে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত ২৮ আগস্ট সিবিপি জানায়, ২০ আগস্টের এক তল্লাশিতে ৭৬৪ পাউন্ড খাট জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা থেকে আসা জর্জিয়ার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী ডোরিয়ান ল্যামিন চাম এবং ফ্রান্সের প্যারিস থেকে আসা নিউইয়র্কের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী দামা জাওয়ারা এই মাদক পাচারের চেষ্টা করছিলেন। সিবিপির তথ্যমতে, তাদের দুজনের কাছেই সাতটি করে চেকড ব্যাগ এবং একটি করে ক্যারি অন ব্যাগ ছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যাগগুলোতে থাকা পদার্থগুলো খাট বা ক্যাথিনন হিসেবে শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশ ওই দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পরিবহন এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
এই ঘটনার ঠিক কয়েকদিন আগে ১৪ আগস্ট একই বিমানবন্দরে আরেকটি বড় ধরনের চালান ধরা পড়ে। সিবিপির ২০ আগস্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্যারিস থেকে আসা ২৫ বছর বয়সী নিউইয়র্কের বাসিন্দা মোহাম্মদ দিয়াওয়ারা তার আটটি চেকড ব্যাগে করে প্রায় ৩৬৮ পাউন্ড খাট পাচারের চেষ্টা করেন। যার বাজারমূল্য ছিল ৪৪ হাজার ডলার। তল্লাশিতে ধরা পড়ার পর মেট্রোপলিটন ওয়াশিংটন এয়ারপোর্টস অথরিটি বা এমডব্লিউএএ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার সিবিপির পোর্ট ডিরেক্টর ক্রিস্টিন ওয়াফ মাদক পাচারকারীদের সতর্ক করে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদক পাচারকারী চক্রগুলো এই অবৈধ জিনিসগুলো বহনের জন্য যে সামান্য পরিমাণ অর্থ দেয়, ধরা পড়ার পর তার চেয়ে অনেক কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তিনি এই সাহসী অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগী সংস্থাগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ডিইএ জানিয়েছে, খাট মূলত পূর্ব আফ্রিকা এবং আরব উপদ্বীপে জন্মায় এমন এক ধরনের উদ্ভিদের পাতা। এটি তামাকের মতো চিবিয়ে খাওয়া হয়, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এটি থেকে পেস্ট বা চা তৈরি করে এবং ধূমপানের মাধ্যমেও সেবন করা যায়। এর প্রভাবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, অমূলক ভয়, দুঃস্বপ্ন এবং অতিসক্রিয়তার মতো মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এটিকে 'শিডিউল ওয়ান' বা সর্বোচ্চ মাত্রার নিষিদ্ধ মাদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে খাট জব্দের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত যে পরিমাণ খাট জব্দ করা হয়েছে, তা পুরো ২০২৪ অর্থবছরের মোট জব্দের চেয়েও অনেক বেশি। শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই সিবিপি সাড়ে তিন হাজার পাউন্ডের বেশি খাট জব্দ করেছে, যা আগের বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এ ধরনের কয়েকটি চালান ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এটি বৈধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রবেশ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর জন্য অপরাধীদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
সূত্র: দ্য ট্রাভেল
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর তাদের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ‘ব্যাক-টু-স্কুল’ গাইড প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে। গাইডের সঙ্গে যুক্ত একটি ৯/১১ বিষয়ক পাঠ্যক্রমে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া এবং আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনের লেখা ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পাঠ্য হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে। ২৮ আগস্ট নিউইয়র্ক পোস্ট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, গাইডে যুক্ত বিতর্কিত ৯/১১ বিষয়ক উপকরণটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএআইআর লিংক সরানোর বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেনি। তবে সংগঠনটি নিউইয়র্ক পোস্টকে আগের একটি নথিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে একটি নোটের দিকে নির্দেশ করেছে। অন্যদিকে সিএআইআর তাদের ২৪ আগস্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে তারা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য একটি ‘ব্যাক-টু-স্কুল রিসোর্স গাইড’ প্রকাশ করেছে। এতে স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার, হয়রানি ও বৈষম্য, ৯/১১ ও গাজা নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনা এবং নামাজ, পোশাক ও খাবারসংক্রান্ত ধর্মীয় সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে তথ্য ও ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে। তবে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ‘মুসলিম স্টাডিজ কারিকুলাম’ মূলত একটি পুরোনো শিক্ষাসামগ্রী, যা সিএআইআর-এনজে ও ‘টিচিং হোয়াইল মুসলিম’ যৌথভাবে তৈরি করেছিল। ২০২২ সালে সিএআইআর-এনজে জানিয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য ও হয়রানি কমানো এবং ঘটনাটির পরবর্তী প্রভাব বোঝাতে এই পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। পাঠ্যক্রমটির একটি অনলাইন কপিতে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেখানে হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে একই সঙ্গে হামলার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষ এবং নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে ৯/১১ হামলার জন্য আল-কায়েদার ভূমিকা উল্লেখ করা হলেও, সমালোচকদের অভিযোগ, সেখানে হামলাকারীদের সরাসরি ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা না করে ঘটনাটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি পাঠ্যক্রম স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য কতটা ভারসাম্যপূর্ণ। বিতর্ক আরও বাড়ে ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুপারিশ করা পাঠ্যের তালিকায় রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর। এটি ওসামা বিন লাদেনের ২০০২ সালের একটি চিঠি, যেখানে তিনি ৯/১১ হামলার পক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। পাঠ্যক্রমের অনলাইন সংস্করণে দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত ওই লেখার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের দিকে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ করা হয়েছিল। পাঠ্যক্রমে ওসামা বিন লাদেনকে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল এবং ওই সময় বিন লাদেনও সেখানে ছিলেন। সমালোচকদের মতে, এই বর্ণনা তার পরবর্তী ভূমিকা ও ৯/১১ হামলার সঙ্গে তার সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না। পাঠ্যক্রমের সুপারিশের তালিকায় ‘ভি ফর ভেনডেটা’ চলচ্চিত্রের নামও রয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিমদের ওপর হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন বই, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে। তবে সিএআইআরের বক্তব্যে বিষয়টির আরেকটি দিকও রয়েছে। সংগঠনটি বলছে, ৯/১১ নিয়ে স্কুলে আলোচনা হলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় হয়রানি ও বিদ্বেষের ঘটনা বাড়ে। তাদের ২০২৬ সালের ব্যাক-টু-স্কুল প্রচারণায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও অধিকার লঙ্ঘনের ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ তারা নথিভুক্ত করেছে, যা তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর এক বছরে সর্বোচ্চ। সিএআইআরের জাতীয় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক কোরি সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের ধর্ম পালনের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষা সম্পর্কে জানানো জরুরি। সংগঠনটি বিশেষ করে ৯/১১ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো পরিবার এবং ইহুদি কমিউনিটির কিছু নেতা পাঠ্যক্রমটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ৯/১১ হামলায় মাকে হারানো নিকোলাস হারোস জুনিয়র বলেন, ইসরায়েলের ৯/১১ হামলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি পাঠ্যসামগ্রীটির ব্যাখ্যাকে ‘প্রচারমূলক’ বলে সমালোচনা করেন। ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্সের সভাপতি মোশে স্পার্নও সিএআইআরের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, পাঠ্যক্রমে ৯/১১ হামলাকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি এবং বিন লাদেনের লেখা শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে শিক্ষামূলক অন্তর্ভুক্তির বদলে ক্ষতিকর প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেন। ৯/১১ হামলার পেছনে আল-কায়েদার ভূমিকা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগন হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রায় ৩ হাজার মানুষ এতে নিহত হন। তবে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত প্রতিক্রিয়া, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলাদা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সিএআইআরের পাঠ্যক্রমে মূলত সেই পরবর্তী প্রভাবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির ২০২২ সালের বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শেখানো দরকার, যাতে ঘটনাটির পাশাপাশি মুসলিমদের ওপর পরবর্তী বৈষম্য ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলোও বোঝা যায়। এই বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ৯/১১-এর মতো একটি সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে ইতিহাস, সন্ত্রাসবাদের কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিমদের ওপর পরবর্তী প্রভাব একসঙ্গে শেখানো হবে। একটি পক্ষ মনে করছে, শুধু হামলার ঘটনা বললে পরবর্তী বৈষম্যের ইতিহাস বাদ পড়ে যায়। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হামলার দায় ও সন্ত্রাসীদের ভূমিকা অস্পষ্ট করা হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সিএআইআরের ২০২৬-২৭ সালের গাইড নিয়ে বিতর্ক তাই শুধু একটি লিংক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিম পরিচয়, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদ কীভাবে পড়ানো হবে, সেই দীর্ঘদিনের বিতর্ককেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, সিএআইআর-নিউ জার্সি ও টিচিং হোয়াইল মুসলিম।
জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে ২.৯ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান
মাতৃমৃত্যু কমাতে নিউইয়র্কের নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ থেকে সিটি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত হচ্ছে প্রসূতি সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ হাজার ডলারের নিষিদ্ধ মাদক, গ্রেপ্তার দুই
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে গুলি করে হত্যা করেছেন ৩৬ বছর বয়সী এক নারী। শিশুটির বাবার কাছে যেন কোনোভাবেই তার সন্তানের কাস্টডি বা হেফাজত না যায়, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই ভয়ংকর পথ বেছে নেন। সম্প্রতি আদালতে দোষ স্বীকার করার পর ওই নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুলিশি জেরার মুখে ওই পাষণ্ড মা জানিয়েছেন, তার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সার্থক মনে হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কাউবয় স্টেট ডেইলি ও পুলিশের একটি এফিডেভিট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই মায়ের নাম ম্যাডেলিন ভেরোনিক ডেলি। তার ১১ মাস বয়সী সন্তানের নাম ছিল বাসিল স্টোনার। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর। তবে সম্প্রতি ম্যাডেলিন আদালতে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের দায় স্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শিশুটিকে ওয়াইওমিং থেকে অপহরণ করে নিউ মেক্সিকোতে নিয়ে এসেছিলেন ম্যাডেলিন। আদালত এর আগে শিশুটির বাবা জেক স্টোনারকে জরুরি ভিত্তিতে সন্তানকে নিজের কাছে রাখার অধিকার দিয়েছিলেন। জেক পুলিশকে জানান, তিনি সবশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার ছেলেকে দেখেছিলেন। অপহরণের পর থেকেই ম্যাডেলিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। অবশেষে নিউ মেক্সিকোর সিলভার সিটির কাছে একটি চাকরির জন্য আবেদন করলে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে তার নামে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সামনে আসে। এর সূত্র ধরেই গ্রান্ট কাউন্টি শেরিফ অফিস ২৩ ডিসেম্বর একটি আরভি বা রিক্রিয়েশনাল ভেহিকেল পার্কের সন্ধান পায়, যেখানে ম্যাডেলিন আত্মগোপন করে ছিলেন। পুলিশ সেখানে পৌঁছালে ম্যাডেলিনকে দৌড়ে একটি আরভির ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশের জন্য পরোয়ানার অপেক্ষায় থাকার সময় পুলিশ পুরো আরভিটি ঘিরে ফেলে। ঠিক তখনই ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। কর্মকর্তারা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, ম্যাডেলিন একটি নাইন এমএম হ্যান্ডগান দিয়ে শিশু বাসিলকে গুলি করে হত্যা করেছেন। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, সন্তানকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ম্যাডেলিন জানান, তিনি তার ছেলেকে নিরাপদ রাখতেই এমনটি করেছেন। শিশুটির বাবা ও তার পরিবার যেন কখনোই শিশুটিকে দেখতে না পায়, সে জন্য এই হত্যা তার কাছে সার্থক মনে হয়েছে। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তিনি কোনোভাবেই চাইছিলেন না তার শিশু সন্তান মাসে দুবার নেব্রাস্কা ও ওয়াইওমিংয়ের মধ্যে টানাটানির শিকার হোক। পুলিশ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসতে দেখে তার মনে কী চলছিল, তখন তিনি সোজাসাপ্টা উত্তর দেন, জেক যেন বাসিলকে না পায়। ম্যাডেলিন আরও কিছু ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তিনি শিশুটিকে নিয়ে ট্রেইলার থেকে বের হলে শিশুটি বিপদে পড়ত। তার দাবি, শিশুটির বাবা আর্থিকভাবে, শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে কখনোই ছেলের কোনো দায়িত্ব নিতে চাননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তার এসব দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রসিকিউটররা আশা করছেন, নিজ সন্তানকে হত্যার দায়ে ম্যাডেলিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮১ লাখ ডলারের ট্যাক্স রিফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার চেক জালিয়াতি, গ্রেপ্তার র্যাপার
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণসামগ্রীর দাম ৬.৭% বৃদ্ধি, চাপে আবাসন খাত ও নতুন বাড়ির বাজার
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিখ্যাত থিম পার্ক 'সিক্স ফ্ল্যাগস'-এর একটি কুখ্যাত রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় চলে গেছেন নাওমি গ্রিয়ার-উইলকিনসন নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। গত জুলাইয়ে ভ্যালেন্সিয়ার সিক্স ফ্ল্যাগস ম্যাজিক মাউন্টেনে যমজ ভাই ও ছোট বোনের সাথে 'এক্স২' (X2) নামের ওই রোলারকোস্টারে চড়ার সময় নাওমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘটনার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তিনি গুরুতর 'ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি' বা মস্তিষ্কের আঘাতে ভুগছেন। বর্তমানে ভেন্টিলেটর এবং ফিডিং টিউবের সাহায্যে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাওমির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাওমির মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোনো অবস্থাতেই নাওমির এই রাইডে ওঠার সুযোগ থাকা উচিত ছিল না।" তার বাবার মতে, গত মাসে যারা এই রাইডটি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাদের এর জবাব দিতে হবে। এই প্রথম নয়, গত ২৪ বছরে 'এক্স২' রোলারকোস্টারকে কেন্দ্র করে অন্তত দুটি মৃত্যু এবং অসংখ্য আহতের খবর পাওয়া গেছে। নাওমির দুর্ঘটনার মাত্র ছয় দিন আগে, হাওয়াইয়ের এক বাসিন্দা এই রাইডে চড়ার সময় তার মাথা বারবার হেডরেস্টে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। প্রায় ৮০ মাইল বেগে চলা এবং ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরা এই রাইডে তিনি বমি করে জ্ঞান হারান। পরে মস্তিষ্কের ফোলা কমানোর জন্য তার মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল এবং জ্ঞান ফিরতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এর আগে ২০২২ সালের জুনে ক্রিস্টোফার হাওলে (২২) নামের এক তরুণ এবং ২০১০ সালে হিল্ডা ফারিয়াস নামের এক নারীও এই রাইডে চড়ে মস্তিষ্কে আঘাত পেয়ে মারা যান। ধারাবাহিক দুর্ঘটনার জেরে গত ১২ জুলাই থেকে বিতর্কিত এই রোলারকোস্টারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অতীতের দুটি মৃত্যুর বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সিক্স ফ্ল্যাগস কর্তৃপক্ষ।
ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা-মেয়ে, সেখান থেকেই আইসিইর গ্রেপ্তার; ছাড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র
‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের