নিউ ইয়র্কের জলাভূমিতে ছবি তুলতে গিয়ে তরুণীর ক্যামেরায় ধরা পড়লো রহস্যময় প্রাণী
নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলের একটি নির্জন জলাভূমিতে তোলা দুটি অস্পষ্ট ছবি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রহস্য ও বিতর্ক। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পানির ধারে ঝুঁকে থাকা ছোট আকৃতির এক মানবসদৃশ অবয়ব। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, প্রথমে তিনি এটিকে পানিতে নামা একজন মানুষ ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে অবয়বটি ঘুরে তাঁর দিকে তাকালে সেটিকে অস্বাভাবিক মনে হয়।
ছবিগুলো এখন ‘সিরাকিউজ ফিগার’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কেউ এটিকে কিংবদন্তির বিগফুট বা স্যাসকোয়াচের সম্ভাব্য উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সংশয়বাদীদের ধারণা, এটি হয়তো একজন মানুষই, যিনি নির্জন জলাশয়ে পানিতে নেমেছিলেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ১০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ওনন্ডাগা কাউন্টির একটি গ্রামীণ এলাকায়। বিগফুট ফিল্ড রিসার্চার্স অর্গানাইজেশন বা বিএফআরওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী কেডি ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সংস্থাটি তাঁর গোপনীয়তার কারণে পুরো নাম প্রকাশ করেনি এবং জলাশয়টির সঠিক অবস্থানও এখনো গোপন রেখেছে।
বিএফআরওর তথ্য অনুযায়ী, কেডি ১০ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে একটি নির্জন জলাশয় ও জলাভূমির এলাকায় হাঁটতে যান। তিনি নিয়মিত ছুটির দিনে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটাহাঁটি করতেন। সেদিন সেখানে পৌঁছে পার্কিং এলাকায় অন্য কোনো গাড়ি বা মানুষের উপস্থিতি দেখতে পাননি।
জলাশয়ের কাছে গিয়ে ছবি তোলার সময় হঠাৎ তাঁর নজরে আসে পানির ধারে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। প্রায় ২৪০ ফুট বা ৭২ দশমিক ৬ মিটার দূরে থাকা অবয়বটিকে প্রথমে তিনি পানিতে নামা একজন নগ্ন পুরুষ বলে মনে করেছিলেন। এরপর তিনি কয়েকটি ছবি তোলেন।
কেডির বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ছবিটি তোলার সময় অবয়বটি মাথা ঘুরিয়ে তাঁর দিকে তাকায়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে ছবিগুলো দেখার পর তাঁর কাছে অবয়বটিকে আরও অস্বাভাবিক মনে হয়। বিএফআরওকে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, সেটিকে তাঁর কাছে ‘মানুষের মতো মনে হয়নি’।
ছবিতে দেখা অবয়বটি আংশিকভাবে জলাভূমির লম্বা ঘাস ও অন্যান্য উদ্ভিদের আড়ালে রয়েছে। ফলে শরীরের আকৃতি বা মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। ছবিগুলো একটি আইফোন ১৭ দিয়ে তোলা হয়েছিল বলে বিএফআরও জানিয়েছে।
ঘটনাটিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ হলো, বিএফআরওর একজন তদন্তকারী পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে একই জায়গায় ছবি তোলার পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেন। তদন্তকারী বেন সি. জানান, পানির মধ্য দিয়ে ওই জায়গায় পৌঁছানো সহজ ছিল না। সেখানে পানির নিচে পড়ে থাকা গাছের অংশ, শিকড়, ঘন উদ্ভিদ এবং কোমরসমান কাদার গর্ত ছিল। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লেগেছিল নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে এবং পথ চলার সময় তিনি শরীরেও আঁচড় পান।
স্থলপথেও জায়গাটিতে পৌঁছানো কঠিন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘন ঝোপঝাড়, কাদা ও কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদের কারণে সেখানে হাঁটা বেশ কষ্টকর ছিল। তবে এই বিষয়টি কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে একজন মানুষ সেখানে যেতে পারেন না। বরং এটি শুধু দেখায় যে জায়গাটি সাধারণভাবে মানুষের পানিতে নামা বা সাঁতার কাটার জন্য সহজ কোনো স্থান নয়।
তদন্তের সময় বেন সি. নিজের প্রায় ৬ ফুট উচ্চতাকে ছবির একটি দৃশ্যমান স্থানের সঙ্গে তুলনা করে অবয়বটির উচ্চতা আনুমানিক ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি বা প্রায় ১ দশমিক ৪৪ মিটার বলে হিসাব করেন। তাঁর মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের জন্য এই উচ্চতা অত্যন্ত কম। তবে এটি সরাসরি মাপ নয়, ছবির ওপর ভিত্তি করে করা একটি আনুমানিক হিসাব।
এই উচ্চতার হিসাব থেকেই বিগফুটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। বিএফআরওর তদন্তকারীদের একটি ধারণা হলো, যদি অবয়বটি সত্যিই স্যাসকোয়াচ হয়, তবে এটি পূর্ণবয়স্ক নয়, বরং একটি কম বয়সী বিগফুট হতে পারে। ছবিতে দেখা একটি সম্ভাব্য ভ্রূরেখাকেও তাঁরা এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আরেক তদন্তকারী ম্যাথিউ মোনেমেকারের মতে, অবয়বটির শরীরে যে অংশকে ঢিলে চামড়ার মতো মনে হচ্ছে, সেটি আসলে পানিতে ভেজা লোমও হতে পারে।
তবে বিগফুটের অস্তিত্ব এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তাই ছবিতে দেখা অবয়বটিকে স্যাসকোয়াচ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিএফআরওর মূল প্রতিবেদনেও মানব অবয়বের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বরং সংস্থাটি জানিয়েছে, ছবির দূরত্ব এবং অস্পষ্টতার কারণে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
অনলাইনে ছবিগুলো প্রকাশের পর সংশয়বাদীদের প্রতিক্রিয়াও কম নয়। অনেকেই মনে করছেন, ছবিতে দেখা অবয়বটি আসলে একজন বয়স্ক ও ভারী গড়নের মানুষ হতে পারেন, যিনি নির্জন জায়গায় পানিতে নেমেছিলেন। কারও কারও মতে, দূরত্ব, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ, ঘাসের আড়াল এবং ছবির অস্পষ্টতার কারণে মানুষের শরীরকে অস্বাভাবিক বা অন্য কোনো প্রাণীর মতো দেখাতে পারে।
বিএফআরও অবশ্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি জলাশয়টির সঠিক অবস্থান প্রকাশ না করার একটি কারণও জানিয়েছে। যদি এটি সত্যিই কোনো মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি নিজে সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাস্থলের অবস্থান জানাতে পারবেন। অন্যদিকে ভুল দাবি বা বানানো তথ্য যাচাই করাও এতে সহজ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা ছবির অবয়বটিকে বিগফুট হিসেবে নিশ্চিত করতে পারে। কোনো নমুনা, নির্ভরযোগ্য পদচিহ্ন, লোম বা ডিএনএ প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আপাতত ‘সিরাকিউজ ফিগার’ একটি রহস্যময় ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক হিসেবেই রয়েছে।
অর্থাৎ, এটি সত্যিই কোনো অজানা প্রাণী, কম বয়সী স্যাসকোয়াচ, নাকি নির্জন জলাশয়ে থাকা একজন মানুষ, তার উত্তর এখনো মেলেনি। ছবি দুটি রহস্য তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু রহস্য তৈরি হওয়া আর কোনো অজানা প্রাণীর অস্তিত্ব প্রমাণ হওয়া এক বিষয় নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘সিরাকিউজ ফিগার’কে ঘিরে প্রশ্নটিই তাই সবচেয়ে বড় হয়ে থাকছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ফোন জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় ফোনটি জব্দ করা হয়। একই তদন্তে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছেও তথ্য চেয়ে প্রায় এক ডজন সমন পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো সম্ভাব্য অপরাধের বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। গত সোমবার, ১২ অক্টোবর, ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এর কয়েক দিন আগে, শুক্রবার তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে সমন পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। তদন্তটি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি কেন্দ্রীয় গ্র্যান্ড জুরির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। গ্র্যান্ড জুরি সম্ভাব্য অপরাধের প্রমাণ পর্যালোচনা করে এবং মামলায় অভিযোগ আনার যথেষ্ট ভিত্তি আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে ওমর নিজে এ পর্যায়ে সমন পাননি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তদন্তকারীরা মূলত ওমর ও তাঁর পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত অতীত নথিপত্র পরীক্ষা করছেন। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১৯৯০-এর দশকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তদন্তের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর জন্মতারিখসহ অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্রে কোনো অসংগতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চললেও কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ওমরের বোনের সঙ্গেও কথা বলতে চান, তবে তাঁর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করতে পারেননি। পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো সমনের মাধ্যমে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত পরিচালনা করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, মিনিয়াপোলিসের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং বিচার বিভাগ। তদন্তের সম্ভাব্য অভিযোগের মধ্যে ষড়যন্ত্র ও অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার বিষয় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ বা জব্দ করা ফোন থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। ইলহান ওমর এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নিয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তল্লাশিকে তিনি সেই চাপেরই নতুন ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন। ওমরের মুখপাত্রের কাছ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে কোনো জবাব পাওয়ার কথা জানানো হয়নি। বিচার বিভাগও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন ওমর। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রচলিত নীতিতে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ভোটের ফল প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। তবে এ ধরনের নীতি সব তদন্তে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা তৈরি করে না। কংগ্রেস সদস্যের ফোন জব্দ করার ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও আইনসভায় বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ওমরকে ‘খুব সতর্কভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে। পরে ওহাইওতে রিপাবলিকানদের একটি সমাবেশেও তিনি ওমরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ট্রাম্পের প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাও এর আগে ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তদন্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ওমর ও তাঁর সমর্থকেরা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে, তদন্তকারীরা কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি। ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য এবং প্রগতিশীল নারী আইনপ্রণেতাদের ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য। অভিবাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি, ফোন জব্দ এবং পরিবারের সদস্যদের সমন পাঠানোর ঘটনা তাই রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সূত্র: এনবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে, বাড়ছে নিত্যপণ্য, গ্যাস ও বিদ্যুতের খরচ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোলাগুলি, তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত
নিউইয়র্কে মর্মান্তিক ঘটনা, ৯১১ এ কল করে পাঁচ বছরের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছর বয়সী এক নবীন শিক্ষার্থীকে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে আলাচুয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা। লক্ষ্যে যাদব নামের ওই শিক্ষার্থীকে বুধবার, ১৪ অক্টোবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে আলাচুয়া কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিজেবি জানিয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর যাদব ও ওই নারীর মধ্যে দিনভর বার্তা আদান-প্রদান হয়। একপর্যায়ে যাদব ওই নারীর বাসায় যাওয়ার অনুমতি চান। নারীটি তাঁকে একাধিকবার সেখানে যেতে নিষেধ করেন। তবে কিছুক্ষণ পর যাদব মদ্যপ অবস্থায় তাঁর বাসায় উপস্থিত হন। বাসাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাদবকে মদ্যপ অবস্থায় দেখে তাঁর গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হন ওই নারী। এ কারণে তাঁকে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। তবে নারীর বর্ণনা অনুযায়ী, বাসায় ঢোকার পর যাদব তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন আচরণ শুরু করেন। নারীটি নিষেধ করা সত্ত্বেও তাঁর পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনায় নারীটি আহত হন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই নারীর শরীরে এমন কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান, যা তাঁর বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর যাদব বাসা ছেড়ে চলে যান। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। তদন্তে যাদবকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় এবং গাড়ির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই নারী স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে যাদবের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি যাদবের আইনগত নাম জানতেন না, শুধু একটি ডাকনাম জানতেন। তাঁর মনে ছিল, যাদব নীল রঙের টেসলা গাড়ি চালান। ঘটনার সময় ওই বাসার কাছে গাড়িটির উপস্থিতি শনাক্ত করতে নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করেন তদন্তকারীরা। এর মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার সূত্র পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে যাদবের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ওই নারীর আবাসিক এলাকার একজন নারীকে চেনেন বলে স্বীকার করলেও তাঁর নাম জানেন না বলে জানান। এরপর তিনি আইনজীবীর সহায়তা চান। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের ছবির সারি থেকে ওই নারী যাদবকে শনাক্ত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ব্যবস্থা নিয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল টিভি২০-কে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ যাদবকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর প্রবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের গেইনসভিলে অবস্থিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ডব্লিউসিজেবি (WCJB), স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিভি২০-র প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ডলারে প্রাইভেট আইল্যান্ডসহ বাড়ি, রয়েছে ১৮০০ সালের খামারবাড়ি
পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ডব্লিউইউএসটি
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে হিন্দু মন্দিরে গু লি ব র্ষণের পরিকল্পনার অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের উপস্থিতি নিয়ে কখনো কখনো কমিউনিটির মধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়। সম্প্রতি বাফেলো শহরের ইস্ট সাইডে অবস্থিত রেসপন্স টু লাভ সেন্টারের খাদ্যসহায়তা কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সারির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ছবিটি ঘিরে কেউ কেউ বাংলাদেশি কমিউনিটির আত্মসম্মান ও সামাজিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মানুষ, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বসবাস রয়েছে। বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করে। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন পটভূমির মানুষ অংশ নেন। তবে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি অন্যদের তুলনায় বেশি এমন দাবি করেন কমিউনিটির কেউ কেউ। ছবিটি ঘিরে কমিউনিটির একাংশের প্রশ্ন, যাঁদের খাবার কেনার সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরাও কি শুধু বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন? তাঁদের মতে, প্রকৃত প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কেউ খাদ্যসহায়তা নিলে অভাবী মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকা সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, এমন দৃশ্যের কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটি সম্পর্কে অন্যদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। তবে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ বিল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। বাইরে থেকে স্বচ্ছল মনে হলেও তাদের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই বিনামূল্যে খাবার নিতে লাইনে দাঁড়ানো মানেই কেউ অপ্রয়োজনীয় সুবিধা নিচ্ছেন এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রকৃত প্রয়োজনের সময় খাদ্যসহায়তা গ্রহণ লজ্জার বিষয়ও নয়। বাফেলোর রেসপন্স টু লাভ সেন্টার স্থানীয় মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা ও রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে খাবার সংগ্রহ করে এবং স্থানীয় ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অনুদান পায়। তবে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়, আর্থিক অবস্থা কিংবা বিতরণ করা খাবারের নির্দিষ্ট উৎস স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কমিউনিটির সদস্যদের মতে, যাঁদের সত্যিই সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি যাঁদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁদের উচিত অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সম্ভব হলে এসব প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া। একই সঙ্গে কয়েকজন মানুষের উপস্থিতি বা আচরণের ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি কিংবা মুসলিম কমিউনিটিকে বিচার করাও অন্যায়। বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি তাই আত্মসম্মান, আর্থিক বাস্তবতা ও সামাজিক দায়িত্ব এই তিনটি দিক থেকেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়ার চাপে ভাড়াটিয়া, খরচের চাপে বাড়িওয়ালাও
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টেই প্রায় বছরের আয়